অভ্র, কলেজে পড়ুয়া ছেলে। কলেজ জীবনটায় সবে মাত্রই প্রবেশ। নতুন প্রতিষ্ঠান হওয়ার দরুন নতুন কিছু বন্ধু বান্ধব হবে, এটাই স্বাভাবিক। তার ফেসবুকের ফ্রেন্ড লিষ্ট টা হুর হুর করেই বড় হয়ে গেল, যেন আঙুল ফুলে কলাগাছ। কিছু মেয়ে ফ্রেন্ড ও হলো। কলেজের প্রথম দিক, তাই পড়ার চাপটা নেহাত ঈ কম। তাই কলেজের ক্লাস আর ফেসবুকিং নিয়েই ব্যস্ত। এভাবে করেই তার ফ্রেন্ডশিপ হলো Priencess Tahamina নামক এক মেয়ের সংগে। চ্যাটিং চলছিল বেশ, অনেকদিন চ্যাটিং এর ফলে মেয়েটির নাম্বার পাবার যোগ্যতা অর্জন করলো অভ্র। কিন্তু ফোন দিতে সাহস হলনা। একদিন সাহস করে ফোন দিয়েই ফেললো, মেয়েটি ফোনট রিসিভ ও করলো,
-হ্যালো
..................
-হ্যালো
...............
-হ্যালোও
...............
মেয়েটি তিনবার হ্যালো বলার পর কিছু না বলেই ফোন তা কেটে দিলো অভ্র। পরে সে ফেসবুকে মেয়েটিকে জানালো যে ফোনটা সে ই করেছিলো।
মেয়েটি বললো,
-ব্যালেন্স ছিলনা?
-না আসলে,
-কী আসলে
-না এমনি ফোন দিয়েছিলাম
কথা বলতে বলতে জানা গেল মেয়েটির নাম।তাহমিনা নয়, তার নাম তন্নী। এভাবেই আরেকদিন সকাল বেলা অভ্র সাহস করে তন্নীকে ২ই টা ফোন দিলো। কিন্তু তন্নী ফোন রিসিভ করলো না।
অভ্র হতাশ হলো।পরে অভ্রের মোবাইল এ একটা মেসেজ এল,
sorry, rastay chilam tai receive korte pari nai
মেসেজ টা পেয়ে অভ্র অনেক খুশি হলো। তারপর সে মেসেজের রিপ্লাই দিলো, এভাবেই মেসেজিং চলছিল তাদের মধ্যে, অভ্রর দিন দিন ভালো লাগতে লাগলো তন্নীকে, সে তন্নীকে ভালোবেসে ফেললো, এবং সাহস করে একদিন বলে ও ফেললো, কিন্তু ওপার থেকে না বোধক উত্তর এলো। অভ্র ও নাছোর বান্দা, সহজে ছেড়ে দেবার পাত্র সে নয়। সে তন্নীর পেছনে আঠার মত লেগে থাকতো, ঘন্টায় ঘন্টায় তাকে লাভ এর কথা বলতো। অবশেষে তন্নী অভ্র কে ভালো ফ্রেন্ড হওয়ার অফার করলো, অভ্র রাজি হয়ে গেল। তন্নীর শর্ত ছিলো যে তারা তুই তুই করে কথা বলবে, যা বলা তাই কাজ।
সারাদিন দুজন খুনসুটিময় মেসেজিং করতো,
-কীরে শয়তান কী করস
-চুপ বান্দর
-আমি বান্দর??
-ক্যান, বেশী সন্মান দিয়ে ফেললাম?
এভাবেই দিন কাটতো তাদের।
অভ্র তন্নী কে এখনো ভালোবাসে কিন্তু এখন আর পদে পদের তা প্রকাশ করেনা। অভ্র তন্নীর খুব যত্ন করতো, তার ভালো মন্দের খেয়াল রাখতো, সবসময়্ লেখাপড়ার কথা বলতো।এভাবে সুন্দর দিন কেটে যাচ্ছিল তাদের।তন্নীর কিছু একটা হলেই অভ্র পাগলের মত হয়ে যেত। ঠান্ডা লেগেছে? ডাক্টারের কাছে ফোন করে অস্থির।
দিন দিন অভ্রের পাগলামী, খুনসুটি, অস্থিরতা, তাকে নি ভাবনা এসব মনে গেথে যাচ্ছিল তন্নীর। সে নিজে নিজে অনুভব করতে পারলো যে সে অভ্রর প্রতি দিন দিন দুর্বল হয়ে যাচ্ছে। অভ্র কে ছাড়া তার আর ভালো লাগেনা, সময় কাটেনা, একা একা লাগে।দিন দিন অভ্রের প্রতি আরো বেশী ঝুকে পড়ছে তন্নী।
মাঝখানে অভ্রের ফোন দুইদিন বন্ধ ছিলো। দুইদিন পর অভ্র ফোন ওপেন করতেই তন্নীর কল,
-ওই শয়তান, কুত্তা তুই কই
-আমিতো বাসায়
-ফোন বন্ধ ছিলো ক্যান
-এমনি
-কুত্তা বদমাইশ আমার চিন্তা হয়না?
-কেন হয়?
-জানিনা
-সত্যিই জানস না?
-আমাকে মিস করস?
-হুম।অনেক।
-আমার সাথে কথা না বললে ভালো লগেনা?
-না
-আমাকে ভালোবাসস
-জানিনা
বলেই ফোনটা কেটে দিলো তন্নী
এরপর তারা দেখা করলো। তন্নী অভ্র কে তার ভালোবাসার কথা বললো। শুরু হলো দুজনের নতুন জীবন।
পা পা দিয়ে চলার প্রতিজ্ঞা করলো দুজন। অবশেষে সে এক ই পথের বাসিন্দা দুজন।
হ্যাপি এন্ডিং

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


