দুপুর শেষ, রবি এখনো পশ্চিম আকাশে আলো বিচ্ছুরন করছে। এখনো আলোর তাপ টা কিছুটা গায়ে পড়ছে।
রুবি জানালার পাশে বসে আছে। নিজের করা খারাপ কাজগুলোর জন্য
প্রতিদিন, প্রতিক্ষন তার অপরাধবোধে ভুগতে হয় আর মনে মনে ঘৃণা করে যায় আকাশ কে।
কয়েকবছর আগের ঘটনা,
অনেক মেধাবী ছাত্রী ছিল রুবি, ক্লাসে একটিভ গার্ল, সব মিলিয়ে এক্কেবারে একাই একশ।
এস এস সি পরীক্ষা শেষ হলো। রুবির ফেসবুক জগতে পদার্পণ হলো তার এক বান্ধবীর মাধ্যেমে। পরিচিত হলো অনেকের সাথে। আকাশ নামের ছেলেটির সাথে ফেসবুকেই পরিচয়।
আকাশ ও সেম ইয়ারের। অবসর কাটানোর মাধ্যম হিসেবে ফেসবুক কে আকড়ে ধরলো দুজন ই। তারা দুজন যদিও অনেক দূরে থাকতো কিন্তু ফেসবুক তাদেরকে ক্রমশ কাছে নিয়ে এলো। মনের মিলন ও ঘটলো।
সারাদিন মেসেজিং, রাতভর ফোনে কথা ভালই চলছিল দিনকাল। প্রায় ৬ মাস হলো তাদের এই মিলনের।
আকাশ ক্রমশ এড়িয়ে যেতে লাগলো রুবি কে। কিন্তু রুবি পাগলের মতো ভালোবেসে ফেলেছিল আকাশ কে। সে কিছুতেই মানতে পারছিলো না আকাশের অবহেলা। অনেক অনুরোধ, অনেক কান্নার পরেও আকাশ ফিরিয়ে দিলো রুবি কে।
এভাবেই শেষ হলে গেলো আকাশের ৬
মাসের প্রেম, কিন্তু রুবির কাছে শেষ হলো না। তার মধ্যে প্রতিশোধের আগুন
দাউ দাউ করে জ্বলছিল। সে জানে আকাশকে কিছুই করতে পারবে না, তাই নিজেকে ধ্বংস করার পরিকল্পনা করলো।
যে মেয়টি আকাশ ব্যতিত কোন ছেলের ফোন রিসিভ করতো না সে এখন অনেক ছেলের সাথে ফোনে কথা বলে, অনেকের সাথে চ্যাটিং করে। দিন দিন পড়ালেখারর প্রতি অনিহা নষ্ট করে দিচ্ছিলো রুবি কে।
কষ্ট কমানোর জন্য মাঝে মাঝে ড্রাগ ও নিতো। রুবির সহপাঠিরা যখন সবাই এক এক করে এইচ এস সি পাস করে ভার্সিটি তে পা দিয়েছে সে তখনো ড্রাগের নেশায় মগ্ন।
আজ রুবি একটি ছোট্ট এতিম খানায় কাজ করে, সারাদিন বাচ্চাদের নিয়ে থাকে, তাদের আদর করে নিজের দুঃখ টাকে বুকের মধ্যেই।চেপে রাখে। আজো ভূলতে পারেনি আকাশ কে, আজো বিয়ে করেনি রুবি।
সবই ঠিক আছে, শুধু যেই আকাশের জন্য আগে ছিলো বুক ভরা ভালোবাসা তার জন্য আজ শুধু ঘৃণা আর ঘৃণা।
ভাবতেই ভাবতে আকাশে অন্ধকার নেমে এলো, রুবি তবুও জানালা দিয়ে আকাশের ভড় চাদটার দিকে তাকিয়ে আছে, আজ সে এক অন্য জীবনের পথিচারী যার কোন গন্তব্য নেই কোন সীমানা নেই,,,,

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


