somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

জেজু দ্বীপের ভ্রমণ কাহিনী- পর্ব ৪

২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
পর্ব ১ এখানে
পর্ব ২ এখানে
পর্ব ৩ এখানে


অক্টোবর ১৭, শুক্রবার


রুমের জানালা থেকে তোলা লালচে সকাল


আস্তে আস্তে বাড়ছে আলো

সময় সকাল ৫ টা। সকাল ৫.৩০ টায় এলার্ম দিলেও অন্য কারো মোবাইলে শব্দ শুনে ঘুম ছুটে গেলো। যে বেটার মোবাইল সে তখনও ঘুমাচ্ছে। আমাদের রুমে ছিলাম আমি, নিয়াজ আর দীপক। আমরা তিনজনই ৬ টার ভিতর গোসল করে রেডি হয়ে বসে থাকলাম। কারন গত বছর দেখেছি কেমন বাথরুমে সিরিয়াল পড়ে। রাতে শোয়ার আগে জেনেছি সকাল ৭ টায় বের হতে হবে। ৬ টার পর শুরু হলো গোসল আর বড় বাথরুমের জন্য দরজায় ঠক ঠক। আর আমরা তিনজন আরাম করে চ্যানেল চেন্জ করতে লাগলাম বসে বসে। বিস্কুট আর কফি খেয়েছি গোসল করে। আশায় আছি নাস্তার জন্য ডাক আসবে, হয় এখানে অথবা বাইরে। কিন্তু কেউ আর ডাকেনা। জানা গেলো ৭ টায় নয় ৮.৩০ এ বের হবো আমরা। ওরা যখন গোসলের জন্য লাইনে তখন একটু বাইরে থেকে হেটে আসলাম। কটেজের কাছেই বেশ কয়েকটা কমলা বাগান। দূরে সুমুদ্রের অসীম সীমানা।


চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে এরকম কমলা বাগান


অনেক মিস্টি এই কমলা গুলো, এটার জুসও খুব নামকরা

সেমিনারের উদ্দেশ্যে কটেজ থেকে বেরিয়ে দেখা গেলো জিপিএস কাজ করছেনা। কি বিপদ। ওটা ছাড়া তো সব অচল। হয়তো নেটওয়ার্কে কোন ঝামেলা ছিলো, দুই মিনিটেই ঠিক হয়ে গেলো আবার। সোজা চলে গেলাম আবার সেমিনার এ। আমার বসের প্রেজেনটেশন আছে একটা। দুপুর ১২ টা পর্যন্ত চললো সেই জ্ঞানী আলাপন। শেষ হতেই আবার গাড়ীতে করে কটেজে ফেরত আসলাম। সকালে নাস্তা না করে খিদা বেড়ে গেছে। কোথায় লান্চ করাবে সেটাও বুঝতে পারছিনা। এমন সময় জানা গেলো কাছেই নাকি কোন একটা ছোট দ্বীপ আছে, নাম উদো। সেখানে যাবো আমরা এখন।


কনভেনশেন সেন্টারের লবির একাংশ, তবে লেখাগুলো মনে হয় জাপানীজ


বসের লেকচার চলছে, অন্তত এ সময় ঘুমানো ঠিক হবেনা

গাড়ী চলা শুরু করলো। একটু পর পর আমরা ভাবছি এই মনে হয় পৌঁছে গেছি। কিন্তু আমাদের হতাশ করে দিয়ে গাড়ী চলতেই থাকলো। প্রায় এক ঘন্টার উপরে চলার পর ফেরী ঘাটে পৌঁছালাম আমরা। মাথার মধ্যে তখন একটাই চিন্তা পেটে খাবার পড়বে কখন। ফেরীতে উঠে নীল সমুদ্র দেখে কিছুটা খিদা কমলো। খুব বাতাস আর জোরালো ঢেউএ বড় ফেরীটাও দুলতে লাগলো। ছোট খাটো জাহাজ, বাতিঘর পাশ কাটিয়ে চলতে লাগলাম উদো দ্বীপের পানে। প্রায় ২০ মিনিট চলার পরে ফেরী ঘাটে থামলো। ফেরী থেকে নেমে সমুদ্রের গা বেয়ে গাড়ী চলতেই আছে। খিদা আবারো মোচড় দিলো পেটে। ১০ মিনিট পরে একটা হোটেলে ঢুকলাম আমরা।


ফেরীর দুইতলায়, ফেরীটা আমাদের আরিচা রুটের ফেরীগুলোর চেয়ে একটু ছোট










ফেরী থেকে তোলা কিছু দৃশ্য

এক গ্রুপ খাবে র ফিস, আমরা খাবো রান্না মাছ। ঘড়ির কাঁটা ৩ টা ছাড়িয়ে খাবার আসলো সামনে। আহ কি মজা, কপাল ভালো মাছটাও খুব মজার ছিলো, চিংড়ি সিদ্ধও ছিলো। আর একটা ভাত আর কর্ণ ফ্লাওয়ারের জাউ টাইপের কিছু। খুব আয়েশ করে খাওয়া দাওয়া করলাম সবাই। আরেক বস গান গাইলো (ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক বাজে আর লিরিকস টিভিতে দেখা যায়, ওটার সাথে তাল মিলিয়ে গান গাইতে হয়, এটা কে বলে নোরেবাং)। তিনি আবার প্রফেশানাল সিংগার।


রেস্তোরার ভিতরে, এটা অবশ্য দুইতলায়


খাবারের জন্য আর কতক্ষণ বসে থাকতে হবে?


চিংড়িটা দেখতে সাদামাটা হলেও বেশ মজা


মাছের এই রান্নাটাও খুব স্বাদ


সিংগার সেই বস খাওয়ার শেষে গান গাচ্ছেন

খেয়ে ই আবার উল্টা চলা, ফেরী পার হয়েই একটা ছোট ভলকানোর উপরে উঠাতে নিয়ে গেলো। কোথায় খেয়ে একটু বিশ্রাম নিবো তা না, এখন ঠেলে ঠেলে ওঠো। থোরাতের বউ আবার কোরিয়ান খাবারে একদম অভ্যস্ত না, সে অসুস্হ হয়ে পড়েছে অলরেডি। নিয়াজও উঠবেনা, সেও নীচে থাকলো। আমরা বাকিরা উপরে উঠা শুরু করলাম। একটু একটু উঠি আর নীচের ছবি তুলছি। একসময় পৌঁছে গেলাম উপরে। জ্বালামুখটা এখন আর বোঝার উপায় নেই, সবুজ ঘাসে ঢেকে গেছে। একপাশ ঢালের মতো নেমে গেছে সমুদ্রে। পাহাড় থেকে নামতে নামতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে এলো। এখন আবার ফিরতে হবে। ঘন্টাখানেকের জার্নি আবার।








ফেরার পথে আরও কিছু দৃশ্য


এটার মাথায় উঠা লেগেছে ভাত খেয়েই










জ্বালামুখ টা পুরোটাই ঘাসে ঢাকা, একদিক ভেংগে সাগরের দিকে নেমে গেছে

ফিরে কটেজে না যেয়ে ডিনারের জন্য একটা হোটেলে ঢুকলাম আবার। কিন্তু অনেক দেরীতে লান্চ করায় কেনো যেনো খাওয়ার কোন স্পৃহা নেই। এবারে বসদের মিশন মনে হয় মাছ। সব বেলায় মাছ খাওয়াচ্ছে। এবারও মাছ, তবে ফ্রাই। কাঁকড়াও ছিলো কিন্তু সেটা কাঁচা, একটা সসে ডুবানো। ওটা খাওয়ার যোগ্য না আমাদের কাছে। রাত পার করার মতো খেয়ে উঠে পড়লাম আমরা। আর একদিন থাকবো আমরা। সেদিন আবার বড় পাহাড় বাইতে হবে। বুঝতে পারছিনা উঠবো না কি উঠবো না। বসকে কিভাবে বলবো ভাবছি। কয়েকদিন ধরে পিঠে একটু ব্যথা। পাহাড়ে উঠলে বাড়তে পারে।

যাইহোক কটেজে এসে নিয়াজ ওদের রুমে যেয়ে দেখলো ওরা রাতে পাঁচটা বালিশ নিয়ে ঘুমিয়েছে ৪ জন। মেজাজ টা কেমন লাগে। অথচ আমাদের একটা শর্ট ছিলো। আর চারজনে মেঝেতে বিছিয়েছে চারটা কম্বল। অথচ তিনটা হলেই চারজন আরামে শোয়া যায়। কেমন নবাব একেকটা। নিয়াজ করলো কি একটা বালিশ আর কম্বল বের করে ড্রইয় রুমে একজায়গায় রেখে দিলো। ঘুমাতে যেয়ে তো ওরা খুঁজে পায়না। আজ আমরা আগেই বাতি নিভিয়ে ঘুমিয়ে গেছি। এসে একবার জিজ্ঞেস করেছে কোথায় গেলো ওগুলো। আমরা বল্লাম আমরা কি জানি? আমরা আমাদেরটাতেই ঘুমাচ্ছি, তোমাদেরটা কোথায় তোমরা খুঁজে দেখো।

চলবে.....
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে অক্টোবর, ২০০৮ সকাল ১১:৩২
১৭টি মন্তব্য ১৭টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চলতি পথের গল্পঃ দুই

লিখেছেন খায়রুল আহসান, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২২


‘মরচুয়ারী’ শব্দটার সাথে এর প্রবেশ পথের পেছনের গাছপালাগুলো দেখে শান্ত, নিরবিলি পরিবেশের মিল খুঁজে পেলাম।

এর পূর্বের পর্বটি পড়তে পারবেন এখানেঃ চলতি পথের গল্পঃ এক

‘মরচুয়ারী’র পথে দেখা কিছু... ...বাকিটুকু পড়ুন

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

লিখেছেন নতুন নকিব, ১২ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:২৪

আদ্-দ্বীন হাসপাতালের লাইসেন্স বাতিলের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করা জরুরি

অন্তর্জাল থেকে নেওয়া।

রাজধানীর মগবাজারে অবস্থিত আদ্-দ্বীন হাসপাতালে ছয় নবজাতকের মৃত্যুর ঘটনায় সারা দেশ শোকাহত। এতগুলো নিষ্পাপ প্রাণের মৃত্যু নিঃসন্দেহে অত্যন্ত বেদনাদায়ক... ...বাকিটুকু পড়ুন

Claude Fable 5: Journey from ANI 2 AGI -প্রযুক্তির ইতিহাসে নতুন এক সন্ধিক্ষণ

লিখেছেন বোকা মানুষ বলতে চায়, ১২ ই জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭



প্রযুক্তির ইতিহাসে এমন কিছু মুহূর্ত আসে, যা পরবর্তী কয়েক দশকের গতিপথ নির্ধারণ করে দেয়। ইন্টারনেটের আবির্ভাব, স্মার্টফোন বিপ্লব কিংবা Generative AI-এর উত্থান ছিল তেমনই কিছু ঘটনা। সম্প্রতি Anthropic-এর নতুন Frontier... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ১৩ ই জুন, ২০২৬ রাত ২:০৭


আমরা এখন কোথায় আছি, কোথায় যাচ্ছি জানিনা ?



আজ শুক্রবার, ১২/০৬/২০২৬ ইং তারিখ
................................................................
গিয়েছিলাম পাড়ার মসজিদে জুম্মার নামাজ পড়তে ।
সব সময়ই যাই, একটু বয়ান শুনি তারপর খুৎবা শুরু হয়,নামাজ... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাকি রইলো; কাঁচা কলা

লিখেছেন সামছুল আলম কচি, ১৩ ই জুন, ২০২৬ সকাল ১১:৪৭


স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম, স্ল্যা-কুম.....!!
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতির এ সময়ে; উড়ে এসে জুড়ে বসা, মাথা নষ্ট এ চীজ গুলো আমাদের শিশুদের ব্রেইন ব্লক করে দেয়ার কোনও এক সুদূর প্রসারী প্লানের... ...বাকিটুকু পড়ুন

×