somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি বলছি

১৮ ই মে, ২০১৪ রাত ৯:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মহাআবির্ভাব ঘটিয়ে অসম্ভবের আত্মপ্রকাশিত রূপে আমি আপনার সাথে কথা বলছি। আপনি কে আমি জানি। আপনি একজন মানুষ। এই মুহূর্তে আমি আপনার সাথে কথা বলছি। আপনি কোন কালের মানুষ সেটা আমার কাছে বিবেচ্য নয়। কোন সালে আপনি আমার এই কথা শুনছেন সেটাও আমার কাছে মোটেও বিবেচ্য নয়। আমি আপনাকে বলছি এবং আপনি আমার কথা বুঝতে পারছেন – এটাই মুখ্য। আমার কাছে আলাদা বলে কোনো মুহুর্ত নাই। সব মুহুর্তই আমার। আমি সব কালে নিরব ভদ্র হয়ে ছিলাম, এখন আছি এবং অনন্তকাল থাকবো।

আমি চাই না আপনি অমঙ্গলের পথিক হোন। এই ছোট্ট গ্রহটির মধ্যে চিরশান্তি ও চিরমঙ্গল নিয়ে আসাই আমার অভিযান। আশা করি আপনি আমার এই অভিযানে অংশ নিতে কার্পন্য বোধ করবেন না। আপনি হয়তো ভুল করে ভেবে বসতে পারেন, অমঙ্গলের পথে গেলে হয়তো আপনি আমার থেকে দূরে থাকতে পারবেন। আমি সর্বদা সত্য, মঙ্গল ও কল্যানের সর্বোচ্চ সহায়ক হয়ে আমার মাঝে আপনাকে রেখে দেই- এবং এই রেখে দেয়াই চিরস্থায়ী শান্তি অবস্থার নাম। আর অকল্যান, মিথ্যে, অমঙ্গলের পথে আমি সহায়তা করি না। কিন্তু অকল্যানকে স্থায়ীভাবে ধ্বংস করে দেই। আপনি অমঙ্গলের পথে গেলে আপনার সাথে করে নিয়ে যাওয়া অমঙ্গলকে আমার ধ্বংস করে দেয়া ছাড়া অন্য কোনো উপায় নাই। আপনি আমার সাথে লড়তে চাইছেন? কি দিয়ে লড়বেন? কি আছে আপনার? আপনি কি আপনার দেহের মধ্যে থেকেও পুরোটাই আপনার নিজের নিয়ন্ত্রনে বলে মনে করেন? কে আপনার শরীর ও আপনার অস্তিত্বকে আপনাকে উপহার হিসেবে দিয়েছেন? আপনার এই নিজউপলব্ধিবোধ আপনাকে কে ব্যবহার করতে দিয়েছে? সয়ং আপনার স্রষ্ট্রা আপনাকে ও আপনার ভুবনকে আপনার কাছে তুলে দিয়েছেন। আপনি যদি অমঙ্গলের পথে যান তাহলে আপনার কুকর্মের দ্বায় আপনাকেই নিতে হবে। এই নিয়মের রক্ষক আমি। আশা করি আমার কথা বুঝতে পেরেছেন আর একজন বুঝে যাওয়ার মতো মানুষ ভুল পথে চলে যাক আমি তা আশা করি না।

এমন একটি সময়ে আমাকে আপনাদের মাঝে অসম্ভবের আত্মপ্রকাশ হয়ে ধরা দিতে হয়েছে যখন আমার এই মহাআবির্ভাব ছাড়া আপনাদের এই চির সুন্দর পৃথিবির মানবজাতিকে রক্ষা করার অন্য কোনো কঠিন পথে আমি যেতে চাই নি। তাই আমার আগমন বড় কথা নয় বরং আপনি আমার দেখানো পথে হাঁটবেন কিনা সেটা বড় কথা। আপনি আমার দেখানো পথে না হাঁটলে আমার কোনো অসুবিধা নাই। অসুবিধা আপনার। আমি শুধু নিয়মের রক্ষক। এ এমন এক নিয়ম যার কোনোদিন কোনোপ্রকার ক্ষয়, বিনাশ কিংবা ব্যাতিক্রম নাই।

আপনার কুকর্মের ফল সরূপ আপনাকে বর্তমান দেহের বাইড়ে নিয়ে গিয়ে যদি আপনাকে পশুসমাজে, কিট সমাজে অথবা মারাত্মক শাস্তিযোগ্য কোনো জীবলোকে নিয়ে রাখা হয় – তাহলে আপনার কি করার আছে? এই নিয়ম তো আমার। আমার নিয়মে আপনার কুকর্মের সাজা সইতে হবে। এজন্য আপনি কাকে দায়ী করবেন বা আপনার কি করার থাকবে বা আছে? তাই আমি খুব বেশি বিনয় নিবেদন করে ও আপনার স্বাধীন অবিনশ্বর অন্তরের প্রতি শ্রদ্ধা রেখে বলছি, আপনি কল্যানের পথে ফিরে আসুন। আমি আপনাকে অনন্তকাল সহজ পথ দেখাবো এবং আমার সাথে স্থায়ী করে গেঁথে রাখবো।

আমি আমার মানব জীবনে এই পৃথিবীর পবিত্র ভূমিগুলোকে নিরিহ মানুষের রক্তে রঞ্জিত হতে দেখেছি। মানুষের রক্তের রঙ টকটকে লাল। আপনাদের স্বভাব দোষে, সেই লাল রঙের রক্তের প্রবাহ ঘটিয়ে পৃথিবীকে অসুন্দর কেনো করেছিলেন? একজন প্রকৃতপক্ষে জিবিত মানুষের ক্ষমতা অসীম। আপনারা আপনাদের শরীরে প্রবাহিত লাল টকটকে রক্তের প্রবাহ ধারা অব্যহত রেখে, জিবন্ত অবস্থায় নিজেদের উপভোগ করে জগতকে লাল ফুলের সৌরভে ও গৌরবে ভরিয়ে দিতে পারতেন , পারেন এবং পারবেন। আপনাদের সব মানুষের রক্তের রঙ এক হলেও স্বপ্ন, কাজ ও স্তর কেনো এভাবে সাজিয়ে দেয়া হয়েছে? (যা মূলত আমার নিয়মেরই অংশ) আপনাদের স্বপ্ন, কাজ ও স্তরের ভিন্নতা দিয়েই পরিপূর্ন সুন্দর সৃষ্টি করে দেখানো সম্ভব। এই বৈচিত্র মানব প্রজাতির দুর্বলতা নয় বরং এই বৈচিত্র মানব প্রজাতির পূর্ণতার সবল নিয়ামক।

আপনারা যদি আপনাদের নিজেদের সম্পর্কেই অবগত না থাকতে জানেন তাহলে আমাকে কিভাবে উপলব্ধি করতে পারবেন? আর আমার সহযোগীতা যদি আপনারা কামনা না করে ভুল পথে চলতে থাকেন তাহলে আপনাদেরকে কে পথ দেখিয়ে চির সুন্দরের পথে নিয়ে গিয়েছিলো, যাচ্ছে ও যাবে? আপনারা আমার সহযোগীতা ছাড়া কিভাবে নিজেদের সভ্যতাকে উপলব্ধি করছেন? আপনারা কি আজও বুঝবেন না যে, আজকে যে মিশরের সভ্যতাকে প্রাচিন বলে আপনাদের কাছে নমুনা সরূপ পেশ করে রেখে দিয়েছি সেই মিশরীয় সভ্যতাও এক সময়কার মানুষের কাছে ভবিষ্যত ছিলো? আপনি অকল্যান মুখি হলে আপনাকে তার সাঁজা পেতে হবেই কিন্তু যারা সভ্যতার সেবা করে তাদের সম্মানে হলেও আমি সেই সব সভ্যতাকে পুরোপুরি ধ্বংস করি না। আপনার কোনো মঙ্গল সাধনাকে আমি ধ্বংস হতে তো দেয়া হয় না বরং ঐ মঙ্গল সাধনাকে অনন্তযুগ ধরে আমিই রক্ষা করে রাখি এবং আপনিও তা স্থায়ি ভাবে অনুভব করতে পারেন। প্রতিটা মানুষ আমার কাছে এক একটি একক। একক মানুষের অপরাধের শাস্তি একক ভাবেই ভোগ করতে হবে। মানব প্রজাতিকে এমন করে এই পৃথিবী নামক গ্রহটিতে সন্নিবেশিত করে দিয়েছি যে, মানব প্রজাতি নিজেদের প্রয়োজনের জন্যই নিজেরা একতাবধ্য হতে বাধ্যতামূলক বোধ করবে। প্রতিটি মানুষ প্রতিটি মানুষের সেবার মনোভাব নিজেদের মধ্যে নিয়ে আসতে বাধ্য হবে। এই বিবেচনা আমি করে দেবো না এই বিবেচনা মানুষ তার নিজেদের অসল পরিচয় বলে করে নেবে। আমি শুধু আমার নিয়মের মধ্যেই বিরজমান থেকে যাবো। আর আমার সাথে যাদের গেঁথে নেবো তারাও আমার সাথে থেকেই সব কিছু বুঝে যাবে। আমি কখনও অন্যায় আচরন করি না আর এজন্যই আমার সাথে যারা স্থান লাভ করেন তারা কখনও বিরক্ত হতে পারে না। বিরক্ত হবার অযোগ্যতা আমি কেড়ে নিয়ে অনন্ত শান্তি দিয়ে দেই। এখানে কোনো ভয়, লোভ ও বাকির কারবার নাই। বরং আমার নিয়ন্ত্রন একটি অটোমেটিক সিস্টেম মাত্র। আমার এই সিস্টেমের ব্যাতিক্রম কখনও ঘটবে না। আমার আত্মপ্রকাশ করার প্রয়োজন হয়েছে বলেই আত্মপ্রকাশ করেছি। এবং আপনাদের প্রচলিত সর্বোচ্চ বিশ্বাসযোগ্য উপায়ই আমি আমাকে উপস্থিত করে আপনাদের সামনে একটি নমুনা পেশ করলাম মাত্র। যাতে আপনারা আমার ম্যাসেজ সহযে বুঝতে পারেন। আপনাদের মনের সন্দেহ আপনারা তৈরি করে নিয়েছেন। আমি আপনাদের মনের সন্দেহর কোনো তোয়াক্কা করার প্রয়োজনবোধ করি না তারপরও এই ছোট্ট গ্রহটির মানব প্রজাতির প্রতি সর্বোচ্চ সম্মান প্রদর্শন করে আপনাদের সন্দেহের কোনো অবকাশ না রেখেই আমি আমাকে প্রকাশ করে রেখেছি। যাতে আপনারা সহজে আপনাদের আসল গন্তব্য ও কর্ম পরিধি সম্পর্কে জ্ঞাত হয়ে চিরস্থায়ী ভাবে মিলেমিশে থেকে এভরি ডায়মেনশনে শান্তি পেতে পারেন। আর এই শান্তির পথ অনন্ত তাতে বিন্দু পরিমান সন্দেহের অবকাশ নাই।

আশা করি, আপনারা আপনাদের প্রভুর কাছে ক্ষমা প্রার্থনা ও দয়া, করুনা ও সাহায্য মার্জনা করে কল্যানের পথে নিজেদের পরিচালিত করবেন। আমি আপনাদের সর্বদা মঙ্গল কামনা করি।
২২-০৪-২০১৪

০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×