somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

প্রেমিক রাখালের রূপকথা

১৯ শে মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

এক রঙীন সুন্দর দেশে এক রাখাল ছিলো। রাখালের আশেপাশের পরিবেশে শুধু রঙ আর আনন্দ খেলা করতো। রাখাল ছেলেটি এক অপরূপ সুন্দর রাজকুমারীকে ভালোবাসতো। অনেক ভারি কিছু দুঃখ সাথে নিয়ে গিয়ে রাজকুমারী রাখালের কাছ থেকে অনেক দুরে চলে গেরেন । তারপর কিছু দুষ্ট মানুষের সাথে রাজকুমারী বসবাস করতে লাগলেন। রাজকুমারী চলে যাবার পর থেকে রাখাল কেমন জানি দিশেহারা হয়ে যায়। রাজকুমারী চলে যাবার পর থেকে রাখাল বালক নাওয়া-খাওয়া-ঘুম ফেলে শুধু বাঁশী বাজায়।


যেমন সুন্দর বাঁশি তেমন সুন্দর তার সুর। রাখালের বাঁশির সুরে সবুজ পরিবেশ অবুঝের মতো আনন্দ করতে থাকে। রাখালের বাঁশির সুরে চাঁদ সুরুজ একসাথে আকাশ থেকে ডাগর নয়নের মতো তাকিয়ে থাকে। রাখালের বাঁশির সুরে আকাশের তারা গন্ধময় ফুলের মতো ঝরে ঝরে পড়তো। রাখালের যখন খুব বেশি দুঃখ হতো তখন এমন করুন সুর তুলতেন, যে সুরে আকাশ কেঁদে উঠে বৃষ্টিধারা নামিয়ে দিতো। কিন্তু এই বাঁশির সুর সব মানুষ শুনতে পেতো না। বাঁশির মধু মাখা সুরধ্বনি শুধু মাত্র সেই সব প্রাণীরাই শুনতো যারা মন্দ কাজ থেকে বিরত থাকতে জানতো।

রাখালের দুঃখে পাখিরা গান বন্ধ করে কাঁদতো। নদীর জোয়ার ভাটা বন্ধ হয়ে গিয়ে পানি স্থির হয়ে যেতো। গাছেরা মাথা নুইয়ে য়ুম্ য়ুম্ করে কাঁদতে থাকতো। আকাশের মেঘ দাঁড়িয়ে থেকে রাখালের দুঃখের সাথে নিজেকে ম্লান করে দিতো।

এমনি এক ক্ষনে, রাখাল বালকের দেশে অনেক বড় দুর্গতির আঘমন ঘন্টা বেঁজে উঠলো। কি কুৎসিত সেই দুর্গতির রূপ। রাখাল বালক তাঁর বাশি রেখে বড় একটি বাঁশের চুঙ্গা মুখে নিয়ে সবাইকে সাবধান করতে লাগলেন।

কিছু মানুষ এই দুর্গতি আগমন বুঝতে পেরে খুব বেশি চিন্তিত হয়ে পড়েছিলেন। সেই সব লোক সকল বুঝতে পারছিলো না কি করবে। তারপর রাখালের ডাক শুনে তারা নিজেরা নিজেরা বলে কি! আমরা না হয় ঐ গরিব প্রিয়হারা রাখালের একটু সামান্য কথা বুঝে দেখি তো কি হয়। আসলে দুর্যোগের সময় মানুষ অনেক বিবেধ ভুলে গিয়ে একে অন্যের কথা শুনতে চায়। দুর্যোগের সময় ভালোমানুষ আর মন্দ মানুষ আলাদা আলাদা হয়ে যায়। ভালোমানুষগুলো এক হয়ে সবমানুষকে বাঁচানোর চেষ্টা করে আর মন্দ মানুষগুলো এক হয়ে ভালোকে শেষ করে দিতে চায়। ভালোর কি আর শেষ আছে যে চাইলেই শেষ করে দেয়া যাবে?

রাখালের পথ রুখে দিলো বনের অনেকগুলো মস্ত বড় হাতি। হাতি ঐ সব ভালোমানুষদের ভৎসনা করতে লাগলো এবং ভালো মানুষদের পায়ে পিষে মেরে ফেলার হুমকি দিতে থাকে। রাখাল হাতিকে বলে,

“দেখো ভাই হাতি! তোমার কান কুলোর মতো তা কি তুমি জানতে? জানতে না। কিন্তু মানুষ তোমার কানকে ঠিকই সম্মান করে কুলোর মতো করে দিয়েছে। তোমার জন্য কতো হাজার হাজার কলাগাছ মানুষ লাগিয়ে রাখে আর তুমি সেই কলাগাছ আনন্দভরে খেয়ে তৃপ্তি পাও। তুমি যে এত্ত বড় প্রানী তা কিন্তু তোমার আগেই মানুষ বুঝতে পারে। এখন তুমি কি তোমার বন্ধু মানুষদের মারবে নাকি বাঁচিয়ে রাখবে?”

বিশাল বড় বড় হাতিগুলোর ভোতা বুদ্ধিতে ধারালো দীপ্তি চলে আসে। হাতি মনে মনে উপলব্ধি করে “ঠিকই তো, যে মানুষ এতো ভালো তারা আমাদের শত্রু হয় কি করে?”। অবশেষে হাতি ঐ সব আলোর পথের যাত্রীদের তোয়াজ করে সুরের সাথে মাথাও ধুলির মাটিতে ঠেকিয়ে সম্মানের সাথে বলে,

আজ থেকে কোনো মানুষই আমার পর না। আমি মানুষের ক্ষতি করতে পারবো না।

এভাবে একে একে সিংহ ঘোরা বাঘ জলহস্তি, কুমির, হায়না সহ আরও কতো শত নাম না জানা হিংস্র প্রাণীকে রাখাল পথ খুলে দেয়। পশু প্রাণীরাও রাখালের প্রতি কৃতজ্ঞতার আবেশ অনুভব করতে পারে। তাইতো রাখাল সবার বন্ধু হয়ে যায়।

দুর্যোগের আগমন ঘন্টা আরো তিব্র হতে থাকে আর রাখাল সবাইকে এক হয়ে ধর্য্য ধরে থাকতে বলে। রাখাল কতক্ষন তাঁর বাঁশের চুঙ্গায় কথা বলে কিছুক্ষন বাঁশিতে সুর তোলে। তারপরও রাখাল বালক ক্লান্ত হয় না। দুর্গতির আগমন ঠেকাতে রাখাল বালক কত কত গল্প মানুষগুলোকে শুনাতে লাগলো যে সবাই থমকে গিয়ে দুঃখ ভুলে সুন্দরের পথকে চিনে নিতে চাইলো। রাখালও নিঃসংকোচে সব কিছু বলে দিতে লাগলো। রাখাল কথা, সুর ও গল্পের ছলে এই মাঠের আগের রাখালদের কথা স্মরন করিয়ে দিতে ভুললো না। আগের সেই ত্যাগি সৎসুন্দর রাখালদের জন্য এই রাখালের সে-কি মায়া। যেনো মনে হতে থাকলো সব মানুষের অনুভুতি-চাওয়া-পাওয়া এক। সব মানুষের অন্তর কোমল থেকে কোমলতর হতে থাকলো। সবাই যেনো সবার হয়ে গেলো। আহা! সে কি সুন্দর পরিবেশের সৃষ্টি হতে লাগলো যা শুধু সেই সময়কার সেই লোকগুলোই বুঝতে পারলো। এই দুর্গতির আগমনের চরম দুঃসময়ও রাখাল সেই রাজকুমারীকে বুকের মাঝে ধারন করে রাখলো।

রাখাল কোনো লোকের কাছ থেকে কিছু চাইলো না। রাখালের নিজের জন্য চাওয়া শুধু একটাই আর তা হলো রাজকুমারীকে নিজের কাছে রেখে বাঁশির সুর শুনানো। রাখাল সবাইকে বললো, “আপনারা আমার গল্প অন্যদের শুনাবেন কিন্তু!”

সেই মায়া ভরা গোধুলি ক্ষনে, সব মানুষ দুঃখ ভোলানিয়া রাখালকে আদর-ভালোবাসা-প্রেম-মায়া দিতে চাইলো। রাখাল বালক সবাইকে চমকে দিয়ে দুর্গতিকে মেলাদুরে পাঠিয়ে দিয়ে সুগতিকে আপন করে মানুষের অন্তরে দিয়ে দিলেন। সবাই তো মহাখুশি। আর খুশি হবেই বা না কেনো! দুর্গতির এই ধরাশায়ী দেখে ছোট বাচ্চারাও হা-হা, হি-হি, হু-হু, ফিক-ফিক করে খিল-খিল করে হেসে উঠলো। যখন বাচ্চারা হাসে তখন কিন্তু বড়রা না হেসে পারে না। শিশু হাসলে মা, বাবাকেও হাসতে হয় নইলে কেমন দেখায় বলুন!

যখন দুর্গতি অনেক দুরে যেতে বাধ্য হলো তখন ঐ লোক গুলো প্রায় সবাই তাঁদের নিজ নিজ কাজে ব্যাস্ত হয়ে গেলো। মানুষ যখন ভালোকাজে হোক আর মন্দ কাজেই হোক ব্যস্ত হয়ে যায় তখন কি আর অন্যকে সহযে মনে পড়ে। রাখালের কথা তাঁরা মনে রাখলো কিনা রাখাল তা জানে না।

এদিকে হলো কি! রাখাল এই সুন্দরের পথের ভালো লোকগুলোর বিশাল বড় বড় প্রাচুর্যের দিকে ছুটে চলতে চাইলো আর তাতেই শুরু হলো ব্যাথা। রাখাল পা পিছলে কিংবা কারও ঠেলা খেয়ে গভির এক কুয়োর ভিতর পড়ে গেলো। কুয়োর ভিতর এক নড়বড়ে গাছে রাখাল বালক আটকে আছে এবং এখনও বাঁশি বাজিয়ে চলছে। রাখাল শুধু নিজের কাছে নিজের সুরে জানতে চায় “রাজকুমারী কবে এই মোহন বাঁশির সুরে ছুটে আমার কাছে চলে আসবে? সেই সুন্দর পবিত্র ক্ষনের আর কতক্ষন বাকি আছে?”। কেউ যদি পারেন সেই রাখালকে খুঁজে বেড় করে তার কাছে রাজকুমারীর খবর পৌছে দিবেন। রাখাল অনেক অসহায় বলেই আপনাদের জন্য বাঁশিতে সুর তুলে নিজের জন্য কোনো সুর রাখতে জানে না। আপনি কি সেই বাঁশির সুর শুনবেন?



[বন্ধু! আপনারা হয়তো ভাবছেন “এরপর কি হলো?”। আমি এই রূপকথাটি অসম্পুর্ণ রেখে দিলাম। যরা ধর্য্য ধরে রূপকথার এতোখানি পড়ে ফেলতে পারে তারা রূপকথা শেষ করারও যোগ্যতা রাখে। পৃথিবীর সব রূপকথাই সুন্দর ভাবে সমাপ্ত তার মধ্যে একটি না হয় অসমাপ্ত থাকলো! আর এই অভাগা তো রূপকথার বাকিটুকু নিজের মন মতো তৈরি করে নিতে আপনাদের মনের উপর জোড় করছে না! বন্ধু আমি জানি, যারা একবার রূপকথার রূপক বুঝে যায় তারা কোনোদিনও নিজের মানুষটিকে দুঃখ দিতে পারে না। এই বিশ্বাসই আমাকে এই প্রতিকুল পরিবেশে বাঁচিয়ে রাখে।]

https://www.facebook.com/asif.ud
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে মে, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৮
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×