somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বাংলাদেশ ও ভারতের কিছু সমস্যা (পর্ব-২)

২১ শে মে, ২০১৪ রাত ১০:১৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

রাজনিতিক দলের ফান্ডামেন্টাল সোর্সের স্বচ্ছতাঃ টু-সুইট-সিস্টার বাংলাদেশ ও ভারতের পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর একটি বড় সমস্যা হলো পার্টির আর্থিক উৎসের ব্যাপারে অস্পষ্টতা। এই একটি সামান্য ফাঁকার জন্য অনেক বেশি দুর্নীতির সুযোগ থেকে যাচ্ছে এবং ভালমানের রাজনিতিক ব্যক্তিত্বের বিকাশে সমস্যা হচ্ছে। রাজনিতিক দলের আর্থিক সোর্সের গড়িমসি ও মৃদু অসংকোচ বা লজ্জা আমাদের রাজনিতিক ব্যাক্তিত্বদের তো বটেই সেই সাথে রাজনিতিক দলগুলোকে সহযেই ব্লাকমেইলিংয়ের ফাঁদে ফেলে কিছু কিছু অসাধু উদ্দেশ্য সাধন করা সম্ভব হচ্ছে। সাধারণ জনতা এটুকু অন্তত বোঝে যে, সৎ/অসৎ ব্যবসায়ীদের ডোনেশন, চাঁদাবাজি সহ বিভিন্ন খাত থেকে দলের অর্থের যোগান হয়। আমার কথা হলো একটি রাজনিতিক দল যদি বৈধ ভাবে কিছু কিছু বৈধ ব্যবসা পরিচালনার মাধ্যমে অর্থ ইনকাম করে দল ও মানুষের কল্যানে ব্যায় করে তাতে কোনো অসুবিধা হবার কথা না। পলিটিক্যাল পার্টির ফিনান্সিয়াল সোর্স স্পষ্ট হলে দুর্নীতি গ্রস্থ যে কাউকে সহযেই আইনের আওতায় নিয়ে আশা যাবে। এর বড় কারণ লিডার ও কর্মিদের মাঝে বড় একটি আত্মবিশ্বাস তৈরি হবে। একটি রাজনিতিক দলের যদি এক বা একাধিক লিমিটেড বিজনেস থাকে আর সেই উৎস থেকে দলের ব্যায় নির্বাহ করা যায়, তাহলে সেই আর্থিক পরিমান জনগনের সামনে তুলে ধরলে তো দল ও দলীয় কর্মিদের দলের প্রতি ও দলীয় শক্তিশালি সুশাসনের প্রতি আস্থা-বিশ্বাস বেড়ে যেতে বাধ্য। যারা বাস্তবতা অনুধাবন করতে পারবেন তারা বুঝবেন যে, সাধারন মানুষের সামান্য চাঁদা দিয়ে এই যুগে একটি পলিটিক্যাল পার্টির ব্যায় নির্বাহ করা সম্ভব হওয়া মোটেও যুক্তিযুক্ত মনে হয় না। যে সব ব্যবসায়ীরা দলীর ফান্ডে ডোনেশন দিয়ে মানবসেবা করেন বা করতে চান তাদের নাম ও টাকার আর্থের পরিমান যদি জনগনের সামনে তুলে ধরা হয় তাহলে সেটা তো অবশ্যই গর্বের ব্যাপার। একটি পলিটিক্যাল পার্টির যদি একাধিক ট্রাস্ট থাকে, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মিয় প্রতিষ্ঠান, বৃত্তি, উপবৃত্তি সহ বিভিন্ন ধরনের আয় ও অলাভজনক সেবা প্রতিষ্ঠান থাকে তাহলে অসুবিধা কোথায়?

আমাদের বুঝতে হবে পার্টির জায়গায় পার্টি আর সরকারের জায়গায় সরকার। যদি সব দলের ইনকাম সোর্স ওপেন থাকে তাহলে সরকার দলিয় প্রভাব কোনো ভাবেই ঐ সব বৈধ ব্যাবসায়ী স্বেচ্ছা অনুদান ও দলিয় ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের উপর না পড়ে তাহলে অসুবিধা কোথায়?

এখন কথা হলো, পলিটিক্যাল পার্টির এই ফান্ডের স্বচ্ছতাকে প্রকাশ না করে লুকোচুরি করতে গিয়ে আমাদের অনেক ক্ষতি হয়ে গেছে। নিশ্চই সৎ রাজনৈতিক ব্যক্তিবর্গ এ ব্যপারে আমার থেকে অনেক বেশি জানেন ও নিজের অবস্থানের লিমিটেশন বুঝতে পারেন। এগুলো এমন এক দুঃখ যা প্রকাশ করা যায় না বরং নিজেদের কাছে হাস্যকর মনে হয়।

টু-সুইট-সিস্টার বাংলাদেশ ও ভারতের রাজনৈতিক দলগুলোর এখনই এই ব্যপারে নজর দেয়া খুব বেশি প্রয়োজন। আমাদের বুঝতে হবে শুধু মাত্র ডোনেশন দিয়ে একজন নেতা হয়ে যাওয়া ঠিক না যদি না তার মধ্যে নেতৃত্বের গুনাবলী না থেকে থাকে। এই আর্থিক লুকোচুরি থেকে রাজনিতিক দলের মধ্যে গ্রুপিং তৈরি হয়। এখন ধরুন একজন আর্থিক ভাবে স্বচ্ছল ব্যক্তি বিশেষ কোনো দলের নীতির প্রতি সমর্থন ও একত্মতা প্রকাশ করে দলের ফান্ডে আর্থিক সাহায্য করলে তা তো প্রতক্ষ্য ও পরক্ষ ভাবে মানবসেবার মধ্যেই গণ্য হয় আবার সেই সাথে স্বচ্ছতাও নিশ্চিত হয়। এখন ধরুন এক ব্যাক্তির অনেক টাকা কিন্তু তিনি নেতৃত্ব দিতে পছন্দ করেন না তারপরও তার অবদান কি খাটো করে দেখা যাবে বলুন?

আমদের এই টু-সুইট-সিস্টার বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার বর্তমান রাজনিতিক ব্যক্তিবর্গ অনেক বেশি অসহায় হয়ে এটুকুও ভাবতে ভুলে যেতে বসেছিলাম যে, এই যে দলিয় অর্থের অস্বচ্ছতার লুকুচুরি খেলা আমাদের মধ্যে আমরা নিয়ে আসি নি বরং এই জিনিসটি আমাদের মধ্যে কৌশল করে ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছিলো। আপনারা যদি দেশ ভাগের ক্ষনিককাল আগে ও পরের রাজনিতিক দলের বিশ্লেষন করে দেখেন তাহলে এই কুট কৌশল বুঝতে মোটেও বেগ পেতে হবে না। আমার মতে রাজনিতিক দলের নিজস্ব খেলাধুলার জন্য লিমিটেড ক্লাব ও রাস্ট্রের বিভিন্ন জায়গায় ক্লাবের শাখা থাকে তাহলে কিশোর ও যুব সমাজের উপকারই হবে। একটি রাজনিতিক দল তাদের আর্থীক ফান্ড নিশ্চিত করার জন্য মাল্টিপারপাস, সমবায় ভিত্তিক প্রতিষ্ঠান, মাইক্রোক্রেডিট, এনজিও সহ বিভিন্ন ধরনের আর্থিক প্রতিষ্ঠান স্পষ্ট পরিচয় দান পূর্বক পরিচালিত করা যেতে পারে। এভাবে একটি দলের মধ্যে প্রকৃত গনতন্ত্র চলে আসে।

আপনাদের নিশ্চই বুঝতে বাকি নেই যে, আমাদের এই টু-সুইট-সিস্টার বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার সেনাবাহিনির ভিতর ব্যবসা ঢুকিয়ে দেয়া হয়েছে যা একটি কুট কৌশল মাত্র। সেনা কল্যান সংস্থা সহ বিভিন্ন ধরনের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানের দেখা মেলে।

আপনারা অবশ্যই বোঝেন যে, একটি পলিটিক্যাল পার্টি যখন ক্ষমতায় থাকে না তখন দল চালাতে অনেক সময় হিমসিম খেতে হয় আর এখান থেকেই দূর্নীতির শুরু হয়। দল ক্ষমতায় না থাকলে দলের সৎ ত্যাগী ঝানু রাজনিতিবিদদের বাসার হারিপাতিলের মধ্যে ইঁদুর, তেলাপোকা বক্সিং শুরু করে দেয়। কমরেড মুজাফফর আহমেদের মতো লিডারদেরও ঠিক মত সংসার চালাতে না পেরে শুকিয়ে কাঠ হতে যেতে হয়েছিলো। আমি নজরুলের একটি লেখায় এই তথ্য পেয়েছি যে, আর্থিক অস্বচ্ছলতার জন্য কমরেড মুজাফফর আহমেদের শরীরের ভর ৩৬-৩৭ কেজি হয়ে গিয়েছিলো এবং সেই সাথে রোগতো আছেই। এখন থেকেই আমাদের এই ব্যাপার গুলো সহজ ভাবে অনুধাবন করতে হবে। এখন ডিজিটাল আই.টি. যুগ। দলের অর্থের সোর্স ইন্টারনেটে সহযেই প্রকাশ করা যাবে। মনে রাখবেন মানুষ বা দল তার নিজের দুর্বলতা নিজেই ঢাকতে চায় তারপরও অসাধু মানুষ ঐ দুর্বলতার সুযোগ নিতেই বেশি পছন্দ করে। আর যারা শুভ চিন্তা চেতনার অধিকারী তারা অন্যের দুর্বল দিক ও দোষ আঙ্গুল তুলে দেখিয়ে দেয় এবং পারলে সমাধানও দিয়ে দেয়। এটা মানব ধর্মের স্বাভাবিক নিয়ম মাত্র।

সামরিক বাহিনির সদস্যরা চাকুরি থেকে মাইনে পান কিন্তু ক্ষমতায় থাকা দলের মুষ্টিমেয় কিছু পোস্ট নেয়া মানুষ ও ক্ষমতায় না থাকা দলের নেতারা কার কাছ থেকে মাইনে নেবেন বলুন? যারা ফুলটাইম রাজনিতির সাথে যুক্ত তারা কার কাছ থেকে মাইনে নেবে বলুন? এখন বলুন সেনাবাহিনির চাকুরি করে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বেশি দরকারি নাকি রাজনিতিকদের জন্য নির্দিষ্ট দলের ব্যবসা বা বৈধ ইনকাম সোর্স থাকা বেশি দরকারি?

তাই আমি টু-সুইট-সিস্টার বাংলাদেশ ও ইন্ডিয়ার সব রাজনিতিক দলের নির্বাহি ব্যাক্তিবর্গের নিকট আমার এই প্রস্তাবনা ভেবে দেখার জন্য বিশেষ ভাবে অনুরোধ করছি।

চলবে.....
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কলকাতায় নিয়মিত যারা যাতায়ত করেন তারা এই প্রশ্নের মূখোমুখি হবেন প্রায়ই।

লিখেছেন ইমরান আশফাক, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৩৩

আচ্ছা, আপনাদের মধ্যে যারা কলকাতায় যাতায়ত করে থাকেন তারা স্হানীয়দের কাছেকি এই প্রশ্নটির মূখোমুখী হয়েছেন নিয়মিতভাবে: দেশভাগের সময় বাংলাদেশকে দেয়া হয়েছিল মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মুর্শিদাবাদ আর ভারতকে দেয়া হয়েছিলো খুলনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনা কেন কওমী জননী হয়েছিলেন ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:২৯


আওয়ামী লীগ করেন এমন অনেক মানুষ বিষয়টি নিয়ে অস্বস্তি বোধ করেন। শেখ হাসিনা কেন কওমি জননী উপাধি গ্রহণ করলেন? আসলে সবাই যা বলতে চান,আওয়ামী লীগের রাজনীতি তো এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

×