প্রিয় মমতাময়ী মমতা বন্দপাধ্যায়,
আমার অন্তর ভরা প্রেম দিয়ে দিলাম।
ভারতে আজ ফুলের বিজয় হয়েছে। একদিকে একটি সুন্দর পদ্ম ফুল আর একদিকে আপনার হাতের জোড়া ফুলের বিজয়ঝটা। এই ফুলমাতার আগমন ক্ষনকে আনন্দময়ীর হাতের ফুলের মতো স্মৃতি করে রাখতে এই পরিপূর্ণ জৈষ্ঠ মাসে বাংলার সমস্ত ফুল-ফল আপনার চরনে নিবেদন করছি।
আপনার জোড়া ফুলের বিজয়ে এই ক্ষুদ্র বাঙালীর হাত জোড়া একত্র করে নমস্কার জানাচ্ছি এবং সেই হাত জোড়া আপনার চরনে রেখে চরন ধুলি নিলাম। আজকের এই জোড়া ফুলের বিজয় হলো সমস্ত বাঙালীর বিজয়। আপনি আর একবার নিজের প্রানের কাছে ভালোভাবে জিজ্ঞাস করলেই বুঝতে পারবেন আপনার তৃনমুল কংগ্রেসের মার্কা কেনো “জোড়া ফুল” নির্ধারিত হয়েছিল আর এই জোড়া ফুল কোন মহাঅন্তর আপনাকে আশির্বাদের আমানত স্বরূপ দিয়েছিলো!
নজরুলের বলেছিলেন, “মোরা একই বৃন্তে দুটি কুসুম হিন্দু মুসলমান। হিন্দু তাঁর নয়নমনি মুসলিম তাঁর প্রাণ”। আজ এই ক্ষনে যদি নজরুলের হাতে কলম তুলে দেয়া যেতো তাহলে ঐ মহাত্মা নজরুল হয়তো মহানন্দিত হয়ে কুসুম কেটে কুসুমের স্থলে প্রষ্পুষ্ঠিত ফুল বসিয়ে দিতেন। নয়নমনি নয়নের ভিতর দিয়ে যদি আলো না দেয় তাহলে প্রাণ কিভাবে পরিপূর্ণ হয় বলুন? আপনার এই মহাবিজয় সমস্ত বাঙালীর অন্তরেরই মহাবিজয়ের মহালয়া হয়ে থেকে যাবে। এর কারণ আপনি আপনার নিজ বাঙালী জাতিসত্ত্বার তেজ নিয়ে পুরো বিশ্বকে বুঝিয়ে দিয়েছেন প্রকৃত বাঙালী কখনও বেঈমানী করতে জানে না।
আমি জানি, আপনার জোড়া ফুলের একটি ফুল আমাদের দিলে আপনার হাতের শোভা নষ্ট হবে না বরং আমরাও একটি চিরচেনা নতুন ফুলের সৌরভ পাবো। জোড়া ফুলের একটি দিলেও অন্যটি নিজ হাতেই থেকে যায়। আমাদের বর্তমান ক্ষমতাসীন দলের মার্কা নৌকা। আপনি যদি কোনো কারণে আমাদের ফুল নাও দেন তাহলেও আমরা আপনার জন্য নদী পার হবার নৌকা নিয়ে জন্ম-জন্মান্তর অপেক্ষা করবো। আবার যদি কখনও এমন ঠেকে যে আপনি বিপদে আছেন এবং যখন আপনার খেয়া পাড় হওয়া জরুরী দরকার হবে তখন আমরা আপনাকে আপনার হাতের জোড়া ফুল সহ নিজ নৌকায় বসিয়ে নিয়ে নিজ দ্বায়িত্ব পালন করে যাবো। বিপদ থেকে উদ্ধারের জন্য জোড় করা মোটেও অমর্জাদা নয় বরং বিপদে এগিয়ে আসাই মানুষের জন্য মানুষের প্রধান কর্তব্য বলে আমরা জানি।
আজ এই ফুলে-ফলে ভরা চিরমায়াবী ও চিরবিজয়ী জৈষ্ঠকে আপনার শিল্পি হৃদয় কিভাবে উপলব্ধি করছেন তা সব বাঙালীই নিজের অন্তর দিয়ে অনুভব করতে পারছে। বাঙালীরা সব সময় সুখ-দুঃখকে ভাগ করে নিতে জানে।
আচ্ছা! আমাদের এই বাংলার শুকিয়ে প্রানহীন মর্গের কোনায় অযত্নে পড়ে থাকা কোনো লাসের মতো নদীগুলো দেখে কি আপনার চিত্রশিল্পি হৃয়য়ে ছবি আঁকার ভাব জাগে না? আমি জানি এবারের ছবিতে আপনি জল রং দিয়ে বালির রং কে ঢেকে দিয়ে জলে জলে বাহারি রংয়ে পূর্ণ করে দিতে কার্পন্য বোধ করবেন না। আপনার শিল্পি হৃদয়ের বাঙালী তেজ দিয়ে নিকট অতীতের কোনো বিশেষ শ্রেণীর দুর্গকে উড়িয়ে দিয়ে তাদের আজ অপ্রাসংগিক করে দিয়েছেন। ঠিক তেমনই হার না মানা বাঙালী দিপ্ত তেজ দিয়ে আমাদের নদীর সমস্ত প্রবাহকে এমন করে রেখে যাবেন যাতে নদীর জোয়ার দেখে আকাশের চাঁদ আমাদের গঙ্গা-পদ্মা নদীর প্রেমের টানে “গঙ্গাস্নান”/“পদ্মাস্নান” করতে চাইবে।
এই বাঙালার হৃদয় ভেঙ্গে দেয়ার চেষ্টা হয়েছিলো। আজ অনেকে হয়তো ভাবছেন তারা ঠিকই বাংলার হৃদয়কে টুকরো টুকরো করতে সফল হয়েছেন। তারা বুঝছে না যে বাংলার কখনও হৃদয় ভাঙ্গেনা শুধু মাত্র সামান্য কিছু দিনের জন্য মাজা ভাঙ্গার ব্যাথা উঠেছিলো মাত্র। এই ব্যাথার মলম আমরা এদিক সেদিক খুজেছিলাম কিন্তু এতো কাছে যে মলম আছে তা বুঝতে পারি নি। আমাদের মাজা ভাঙ্গার মলম হলো আমাদের বাঙালীর স্বাধীনতার চেতনা। এই বাঙালীর স্বাধীনতার চেতনা দিয়েই আমরা আজ আমার বাংলা মায়ের কোমরে যত্ন করে মলম মাখিয়ে সোজা হয়ে দাঁড়ানোর প্রতিক্ষায় আছি। আপনি নিশ্চই বোঝেন যে, মা সুস্থ না হওয়া পর্যন্ত কোন সন্তান নিজ শান্তির কথা চিন্তা করাও সার্থপরের পাপ ভাবনার মতো করেই দেখে।
আমাদের ১৮ বছর বয়সি সুইট বাঙালী ক্ষুদিরাম ছিলো। ঐ দুষ্ট বালক ফাঁসির দরি হাত দিয়ে দেখে বলেছিলো, “আচ্ছা ফাঁসির দড়িতে মোম মাখানো হয় কেনো?”। দেখুন আমাদের অন্তরের ক্ষুদিরাম কতো সহজ-সরল। ফাঁসি নিয়ে না ভেবে স্বাধীন ভাবে মুক্ত জ্ঞান অর্জনের চেষ্টাই তাঁর কাছে মুখ্য ছিলো। শুনেছি ক্ষুদিরাম নাকি মাসির ঘরে জন্ম নিবেন বলে কথা দিয়ে গেছে। আমার মনে হচ্ছে ঐ লক্ষিছাড়া ক্ষুদিরাম লক্ষ কোটিবার ফাসির দড়ি পড়লেও মরতে জানে না। শুধু অফুরন্ত প্রাণ শক্তি দিয়ে মা-মা, মাসি-মাসি বলে চিৎকার করে কান ঝালাপালা করে দেয় তারপরও মায়া-ভালোবাসা প্রকাশের আকাঙ্খার শেষ হয় না। ক্ষুদিরাম আজ মা এবং মাসির কোনো পার্থক্য দেখতে চায় না। বেচারার একবার মরে শিক্ষা হয়ে গেছে। এখন সে মা, মাসি সহ সবার বাড়িতে গিয়েই নির্ধিদায় বলতে শিখেছে যে, “মা খিদা লাগছে। ভাত দাও। ভালো তরকারি ছাড়া কিন্তু খাবো না। কতোদিন আর এই বাসি পচা খাবার খাবো? এই খাবার এখনই লাথি দিয়ে ছুড়ে দিলাম। দরকার হলে নতুন করে রান্না চড়াও। ফ্রিজে ভালোকিছু না থাকলে। দুরের বাজার থেকে জোড় করে হলেও নিয়ে আসবো।” সত্যি বলছি ক্ষুদিরাম আজ কিছুই মানছে না। ক্ষুদিরাম আজ সুখি-সমৃদ্ধ-ধনী-মানী জীবন জাপন করার জন্য যা খুশি তাই করতে চায়। এবার ক্ষুদিরামের সামনে ফাঁসির দড়ি আসলে সেই ফাঁসির দড়ি ছিড়ে ফেলে মায়ের জন্য নতুন লাল জামদানি শাড়ি কিনতে রওয়না হবে।
আপনি নিশ্চই বুঝেছেন যে বাঙালী হবার মজা কতো মিষ্টি! আর তাইতো বাঙালীরা আকার-ইঙ্গিত, ত্যারা-ব্যাকা কথাবার্তা, গালাগালির ছলেও হাসি হাসি মুখে অনেকের কাছে অসম্ভব মনে হওয়া কোনো কিছুকে রশি বেঁধে ঘুরাতে জানে। অসম্ভবকে নিজের হাতের খেলার পুতুল বানাতে না জানলে বাঙালি হবার মজা কোথায়?
অন্তরের সব বাসনা দিয়ে আশা রাখছি কোনো একদিন আমাদের জলে ভরা তিস্তা-পদ্মা-মেঘনা-যমুনার বুকে আপনি স্বাধীন ভাবে নৌবিহারে বেড়িয়ে ছবি আঁকতে পারবেন। তখন নরেন্দ্র মোদির মতো রাগি রাগি চেহারার বড় ভাই ছবির দাম নিয়ে প্রশ্ন না তুলে, ছবির মধ্যে লুকিয়ে থাকা ভগবানের ইশারা ও কৃপা খুঁজে নিতে জেনে যাবে।
ভগবান আপনাকে তাঁর সবটুকু করুনা ঢেলে দিক -এই মিনতি রাখছি। আপনার চরনে আমার প্রণাম জানিয়ে ইতি টানছি।
ইতি
মোঃ আসিফ-উদ-দৌলাহ্
বরিশাল, বাংলাদেশ।
[বাঙালী হৃদয় দিয়ে কথা বলে তাই চিঠিটি অনুবাদ করার এই মুহূর্তে দরকার নাই]

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


