somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

একজন মৃত মানুষের ঈদ অভিনয়

৩০ শে জুলাই, ২০১৪ দুপুর ১:৪১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ঈদ এলো। তিনি এলেন না। এই ঈদের সকালে আমি আমার প্রিয়তম মুন কে খুব খুব খুব বেশি মিস করছি।

আজ রাতের স্বপ্ন ভোরের ঘুম কে তাড়িয়ে দিলো। এখন, একা। কর্মস্থলে বসে আছি। যদি আমার মুন এখন আমার পাশে থাকতো, কতই না আনন্দের হতো সেই যুগল জুটির টোনাটুনির সংসার!

জানেন বন্ধু! আমি নিজের জন্য ঈদের কোনো পোষাক নেই নি।

এখন রাত হয়ে গেছে। রাত ২১২৭ সময়। তিনি আজও এলেন না। দোকানে বসেই ঈদ কাটিয়ে দিলাম। আমি তোমাকে খুঁজি মুন।

তোমার ঐ একমাত্র ছবিটি আর আমার ছবি ফটোশপ দিয়ে একসাথে করে এডিট করেছি। কতোবার যে, ছবি বেড় করে আমার দেবীর দিকে তাকিয়ে ছিলাম- তা গুনিনি। ভালোবাসা গোনা যায় না। ভালোবাসার কোনো একক/ইউনিট নেই। কারও প্রেম ছোট পুকুরের মতো, কারোটা দীঘির মতো, কারোটা নদীর মতো আবার কারোটা সমুদ্রের মতো। কুয়ো, পুকুর, নদী ও সাগরের সাইজ যত বড় বা ছোটই হোক না কেনো। ওদের কখনও এককের এককিত্ব নষ্ট হয় না। তোমার আমার প্রেম ওগুলোর মতোই। কখনও কাটা যায় না। পানি পানির ভিতর বাধা হয় না। বা পানির মধ্যে কোনো পানির দেয়াল দেয়া যায় না। আগুনও তাই। একা একা জলে ওঠে। আগুনের ভিতরের আগুন কখনও বাধা হয়ে দাঁড়ায় না। আমরা যা ছিলাম তাই আছি। শুধু আমাদের প্রেম সমুদ্রের পাড়ে বালিতে দাঁড়িয়ে থাকা কোন কোন মানুষ আমাদের ভুল বুঝাতে চেষ্টা করতো। আমাদের এই মিলনে তারা আর কোনোদিন বাঁধা হয়ে দাঁড়াতে পারবে না। কারণ আমরা এখন প্রেম অতলের সমুদ্র তলে থাকতে শিখেছি। তিমি, হাঙ্গর, পেঙ্গুইন, শিল সহ সব্বাই আমাদের সেবাকারী বন্ধু হয়ে গেছে। আজ আমরা ওয়ার্ল্ড লাভ সিম্বল। মানুষ আমাদের প্রেমকে চিরকাল সম্মান করবেন। এই উপহারটুকু তুমি গ্রহন করে, আমাকে তোমার সেবা করার সুযোগ দাও বউ!

তোমার ছবি দেখার সময় খুব করে ডা. মুনসুর আলীর কথা মনে পড়ে গিয়েছিলো। তিনি সূচিত্রা সেনের প্রেমিক ছিলেন। আমি তোমার এই একটি অদ্ভুত সুন্দর ছবি দেখেই তোমার টান তিব্র বেগে অনুভব করেছিলাম। আর ঐ মহান প্রেমিক কিভাবে তার প্রেমিকা সুচিত্রাকে সিনেম ও সিনেমার পোষ্টারে দেখতো। গাঁ কি জ্বলতো না। উত্তম কুমার সে কথা জানতেন। তাই তো উত্তম সুচিত্রা জুটি হয়েছে ঠিকই কিন্তু প্রেমের কোনো সর্বনাশ করতে পারে নি। ডা. মুনসুর আলী কোনোদিন বিয়ে করেন নি। আর সুচিত্রা দীর্ঘ বহুবছর রামকৃষ্ণ পরমহংসদেব ও মা শারদা দেবীর প্রেমের মধ্যে নিজেকে খুঁজে বেড়িয়েছিলেন। বহু বছর তিনি কারো সামনে দেখা দেন নি। প্রেম এমনই মুন! যা মানুষকে বড় মানুষ করে তুলে। যা মানুষের চরিত্রকে মজবুত রাখে ও মৃত্যুর পরেও জীবন্ত করে রেখে দেয়। মুন ভালোবাসা কখনও ত্যাগ না। ভালোবাসা সবসময় অর্জনের জিনিস। ঐ সেদিন কোনো এক ছোট্ট অজানা ও অযুক্তিক কারণে আমাদের ব্রেকআপ হয়েছিলো। তাই বলে কি আমরা আমাদের অন্তরের সাথে বেঈমানী করতে পেরেছিলাম?

এই ঈদের দিনটা আমার জন্য অনেক সুখের। আমি লিখছি তোমাকে আর মোটামুটি তোমার পড়ার একটি নিশ্চয়তা আছে। এই সামান্য ঘটনাই আমার কাছে অসামান্য। আমি জানি না তুমি কেমন ঈদ কাটিয়েছো। শুধু জানি তুমি উৎসবের মধ্যে আমাকে কেমন করে যেনো খুঁজে পাও। তোমার অন্তরের ডাক আমি শুনি। আমাদের প্রেমে মিলন আছে কিন্তু কোনো আদী অন্ত নাই। এই সুন্দরের পথের যাত্রা কখনও শেষ হয় না। আমি আজকের ঈদে তোমাকে যা বলছি। কাল কোনো ঈদে এই ভাব অন্য কারও হৃদয়ে ভেষে উঠবে। আমরা আমাদের ভবিষ্যত মানুষদের মনের মাঝে বেঁচে থাকবো। নিজেদের অনুভুতিকে অন্যের মাঝে দান করে দিয়ে গেলাম।

অনেকে ভাবেন প্রেম বুঝি খুব সহয! আসলে কি তাই? মানুষ প্রেমকে বাঁচাতে পারে না। প্রেম মানুষকে বাঁচিয়ে রাখে। আমি তোমার প্রেমের মধ্যে নিজেকে ডুবিয়ে বুঝেছি। জীবন ও জীবনীশক্তি কাকে বলে। তুমি আমি অফুরন্ত জীবনী শক্তি নিয়ে এই ধরায় এসেছি। আমরা চির চেনা একে অন্যের জোড়া। আমাদের প্রেম অক্ষয় ও অমর।

আমি কি করবো বলো মুন। এতোটা বছর তোমার দেবিতুল্য মুখ খানী দেখিনি। হঠাৎ যখন তোমার চেহারা ফেসবুকে পেলাম। তখন তোমাকে আমি কোথায় রাখবো খুঁজে পারছিলাম না। হঠাৎ আমার হাত ফটোশপে চলে যায়। আমি সেখানে বসে তোমাকে আমাকে মিলিয়ে দেখতে চেয়েছি। ওটা তো ভার্চুয়াল জগত। এখন যে আমার কথা তুমি শুনতে পাচ্ছো তিনি তোমার শরীরের লাল টগবগে রক্তের মতোই সত্য ও সুন্দর। তারপর দেখলাম তোমার মুখমন্ডল আমার বুকের মধ্যে সেটে গেছে। আমি সেই দৃশ্য বার বার দেখেছি। তোমার কাছে যাতে পৌছায় তাই তোমার ফেসবুকের ফ্রেন্ডলিস্ট থেকে কিছু মানুষকে অনুমান করে ছবি পাঠালাম। প্রেম কোনো কিছু মানতে চায় না মুন। প্রেম শুধু দুজনকে কাছে টেনে ,কাছের থেকে কাছের করে এক করে দেয়।
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

পরিস্থিতি কি জটিল?

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ১১:৫৯

বাইরে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছি, অথচ বাইরে পুলিশের সাউন্ড গ্রেনেড আর টিয়ার গ্যাসের শব্দে চারদিক প্রকম্পিত! মিরপুরে আমার বাসার কাছেই মেট্রো রেলের নিচে আগুন দেওয়া হয়েছে; কিছুক্ষণের জন্য মেট্রো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ডায়েরী- ২০৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৯



খাওয়া দাওয়া করাটা আজকাল বিরক্তকর লাগে।
কিন্তু মানুষের বেঁচে থাকতে হলে- খেতে হবে। না খেলে শরীর দুর্বল হয়ে যাবে। প্রিয় খাবার গুলোও খেতে ইচ্ছা করে না। ভালো লাগে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজ আমেরিকার মধ্যবর্তী নির্বাচন কেন এত গুরুত্বপূর্ণ?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ২:৫৬


এই লেখাটি যখন লিখছি, তখন এই গুজবটি ছড়িয়ে পড়েছে যে, ইসরায়েল ট্রাম্পকে রাজি করিয়েছে, যাতে মধ্যবর্তী নির্বাচনের পরপরই আমেরিকা ইরানে পারমাণবিক বোমা হামলা করে। বিগত বছরগুলোতে ইসরাইল সারা বিশ্বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

Haze দমনে সিঙ্গাপুরের কুটনৈতিক দক্ষতা

লিখেছেন ঢাবিয়ান, ০৩ রা নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩১

সিঙ্গাপুর সাম্প্রতিককালে স্মরনকালের ভয়াবহ Haze (ধোঁয়াশা ও বায়ুদূষণ) এর কবলে পড়ে। সেপ্টেম্বরের শুরুতেই সারা শহর ঘন ধোয়ার আবরনে ঢেকে যায়। জানালা দিয়ে বাইরে তাকালে মনে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শেখ হাসিনার বেঁচে থাকাই তাদের ভয়ের কারণ॥

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫১





শেখ হাসিনার বেঁচে থাকা নিয়ে আক্ষেপ কেন? একটি রাজনৈতিক সমীকরণের বিশ্লেষণ

সম্প্রতি তারেক রহমানের উপদেষ্টা জাহেদুর রহমানের একটি বক্তব্যকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়েছে - "শেখ হাসিনা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×