
শিক্ষামন্ত্রী এহসানুল হক মিলন ফেইল করবেন। তিনি এখনও ২০০১-০৬ সালে আটকে আছেন। সেই সময়ে যখন তিনি শিক্ষা মন্ত্রী হয়েছিলেন তখন শিক্ষায় নকল সমস্যা ছিল সব থেকে বড় সমস্যা। কিন্তু এখন নলক সমস্যা কোন বড় সমস্যা নয়। এখনকার ছেলে মেয়েরা নকল করে না। তাদের নকল করার দরকারই নেই। অথচ তার বক্তব্যে এই নকল ছাড়া আর কিছু নেই। সারাক্ষণ শুধু “নকল, নকল, নকল’’।
বর্তমানে আমাদের শিক্ষাব্যবস্থা ধাপে ধাপে সিস্টেমেটিক ভাবে ভেঙে পড়েছে। বাংলা মিডিয়ামের কারিকুলামটি আপডেটেড নয় এবং যুগোপযোগীও নয়। জিপিএ-৫ পাওয়া ছেলেমেয়ে ভার্সিটি উঠেও যখন এক পেজ ইংরেজি শুদ্ধভাবে লিখতে পারছে না, ক্লাস নাইন টেনের ব্যাসিক ম্যাথ পারছে না তখন বুঝতে হবে সমস্যাটা শুধু আর নকলে নাই, শিকড় অনেক গভীরে ঢুকে গেছে।
আমাদের স্কুলগুলোতে ভালো মানের শিক্ষক নেই। শহরের দিকে যা একটু আছে, গ্রামের দিকে অবস্থা ভয়াবহ খারাপ। আর শিক্ষাকদের যা অবস্থা তাতে ভাল শিক্ষক তৈরিও হবে না। শিক্ষকদের বেতন নেই, সম্মানও নেই। যারা এখন শিক্ষক তারা মূলক অন্য কোথাও চাকরি না পেয়ে এখানে এসেছে, ভালো কোন অপশন না পেয়েই আসছেন।
এই রকম কত সমস্যা রয়েছে তার ঠিক নেই।
কিন্তু এসব গুরুত্বপূর্ণ বিষয় না তুলে মিলন সাহেব সারাক্ষণ শুধু নকল বন্ধ করার কথাই বলছেন—সিসিটিভি লাগাবেন, এটা করবেন, সেটা করবেন।
বাস্তবতা হলো, এখন নকলের ধরনই বদলে গেছে। এখন আর কেউ আগজে করে নকল নিয়ে যায় না হলে। এখন পরীক্ষার আগেই প্রশ্ন ফাঁস হয়ে যায়। প্রিন্টিং প্রেস থেকে লিক হয়, অথবা বিভিন্ন ডিভাইস ব্যবহার করে নকল করা হয়। কিন্তু শিক্ষা মন্ত্রী সে আগের মতই রয়েছেন।
সমস্যা সমাধানের আগে মূল সমস্যা টি সেটা খুজে বের করতে হয়। শিক্ষা মন্ত্রী সেই দিকে যান নি অন্তত এখনও পর্যন্ত তার কাজ কর্ম এবং কথা বার্তায় সেই সময় মনে হচ্ছে না। তিনি শিক্ষা ব্যবস্থার কোন উন্নতি করতে পারবেন না। আওয়ামীলীগ সরকার শিক্ষা ব্যবস্থার যে অবস্থা করে গেছে তিনি সেই অবস্থা থেকে পুরো সিস্টেমকে টেনে তুলতে পারবেন না। কেবল ফাঁকা বুলি রয়ে যাবে তার কথা।
সর্বশেষ এডিট : ১৪ ই এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


