দরজা খোলা মানে নতুন কিছু সূচনার ইঙ্গিত,একই সাথে পুরোনো কিছু ফেলে আসা। তবে রাজনৈতিকবীদগনের কাছে প্রিজন ভ্যান এর দরজা যেনো ছবি তোলার ব্যাকগ্রাউন্ড। বিশেষ করে গত ৬/৭ বছর ছবি তোলার প্রতিযোগিতা খুব বেশি লক্ষ্য করা গেছে বড় পর্যায়ের নেতা/নেত্রী থেকে শুরু করে মাঝারি এমনকি ছোট মানের নেতাকর্মীরাও প্রিজন ভ্যানের দরজার সামনে ছবি তোলার জন্য হুমড়ি খেয়ে পরেছে। ৬০ উর্দ্ধে,হার্টের রোগী,ঠিকমত কথাও বলতে পারেনা এমন অসুস্থ নেতা-নেত্রীরাও ঠিক প্রিজন ভ্যানে উঠার আগে দরজার সামনে দাড়িয়ে V চিহ্ন দেখাতে একটু ভুল করেনি। আমরা এমনও দেখেছি একাধিক আসামী এক সাথে উঠবে সময় শক্তিশালী আসামী সবাইকে উপরে ফেলে পত্রিকার সামনের পৃষ্টায় আসার জন্য দরজায় দাড়িয়ে দুই হাত উচিয়ে V চিহ্ন দেখাতে দেখা গেছে। এই V চিহ্ন দেখানোর পর পরবর্তী কয়টা মাস বা বছর কেমন যাবে তা হয়তো সে নিজেও জানে না। তবে কেন এত মূল্য প্রিজন ভ্যানের সামনে তোলা একটা পরিস্কার ছবির। বিশ্লেষণ করলে দেখা যায় পরেরদিন পত্রিকার এক পাশে বড় করে আসবে সেই ছবি। যার একটা করে কপি পাঠানো হবে দলের সর্বোচ্চ নেতাদের হাতে। এছাড়াও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সিডর এর মতো ঝড় উঠবে প্রথম কয়েকটাদিন। মুক্তি পেলে দলের দলের নেতা কর্মীদের কাছে ত্যাগি নেতার তকমা জুটবে। এই রকম আরো অনেক কল্পনা নিয়ে ফটোগ্রাফার ভাড়া করেও অনেক ছবি তুলেন প্রিজন ভ্যানের দরজায়। এই নেতাদের মাঝে অনেকে জেল থেকে বের হয় লাশ হয়ে,অনেকে এতটাই অসুস্থ হয়ে যায় যে,একদিকে জেল থেকে মুক্তি অন্যদিকে রাজনীতি ছেড়ে বিদেশ পারি জমায়।
ঐ সব মডেল রাজনীতিবীদগনকে বলতে চাই, মাহাত্তা গান্ধি,নেলসেন মেন্ডেলা বা শেখ মুজিবের মতো বিশ্বমানের রাজনৈতিক নেতারাও কারাভোগ করেছেন। প্রিজন ভ্যানের সামনে ছবি না তুললেও কোটি ভক্তের মনের মাঝে জীবন্ত হয়ে আছেন। একবার ভাবেন প্রিজন ভ্যান কিন্তু আপনাকে শশুর বাড়ী নিয়ে যাবে না। পরিস্কার রাজনীতি করেন আপনাকে সামনে রেখে জনতা সেলফি তুলবে।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা জানুয়ারি, ২০১৬ সন্ধ্যা ৬:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




