somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আমি কি পারতাম মাকে নিজের একটা কিডনী দিতে??

১৩ ই জুলাই, ২০১২ সকাল ১০:০৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বন্ধুর মুখ থেকে যখন শুনলাম সে ওর মাকে নিজের একটা কিডনী দিচ্ছে। প্রথমেই আমার এই কথাটাই মনে হয়েছে।
এক বন্ধুর মুখে শুনলাম নুরের মা খুব অসুস্থ । গেলাম নুরের রুমে। জিজ্ঞেস করলাম ওর মার ব্যপারে।
সব কিছু বলল। ওর মার দুইটা কিডনীই অকেজো হয়ে গেছে। অনেক টাকা লাগবে ট্রান্সপ্লান্ট করতে। কিছু জমি ছিল বিক্রির ব্যবস্থা করা হয়েছে। সেখান থেকে কিছু টাকা আসবে।
বললাম, কিডনী কই পাবি?? কিডনী কি পাইছিস?
বলল, আমার কিডনী টেষ্ট করা হচ্ছে।
বললাম, মানে কি? তুই কিডনী দিচ্ছিস??
বলল, হুম।
আমার মাথাটা ভো করে ঘুরে উঠল। কি বলব বুঝতে পারলাম না।
আমি কি পারতাম মাকে নিজের একটা কিডনী দিতে?? আমি কি অত সহজে এ রকমভাবে বলতে পারতাম???
আমি ওর জায়গায় হলে হয়ত অন্য কারো কিডনী ম্যানেজ করার চেষ্টা করতাম। যত টাকা লাগুক। কিংবা হয়ত নিজেরটা দিতে পারতাম।
সবাই মিলে সিদ্ধান্ত নিলাম আমাদের হলে কিছু টাকা জমা আছে জামানত হিসেবে। ওই টাকা আমরা ওকে দিয়ে দিব।
গেলাম প্রভোষ্ট স্যারের কাছে। তিনি রাজি হলেন। হেডস্যারও অন্যন্য ফান্ড থেকে ব্যবস্থা করার কথা বললেন। এবার গেলাম ভিসি স্যারের কাছে। সবকিছু বলা হল।
আশ্চর্যজনকভাবে তিনি মুখের উপর না করে দিলেন। জামানতের টাকা নাকি এভাবে দেয়ার নিয়ম নাই। অন্যন্য ফান্ডের কথা বলা হলে তিনি বললেন, তোমরা কথা বলে দেখ। এ ব্যপারে আমি কিছু করতে পারব না।
সেকেন্ডের মধ্যেই সবার মুখ কালো হয়ে গেল। পা গুলো সব চেয়ে ভারি মনে হল সে সময়। পা যেন আর হাটতে চায় না।
পরে বুঝলাম কেন ভিসি মুখের উপর না করে দিল। কিছু দিন আগে যুবলীগের কর্মীরা ভিসির রুম ভাংচুর করে পলিটিকাল ব্যপারে। আমরা কেন এর প্রতিবাদ অথবা বিক্ষোভ করলাম সেটাই ছিল তার রাগ।
আমরা এখানে কি করতে পারি?? আমরা সাধারন ছাত্ররা কার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করবো??
আমরা ছাত্র মানুষ। আমরা হয়ত ১০০ বা ২০০ টাকা করে দিতে পারি। এতে কতটুকুই বা সহযোগিতা হবে। অনেকে হয়ত তাও দিতে পারবে না।
আর একটা মাত্র পরীক্ষা বাকি। তাহলেই আমাদের বিশ্ববিদ্যালয় জীবন শেষ। পরীক্ষা শেষ হলেই যে যারমত বাড়ীতে ছুটে যাব মায়ের কাছে।
আমার বন্ধুও যাবে। তবে বাড়ীতে নয়, হাসপাতালে।
৩৯টি মন্তব্য ১৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জীবন পর্ব -১

লিখেছেন মায়াস্পর্শ, ১৮ ই জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫২



(শালবন ভ্রমণ)
২০১২ সাল। সদ্য পাশ করে বের হয়েছি। কঠিন সময় পার করছিলাম। এদিক-সেদিক স্টেজ শো করে যে পেমেন্ট পেতাম, বাড়িতে ফিরতে ফিরতেই প্রায় শেষ হয়ে যেত। সকালে মায়ের হাতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

'তুমি আমাকে এটা কোন ধরনের হোটেলে নিয়ে এলে?'

লিখেছেন এমএলজি, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ১:২৮

এ লেখাটি ম্যাচিউর পাঠকদের জন্য। সে কারণে reader discretion is advised, অর্থাৎ, অস্বস্তি লাগলে পড়বেন না।

ব্যবসায়িক কাজে চায়না গেলেন হাজি মামুন (ছদ্মনাম)।

পঞ্চাশোর্ধ বয়সের সংসারী মানুষ তিনি। ঘরে পরহেজগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমাদের শাহেদ জামাল- ৯৮

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৫:২২



আজ শুক্রবার। শুক্রবার মুসলমানদের জন্য বিশেষ একটি দিন।
আজ বাংলা আষাঢ় মাসের ৫ তারিখ। যদিও বর্ষাকাল। আজ আকাশে মেঘ নেই। বরং রোদ উঠেছে। রোদের তাপ ভালোই। শাহেদ পথে বের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইউরোপের সবচেয়ে বড় ফিনটেঁক কোম্পানী রিপাবলিক ইউরোপকে ছেড়ে দেওয়ার সত্য ঘটনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৩

বাংলাদেশের আইটি ফার্মগুলোর মাঝে আমার ফার্মই তাঁর ইঞ্জিনিয়রাদের সবচেয়ে বেশি বেতন দিতো। আমার সিনিয়র রুবি অন রেইলস ব্যাকএন্ড ডেভেলপার ছিলো রিফাত। বয়স ৩০, সেই বয়সেই সে মাসে পেতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফিরে এসো পূর্ণিমায়

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:৫৫



তুমি ছাড়া ভালো লাগে না পূর্ণিমা চাঁদ, তুমি লুকিয়ে চন্দ্রিমার হলুদ বর্ণে। মায়াবী জোছনা মাখা রাত সবই যেন নিস্ফল, মন যেন হারিয়েছে আঁধারে সব সময় কাঁদে। চারিদিকে যেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×