somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বিএনপির আন্দোলনে ‘পানি’, না বিএনপির ‘আন্দোলনে পানি’!

২৩ শে এপ্রিল, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:১২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

৫ই জানুয়ারির নির্বাচন ঠেকাতে ব্যর্থ হওয়ার পর বাংলাদেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দল বিএনপি অনেকটাই ইস্যুহীন হয়ে পড়ে। ফলে নেতা-কর্মীদের মধ্যে এক ধরনের হতাশা ও উদ্যমহীনতা কাজ করতে থাকে। এ কারণে দলটি কিছু কিছু উপযুক্ত ইস্যু থাকা সত্ত্বেও তা নিয়ে যথোপযুক্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারেনি। কিন্তু দলকে টিকিয়ে রাখতে হলে কর্মীদেরকের কাজে ব্যস্ত রাখাটা অত্যন্ত জরুরি। সম্ভবত, বিএনপির প্রথম সারির নেতৃত্ব এই বিষয়গুলোকেই মাথায় রেখে অতীত ভুলের পুনরাবৃত্তি না ঘটিয়ে জনমুখী ইস্যুতে সক্রিয় হওয়ার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছে। আর এর ফল হচ্ছে তিস্তা ইস্যুতে লংমার্চের ঘোষণা। এ ইস্যুতে বিএনপির পক্ষে সাধারণ মানুষের কাছ থেকে সাড়া পড়ার সম্ভাবনাটাও ছিল অনেক বেশি। কেননা এই ইস্যুটি বাংলাদেশের একিিট বৃহত্তর জনগোষ্ঠী, কৃষক সমাজের বড় ধরনের চাওয়া পাওয়ার বিষয়। তাদের পক্ষে অহিংস আন্দোলন সৃষ্টি করতে পারলে বিএনপি হয়তো তাদের হারানো ইমেজ কিছুটা হলেও পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হবে, যাকে পুঁজি করে পরবর্তীতে তারা আরো তীব্র আন্দোলনের সূচনা ঘটাতে পারে। তাই ব্যাপক প্রস্তুতি, প্রচার-প্রচারণা সৃষ্টি করে দলটি মঙ্গলবার ঢাকা থেকে তিস্তা অভিমুখে তাদের লংমার্চ কর্মসূচির যাত্রা শুরু করে। লংমার্চটি ঐদিন সকালে উত্তরার আজমপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে যাত্রা শুরু করে। লংমার্চের শুরুতে উদ্বোধনী বক্তব্য রাখেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। প্রায় শতাধিক গাড়ির বহর লংমার্চে অংশ নিয়ে রাজধানী ছাড়ে। যাত্রাপথে কালিয়াকৈর, টাঙ্গাইল, সিরাজগঞ্জ কড্ডার মোড়, বগুড়া, গাইবান্ধার গোবিন্দগঞ্জ এবং পলাশবাড়িতে সংক্ষিপ্ত পথসভা করে। রাতে রংপুর পৌঁছে রাত্রিযাপন করেন লংমার্চে অংশ নেয়া নেতাকর্মীরা। সমাবেশ উপলক্ষ্যে তিস্তা ব্যারাজ এলাকায় নেয়া হয় কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা। পুরো এলাকা ঢাকা ছিল নিরাপত্তার চাদরে।
কিন্তু হঠাৎ করেই লংমার্চের দিনে দেখা গেল তিস্তার শুকনো বালি ডুবিয়ে দিয়ে উজান থেকে নেমে আসলো পানির প্রবাহ। এতে তিস্তা শুকিয়ে যাওয়ার কারণে ভুক্তভোগী কৃষকদের মাঝে নেমে আসে প্রশান্তি। তাদের চোখ-মুখে জন্ম নেয় আশার বিচ্ছুরণ। কিন্তু প্রশ্ন হলো; যে ভারত শুষ্ক মৌসুমের শুরুতেই আন্তর্জাতিক আইনকে উপেক্ষা করে পানি আটকে রেখে নিজেদের প্রয়োজন মিটিয়ে আসছিলো, বাংলাদেশের এ প্রান্তের তিস্তা শুকিয়ে মরা নদীর রূপ নিলো, পানি না পেয়ে কৃষকের মাঠ ফেটে চৌচির হয়ে গেলো, বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ভারতের এ অন্যায় কাজ নিয়ে ব্যাপক অসন্তোষ সৃষ্টি হচ্ছিলো, সেই ভারত এতদিন এসব কিছুর প্রতি কর্ণপাত না করে হঠাৎ কেন পানির বাঁধ ছেড়ে দিল? এটা কি ভারতের উদারতা, নাকি হঠাৎ তাদের নীতি-নৈতিকতা জেগে উঠা? বাংলাদেশের ন্যায্য দাবির অনুযায়ী এত দিন ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার বাংলাদেশেকে পানি দেওয়ার ব্যাপারে পশ্চিম বঙ্গের ক্ষমতাসীন মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জীর অনড় অবস্থানকে দায়ী করে আসছিল, মমতাও নির্মমতার সাথে বাংলাদেশেকে পানি না দেওয়ার ব্যাপারে বলে আসছিলেন ‘যেখানে নিজেদের প্রয়োজন মিটছে না সেখানে আমরা বাংলাদেশকে পানি দেই কি করে?’।
বিএনপি অবশ্য তিস্তায় পানি ফিরে পাওয়ায় তাদের কৃতিত্বই দাবি করেছে। মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘এটা বিএনপির আন্দোলনের প্রাথমিক ফল।’ আবার অবশ্য তিনি এটাকে ভারতে ‘আইওয়াশ’ বলেও আখ্যা দিয়েছেন। অন্যদিকে বিএনপির সফলতার এ দাবি নিয়ে ভিন্নমতেরও সৃষ্টি হয়েছে। সরকার পক্ষ দাবি করছে এটা তাদের অব্যাহত কূটনৈতিক সফলতা। পানি মন্ত্রী রমেশ সেন অন্তত তাই বলেছেন। কিন্তু এটা সরকারের কূটনৈতিক সফলতা না হওয়ার সম্ভাবনা এই জন্য কম যে, ভারত তার দেশের স্বাভাবিক সময়ে যখন তিস্তা ইস্যুতে কিছু করতে পারেনি তখন নির্বাচনকালীন অস্থিতিশীল পরিবেশে এ ব্যাপারে নতুন সিদ্ধান্ত গ্রহণ করবে সেটা গ্রহণযোগ্য নয়। কিন্তু তাহলে ভারতের হঠাৎ নমনীয়তার প্রকৃত কারণটি কি?
এর একটি কারণ হতে পারে যে, তিস্তা ইস্যুতে বাংলাদেশ উচ্চ-বাচ্য সৃষ্টি করলে তা আন্তর্জাতিক মহলে আলোচনার সৃষ্টি করতে পারে এবং বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক আদালতের সম্মুখীন হলে ভারতের অন্যায় আচরণের বিপক্ষে রায় আসতে পারে। কিন্তু উদীয়মান আঞ্চলিক পরাশক্তি ভারতের দ্বারা এমন ভীত হওয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। কেননা, ভারত এখন আন্তর্জাতিক মহলকে সামান্যই কেয়ার করে। দেবযানী ইস্যুতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাথে বেঁধে যাওয়া কূূটনৈতিক লড়াই থেকেই সেটা অনেকটা প্রমাণ হয়ে গেছে। আরো একটা কারণ হতে পারে যে, আন্তর্জাতিক মহলের দৃষ্টি পড়ার আগেই বাংলাদেশকে চুপ করিয়ে দেওয়া, কেননা কিছুদিন পরেই তো বর্ষা এসে যাচ্ছে! তখন নিজেদের জনগণকে বন্যার পানি থেকে বাঁচাতে এমনিতেই তো বাঁধ খুলে দিতে হবে!
তবে সবচেয়ে বড় সম্ভাবনাটি কিন্তু ভিন্ন। আমরা জানি, বিগত ৫ই জানুয়ারির নির্বাচন অনুষ্ঠান আয়োজনের ক্ষেত্রে নবম জাতীয় নির্বাচনে বিজয়ী তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের পাশে থেকে অকুণ্ঠ সমর্থন দিয়ে গেছে ভারত সরকার। প্রধান বিরোধী শক্তির নির্বাচন বর্জন এবং স্বল্প ভোটার উপস্থিতি কারণে প্রশ্নবিদ্ধ হওয়া সত্ত্বেও এ নির্বাচনকে আন্তর্জাতিকভাবে সবার আগে বৈধতা প্রদান করেছে তারা। দেখা গেছে, বরাবরই আওয়ামী লীগের সাথে ভারত সরকারের সু-সম্পর্ক ছিল। বিপরীত দিকে বিএনপির সাথে ভারত সরকারের সম্পর্ক অতটা উঞ্চ নয়। বরং ভারত এবং বিএনপির সাথে একটা প্রকট ঠাণ্ডা যুদ্ধও চলমান। এ অবস্থার জন্ম বহু আগে থেকে হলেও বিগত বছরের চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের সময় হরতালের অজুহাতে ভারতের রাষ্ট্রপতি প্রণব মুখার্জীর সাথে সাক্ষাতকে খালেদা জিয়া কর্তৃক উপেক্ষিত হলে সম্পর্কের নাজুকতা আরো প্রকট আকার ধারণ করে। এমতবস্থায় পিছিয়ে পড়া বিএনপি যখন তিস্তা ইস্যুকে কেন্দ্র করে সরকার বিরোধী আন্দোলন করতে ঘুরে দাঁড়াতে চাইছে, তখন তা যেন ভেস্তে যায় সে জন্য ভারত তিস্তায় পানি ছেড়ে দিয়ে থাকতে পারে- এমনটাই ধারণা করছেন বিজ্ঞমহল। সুতরাং তিস্তায় পানি পাওয়া নিয়ে এমন প্রশ্নের উদয় হতেই পারে যে, এটা কী বিএনপির আন্দোলনে পানি পাওয়া, নাকি বিএনপির আন্দোলনে ভারতের পানি ঢেলে দেওয়া?
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

বস্ত্রশিল্পের জন্য আমি সরকারের যথাযথ স্থানে থাকলে কি করতাম !!!

লিখেছেন অপলক , ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১২:১৬



গত ১০ দিন হল দেশের বস্ত্র শিল্পের উপর আঘাত খুব চিন্তার বিষয়। অনেক আগে বিচ্ছিন্নভাবে বস্ত্রশিল্প নিয়ে কথা বলেছিলাম। আজ সব মিলিয়ে কিছু চিন্তা করলাম। তার কিছু এখানে নোট... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য নির্মূলে পাঁচ বছর মেয়াদি একটি সমন্বিত নগর পরিকল্পনা

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৭


প্রস্তাবিত প্রকল্প: স্বাবলম্বী বাংলাদেশ - দারিদ্র্যমুক্তির নতুন নগর

আমি যদি সরকারের দারিদ্র্য নির্মূল বিভাগের প্রধান হতাম, তাহলে আমার প্রথম লক্ষ্য হতো বাংলাদেশের চরম দারিদ্র্য সীমার নিচে বাস করা ১ কোটি ৭০... ...বাকিটুকু পড়ুন

Sajna

লিখেছেন আরমান আরজু, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:৩১



Sajna
Love is sacred;
Commences from the intense mystery of pure souls.
Has a beginning, but no end;
Here, only peace prevails.
So, love—
Solely for the sincere and the disenchanted,
Not for the pharisaic.
...বাকিটুকু পড়ুন

বিপ্লব সংহতি দিবস সফল ও সার্থক হোক.....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:১১



আজকে নাকি বিপ্লব সংহতি দিবস। দল ক্ষমতায় থাকলে অনেক রকমের দিবস পালিত হয়। আওয়ামী লীগের সময় শেখ জামাল-কামালের বিবাহ দিবস, শিশু শহীদ শেখ রাসেলের সুন্নাতে খৎতা দিবস আরো কতো কি?... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে ভাল্লাগে- ২

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৭ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৫:৪৯


"যে-রাঁধুনী জানে তার তরকারিতে স্বাদ হয়নি, সে নিমেষে লঙ্কার কৌটো উপুড় করে দেবে। তারপর অতিথি যখন কান দিয়ে ধোঁয়া ছেড়ে হাঁউমাউ করবে, রাঁধুনী তখন মিটিমিটি হেসে বলবে—‘একটু ঝাল বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×