somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

উড়োজাহাজ
আতাহার হোসাইন

সর্প হইয়া দংশন করো ওঝা হইয়া ঝাড়!

০৮ ই জুন, ২০১৪ বিকাল ৫:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কয়েকদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও সাবেক রাষ্ট্রপতি ক্লিনটনের স্ত্রী হিলারি ক্লিনটন ফক্স টেলিভিশনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেছেন, আলকায়েদা যুক্তরাষ্ট্রেরই সৃষ্টি। তিনি আরো বলেছেন, আফগানিস্তানে তৎকালীন সোভিয়েত বাহিনীকে পরাস্ত করতেই যুক্তরাষ্ট্র আলকায়েদা বাহিনী সৃষ্টি করেছে। এ ছাড়াও তিনি আলকায়েদা গঠন ও নিয়ন্ত্রণ সম্বন্ধে বিস্তারিত তথ্য তুলে ধরেছেন যা আমাদের দেশের প্রায় সবকটি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তার তুলে ধরা এই তথ্য নিয়ে বিতর্কের ঝড় উঠেছে খোদ যুক্তরাষ্ট্রেই। কিন্তু এসব কথা এখন তথ্যাভিজ্ঞ যেকোন ব্যক্তির কাছেই অনেক পুরনো সত্য। যুক্তরাষ্ট্রসহ অন্যান্য মোড়ল রাষ্ট্রগুলোর ক্ষেত্রে এমনটা মোটেও নতুন নয়। নিজেদের স্বার্থ উদ্ধারে হেন কাজ নেই যা তারা করে না। মাঝে মধ্যে তাদের প্রতিযোগীদের বরাত দিয়ে টুকটাক কিছু তথ্য বেরিয়ে এলেও খোদ সাবেক এক পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মুখ থেকে এই ন্যাক্কারজনক কাজের স্বীকারোক্তি প্রমাণ করে যে, এরা নীতি-নৈতিকতার কোন ধার তো ধারেই না, বরং সেসব কাজকে তারা নিজেদের কৃতিত্ব হিসেবেই গ্রহণ করে।

আলকায়েদার উত্থান ও তাদের বিতর্কিত কর্মকাণ্ডের কারণে, বিশেষ করে ২০০১ সালের ১১ ই সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের অভ্যন্তরে টুইন টাওয়ার হামলাসহ অন্তত আরো তিনটি স্থানে আত্মঘাতী বিমান হামলার ঘটনায় গোটা পৃথিবীর রাজনৈতিক অবস্থা সাংঘাতিকভাবে পরিবর্তিত হয়ে গেছে। এর জের ধরে কয়েকটা দেশের লাখ লাখ মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে তার কয়েকগুণ বেশি। আর উদ্বাস্তুর সংখ্যা এই সম্মিলিত সংখ্যার চেয়েও বেশি। দেশে দেশে ছড়িয়ে পড়েছে অস্থিরতা। বেশিরভাগ দেশই আজতক মোকাবেলা করছে জঙ্গিবাদী দলগুলোর হুমকি। এই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে সবচাইতে বড় ক্ষতিটা যা হয়েছে তা হলো গোটা একটা প্রধান ধর্মের অনুসারীরা বিশ্বের বুকে চিহ্নিত হয়েছে সন্ত্রাসী হিসেবে। বাস্তবেও পরিস্থিতিতে পড়ে শান্তির ধর্ম হিসেবে খ্যাত ইসলামের অনেক অনুসারীই সন্ত্রাসের পথ ধরতে বাধ্য হয়েছেন। কিন্তু সেটা ধর্ম রক্ষার জন্য নয়, বরং নিজ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের প্রশ্নটিই তাদের কাছে ছিলো মুখ্য। কিন্তু মূল সত্যিটা এই যে, তাদেরকে নানা প্রক্রিয়ায় সন্ত্রাসের দিকে ঠেলে দেওয়া হয়েছে। এই প্রক্রিয়াটির পেছনে কল-কাঠি নেড়েছে যুক্তরাষ্ট্রের মত শক্তিশালী দেশগুলোই। কারণ তাদেরকে সন্ত্রাসী হিসেবে পরিচিত করে তুলতে পারলে তখন এই অজুহাতে মারাত্মক অস্ত্র-শস্ত্র নিয়ে ঝাঁপিয়ে দেশ দখল করার সুযোগ পাওয়া যায়। সুযোগ ঘটে তাদের তেল, গ্যাস ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদ নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে নেওয়ার। এই পরিস্থিতির মূলে যে তারাই দায়ী তা হিলারি ক্লিনটনের এই আত্মস্বীকৃতির ঘটনাই প্রমাণ করে। কিন্তু সবচেয়ে অবাক ব্যাপার এই যে, যুক্তরাষ্ট্রের মত এই বিশ্ব মোড়লরাই আবার নিজেদেরকে মানবতাবাদী এবং উদ্ধারকর্তা হিসেবে জাহির করে। এমনকি তারা নিজেদেরকে ধর্মযোদ্ধা হিসেবেও মনে করে। যুদ্ধের উন্মাদনা সৃষ্টিকারী হিসেবে মিডিয়া মালিক এবং যুদ্ধে অর্থলগ্নীকারী বড় বড় ধনকুবেরগণ মনে করেন এর মাধ্যমে তারা যিশু খ্রিস্টের আসন্ন আগমনের পথকে সু-প্রশস্ত করে রাখছেন।

কিন্ত অন্যায়ভাবে কোন একটি জনগোষ্ঠীকে সন্ত্রাসী বানিয়ে আবার সেই সন্ত্রাসের দোহাই দিয়ে তাদের হাতের সুখ মেটাতে তাদেরকে বন্দুক ও গোলার টার্গেট অবজেক্ট বানানোর মাধ্যমে তারা কোন ধর্মের কাজ করছেন তা মানুষের বোধগম্যের বাইরে। যে ধর্মের অনুসরণ করতে গিয়ে তারা এই কাজকে বৈধ মনে করছে তা কি খোদ এই ধর্মের প্রবক্তা (তাদের মতে সদাপ্রভু ঈশ্বর) হিসেবে যাকে মানা হয় তিনি বরদাস্ত করবেন? আমরা যতটুকু জানি, ইসা মসীহ (আঃ) হলেন শান্তির দূত। তাঁর দ্বিতীয়বারের আগমনকে ইসলাম ধর্মের অনুসারীরাও মনে প্রাণে বিশ্বাস করেন। এই শান্তির দূত কি মানুষকে অন্যায়ভাবে সন্ত্রাসী সৃষ্টিকারীদের স্বীকৃতি দেবেন? না, কিছুতেই তিনি তা দিতে পারেন না। কারণ, তিনি হবেন মানবতার শান্তির দূত। মানুষে মানুষে সমস্ত বিভেদ-ব্যাবধান ঘুচিয়ে শান্তি আনাই তাঁর প্রধান দায়িত্ব। সুতরাং একদিকে কোন একটা সম্প্রদায়কে সন্ত্রাসী বানিয়ে আবার ধার্মিকের ছদ্মবেশ ধারণ কিংবা মানবতাবাদী সেজে তাদেরকেই উদ্ধার করার এই ওঝা নীতি তাঁর কাছে স্থান পাবে না। এসব আসলে ধর্মের নামে ভণ্ডামী। সুতরাং তারাই যে এই শান্তি দূতের শিকারে পরিণত হবেন তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। আর তাদের অনুসারী, আমাদের স্বজাতীয়দের পরিণতি কি হবে তাও সহজেই অনুমেয়। মনে রাখা প্রয়োজন, প্রত্যেক নবী, রসুল ও অবতারগণই নির্যাতিতদের পক্ষে, কখনোই নির্যাতনকারীর পক্ষে নন।
৬টি মন্তব্য ৬টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×