মূলত ভীনদেশি পতাকা উড়ানোর বিষয়ে এই দুই ধারার চিন্তাই ভারসাম্যহীন। একদিকে এটাকে বড় ধরনের অপরাধ মনে করে তা বন্ধে হৈ চৈ করার যেমন প্রয়োজন নেই তেমনি লম্বা লম্বা ভীনদেশি পতাকা তৈরিতেও কোন কৃতিত্ব নেই। এ বিষয়ে উভয় পক্ষই যদি নিজেদের অবস্থান থেকে কিছুটা সরে আসে তাহলেই ভাল এবং সকলের চিন্তাগত ভারসাম্য ও ঐক্য ফিরে আসবে। বাংলাদেশের আকাশে ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনার পতাকাই মূলত বেশি উড়ানো হয়। অথচ ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা মোটেই আমাদের নিকটতম প্রতিবেশি নয়। তারা আমাদের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের জন্য কোন ধরনের হুমকিও নয়। তারা সুদূর দক্ষিণ আমেরিকার দেশ। এমনকি তাদের অনেক খেলোয়াড় স্বাধীন সার্বভৌম বাংলাদেশের নামও শোনেনি। তাদের সাথে আমাদের বৈদেশিক যোগাযোগও খুব একটা জোরালো নয়। এ কারণে দেশ দু’টির সাথে আমাদের বাণিজ্যিক স্বার্থও উল্লেখযোগ্য নয়। তাহলে বাংলাদেশের মানুষ তাদের দেশের পতাকা উড়ায় কেন, কিংবা যারা ব্্রাজিল ও আর্জেন্টিনার চেয়ে যারা ভাল ফলাফল করে তাদের পতাকা উড়ায় না কেন? কারণ ব্রাজিল এবং আর্জেন্টিনা ফুটবলের দেশ। ফুটবলই তাদের ধ্যান-জ্ঞান। বিশ্বের বুকে তাদের অন্যান্য সফলতা থাকলেও তারা ফুটবলের জন্যই বেশিরভাগ সমাদৃত হয়ে থাকে। আমাদের দেশের মানুষ চার বছর পর পর বিশ্বকাপ এলেই মূলত তাদের নিয়ে ও তাদের দেশের পতাকা নিয়ে মাতামাতি করে। বাকি সময় কিন্তু ঠিকই ভুলে থাকে। সুতরাং এ বিষয় নিয়ে এত সিরিয়াস হওয়ার কিছু নেই।
![]()
হ্যাঁ, তবে কথা আছে। আপনি পক্ষেই বলেন আর বিপক্ষেই বলেন, আগে আপনাকে নিজ দেশের প্রেমিক হতে হবে। আপনি ভীনদেশি পতাকা উড়ানো নিয়ে বড় বড় কথা বলবেন, নীতি কথা শোনাবেন, ফেসবুক-ব্লগে কিংবা খবরের কাগজে নিবন্ধ লিখবেন, আর নিজে ঠিকই ঘুষ-দুর্নীতির মাধ্যমে দেশের বারোটা বাজাবেন- তা মেনে নেওয়া যায় না। আবার নিজ দেশের পতাকা নিয়ে গর্ব করবেন না, নিজ দেশকে ভালোবাসবেন না, এদেশে বাস করে ভীনদেশি পতাকা উড়াবেন তাও কিছু মেনে নেওয়া যায় না। আসলে আমরা যাই করি না কেন, আগে আমাদের নিজেদের দেশকে ভালোবাসতে হবে। তাই বিদেশি পতাকা উড়াতে বাঁধা দেওয়ার আগে নিজের দেশের কল্যাণে আপনার ভূমিকা কি তা হাতিয়ে দেখুন। একই সাথে একশো গজ, পাঁচশো গজ কিংবা হাজার গজ ভীনদেশি পতাকা বানিয়ে আবেগে লাফালাফি করেও লাভ নেই। কারণ, এমনিতেই বহির্বিশ্বে আবেগপ্রবণ ও হুজুগে জাতি হিসেবে আমাদের যথেষ্ট বদনাম আছে। এখন উভয় পক্ষকেই একটু ভারসাম্য রক্ষা করে চলা উত্তম।
সর্বশেষ এডিট : ১১ ই জুন, ২০১৪ রাত ৮:৫০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



