somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

উড়োজাহাজ
আতাহার হোসাইন

বিশ্বকাপের উন্মাদনা, কেন এই মাত্রাহীন উল্লাস?

১৮ ই জুন, ২০১৪ সন্ধ্যা ৬:০৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

বিশ্বকাপ ফুটবলের উন্মাদনা ছেয়ে গেছে পৃথিবীময়। চায়ের দোকানে, ক্যান্টিনে, খবরের কাগজে ফুটবল প্রসঙ্গে আলাপ-আলোচনা, গুরুত্ব দিয়ে সংবাদপত্রের পাতায় প্রধান শিরোনাম, টিভির পর্দায় দর্শকদের আনন্দ উচ্ছাস দেখলে মনে হয় পৃথিবীটা বুঝি স্বর্গের রূপ নিয়েছে। মনে হয় এখানে ক্ষুধা নেই, কান্না নেই, নেই কোন অভাব-অভিযোগ কিংবা না পাওয়ার সামান্যতম বেদনাও। বিশ্বকাপ ফুটবল যেন স্বর্গের আনন্দ নিয়ে এসেছে মর্তের বুকে। প্রতিবার অর্থাৎ প্রত্যেকটা বিশ্বকাপেই এমনটা হয়। কিন্তু ঘাড় ঘুরালেই আমরা অপর পিঠে দেখতে পাই পৃথিবীর আরেক নগ্নরূপ। ঠিক মাঠের বাইরেই, যেখানে টেলিভিশনের ক্যামেরাগুলোর দৃষ্টি যায় না অথবা গুরুত্ব দেয় না, সেখানে দেখা যাচ্ছে হত-দরিদ্রদেরকে ক্ষুধার্ত রেখে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলার অপচয় করে এই আয়োজনের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করছে মানুষ, সংঘর্ষে লিপ্ত হচ্ছে নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের সাথে। তাদের চোখে এটা এক বিরাট প্রহসন। তাদের প্রশ্ন- যে দেশের মানুষের মধ্যে একটা বিশাল সংখ্যা আশ্রয়ের অভাবে রাস্তায় ঘুমায়, পেট পুরে দু’বেলা খেতে পায় না, অর্থের প্রয়োজনে যেখানে নারীরা তাদের অমূল্য সম্পদ সম্ভ্রম বিকায়, তাদের দেশে কেন এই অঢেল অর্থের অপচয়? সম্ভবত এ সংক্রান্ত একটি ছবি ব্রাজিলের প্রশাসন কিংবা এই সভ্যতাকেই সাংঘাতিক চপেটাঘাত করেছে। সেই ছবিটি পৃথিবীময় ছড়িয়ে গেছে- যাতে দেখা গেছে এক ক্ষুধার্ত মানুষের সামনে পরিপাটি করে প্লেটে এনে খেতে দেওয়া হয়েছে ফুটবল! ক্ষুধার্তের জন্য দরকার খাবার, ফুটবল নয়, এমনকি অন্য কোন বিনোদনও নয়। চরম বাস্তবতা হচ্ছে পেটে ক্ষুধা থাকলে মানুষের মনে সুর, কাব্য কোন কিছুই ভালো লাগেনা। এ জন্য কবি সুকান্ত ভট্টাচার্য বলেছিলেন, ‘ক্ষুধার রাজ্যে পৃথিবী গদ্যময়, পূর্ণিমার চাঁদ যেন ঝলসানো রুটি।’ ক্ষুধার্ত মানুষকে খাদ্য না দিয়ে ফুটবলের আনন্দ মানুষের কাছে তিক্ত মনে হবে- উক্ত ছবি থেকে এ সত্যটি উপলব্ধি করার মত জ্ঞান এদের আছে কী?

ব্রাজিল বিশ্বকাপে ব্রাজিল এবং সারা পৃথিবীবাসীর কত অর্থ অপচয় হচ্ছে তা সঠিক অঙ্কে বলা সম্ভব নয়। তবে এককভাবে ব্রাজিল অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অন্যান্য কাজে ব্যয় করছে ১১ বিলিয়ন ডলার যা বাংলাদেশি টাকায় প্রায় ৮৫ হাজার কোটি টাকারও বেশি। অনেকে আনন্দের পেছনে খরচকে অপচয় মানতে আপত্তি করতে পারেন। কিন্তু অপচয় মনে না করেই বা উপায়টাই বা কী? ব্রাজিল কিংবা পৃথিবীর অন্যান্য অঞ্চলের যদি মানুষ সুখী হতো, যদি তাদের বেঁচে থাকার মানটা নূন্যতম পর্যায়েও থাকতো তাহলে আপত্তি করার কিছু ছিলো না। কিন্তু প্রশ্ন হলো মানুষ এমনটা কেমন করে বা কেনই করতে পারছে? এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজতে গেলে আমরা দেখতে পাব এটা আসলে মানুষের হতাশারই একটা বহিঃপ্রকাশ।

মানুষ আজ দুনিয়ার বুকে যান্ত্রিক প্রগতি ও উন্নতিতে শিখরে পৌঁছে গেছে। এমন সফলতা মানুষের জানা ইতিহাসে আর কখনো হয়নি। তাই সে এ নিয়ে অহঙ্কারও করতে পারে। কিন্তু উল্টোদিকে তাকালে সে দেখতে পায় এই পৃথিবী, আজকের সভ্যতা মানুষের মানবিকতাকে দিন দিন নিচে নামিয়ে দিচ্ছে। স্বভাবে, আচারে-আচরণে সে পশুত্বের কাছা-কাছি চলে গেছে। এখানে যুদ্ধ-গৃহযুদ্ধ, রক্তপাত, দাঙ্গা-হাঙ্গামা, অর্থনৈতিক বৈষম্য, সবলের উপর দুর্বলের অত্যাচার, দরিদ্রের উপর ধনীর বঞ্চনা পৃথিবীকে করে তুলেছে বসবাসের অযোগ্য স্থানে। লীগ অব নেশনস, জাতিসংঘ কিংবা কোন ধরনের সংস্থাই তাদেরকে এসব থেকে মুক্তি দিতে পারছে না। একটার পর একটা ব্যবস্থা পরিবর্তন করতে করতে মানুষ এখন ক্লান্ত ও হতাশ। এরই মধ্যে যদি সে কখনো মন খুলে একটু আনন্দ করার সুযোগ পায়, একটু স্বাধীনতা পায় তখন সে আনন্দে বিহ্বল ও আত্মহারা হয়ে যায়, পৈত্রিক জমি-জমা বিক্রি করে সমর্থিত দলের বিশালাকার পতাকা বানায়, রেকর্ড করে। তাদের এই অবস্থাটা আসলে বাস্তবতাকে ভুলে থাকার প্রচেষ্টারই একটা অংশমাত্র। না হলে পৃথিবীর একটা বিশাল সংখ্যার মানুষকে অভুক্ত রেখে, গৃহহীন রেখে এই উল্লাস কেন, এর অন্য আর কী ব্যাখ্যা হতে পারে?
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০

কোয়ান্টাম হৃদয়ে বিগ ব্যাং : স্পেস-টাইমের প্রেমকাব্য (আধুনিক ও রোমান্টিক)
.................................................................................................................



কক্ষপথে ঘোরে আমার একলা মনের ইলেকট্রন,
নেগেটিভ চার্জে মেঘ জমেছে, খুঁজছে আজি কার্বন মাখা অন্যমন।
তুমি যখন পজিটিভ এনার্জিতে, এ... ...বাকিটুকু পড়ুন

পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৪ ঠা নভেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫৮



পোড়ামাটি নীতি (Scorched Earth Policy).....

একটি একটি সামরিক কৌশল। কোনো সামরিক বাহিনী যখন পিছু হটে বা শত্রুর আক্রমণ প্রতিহত করতে চায়, তখন তারা নিজেদেরই ফেলে যাওয়া এলাকার সমস্ত ফসল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

জনগণের দীর্ঘমেয়াদি কল্যাণের পরিকল্পনাটা কোথায় ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১০


ডা. জাহেদ উর রহমান। জুলাই আন্দোলনে শেখ হাসিনা বিরোধী ছিলেন এবং তাঁকে চেনেন না, এমন মানুষের সংখ্যা খুবই কম। মানুষটি অ্যাক্টিভিজম ছেড়ে নতুন সরকারের মুখপাত্র হয়েছেন। এতে আমার মতো... ...বাকিটুকু পড়ুন

আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ সকাল ৯:২৫

[মানুষ এতো দুষ্ট কেন? পুরনো কথা ভিডিও সহ ফেসবুকে এভাবে না ছাড়লে হয় না। ]

“আপনাদের আমরা পরিষ্কার করে বলি, ভয় ভেঙে রাজপথে নেমে আসুন"

২৫ হাজার টাকার মজুরি আন্দোলন আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

ঝাল্লাগে- ভাল্লাগে!

লিখেছেন শেরজা তপন, ০৫ ই নভেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৪৭


আমাদের ঝাল খাওয়ার ইতিহাস হাজার বছরের নয়, তবুও কেন আমরা ঝাল পাগল জাতি হলাম এইটা নিঃসন্দেহে গবেষনার বিষয়। পর্তুগীজেরা না আসলে আমরা হয়তো কাঁচা লঙ্কা বা শুকনো লঙ্কা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×