somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

অতি কর্তৃত্ব ও অতি স্বাধীনতায় ভারসাম্য চাই

১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মানুষ মাত্রই স্বাধীনতার আকাক্সক্ষী। আবার একই সাথে সদাই মানুষ অপরের উপর কর্তৃত্ব এবং প্রভুত্বও বিস্তার করতে চায়। ফলে স্বাধীনতা আকাক্সক্ষী এবং কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠাকারীদের মধ্যে যুগে যুগে সংঘাত চলে আসছে। এই সংঘাতের মধ্য দিয়েই মানব জাতি আজকের এই অবস্থায় এসে পৌঁছেছে। মানুষের এই স্বাভাবিক স্বভাবকে অস্বীকার করা যায় না। কিন্তু মানুষের এই স্বভাব যদি সীমা অতিক্রম করে তখনই বিপত্তি বাধে। অথচ এই অতি স্বাধীনতার মানসিকতা এবং অতি প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠার চেষ্টাকে একটি নির্ধারিত মাত্রায় নিয়ন্ত্রণ করতে পারলেই মানুষ সংঘাতকে এড়াতে পারত। কিন্তু আমরা এর বিপরীত দৃশ্যই দেখতে পাই। অতি স্বাধীনতার আকাক্সক্ষায় মানুষ বহু ভাগে বিভক্ত হয়ে গেছে। ভৌগোলিকভাবে বিভিন্ন দেশে, সেখানেও বিভিন্ন মতবাদের ভিত্তিতে বহু রাজনৈতিক দলে, আবার দলের অভ্যন্তরেও কোন্দলে লিপ্ত হয়েছে। বিশ্বাসগত দিক থেকে নানা ধর্ম প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। প্রতিটি ধর্মেই আবার বিভিন্ন ফেরকা, উপ ফেরকার সৃষ্টি হয়েছে। এইভাবে বিচ্ছিন্ন হতে হতে প্রতিটি মানুষ আলাদা হয়ে গেছে। এমনকি মানুষের সত্ত্বায়ও আজ বিভক্তি এসে গেছে। তার দেহ ও আত্মা সামঞ্জস্য রেখে চলে না। আত্মা সত্যকে আকড়ে ধরার চেষ্টা করে, কিন্তু দেহ ন্যায় অন্যায় ভুলে ভোগে নিমজ্জিত হয়। মানুষের এই বিভক্তির কারণে দিন দিন তাদের মধ্যে দূরত্ব সৃষ্টি হচ্ছে। তাই তারা একে অপরের সহযোগিতা না করে অপরকে দমনের চিন্তা করছে।

অপরদিকে অন্যের উপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠার আকাক্সক্ষায় মানুষ প্রভূত শক্তি অর্জন করেছে। নিজ দেশের উন্নয়ন কাজের ক্ষতি করে বছরে বছরে বাজেটে সামরিক ব্যয় বাড়ানো হচ্ছে। সমাহার ঘটানো হচ্ছে মারনাস্ত্রের। পাখির মত উড়তে পারা প্রাণীকে খাঁচায় আটকে রাখার মত করে মানুষকেও জোর করে নির্দিষ্ট ভূ-খণ্ডে আটকে রেখেছে কৃত্রিম রেখা কিংবা কাঁটা তারের বেড়া দিয়ে। কেউ স্বাধীনতার আওয়াজ তুললেই তাকে বিচ্ছিন্নতাবাদী আখ্যা দিয়ে তার বা তাদের উপর সেই অস্ত্র প্রয়োগ করে অবদমন করা হয়। এই অবস্থায় নিশ্চিতভাবে বলা যায় কোন মানুষ যদি অপ্রতিদ্বন্দ্বী ক্ষমতা লাভ করতে পারত তবে সে পৃথিবীর অন্য সকল মানুষের উপর প্রভুত্ব প্রতিষ্ঠিত করে গোলাম বানিয়ে রাখত। বিপরীত দিকে যদি মানুষকে স্বাধীন হওয়ার পূর্ণ অধিকার দেওয়া হত তবে পৃথিবীর প্রতিটি গ্রাম, প্রতিটি পরিবার, প্রতিটি ব্যক্তি স্বাধীনতা ঘোষণা করে বসত। ইতোমধ্যেই যেমন এর অনেকটা হয়ে গেছে। অথচ মানুষের স্বভাবের উপরোক্ত অবস্থা তার একেবারে চূড়ান্ত অবস্থান। দুটোকেই যদি নিয়ন্ত্রণ করে একটি মধ্যমপন্থায় নিয়ে আসা হত তবে মানুষের মধ্যে বি¯তৃত সংঘাতের অবসান ঘটত।

তাই অতি কর্তৃত্ব করার মানসিকতা ও অতি স্বাধীনতার মানসিকতা- এর দুটোই মানবের জন্য ক্ষতিকর। অন্যের উপর কর্তৃত্ব করে আমার লাভ কী? সময়ের অবসানে দেখা যাবে সে আর আমি একই সমান, একই স্রষ্টার সৃষ্টি। আবার যে যা করার মত অতিরিক্ত স্বাধীনতায় লাভটাই বা কী? অন্যকে মেনে নেওয়ার মধ্য দিয়ে যদি সার্বিক শান্তি প্রতিষ্ঠিত হয় তবে সেটাই উত্তম নয়? তাই সামষ্টিক শান্তি প্রতিষ্ঠায় দুই পক্ষকেই নিয়ন্ত্রিত হতে হবে। দুই পক্ষকেই ছাড় দিতে হবে। পারস্পরিক দূরত্ব কমাতে হলে একজনকে নেমে আসতে হবে আর একজনকে উপরে উঠতে হবে। অন্যথায় এক পক্ষের ছাড়কে দুর্বলতা মনে করে অন্য পক্ষ আরো বেসামাল হয়ে উঠতে পারে। এর মাঝেই নিহিত আছে ভারসাম্য। সকল মত ও পথের মানুষের মাঝে ভারসাম্য ফিরে আসুক এমনটাই কামনা করছি।
সর্বশেষ এডিট : ১৬ ই সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সন্ধ্যা ৭:৪৭
১টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচন।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১:২৯


এখন পর্যন্ত প্রকাশিত এক্সিট পোল অনুযায়ী, কোনো পক্ষই সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় আসন ৬১টি নিশ্চিত করতে পারেনি।
নেতানিয়াহুর ডানপন্থী জোট, প্রায় ৫১–৫২ আসন।
গাদি আইজেনকটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট: প্রায় ৪৯–৫১ আসন... ...বাকিটুকু পড়ুন

এক সেকেন্ডের নেই ভরসা

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৩


সংসারের শত দায়িত্ব কাঁধে। ধাপে ধাপে সব পালন করতে হবে। মোটরসাইকেল নিয়ে ভালো মনে রাস্তায় নামলেন রাইড শেয়ার করবেন বলে। হঠাৎ একটা প্রাইভেট কারের সাথে ধাক্কা লাগল। আপনি রাস্তায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

অসমাপ্ত নীহারিকা - কেয়া ।

লিখেছেন দানবিক রাক্ষস, ২৮ শে অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৭



বিশ্ববিদ্যালয়ে আমাকে দেখলে মানুষের প্রথম যে কথাটা মনে হতো, তা হলো—ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
কালো জিনস। কালো টি-শার্ট। টি-শার্টে কখনো Behemoth, কখনো Slayer, কখনো Cannibal Corpse। কানে হেডফোন। চোখে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভবিষ্যতের জন্য শুভকামনা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:১৮


বাংলাদেশের সমাজে একটি নীরব বিপ্লব ঘটে গিয়েছে। দুই বছর আগে ব্লগে অ্যাকাউন্ট খোলার পর থেকে এই পরিবর্তন নিয়ে কম করে হলেও বিশটির বেশি পোস্ট লিখেছি। এই বিপ্লবের সাথে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ২৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৭:৫৬

অনন্ত সেই ভালবাসার স্রোত



সময় চলেছে তার আপন খেয়ালে,
নদীর স্রোতেরা হারায় কালের বুকে;
আমি শুধু এক অনন্তকাল ধরে,
ডুবে আছি প্রিয়, তোমার চাওয়া পাওয়ার ওই সুখে।

বাহিরের সব নিয়ম চলুক তার মতো,
মহাবিশ্ব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×