somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

সম্পর্ককালীন শারীরিক মিলন (প্রেম) বনাম ব্রেক-আপ পরবর্তী ধর্ষণ মামলা

১৫ ই ডিসেম্বর, ২০১৪ রাত ৮:২১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

কি কালচার শুরু হয়েছে বুঝতে পারছি না। তরুণ ছেলে-মেয়েরা পছন্দ মত মানুষটির সাথে চুটিয়ে প্রেম করবে, সম্পর্ক গড়বে, এক সাথে ঘোরাঘুরি করবে, সময় কাটাবে নির্জনে আর এভাবে চলতে গেলে প্রকৃতির নিয়ম অনুযায়ী যা হওয়ার তাই হচ্ছে। অর্থাৎ তারা (বিবাহ বহির্ভূত) শারীরিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়ছে। এই চলার পথে কখনো কখনো মতের অমিল হলে ভেঙ্গে যাচ্ছে এই সম্পর্ক। এই সম্পর্কের কোন কাগুজে স্বীকৃতি নেই, দলিলও নেই। তবুও আমাদের সমাজ এই অলিখিত সম্পর্ককে বৈধতা দিয়ে যাচ্ছে। এর প্রমাণ হচ্ছে ‘ব্রেক-আপ’ পরবর্তী সময়ে একটি মেয়ে যখন সেই সময়ের সম্মতিক্রমে শারীরিক মিলনকে ধর্ষণ হিসে প্রশাসনের কাছে অভিযোগ তার গৃহিত হওয়া। ধর্ষণ ছাড়াও একে অপরের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ গ্রহণ করতে গিয়ে তারা নানা ধরনের কর্মকাণ্ড, আপত্তিকর ভিডিও, ছবি ইন্টারনেটে ছড়িয়ে দেওয়া।

সম্মতিক্রমে এই শারীরিক মিলন নৈতিকতা এবং ধর্মের ভাষায় সুস্পষ্ট ব্যভিচার। বিষয়টাকে সেটাকে সেভাবে না দেখে শাস্তিযোগ্য বা বিচারযোগ্য বলে গ্রহণযোগ্য হওয়া প্রমাণ করে এই ব্যভিচারই আমাদের সামাজিক মূল্যবোধ দ্বারা স্বীকৃত।

তবে আমার আপত্তি এইখানে যে- পারস্পরিক এই শারীরিক মিলনকে ধর্ষণ হিসেবে গণনা করা হবে কেন? অভিযোগে বলা হয়ে থাকে, বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ধর্ষণ করা হয়েছে। অথচ সম্পর্ক থাকা অবস্থায় সেটা বিবেচিত হয় প্রেম হিসেবে। আমার কথা হচ্ছে কোন প্রকার ডকুমেন্ট না রেখে একটা ছেলের সাথে একটা মেয়ে মিলিত হয় কেন, তার সর্বস্ব বিলিয়ে দেয় কেন? প্রলোভন দেখিয়েছে বলে তুমি প্রলুদ্ধ হয়েছ সেটাইতো তোমার সবচেয়ে বড় অপরাধ। আর এই অনৈতিক কাজে প্রলুদ্ধ হওয়াটা বোকামী এবং লজ্জাজনকও বটে। কিন্তু আমাদের তরুণীরা সেটাতে লজ্জা পান না। বরং রেডিওতে নিজের নাম পরিচয় প্রকাশ করে হাজার হাজার শ্রোতদের সামনে সেই কাহিনী বর্ণনা করে। কিছু মানুষ তার প্রতি সহমর্মিতা ও করুণাও দেখিয়ে থাকেন। সেই বোকাদের জন্য আমারও করুণা হয়, তবে করুণা হয় তাদের বোকামীর কারণে। করুণা হয় সেই মানুষদের জন্যও যারা এই বোকাদের জন্য করুণা দেখায়। করুণা হয় সেই সমাজের প্রতি যে সমাজ বিয়েকে নিরুৎসাহিত করে সুস্পষ্ট ব্যভিচারকে বৈধতা দেয়, আর সেই ব্যভিচারকে ধর্ষণ হিসেবে গ্রহণ করে।

অথচ যদি এই ব্যভিচারকে ব্যভিচার হিসেবে প্রথমেই বিচার করা হত তবে ধর্ষণ মামলাটিই হতো না। এতে শাস্তি পেত বিবাহ বহির্ভূত সম্পর্ক সৃষ্টিকারী তরুণ-তরুণি উভয়েই। সমাজ মুক্ত হতো পাপের ভার থেকে, পাপের কুফল থেকে। কিন্তু আমাদের সমাজব্যবস্থা তা না করে যখন প্রেম ঘটিত মিলনকে ধর্ষণ মামলা গ্রহণ করছে তখন বুঝতে হবে এটা সমস্যা নির্মূলের উপায় নয়। বরং গোড়া কাটা গাছের আগায় পানি ঢালা মাত্র।
৪টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২০ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:২৪

আজ যদি টেলিফোন থাকত, তাহলে কেমন হতো?

হয়তো আজ টেলিফোনও অ্যান্ড্রয়েড ফোনের মতো স্মার্ট হতো!



একসময় মানুষের দূর-দূরান্তে যোগাযোগের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল টেলিফোন। মোবাইল ফোনের মতোই টেলিফোন দিয়ে কথা... ...বাকিটুকু পড়ুন

শব্দের শক্তি, ভাষার মাধুর্য....

লিখেছেন কলিমুদ্দি দফাদার, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:৫২

এমিরেটস, কাতার এয়ার লাইন্স ফ্লাইট অ্যাটেনডেন্ট রিক্রুটমেন্টের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হচ্ছে গ্রুপ ডিসকাশন। গ্রুপ ডিসকাশনের সারমর্ম হচ্ছে—৬-৮ জন কয়েকটি গ্রুপে একটি নির্দিষ্ট টপিক নিয়ে নিজেদের মধ্যে আলোচনা করবে। নিজের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বলুন - "হ্যালো আল্লাহ্‌, আমি এখনো বেঁচে আছি!"

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৫:৫৫

আপনার কাছে মনে হচ্ছে, আল্লাহ্‌ আপনার থেকে মুখ ফিরিয়ে নিয়েছেন।
তিনি আপনার দোয়া কবুল করছেন না।
আপনার কাছের মানুষকে দূরে সরিয়ে দিয়েছেন।
আপনার কোন চাকরী নাই। রিজিক ছোট হয়ে এসেছে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

উচ্চবংশীয় ছাগল!

লিখেছেন রাজীব নুর, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:০৯



এককালে কেবল ঘড়িতেই বাজতো টিক টিক- টিক টিক;
বারবেলায় এসে দেখছি টিক টিক বলে কিছু নেই আর ঠিক ঠিক!
বরং 'টিকটক'- এ আকণ্ঠ বুদ হয়ে আছে আবালবৃদ্ধবনিতা!
মানুষের লম্ফঝম্প... ...বাকিটুকু পড়ুন

কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া কি ছিল?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৭



কোন কিছুর অস্তীত্ব বিহীন মহাশূন্যে অস্তিত্বের প্রক্রিয়া হলো উদ্ভব। কারণ সৃষ্টি বা তৈরী কারক না থাকা। তাতে কী উদ্ভব হবে এটা অনিদৃষ্ট। কারণ এটা নিদৃষ্ট করার কেউ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×