পুজিঁবাদী অর্থনীতিতে কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোকে পথে বসিয়ে দিয়ে প্রতিটি পণ্য উৎপাদন ও বাজারজাত করণের দখলদারিত্ব নিয়ে নেয়। এর জন্য কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানগুলো প্রথমে ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠানগুলোর পণ্যের বিভিন্ন দোষ-ত্রুটি তুলে ধরে। নারিকেল তেলের কথাই ধরুন। খোলা তেল ভালো না। ওতে ময়লা থাকে। ময়লা তেল চুল নষ্ট করে দেয়। কথা কিন্তু একেবারে মিথ্যা নয়। অতএব খোলা তেল ব্যবহার বন্ধ করতে হবে। কিনতে হবে কোনটা? ইউনিলিভার বা লালবাগ ক্যামিকেলের বোতল/টিনজাত তেল। টিভিতে বিজ্ঞাপন দেওয়া হলো। এবার মানুষ খোলা তেল কেনা বন্ধ করে দিল। চাষী উৎপাদন বন্ধ করে দিল। এবার নারিকেল তেলের পুরো বাজারটি ইউনিলিভারের মত অন্য কোম্পানিগুলোর দখলে চলে যাবে। চাষী গিয়ে সেখানে সামান্য মজুর হিসেবে কাজ করবে। চাষা পরিণত হবে কর্পোরেট দাসে। এভাবে প্রায় প্রতিটি পণ্য এখন কর্পোরেট প্রতিষ্ঠানের হাতে চলে গেছে। প্রাণ কোম্পানি যদি হলুদ বিক্রি করে, মুড়িও বিক্রি করে তবে সাধারণ ব্যবসায়ীর কি দশা হবে?
যারা পুজিঁবাদী অর্থনীতি বোঝেন তাদেরকে এই ব্যাপারে আর কিছু বলার দরকার নেই। আশা করি তারা আমার চাইতে হাজার গুণ ভালো বুঝবেন। এবার আসি ভিন্ন প্রসংগে। আমাদের দেশে বিভিন্ন ধর্মীয় শ্রেণি রয়েছে যারা পাবলিককে বিভিন্নভাবে ছুতানাতা দেখিয়ে উপার্জন করে থাকেন। মাজার পুঁজারী, কবর পুঁজারী, পীর পুঁজারীরা এই তালিকায় রয়েছেন। মসজিদের ইমাম সাব, বক্তা- ইনারাও আছেন। তাদের এসব ব্যবসা পথে বসিয়ে দিতে হঠাৎ দিগন্তের বাতাস ভেদ করে জাকির নায়েকের পিস টিভির উদ্ভব ঘটলো। জাকির নায়েক পৃথিবীর কোন এক কোনে বসে তার কথাগুলো ছড়িয়ে দিলেন উপমহাদেশসহ বিশ্বের নানা অঞ্চলে। কোরান হাদিস থেকে যুক্তি প্রমাণসহ ধর্মব্যবসার বিরুদ্ধে কথা বলতে লাগলেন। কথা কিন্তু মিথ্যে নয়। ফলো ছোট ছোট ধর্মব্যবসায়ীদের পথে বসার উপক্রম হলো। শুরু হলো তাদের জীবিকা নিয়ে টানাটানি। আগের মত নজরানা আসে না। গরু আসে না, ছাগল আসে না, মুরগী আসে না। মানুষ কেমন জানি দূরে চলে যাচ্ছে।
তারা অনেক চিন্তা-ভাবনা করে জাকির নায়েকের কি কি দোষ আছে সেগুলোর তালিকা করে ফতোয়া দিল জাকির নায়েক কাফের হয়ে গেছে। কিন্তু তাতেও কাজ হলো না। জাকির নায়েকের হাত অনেক লম্বা। তিনি ক্বাবার রক্ষক, ক্বাবার ইমামদের সাথে উঠবস করেন। আরবের রাজা-বাদশাহগণ তাকে উপহার দেয়। ওদিকে জাকির নায়েকের উপর হিন্দুত্ববাদী দলগুলোও ভীষণ ক্ষেপা। হিন্দু ধর্মের বিভিন্ন ভুল-ত্রুটি ধরিয়ে তিনি তাদেরকে দলে দলে মুসলমান বানিয়ে ফেলছেন! কিন্তু জাকির নায়েককে কীভাবে ধরা যায়? কোন উপায় নেই।
কিন্তু আকষ্মিক এক অজুহাত পাওয়া গেল জাকির নায়েককে ধরার জন্য। সন্ত্রাসবাদের প্রতি সমর্থন। জাকির নায়েক মোটেও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থন করেন না। তিনি এব্যাপারে একেবারে ঢোড়া সাপ। কিন্তু গুলশান হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দু'জন তার অনুসারী ছিল। ব্যস, আর যায় কোথায়? জাকির নায়েকের পিসটিভি বাংলা মুল্লুকে আর ভারতে বন্ধ করে দেওয়া হলো। এতে ক্ষুদ্র লেভেলের ধর্মব্যবসায়ীদের আনন্দের আর সীমা রইল না। বহুদিন পর আল্লাহর ইচ্ছায়ই আবার তাদের রিজিকের ভাণ্ডার খুলে গেছে। তাদের দাঁত কেলানো হাসি ফেসবুকেও দেখা গেছে। ওদিকে ভারতে হিন্দুত্ববাদীরাও আনন্দিত। আর তাদেরকে সংখ্যার দিক দিয়ে কমানো যাবে না। বেটা! এতদিন হিন্দুদের পেটের ভিতর বসে বসে হিন্দুহ্রাস করে যাচ্ছিল। ভগবানের কৃপায় তাও এবার বন্ধ হলো। বেটা যাতে ভয়ে আর ভারতে না ফেরে সে জন্য তার মাথার মূল্য ঘোষণা করা হলো।
পীরপুঁজারী, মাজার পুঁজারীদের ছোট ছোট ধর্মব্যবসায়ী বলছি, কিন্তু বড় ধর্মব্যবসায়ীটি তবে কে? আরে ভাই, বড় ধর্মব্যবসায়ী কে তা এখনও ধরতে পারলেন না? ছোট ধর্মব্যবসায়ীদেরকে যারা দমিয়ে দিয়েছে তারাই বড় ধর্মব্যবসায়ী! বুম!!!!!!
আশা করি আপনি বোমার মত ফেটে গেছেন। তীব্র ক্রোধে আমার বিরুদ্ধে জ্বলে উঠেছেন। স্বাভাবিক। তবে আমার কিছু কথা মনোযোগ দিয়ে আপনি পড়ে দেখতে পারেন আমি ভুল বলেছি কিনা!
ইসলামে রাজতন্ত্র নিষিদ্ধ। জাকির নায়েক রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে কোন বক্তব্য রেখেছেন এ পর্যন্ত? সৌদি শাসকগণ ফিলিস্তিন ও দখলদার ইহুদি রাষ্ট্র ইসরাইলের দ্বন্দ্বে কার পক্ষ নিয়েছেন? তাদের এই ভূমিকার বিরুদ্ধে জাকির নায়েকের অবস্থান কি? মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি বরাবরের মত মুসলিম দেশগুলোর বিরুদ্ধে যায়। জাতিসংঘে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা কিংবা ইসরাইলী হামলার বিরুদ্ধে নিন্দা প্রস্তাব উঠলে তারা ভেটো দেয়। সেই যুক্তরাষ্ট্রের সাথে সবচেয়ে দহরম মহরম সম্পর্ক কার? অবশ্যই সৌদি আরবের। সেই সৌদি আরবের বিরুদ্ধে জাকির নায়েক কোন কথা বলেছেন এ পর্যন্ত? যদি বলতেন তবে তিনি কাড়ি কাড়ি টাকা মধ্যপ্রাচ্য থেকে পেতেন না। দুবাই থেকে পিস টিভি সম্প্রচার করতে পারতেন না। তিনি নানা ধরনের উপহার আর জামাই আদরও সেসব দেশে পেতেন না। ছোট ছোট ধর্মব্যবসায়ী মেরে পিস টিভি এবং পিস টিভি সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ নিজেরা ধর্মব্যবসার কর্পোরেট কোম্পানি খুলে বসেছেন। পিস স্কুল, পিস অমুক, পিস তমুক গড়ে উঠেছে এখানে সেখানে, বিশ্বজোড়া। আর ওদিকে তৃণমূল লেভেলের ধর্মব্যবসায়ীদের মাথায় হাত!!
মাথায় কিছু ঢুকলো? দয়া করে আমাকে জাকির নায়েক বিদ্বেষী বলে ঠাহর করবেন না। যুক্তি, প্রজ্ঞায় বাগ্মীতায় আমি জাকির নায়েককে অন্যান্যদের চেয়ে শতগুণে এগিয়ে রাখি।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।

