somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

নবিন ব্লগার
লেখালাখি করা আমার পেশা নয়, বলতে পারেন এক পপ্রকার নেশা হয়ে দাড়িয়েছে। পড়া লেখার পাশাপাশি বিভিন্ন বিষয় বস্তু নিয়ে লেখার চেষ্টা করি। অহংকারী ব্যক্তি কে একদম এড়িয়ে চলি। আল্লাহ অহংকারীকে পছন্দ করেন না। নিজেকে সব সময় ছোট মনে করি।

জগতে আল্লাহ বা সৃষ্টিকর্তা বলতে কি কেউ আছে,,,,,,??

১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

স্রষ্টা বলতে পৃথিবীতে কিছুই নেই,,,,,,, প্রাকৃতিক নিয়মেই পৃথিবী সৃষ্টি হয়েছে, কেউ তাকে সৃষ্টি করে নি। ভৌগোলিক কারণেই পাহাড়-পর্বত, নদী-সমুদ্র প্রকৃতির প্রয়োজনে তৈরী হয়েছে। বিভিন্ন উত্থান ও পতনের মধ্য দিয়ে মানুষের চাহিদা মেটাতে ও স্বার্থের ভিত্তিতে মানব সভ্যতা গুলো গড়ে উঠেছে। বিভিন্ন দেশের আবহাওয়া, জলবায়ু পরিবর্তন, ও ভৌগোলিকগত কারণেই বিভিন্ন ধরনের প্রাকৃতিক দূর্যোগ, জলোচ্ছ্বাস,ঘুর্ণিঝড়,টর্নেডো ও নদী ভাঙন হয়। এগুলোতে স্রষ্টার কোনো হাত নেই।
.
এই আধুনিক বিজ্ঞানের যুগে ও আমরা কথিত ধর্মের নামে কুসংস্কারকে বিশ্বাস করি। আমরা বাপ দাদার তথাকথিত অন্ধ অনুকরণকে অনুসরণ করাকেই আমাদের কর্তব্য বলে মনে করি। মানবতাই যে মানুষের সবচেয়ে বড় ধর্ম, সেটা আমরা ভুলে গিয়েছি। বিজ্ঞানের কল্যানের জন্যেই আজ আমরা অনেক কিছু জানতে পেরেছি। যা আমি নিজেও আগে জানতাম না। ধর্ম মানুষকে বিভিন্ন ভাগে বিভক্ত করে দেয়। ধর্মের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে কখনো অশান্তি ছাড়া শান্তি সৃষ্টি হয় না।
.
সেইদিন সন্ধ্যায় এক বন্ধুর সাথে আড্ডা দিতে গিয়ে সে স্রষ্টা ও ধর্ম নিয়ে বিভিন্ন বিভ্রান্তি মূলক কথা বলে আমাকে চ্যালেঞ্জ দিয়ে বসে।
তখন তার প্রতি উত্তরে আমি বলি যে,দেখ দোস্ত কয়েকদিন আগের ঘটনা, তখন রাত প্রায় ২ টার কাছাকাছি, একটি জরুরী প্রয়োজনে আমাকে জাবি ক্যাম্পাস হতে ঢাকা যেতে হবে। কিন্তু সেই রাতে রাস্তায় কোনো গাড়ি ছিল না। কিন্তু রাস্তার পাশেই একটা ভাঙ্গা পুরনো গাড়ি ছিল। তাই আমি খুব চিন্তিত ছিলাম, কিছুক্ষণ পর হঠাৎ দেখতে পেলাম যে, সেই ভাঙ্গা গাড়িটি আস্তে আস্তে নতুন হয়ে যাচ্ছে। কিছুক্ষণের মধ্যেই গাড়িটি স্বয়ংক্রিয় ভাবে স্টার্ট হয়ে আমার সামনে চলে আসে। আমি গাড়িতে উঠে বসতে না বসতেই গাড়ি চলতে শুরু করে। কিন্তু গাড়িতে কোনো ড্রাইভার ছিলেন না।
.
তখন আমার বন্ধুটি বলে উঠে, আরে তুই কি পাগল হয়েছিস না কি?? ভাঙ্গা গাড়ি মেরামত ছাড়া কেমনে আবার নতুন হয় ?? আর ড্রাইভার ছাড়া গাড়ি চলা কেমনে সম্ভব?? আর ড্রাইভার ছাড়া গাড়ি চললে তো যে কোনো মুহুর্তে এক্সিডেন্ট করবে?? কারো না কারোর হাত অবশ্যই আছে। না হয় কখনো সম্ভব নয়। তখন আমি সুযোগ পেয়ে বলে ফেলি যে, একটি যান্ত্রিক গাড়ি যদি ড্রাইভার ছাড়া চলে না। পুরনো ভাঙ্গা গাড়ি যদি মেরামত ছাড়া নতুন বা ঠিক না হতে পারে?? তাহলে এই সারা বিশ্ব, সৌরজগত, এবং তার ভিতর সব কিছুকে সৃষ্টির পিছনে কারো না কারো হাত অবশ্যই আছে। এবং কেউ না কেউ অবশ্যই নিয়ন্ত্রণ কর‍তেছে। কেউ যদি নিয়ন্ত্রণ না করতো, তাহলে কিছুই থাকতো না, সব ধ্বংস হয়ে যেত।
তারপর তাকে আমি তাকে ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস সম্পর্কে বলি যে, নিঃসন্দেহে বর্তমানে যে সকল ভূমিকম্প জলোচ্ছ্বাস, প্রাকৃতিক দূর্যোগ ইত্যাদি দেশে-বিদেশে ঘটছে, তা মহান সৃষ্টিকর্তার প্রেরিত সতর্ককারী নিদর্শনগুলোর একটি, যা দিয়ে তিনি তার বান্দাদের ভয় দেখিয়ে থাকেন। সৃষ্টিকর্তা বলেন,,

‘বল! সৃষ্টিকর্তা তোমাদের উপর থেকে (আসমান থেকে) অথবা তোমাদের পায়ের নীচ থেকে আযাব পাঠাতে সক্ষম, অথবা তিনি তোমাদেরকে দল-উপদলে বিভক্ত করে একদলকে আরেক দলের শাস্তির স্বাদ গ্রহণ করাতেও সম্পূর্ণরূপে সক্ষম।’
[সূরা আনআম, আয়াত-৬৫]
.
ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানের আলোকে ভূপৃষ্ঠের নীচে একটি নির্দিষ্ট গভীরতায় রয়েছে কঠিন ভূত্বক। ভূত্বকের নীচে প্রায় ১০০ কি.মি. পূরু একটি শীতল কঠিন পদার্থের স্তর রয়েছে। একে লিথোস্ফেয়ার (Lithosphere) বা কঠিন শিলাত্বক নামে অভিহিত করা হয়। আমাদের পৃথিবী নামের এই গ্রহের বৈশিষ্ট্য হচ্ছে যে, কঠিন শিলাত্বক (লিথোস্ফেয়ার)সহ এর ভূপৃষ্ঠ বেশ কিছু সংখ্যক শক্ত শিলাত্বকের প্লেট (Plate) এর মধ্যে খন্ড খন্ড অবস্থায় অবস্থান করছে। ভূতত্ত্ব বিজ্ঞানের আলোকে এই প্লেটের চ্যুতি বা নড়া-চড়ার দরুণ ভূমিকম্পের সৃষ্টি হয়।
এই নড়া-চড়ার পিছনেও যে কেউ একজন তো অবশ্যই আছে।
.
আল্লাহর সতর্ককরণ ধরণ-ধারণে, আকার-আকৃতিতে, বিভিন্ন সময় বিভিন্ন রূপে আপতিত হয়। কখনো ব্যাপক বিধ্বংসী ঘুর্ণিঝড়ের আকৃতিতে, কখনো দুর্দমনীয় বন্যার আকারে, কখনোবা যুদ্ধের আকারে, কখনো আবার প্রচন্ড বা মৃদু ভূমিকম্পের আকারে। কারণ, তিনি চান না যে, মানুষ অবাধ্য হয়ে তার বিধি-বিধানের প্রতি পৃষ্ঠ প্রদর্শন করে প্রবৃত্তি চালিত হয়ে জীবন যাপন করুক
ভূমিকম্প, বন্যা, দূর্যোগ, যুদ্ধ, ইত্যাদির মূল আমাদের মানুষের কর্মের ফল। মহান সৃষ্টিকর্তা তো বলেই দিয়েছেন যে সব আমাদের কর্মের ফল আমাদেরকেই ভোগ করতেই হবে।
.
তিনি আরো বলেন,
যখন পৃথিবী তার কম্পনে প্রকম্পিত হবে, যখন সে তার বোঝা বের করে দেবে। এবং মানুষ বলবে, এর কি হল। সেদিন সে তার বৃত্তান্ত বর্ণনা করবে, কারণ, তোমার পালনকর্তা তাকে আদেশ করবেন। সেদিন মানুষ তাদের কৃতকর্ম দেখানোর জন্য দলে দলে বেরহবে। আর কেউ অণু পরিমাণ সৎকর্ম করলে তা দেখতে পাবে, এবং কেউ অণু পরিমাণ অসৎকর্ম করলে তাও দেখতে পাবে।।
(সুরা আল যিলযাল)

সুতরাং আমরা এখন বলতে পারি যে, ধর্মের কারনেই মানুষের মধ্যে হানাহানি, মারামারি হয় না, এই সব কিছুই আমাদের কর্মের কারনেই সংঘটিত হয়। আর অবশ্যই সৃষ্টিকর্তা বলতে একজন আছেন, যার সমকক্ষ কেউ নেই।
আমাদের অনেকের ই সঠিক জ্ঞান না থাকার কারনে আমরা না জেনে বিভিন্ন মন্তব্য করি, যা আদৌ সঠিক নয়।


সর্বশেষ এডিট : ১৮ ই ফেব্রুয়ারি, ২০১৭ দুপুর ১:৫৩
৫টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

থাক অহমিকায়

লিখেছেন আলমগীর সরকার লিটন, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:২৫


তোমার রঙিন আকাশে নেই
যে অমাবস্যার- অন্ধকার
ঝলমল করছে শুধু চাঁদ-
ডুবছ ডুবছ সুখমারী রাত!
উড়ছ শঙ্খচিলের ডানায়;
তোমার আকাশে অমাবস্যা নাই।

আমি মাটি বন্দি হয়েছি
মরার আগেই- মরার আগেই-
স্বপ্ন দেখি শুধু হুতুম পেঁচা হব... ...বাকিটুকু পড়ুন

বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৫:৫০



বঙ্গবন্ধু: একটি নাম- যাকে ঘৃণা করার আগে একবার থামুন[

শেখ মুজিব ইতিহাসের খলনায়ক।
জাতীয় বেইমান।
পাকিস্তান ভাঙার অপরাধী।
- এই কথাগুলো আপনি বিশ্বাস করেন?
তাহলে আজ আপনাকে একটা অনুরোধ করব- একবার শুধু থামুন।

রাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

প্রিয় কন্যা আমার- ৯৩

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২৫

ফারাজা তাবাসসুম খান-
অনেকদিন তোমাকে নিয়ে লিখি না। খুব ব্যস্ত আছি। আমার সব সময় নিয়ে নিচ্ছে অফিস। আমি অফিস থেকে তোমাকে ফোন করলে তুমি কথা বলতে চাও না। আবার আমি... ...বাকিটুকু পড়ুন

Mystic River – জোয়ারে ফিরে আসে সবকিছু

লিখেছেন রাজসোহান, ১৮ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৯:৩১



১৯৭৫ সালের বোস্টন। শ্রমজীবী মানুষের সাধারণ পাড়া। রাস্তায় হকি খেলছিল তিনটে বাচ্চা ছেলে। হঠাৎ বল গড়িয়ে পড়ল ড্রেনে। খেলা ওখানেই শেষ। ফুটপাতের একপাশে তখন সদ্য ঢালা ভেজা সিমেন্ট। ছেলেগুলো কাঠি... ...বাকিটুকু পড়ুন

গোলাপী এখন বাসে ....

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৯ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১:২০


দেশে আজ থেকে পিংক বাস সার্ভিস চালু হয়েছে। ঢাকা সহ আরও তিনটি বড় শহরে এই বাস চলবে। খবরটা শুনে মনে হলো, দেশ যেন হঠাৎ করেই এক ধাপ আধুনিক হয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

×