somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

এরা জাতীয় গৌরব- এদের নিয়ে তর্কবিতর্ক করে ছোট করা উচিত নয়

০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা চলে গেছে তাদের নিয়ে কেন এতো বাড়াবাড়ি। যারা চলে গেছে তারা নিয়ে গেছে সাথে করে তাদের যা দেনা পাওনা। কেন তবে তাদের নিয়ে টানাটানি। কি লাভ তাতে। মিছেমিছি জড়ানো সংঘাতে। জড়ানো বেহুদা কাজে। শুধু প্রতিহিংসা আর প্রতিশোধের আগুন জ্বালানো। মুছে ফেল হৃদয়ের সুনিতের দাগ। ভাল বা মন্দ মৃত্যুতে তার অবসান। মৃত আত্মাকে আর টানা হেচরা করার কি দরকার? এ ট্রেডিসান বন্ধ করতে হবে। নয়তো আজ যারা এটা চালু করবে কাল তারা এর শিকার হবার সম্ভাবনায় থেকে যান।
আমরা ছোট বেলা থেকে বাংলাদেশের উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্বদের যে পরিচয় পাই তার মধ্যে শেরে বাংলা একে ফজলুল হক, শহীদ সরোয়ার্দি, মাওলানা ভাসানী, বঙ্গবন্ধু শেখ মজিবুর রহমান, মেজের জিয়াউর রহমান, আতাউল গনি উসমানি প্রমুখ। এরা আমারেদ কাছে জাতীয় গৌরব। এদের নিয়ে কোন তর্কবিতর্ক করে তাদের ছোট করা উচিত নয়। ওনারা প্রত্যেকেই মানুষ। তাই তাদের ভাল মন্দ দুটোই ছিল। মৃত্যুর পর মন্দটা নিযে তর্ক করে কি লাভ। প্রতিটি ব্যক্তিত্বই বাংলাদেশের ইতিহাসে জনপ্রিয় ব্যক্তিত্ব। হ্যা আদর্শ আর মতগত পার্থক্য এদের জনপ্রিয়তায় বিভাজন সৃষ্টি করেছে। কিন্তু প্রত্যেকেই জনপ্রিয়। প্রত্যেকেরই জন সমর্থন আছে। বেশি বা কম। সমর্থন যেমনি হোক না কেন সে সমর্থনকে উপেক্ষা করা কারোই উচিত নয়।
এ যাবৎ দেখে আসছি যে দল ক্ষমতায় থাকে সে দল বিরোধীদের সহ্য করতে পারে না। আবার বিরোধী যখন ক্ষমতা পায় সেও একই আচারন করে। পালাক্রমিক একটি সংঘাত চলতে থাকে। কেউ এটার অবসান করতে চায় না। শুধু মাটি খুড়ে খুড়ে শত্রুতা অন্বেষণ।
ক্ষমতাসিনদের খেলা দেখুন- মেজর জিয়া সম্পর্কে তখন অনেক কিছু আমাদের জানানো হয়েছিল। হতে পারে তা ভুল বা সঠিক । সেটা আলাদা তর্ক। কিন্তু বঙ্গবন্ধু সম্পর্কে তেমন কিছুই জানতাম না।আগে বঙ্গবন্ধুর জম্মদিন কত তারিখে জানতাম না। ১৫ ই আগষ্ট এলে পত্রিকায় এক কোনায় বঙ্গবন্ধুর ছবির নিচে লেখা থাকত। আজ ১৫ই আগষ্ট। এ দিনে বঙ্গবন্ধু কে সপরিবারে হ্ত্যা করা হয়। ১৯৯৬ সালে আওয়ামীলিগ ক্ষমতায় আসার পর আমরা বিস্তারিত ভাবে বঙ্গবন্ধু ও তার পরিবারের মর্মান্তিক হত্যাকান্ড সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে পারি। ৭ ই নভেম্বর পালন করতাম সরকারী ছুটি। আওয়ামী আমলে তা বাতিল হয়ে গেল। বঙ্গবন্ধুর জম্ম ও শাহাদাৎ দিবস পালন চালু হলো। সরকারী ছুটি ঘোষনা করা হল। ১৫ ই আগষ্ট করা হল জাতিয় শোকদিবস।
আবার বি এনপি এল ক্ষমতায ২০০১ সালে। সবা ছুটি বাতিল আবার পালিত হল তাদের নিযম করা ছুটি। এরপর এল অভিশপ্ত ফখর-মইন সরকার। তারা আবার দুটি দলের ছুটিই চালু রাখল।এরপর আবার আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় এলে তারা আগের মতই তাদের ছুটিগুলো ও কার্যক্রম চালু করে।
যে দলই ক্ষমতায় থাকে সে বিরোধী দলের নাম নিশানা রাখতে চায় না। সে ভাবে সেই একমাত্র সহিহ আর বাকি সব ভন্ড। এই নীতির কারনে একদল আরেক দলের সময়ে চালু উন্নয়ণ মুলক কাজ বন্ধ করে দেয়। অর্থনৈতিক ক্ষতি কারো গায়ে লাগে না।
একটা গল্প বলি- একজন দরবেশের দুজন শিষ্য ছিল। দরবেশের পায়ে বাতের ব্যাথা ছিল। সে তার দুই শিষ্যকে তার দুই পা টিপার কাজে নিযোজিত করল। একদিন দুজনে পা টিপছিল । হঠাৎ একজনের বাথরুমে যাবার দরকার হল। সে অপর জনকে বলল, আমি একটু আসছি তুমি এসময় এ পা টি একটু টিপ দিয়। দ্বিতীয় জন কথা মতো দুটো পাই টিপতে লাগল। কিন্তু শিষ্যটি প্রথম জনের ভাগের পাটি টিপতে যেয়ে এমন জোড়ে চাপ দিল যে পাটি ভেঙ্গেই গেল। প্রথম জন ফিরে এসে যখন এ অবস্থা দেখল সে তখন রাগে গজরাতে গজরাতে দ্বিতীয় জনের ভাগের পাটিও ভেঙ্গে দিল। দুই শিষ্যের ক্যাচালের বলি হল দরবেশ।
আমাদের দেশের অবস্থাও তাই। দরবেশের মত দলগুলোর রাজনৈতিক ক্যাচালের বলি আমাদের দেশ। প্রত্যেকেই জেদের বসে ক্ষতি করে যাচ্ছে দেশের। এটা থামাতে হবে।
রাজনৈতিক রেশারেশি বন্ধ করতে হবে। আজ যদি মেজর জিয়ার মাজার নিযে টানাটানি হয় কাল কি বঙ্গবন্ধুর মাজার নিয়ে টানাটানি হবে না! দরকার কি ফাও ঝামেলা করার। যেটা যেভাবে আছে থাক না। একটু বড় মনের পরিচয় দিলে ক্ষতি কি? দেশের উন্নয়ণের সময় এসব রেশারেশি অন্তরায়। তাই উন্নয়ণের ধারা অব্যাহত রাখতে রাজনৈতিক আঘাত প্রতিঘাতের খেলা বন্ধ করতে হবে। আশা করি আমাদের বর্তমান সরকার তাদের বিচক্ষনতা আর দক্ষতা দিয়ে দেশের উন্নয়ণ অব্যাহত রাখবেন। আবেগে নয় আন্তরিকতায় দেশও দশের সেবা চলমান রাখবেন। মহান আল্লাহ সবার মাঝে শুভবুদ্ধি জাগ্রত করুক।

সর্বশেষ এডিট : ০৩ রা সেপ্টেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৫
৩টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ছবি ব্লগ -৭ বিনীত, অবনত বৃক্ষ

লিখেছেন হুমায়রা হারুন, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১:০৯

পথে যেতে চোখে পড়লো নুয়ে পড়া বৃক্ষের শাখাগুলো। মনে হলো স্রষ্টার কাছে সে যেন নিবেদিত প্রার্থনায় অবনত। সব অহংকার, সব আত্মগরিমা, কৃতিত্বের ভার সে ধীরে ধীরে ঝরে... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইমাম হোসেনের (রা.) পরিবর্তে ইয়াজিদী নেতৃত্ব প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল কেন?

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ ভোর ৬:৪৯



সূরাঃ ৮ আনফাল, ৬৫ ও ৬৬ নং আয়াতের অনুবাদ-
৬৫। হে নবি! মু’মিন দিগকে যুদ্ধের জন্য উদ্বুদ্ধ কর। তোমাদের মধ্যে কুড়িজন ধৈর্যশীল থাকলে তারা দুইশতজনের উপর বিজয়ী হবে।তোমাদের মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

আমরা কোন ইসলাম পালন করছি! কাদের ফলো করছি!

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ১০:৫১

খোদা ও নবীজীকে অবমাননা করলে অর্থাৎ ধর্মীয় অবমাননা করলে মৃত্যুদণ্ড দিতে হবে, এমন আয়াত কোরআনে পেলাম না!
অনেক খুঁজলাম.........আমি পাই নাই। আপনি পেয়েছেন কি?



পবিত্র কোরআনে উল্লেখ আছে যে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন, প্রতিমন্ত্রীর পদত্যাগ এবং ঢাকা দক্ষিণের নতুন সমীকরণ: রাজনৈতিক খেলায় ইশরাক কোথায়?

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫২

রাজনীতির মাঠে অতি-উৎসাহ কখনো কখনো যে আত্মঘাতী হয়ে দাঁড়াতে পারে, মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাক হোসেনের সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ড তারই এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। গত শনিবার রাজধানীর গেন্ডারিয়ায় যেভাবে প্রকাশ্য দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র উঁচিয়ে, দলবল... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবের প্রতি বাংলার মানুষের কেন এত ক্ষোভ?

লিখেছেন জ্যাক স্মিথ, ১৯ শে অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮



বাংলাদেশের বেকারত্ব সমস্যা দূরীকরণে সৌদি আরব গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছে। দেশটিতে বাংলাদেশের প্রায় ৩৫ লাখ শ্রমিক কাজ করছেন। সৌদি আরবই বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বৈদেশিক শ্রমবাজার। ২০২৫–২৬ অর্থবছরে সৌদি আরব... ...বাকিটুকু পড়ুন

×