somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

আত্মা কে পরিশুদ্ধ করার মাঝেই ধর্মের স্বার্থকতা

২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৩১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

নিজের শরীরকে সাজিয়ো না

কারন সে মটির সাথে মিশে যাবে একদিন
সাজাও তোমার রুহকে
সেই হাজির হবে বিচারের দিন

ধর্ম মানেই মানবতা। সেটা যে ধর্মই হোকনা কেন? তাই বলে মানবতা ধর্ম নয় ধর্মের অংশ মাত্র। ধর্ম এসেছে মানবতার কল্যাণের জন্য সত্য কিন্তু একমাত্র কারণ নয়। এর ব্যাপ্তি সুদূর প্রসারি। এতে পুরো বিশ্বব্রহ্মান্ডের জীবজড় সবকিছুই অন্তভুক্ত। হ্যাঁ ধর্মগুলোর মূলই সৃস্টির সেবা করা এর মাধ্যমে স্রষ্টার সন্তুষ্টি অর্জন। এই তাত্ত্বিক তত্ত্ব অনুধাবন করে কবি বলেন- জীবে প্রেম করে যে জন সে জন সেবিছে ইশ্বর। ধর্ম অনেক বড় বিষয়। এটা অনেক গুলো বিষয়ের উপর প্রতিষ্ঠিত। মানবতা তার প্রধান নিয়ামক। এটা ধর্মের মূল চালিকা শক্তি হতে পারে কিন্তু এটাই ধর্ম বলা ঠিক নয়। যেমন ঠিক নয় মাথাকে পুরো শরীর বলা।

হ্যাঁ বর্তমানে কিছু কিছু ধর্ম মানা লোকদের দিকে তাকালে ধর্মের মানবিকতার দিকটি চোখে পড়ে না। মানবতা বিজর্জিত বিকৃত এক মতাদর্শ ধর্মের মুখোশে দাবরিয়ে বেড়াচ্ছে সাড়া বিশ্ব। এটা ধর্মের কোন সমস্যা নয়। এটা ধর্ম মানা দাবিদার লোকদের সমস্যা। তারা সঠিক ভাবে ধর্ম পালন না করে নিজ স্বার্থে ধর্মকে ব্যবহার করছে। ধর্মের প্রকৃত উদ্দেশ্যকে তারা ভুলণ্ঠিত করে নিজ উদ্দেশ্য হাসিলের চেষ্টা করছে। ফলে ধর্ম বর্তমানে সেসব স্বার্থন্বশীদের দ্বারা বিকৃত ভাবে মানবতার ক্ষতি সাধনে ব্যবাহার হচ্ছে। তাই কেউ কেউ মানবতাই ধর্ম বলে আলাদা ধর্ম প্রচারে সচেষ্ট হচ্ছেন। এটা কতুটু যুক্তিসঙ্গত যে, ধর্মীয় অনুসারিদের দূর্বলতার কারনে ধর্মকে ক্ষুদ্র আংগিকে আংশিক ভাবে শুধমাত্র মানবতার ধর্মই বলা হবে। ধর্ম কে শুধু মানবতাই ধর্ম বলে ছোট করা কেন?

এই যে প্রকৃতির এতো শোভা। এই মনোরম পরিবেশ। এর সেবাও ধর্মের অংশ। এইযে, কোন নিয়ম না মেনে গাছ কেটে বনকে বন উজার করে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট করা হচ্ছে এর কারন এটাকে আমরা ধর্ম পালন মনে করছি না। প্রকৃত ধর্ম প্রকৃতির কথাও বলে। তাইতো স্রষ্টা মানবগুষ্ঠিকে প্রকৃতি নির্ভর করে দিয়েছেন। গাছ আমাদের অক্সিজেন দেয়। আমাদের বিষাক্ত নাইট্রোজেন গ্যাস সে শোষন করে নেয়। এ ছাড়া আকাশ বাতাস, পাহাড় পর্বত নদী নালা, সমুদ্র, ঝর্ণা জলপ্রপাত প্রভৃতি প্রকৃতির অংশ। এদেরও সেবা করতে হবে। এটাও ধর্ম পালন। এভাবে আরো অনেক দায়িত্ব ও কর্তব্য আছে সব দায় দায়িত্ব নিয়েই সম্মেলিত বিবেকবোধই ধর্ম। একপেসে কোন বিষয় নিয়ে ধর্ম হতে পারে না।

কেউ কেউ বলে মানবতাই ধর্ম কেউ কেউ বলে প্রকৃতি প্রেমই আসল ধর্ম। আংশিক ভাবে এভাবে ধর্মকে দেখা কতটুকু যুক্তিযুক্ত? ধর্ম কে দেখতে হবে সার্বিক ভাবে। ধর্ম সবসমই তার সত্তায়ই উজ্জল। তার বৈশিষ্ট তাকে পূর্নতা দেয় মাত্র নির্দিষ্ট কোন বৈশিষ্ট তার পরিচিতি হতে পারে না। ধর্ম মানে সবকিছুরই ধর্ম। বাংলা সাহিত্যের মধ্যযুগের কবি চন্ডিদাস বলেন সবার উপরে মানুষ সত্য তাহার উপর নাই। এই উক্তিটি দিয়ে অনেকে মানবিকতাকে আলাদা ধর্ম হিসেবে হাইলাইট করতে চান। এই কথাটির সত্যতা নিয়ে কোন দ্বিধা নাই। কিন্তু এর প্রয়োগ ঠিক নয়। যেমন ধরুন আপনি কোন বিষয়ে চুক্তি পত্র তৈরি করছেন । তাতে অনেকগুুলো শর্ত আছে। শর্তগুলোর চুক্তি মূল। এতে ক্রমিক নং ধরে ১,২,৩…….করে সাজানো হয়। সেখানে সবার উপরে রাখা হয় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ শর্তটি। চুক্তি পত্রের একটি ক্লজ হিসেবেই এটি আছে। আর এটি ১০ বা ২০টি যতশর্তই থাকুক তাদের মধ্যে শ্রেষ্ঠ বা সবার উপরে। এর তুলানা চুক্তি পত্রের সাথে নয়। চুক্তির অন্যান্য শর্তের সাথে। তেমনই মানুষ আর মানবিক দৃষ্টিভংগি বা মানবতা এ চির সত্যটি ধর্মের অন্যান্য নিয়ামকের মধ্যে সবার উপরে । কোন অস্থায় এটা বলা যাবে না এটা ধর্মের উপরে। কারণ ধর্ম মানবিকতার ধারক। যেমন চুক্তি পত্র তার প্রধান শর্তের ধারক।

একজন প্রকৃত ধার্মিক কখনো কারো জন্য হুমকি বা ক্ষতির কারণ হতে পারে না। ধার্মিক হওয়ার উদ্দেশ্য হল স্রষ্টার আনুগত্য করা। তার নির্দেশিত পথে চলা। আর স্রষ্টার পথই হল কল্যাণের পথ। কল্যানের পথে যে থাকে তার দ্বারা অকল্যাণ হওয়া মোটেই সম্ভব নয়। যদি ব্যত্যয় হয় বুঝতে হবে সে ধার্মিক নয় বকধার্মিক। সূত্র ঠিক না হলে যত লম্বাই হোক অংকের পরিধি তা মেলানো যাবে না। তাই ধার্মিক নামের অংক মেলাতে হলে শুধু মানবিক নয় সার্বিক ভাবে আত্মাকে পরিশুদ্ধ করতে হবে। আর এভাবেই পরিশুদ্ধ একজন ধার্মিক সমাজের মঙ্গল সাধনে নিবেদিত হতে পারবে। আর তখনই ধর্ম স্বার্থকতা চোখে পড়বে।

তাই আমাদের উচিত হবে সত্যিকার ধর্ম ও ধার্মিক কে মডেল করে এগিয়ে যাওয়া। কোন বকধার্মিক বা স্বার্থন্বেষিদের নয়।
সর্বশেষ এডিট : ২৩ শে ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৩১
২টি মন্তব্য ২টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

রংয়ের মানুষ

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গ্রেট মাদ্রাজ ফ্যামিন যখন অনুপ্রেরণার উৎস
একদিন আমাদের সবার প্রিয় সংসদ সদস্য আমির হামজা ওয়াজে বেশ গরম গরম কথা বলছিলেন। মহান আল্লাহ তায়ালার সৃষ্টির সৌন্দর্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হঠাৎ রাশমিকা... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনন্দন নাবিহা সাকলায়েন: ৩০ বছর পরের এআই পটেনশিয়াল

লিখেছেন কলাবাগান১, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৩:৩৮


কনসেপ্ট টা খুবই সোজা...পৃথিবীর তাবত মানুষ ই জানে যে আপনার বিশ বছর বয়সে শরীরে যে কোষ গুলি আছে তা আপনার ৬০ বছর বয়সের কোষ আর সেইম না ..লম্বা সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

লক্ষ্মীপুরের সুপারি থেকে উপকূলের অর্থনীতি: কৃষিজ সম্পদই পারে গ্রামীণ ভাগ্য বদলাতে

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ দুপুর ১২:৫৮


বাংলাদেশের প্রতিটি অঞ্চলে এমন কিছু নির্দিষ্ট ফল, ফসল বা মৎস্য সম্পদ প্রাকৃতিকভাবে উৎপাদিত হয়, যা শুধু স্থানীয় চাহিদা মেটায় না, বরং পুরো অঞ্চলের অর্থনীতিতে জোরালো প্রভাব ফেলে।... ...বাকিটুকু পড়ুন

”আমার রাজনীতির রূপরেখা” -- জিয়াউর রহমান

লিখেছেন প্রামানিক, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৪:০০


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক
আমি তখন দৈনিক দেশ পত্রিকায় চাকরি করি। এটা আমার দ্বিতীয় চাকরি। প্রথম চাকরি নিয়েছিলাম ব্রিটিশ আমলের প্রকাশিত দৈনিক আজাদ পত্রিকায়। আজাদ পত্রিকাটি ব্রিটিশ আমলে মুসলমানের পক্ষের একমাত্র... ...বাকিটুকু পড়ুন

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

×