somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

কে পাগল?

১০ ই নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

"এক্কেবারে পাগল হয়ে যায়!" - অসহিষ্ণুতার চরম বহিঃপ্রকাশমূলক একটা উক্তি।
দৃশ্যকল্প-১ঃ আপনি জরুরী কাজে বের হয়েছেন। ফুটপাত ধরে দ্রুত হাঁটছেন। সময়মত পৌছাতে না পারলে আজ আর কাজটা হবে না। কিছুক্ষণের মধ্যেই আপনার হাঁটার গতি কমিয়ে দিতে হলো কারন আপনার সামনেই কয়েকজন পথচারী স্বল্প প্রসস্ত ফুটপাতের পুরোটা দখল করে একই দিকে ধীর গতিতে এগিয়ে যাচ্ছে অথবা এক জায়গায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে গল্প করছে অথবা একজন রাস্তার মাঝ বরাবর ধরে মোবাইল টিপতে টিপতে এগিয়ে যাচ্ছে অতি ধীর গতিতে। আপনার তো তাড়া আছে, কি করবেন? নিশ্চয়ই পাশ কাটিয়ে যাবার চেষ্টা করবেন, ভদ্রতাসূচক "এক্সকিউজ মি"ও বলবেন। পাশ কাটিয়ে বের হয়ে যাবার সময় অজান্তেই কারো সাথে মৃদু বা কিছুটা জোরেই ধাক্কা লেগে গেলো, বুঝতে পেরে হয়ত স্বাগতোক্তির মত করে "সরি"ও বললেন। তারপরেই শুনতে পাবেন উক্তিটা - "পাবলিক রাস্তায় বের হলেই পাগল হয়ে যায়!"

দৃশ্যকল্প-২ঃ আজ আপনার কোনো তাড়া নাই। বাসা থেকে বের হয়েছেন, হাতে অনেকটা সময় আছে। ধীরে সুস্থে পৌঁছালেই চলবে। বাসার সামনে থেকেই একটা লোকাল বাস পেয়ে উঠে পড়লেন তাতে। বাসে যাত্রী কম থাকায় পেছনের দিকে একটা সীটও পেয়ে গেলেন।  কিন্তু আপনার গন্তব্যে পৌঁছার আগেই লোকাল বাস তার "লোকাল-রূপ" ধারন করল - বাসের ছাদ ছাড়া আর কোথাও বসা তো দূরে থাক দাঁড়ানোর যায়গাও নাই - যাত্রীতে ঠাসা। আপনার নির্দিষ্ট স্টপেজে পৌঁছানোর আগে আগে আপনার মাথায় দুইটা অপশন আসলো - ১. বাস থামার আগেই ভীড় ঠেলে গেইট পর্যন্ত এগিয়ে থাকলেন অথবা ২. বাস থামার পরে সীট থেকে উঠবেন। এই ভীড়ের মধ্যে পরে নামতে সমস্যা হতে পারে চিন্তা করে এক নম্বর অপশনটাই বেছে নিলেন। কিন্তু বেশিদুর আগাতে পারলেননা, বাসের মাঝামাঝি আসতেই সামনে দাঁড়ানো যাত্রী ধমকে উঠলো, "তাড়াহুড়া করেন ক্যান, আরো লোক নামার আছে"! কি আর করা - বাস থামা পর্যন্ত ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকলেন। বাস থামার পরে নামতে গেলেন, তখনো ভীড় কমে না। বেশি দেরি হলে নামতে পারবেন না, যাত্রী ঠেলে উঠতে থাকবে, তাই একটু ঠেলেই নামতে থাকলেন, তাতে কোনো কোনো যাত্রীর গায়ে হয়ত ঠেলা-গুতা লাগছে একটু, আপনাকে নামতে তো হবে। তখনই শুনবেন আশেপাশের কেউ বলে উঠছে, "পাবলিক বাসে উঠলেই পাগল হয়া যায়!"

মনে হয় না যে জাতি হিসাবে আমরা খুব জাজমেন্টাল? অন্যকে খারাপ বিবেচনা করতে একটুও সময় নেই না। কাউকে পাগল, কাউকে টাউট-বাটপার উপাধি দিতে কার্পণ্য করি না কখনো!  নিজের দিকে তাকাই না একবারো!
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই নভেম্বর, ২০১৬ বিকাল ৩:৫৭
২টি মন্তব্য ১টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আমাদের নিজেদের না পাওয়া গুলো অন্যদের পেতে সাহায্য করা উচিত।

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ৯:৪২


আমরা মানুষেরা সবসময় ভালো থাকতে চাই। ভালো খেতে চাই, ভালো পড়তে চাই, ভালো চাকুরী/ব্যবসা করতে চাই। কিন্তু বেশিরভাগ সময়ই আমাদের চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল থাকেনা। এই চাওয়ার সাথে পাওয়ার মিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

অভিনব প্রতারনা - ডিজিটাল প্রতারক

লিখেছেন শোভন শামস, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:১৮



একটি সাম্প্রতিক সত্য ঘটনা।
মোবাইল ফোনে কল আসল, একটা গোয়েন্দা সংস্থার ছবি এবং পদবী সহ। এই নাম্বার সেভ করা না, আননোন নাম্বার। ফোন ধরলাম। বলল আপনার এই নাম্বার ব্যবহার করে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ৩১ শে মার্চ, ২০২৬ রাত ১১:২২

ধান ভানতে শীবের গীত : প্রজা বলে শীত ! শীত!!


সমুদ্রে বড় জাহাজ যখন ডুবতে থাকে, তখন কে ধনী বা কে গরীব প্রকৃতি তার বাছ-বিচার করেনা ।
বা বলা চলে, কে পাপী... ...বাকিটুকু পড়ুন

এতো সুর আর এতো গান - আমার কণ্ঠে

লিখেছেন সাড়ে চুয়াত্তর, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ রাত ২:০০

একটা হারানো দিনের গান গাওয়ার চেষ্টা করেছি (Cover Song)। আশা করি সবাই উপভোগ করবেন।

গান - এতো সুর আর এতো গান
মূল গায়ক - সুবীর সেন
গীতিকার এবং সুরকার - সুধিন... ...বাকিটুকু পড়ুন

আগে নিজেকে বদলে দিন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০১ লা এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪১



"আমার স্বামী সংসারের কুটোটাও নাড়ান না। যেখানকার জিনিস সেখানে রাখেন না। মুজা খুলে ছুঁড়ে যেখানে সেখানে ফেলে দেন। নিজেকে পরিষ্কার রাখতে বারবার ভুল করেন! এতো বছর বিবাহিত জীবন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×