প্রেম নাকি পরকিয়া!
সমাজে যা স্বীকৃত, তা— ‘বৈধ’। আবার সমাজ যা স্বীকার
করে না, তা— ‘অবৈধ’। ‘বৈধ-অবৈধ’— এমন দু’টি শব্দ
আমাদের সমাজে প্রচলিত আছে। সে আছে, থাকুক।
কিন্তু, এই ‘বৈধ-অবৈধ’র মধ্যে ‘সম্পর্ক’ কেন নাকানি-
চুবানি খাবে? ‘সম্পর্ক’ তো শুধুই ‘সম্পর্ক’ তা আবার ‘বৈধ-
অবৈধ’ কি?
যেমন ‘পরকীয়া’— এই শব্দটি আমাদের সমাজে থাকলেও
আদৌতে এর স্বীকৃত নেই। যার কারণে ‘পরকীয়া’ মানেই
‘অবৈধ সম্পর্ক’! এর ফলে নারী বা পুরুষ উভয়ই এ সম্পর্কটা
লুকিয়েই করেন। ফলে এটিকে অনেকে ‘গোপন প্রেম’ বা
‘নিষিদ্ধ প্রেম’ও বলে থাকেন।
তবে কথা হচ্ছে, প্রেম— পরকীয়া, গোপন বা নিষিদ্ধ হবে
কেন? প্রেম মানেই তো দু’টি মনের যুগপৎ সিদ্ধান্ত। দু’টি
মনের ভালোলাগা, যেখানে— ছন্দ-তাল-লয় একদম
পরিপাটি। সুতরাং, এখানে কে নৈতিক সমর্থন দিল, আর
কে অনৈতিক বলে আখ্যায়িত করল— তা কার কি আসে
যায়?
ইংরেজিতে ‘পরকীয়া’ বলতে ‘বৈধ-অবৈধ’ কোন ব্যাপার
পরিলক্ষিত নয়। ইংরেজিতে ‘পরকীয়া’ মানেই হচ্ছে
‘affair’। এখন যদি আমরা ‘পরকীয়া’র বাংলা সমর্থক শব্দ
খুঁজতে যাই, তবে এর অর্থ পাব— ‘অন্যের’, ‘অন্যসম্বন্ধীয়’,
‘নায়িকাবিশেষ’, ‘প্রণয়িনী কুমারী’, ‘প্রণয়ঘটিত
ব্যাপার’, ‘প্রেম’, ‘অপরের পত্নী’।
আবার এই ‘পরকীয়া’ তথা ‘affair’ শব্দের সমর্থক অর্থ
দাঁড়ায়— ‘matter’, ‘thing’, ‘affairs’, ‘phenomenon’,
‘occurrence’, ‘topic’, ‘theme’, ‘object’, ‘word’, ‘saying’,
‘accents’, ‘story’, ‘promise’, ‘tale’, ‘trade’, ‘traffic’, ‘love affair’,
‘love’, ‘commission’।
তবে মজার বিষয় হল, কোন বিবাহিত নারী যদি স্বামী
থাকা অবস্থায় অন্যের সাথে প্রেমঘটিত সম্পর্কে জড়ায়
তবে সেটিকেই ‘পরকীয়া’ বলা হয়। এর কারণ হচ্ছে, এই
শব্দটি স্ত্রী-লিঙ্গদ্বারা বিভাজন করা। আর পুরুষের
ক্ষেত্রে ‘পরকীয়’। তবে, ভালো করে খেয়াল করলে
দেখতে পাব— ‘পরকীয়’ কিন্তু কেউ বলছি না, সবাই বলছি
— ‘পরকীয়া’। অর্থাৎ— আঙুলটা পুরুষের দিকে নয়, নারীর
দিকেই তুলছি! পুরুষতান্ত্রিক সমাজ ব্যবস্থা বলে কথা,
সবকিছু নারীদের উপরই চাপানো হয়।
সে যা হোক, শব্দগুলোকে লিঙ্গদ্বারা বিভাজনের পক্ষে
আমি নই। ‘পরকীয়া’ শব্দটিকেই আমি উভয় লিঙ্গের
ক্ষেত্রে বেছে নিলাম। তাই ‘পরকীয়া’ আর ‘পরকীয়’
বিতর্কে যাচ্ছি না। মূল বক্তব্যে ফিরে আসি। একটু
জানার চেষ্টা করি, ‘পরকীয়া’ কি? এর নেপথ্য কারণটাই
বা কি?
এর আগে বলে নেয়া ভালো, প্রতিটি মানুষের নিজস্ব
একটি ক্যানভাস থাকে। এ ক্যানভাসে মনের সব রঙ উজাড়
করে দিয়ে নিজের একটা জগত এঁকে যান। যা বাস্তবেও
তিনি তেমন চান। সে ক্ষেত্রে কল্পনার রঙের সাথে
বাস্তবতার রঙ খানিকটা এদিক-সেদিক হলে তা অনেকেই
মানিয়ে নেন, মেনে নেন। কিন্তু, কল্পনার রঙের সাথে
বাস্তবতা যদি বিপরীতমুখী হয়— তখন?
যেমন, একজন স্ত্রীর পুরোটা পৃথিবীজুড়েই থাকে তার
স্বামী। তিনি মনের সমস্ত রঙ উজাড় করে দিয়ে নিজস্ব
ক্যানভাসে স্বামীকে রাঙাতে চান। কিন্তু, বাস্তবে যখন
কল্পনার রঙে রাঙানো স্বামীকে তিনি আর খুঁজে পান
না— তখন? একইভাবে পুরুষের ক্ষেত্রেও ঘটে। তবে পুরুষ
ব্যতিক্রম আর নারী উদাহরণ হিসেবেই বিবেচ্য।
নারী আর পুরুষের ‘পরকীয়া’র ধরণটা যদি আমরা একটু বিশ্লেষণ করি, তবে তা দাঁড়ায়— নারীরা মূলত পুরুষের বুদ্ধিবৃত্তিক, আবেগীয় ও অর্থ সম্পদের প্রতি আকৃষ্ট এবং শারীরিক চাহিদা থেকে ‘পরকীয়া প্রেমে’ জড়িয়ে থাকেন। অন্যদিকে পুরুষের ব্যাপারটা একেবারেই উল্টো, যেমন— পুরুষরা সাধারণত বহুগামী মানসিকতা থেকে ‘পরকীয়া’ করে থাকেন। তবে দু’ একজন পুরুষ ব্যতিক্রমও হয়, যা উদাহরণ নয়। আবার কিছু কিছু নারীর ক্ষেত্রেও
বহুগামিতার লক্ষণ পরিলক্ষিত। তবে তা একেবারেই
নগণ্য। সে হিসেবে ‘বহুগামী নারী’— ‘পরকীয়া’র ক্ষেত্রে এটা উদাহরণযোগ্য নয়।
(ধূসর ক্যানভাস— পাণ্ডুলিপি থেকে)
কার্টেসী: Ripon Hossain

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




