somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অতনু কুমার সেন
ভালো মানুষ হিসাবে নিজেকে দাবি করি না কখনোই, চেষ্টা করছি ভালো মানুষ হতে। জানিনা কবে ভালো হতে পারব! আর আমি এমনিতে বেশ ঠাণ্ডা, কিন্তু রেগে গেলে ভয়াবহ! স্বপ্ন দেখতে ভালবাসি, তার যদিও অধিকাংশই ভেঙ্গে যায়! আশার পিঠে আশা বেঁধে তবুও নির্লজ্

অসাধারণ স্হাপত্য। #রহস্যময়_কৈলাস_মন্দির!!

১০ ই মে, ২০১৯ ভোর ৫:৩৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

পৃথিবীতে অনেক মন্দির আছে যা নিজের সৌন্দর্যের জন্য বিখ্যাত। কিন্তু ভারতে এমন একটি মন্দির আছে যেটি কয়েক হাজার বছর ধরে রহস্য লুকিয়ে রেখেছে তার সৌন্দর্যের আড়ালে। মন্দিরটি হলো ঔরঙ্গাবাদের কৈলাশ মন্দির।

আমাদের প্রাচীন কালে অনেক কিছুই আবিষ্কার হয়েছে আবার সেগুলি প্রায় অনেক কিছুই লুপ্ত হয়ে গেছে। কিন্তু একথা স্বীকার করতেই হবে যে সেই সময়কার টেকনোলজি এখনকার থেকে অনেক বেশি উন্নত ছিল (যেমন পিরামিড কথা বলা যেতে পারে)। ঔরঙ্গাবাদের কৈলাশ মন্দিরও এমন এক সভ্যতার লোক বানিয়েছিলো যা আজকের সভ্যতার মানুষের চেয়ে অনেক বেশি উন্নত ছিলো।

ঔরঙ্গাবাদের কৈলাশ মন্দির মহারাষ্ট্র জেলার প্রসিদ্ধ ইলোরা গুহার মধ্যে অবস্থিত। এই ইলোরা গুহাই পৃথিবীর সব থেকে প্রাচীন গুহা বলে মনে করা হয়। এখানে পাথর কেটে গুহা ও হিন্দু মন্দির(শিব মন্দির) তৈরী করা হয়েছে। যার নাম কৈলাশ মন্দির।

এটি একটি রহস্যময় শিব মন্দির। কেননা এরকম মন্দির তৈরী করা আজকের উন্নত বিজ্ঞানের যুগেও অসম্ভব। এই মন্দির দেখে বিজ্ঞানীরা এতটাই হতবাক হয়ে গিয়েছিলো যে আজও পর্যন্ত জানা সম্ভব হয়নি মন্দিরটি কতদিনের পুরোনো আর কিভাবে মন্দিরটি তৈরী করা সম্ভব হলো।

কিছু বিজ্ঞানী এটাকে ১৯০০ বছরের পুরোনো মনে করেন। আবার কেউ কেউ ৬০০০ বছরের পুরোনো ও মনে করেন। সব থেকে আশ্চর্য্য জনক ঘটনা হচ্ছে যে এই মন্দিরটি ইট এবং পাথর দিয়ে তৈরী করা হয়নি।

আবার এই মন্দিরটি অন্যান্য মন্দিরের মতো পাথরের টুকরো জুড়ে ও তৈরী করা হয়নি। এটি বানানো হয়েছে একটি মাত্র পাথর কেটে। সেইজন্য এই মন্দিরটি যে কবে বানানো হয়েছিল তার উত্তর দেওয়া একেবারেই অসম্ভব।

পৃথিবীর যে কোনো গুহা লক্ষ্য করলে দেখা যায় যে গুহা গুলি বাইরের দিক থেকে ভিতরের দিকে কাটা হয়েছে যাকে ‘কাটিং মনোলিক পদ্ধতি’ বলা হয়। কিন্তু কৈলাশ মন্দিরটি তৈরী করা হয়েছে ওপরের দিক নিচের দিকে। যেটা প্রায় অসম্ভব।

এই মন্দিরের কারুকার্য দেখে আপনি বুঝতে পারবেন এই মন্দির তৈরী করতে অনেক পাথর কেটে সরাতে হয়েছে। আর্কিওলজিস্টরা অনুমান করেন যে প্রায় ৪ লক্ষ টন পাথর কেটে সরাতে হয়েছে। ইতিহাস বলছে যে এই মন্দির বানাতে ১৮ বছর সময় লেগেছিলো যা একেবারেই অসম্ভব। কেননা যদি ধরে নেওয়া যায় যে এই মন্দির বানাতে শ্রমিক প্রতিদিন ১২ ঘন্টা করে কাজ করেছিল। তাহলেও ১৮ বছরের মধ্যে ৪ লক্ষ টন পাথর কেটে সরানো সম্ভব নয়(তাহলে প্রতি বছর ৬০ টন পাথর রোজ, ৫ টন পাথর প্রতি ঘন্টায় কেটে সরাতে হতো, যা একেবারেই অসম্ভব)।এতো গেল পাথর কেটে সরানোর অনুমান। এর পর রয়েছে মন্দিরের কলাকৃতি, ভাস্কর্য্য এবং মন্দিরের ভবনগুলো| যা কৈলাশ মন্দির কে আরো রহস্যময় করে তুলেছে।

আজ থেকে কয়েক হাজার বছর আগে যখন আজকের মতো আধুনিক উপকরণ ছিল না তখন শুধুমাত্র কিছু পাথর কাটার যন্ত্রপাতির সাহায্যে এই ধরণের মন্দির তৈরী করাটা সত্যিই অবিশ্বাস্য। আর যদি প্রাচীন মানুষেরা পাথরের তৈরী যন্ত্রপাতির সাহায্যে মন্দিরটি বানিয়ে থাকে তাহলেও এই মন্দিরটি তৈরী করতে কয়েক লক্ষ বছর সময় লাগার কথা।

সব থেকে রোমাঞ্চকর ব্যাপার হলো পাহাড় কেটে যে পাথর বের করা হয়েছিল তার অবশেষ মন্দিরের আশেপাশে এমন কি কয়েকশো মাইলের মধ্যেও খুঁজে পাওয়া যায়নি। এখন প্রশ্ন হলো, সেই সময় যখন ক্রেনের মতো আধুনিক যন্ত্র ছিল না সেই সময় এত পরিমান পাথর কাটা ও মন্দির স্থল থেকে সরানো কিভাবে সম্ভব হয়েছিল?

এই মন্দিরে বৃষ্টির জল সংগ্রহকরার জন্য ভূমিগত নালার ও ব্যবস্থা দেখা যায়। এই মন্দিরের ছাদ, সিঁড়ি ও থাম খুবই নিখুঁত ভাবে তৈরি।

এই মন্দিরে আরো একটি রহস্য লুকিয়ে আছে। সেটি হলো এই মন্দিরের নিচে একটি গুহা। ১৮৭৬ সালে ইংল্যান্ডের ইমান হেনরিক একটি বই লিখেছিলেন, যাতে সেই গুহাটির ব্যাপারে কিছু বর্ণনা করে গিয়েছিলেন। তিনি কৈলাশ মন্দিরের গুহা টি পরীক্ষা করেছিলেন। তিনি এমন এক ব্রিটিশ লোকের দেখা পান যিনি এই গুহার নিচে গিয়েছিলেন। সেই ব্রিটিশ লোকটি বলেছিলেন যে, যখন তিনি সেই সংকীর্ণ গুহার মধ্যে গিয়েছিলেন সেখানে তিনি একটি মন্দির দেখতে পান এবং সেখানে সাতজন লোকের সাথে সাক্ষাৎ করেন। সেই সাতজন লোকের মধ্যে একজন কে পুরোপুরি অন্য রকম মনে হয়েছিল। কারণ তাকে একবার দেখা যাচ্ছিলো আবার পরক্ষনেই হারিয়ে যাচ্ছিলো।

এই বই টি প্রকাশের পরে অনেক বিজ্ঞানী ও সেই গুহাটির খোঁজ খবর নেওয়ার চেষ্টা করেন। কিন্তু তারপর সরকার থেকে সেই গুহাটি পুরোপুরি ভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং বর্তমানে সেটি বন্ধ হয়েই আছে। এখন প্রশ্ন হতেই পারে যে, এমন কি আছে সেই গুহার মধ্যে যার জন্য সরকার থেকে পুরোপুরি ভাবে খোঁজখবর নেওয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে?

১৬৮২ সালে তৎকালীন রাজা ঔরঙ্গজেব এক হাজার সৈন্যের একটি দল পাঠিয়েছিলেন এই মন্দিরটি ভেঙে নষ্ট করে দেবার জন্য। কিন্তু এক হাজার জন সৈন্য তিন বছর ধরে চেষ্টা চালিয়েও মন্দিরটি নষ্ট করতে পারে নি। যখন ঔরঙ্গজেব বুঝতে পারেন যে এই মন্দিরটি নষ্ট করা সম্ভব নয় তখন তিনি মন্দিরটি ভাঙার কাজ বন্ধ করে দেন।

আজকের দিনে মন্দিরটি তৈরী করতে অনেক কম্পিউটার, হাজার ড্রইং ও অনেক ছোট ছোট মডেল বানিয়ে এর পরিকল্পনা করতে হতো। কিন্তু সেইসময় এইসমস্ত প্ৰযুক্তি ছাড়াই মন্দির বানানো কি করে সম্ভব হলো? আমাদের কাছে এখনো এর কোনো উত্তর নেই। কেননা আজকের সমস্ত প্রযুক্তি ব্যবহার করে ও এই ধরণের দ্বিতীয় আর একটি মন্দির বানানো একেবারেই অসম্ভব। আমাদের পূর্ব পুরুষদের কাছে এমন কোনো উন্নত পদ্ধতি ছিল যে আমরা এখন ও তার কল্পনাও করতে পারি না?

তাহলে এই কৈলাশ মন্দির থেকে এটা প্রমাণিত হয় যে আমাদের প্রাচীন বিজ্ঞান বর্তমান বিজ্ঞান থেকে অনেক বেশি উন্নত ছিল।



সংগৃহিত
গণেশ আচার্য্য
একটা তথ্য যোগ করতে চাই, মন্দিরের মোনোলিথ পাথরটি ডলোরাইট অর্থাৎ গ্রেনাইট এর চেও বেশি কঠিন একে কাটা আজকের লেজার কাটিং মেশিনের পক্ষেও সময় সাপেক্ষ।
সর্বশেষ এডিট : ১০ ই মে, ২০১৯ ভোর ৫:৩৮
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Somewhereinblog.net: বাঁধ ভাঙ্গার আওয়াজ থেকে ডিজিটাল পাবলিশিং এ পরিনত করে সাবলম্বি করার লক্ষ্যে একটি খসড়া প্রস্তাবনা ।

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৩:১৯


একজন নিয়মিত ব্লগার হিসেবে প্রতিদিনই লক্ষ্য করি, Somewhereinblog.net (সামু) বাংলা সাহিত্য, অভিজ্ঞতা ও তথ্যভিত্তিক লেখার এক বিশাল আর্কাইভে পরিণত হয়েছে। কিন্তু একই সঙ্গে একটি কঠিন বাস্তবতাও সামনে এসেছে সোশ্যাল মিডিয়ার... ...বাকিটুকু পড়ুন

অটো কে বন্ধ করা যাবে না।

লিখেছেন নাহল তরকারি, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ৮:৫১




অনেক দিন আগের কথা। ২০১৫ সালের ঘটনা। তখন আমি মুন্সীগঞ্জ জেলার গজারিয়ায় থাকি এবং অনার্সে পড়াশোনা করি। পড়তাম পাশের উপজেলা সোনারগাঁওয়ের সোনারগাঁও সরকারি কলেজে। প্রতিদিন কলেজে যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম ছিল... ...বাকিটুকু পড়ুন

পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার : খাল বাবা স্বয়ং

লিখেছেন অপলক , ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:১৮

আসন্ন বিসিএস পরীক্ষার কমন প্রশ্ন ফাঁস করে দিলাম। পদ্মা ব্যারাজের ডিজাইনার মহাপ্রতিভাবান খাম্বা/খাল বাবা। তিনি HSC ডিগ্রীধারী হলেও তার প্রতিভা আকাশচুম্বী। রবিঠাকুর বা নজরুলের সাথে তার কোন তুলনা হয় না।... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ ডেভেলপমেন্টে করণীয় কি?

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১:৪৬



গত কয়েক বছর ধরে সামহোয়্যারইন ব্লগ সহ দেশের সকল পত্রিকা ও টিভি চ্যানলে রাজনৈতিক লেখা বেশি আসছে যা সকলের কাছে ভালো লাগার বিষয় না। রাজনীতি ভালো লাগবে শুধুমাত্র জেনজি’দের... ...বাকিটুকু পড়ুন

ফ্যাসিবাদ মোকাবেলায় এআই প্রশিক্ষণ দিচ্ছে সরকার

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৩ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ২:৫৬


ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করা গেছে, কিন্তু পুরোপুরি নির্মূল করা যায়নি। অন্তত প্রযুক্তির দিকে তাকালে এমনটাই মনে হচ্ছে। যে আওয়ামী লীগ এতদিন মানুষের ভোট, মতামত, রাজপথ, রাষ্ট্রযন্ত্র সবকিছুর ওপর কর্তৃত্ব প্রতিষ্ঠা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×