হাসপাতালের কেবিনে শুয়ে মামা বলেছিলেন “চারু তুই পারবিই।থেমে থাকবিনা কখন”।কালের নিরমমতা কেরে নিয়েছে তার অস্তিত্য।তার সাথে আমার শেষ বাক্য টুকু ও সেস।তারপর তাকেও চলে জেট হয়েছিল চিরনিদ্রায়।সেই আমি এই আজকের চারু। মাঝে মাঝে প্রস্ন জাগে “জিবনের শেষ কোথায়? নাকি জীবন এক অনন্ত নক্ষত্রবীথি? যখন প্রান ছিল তখন ছিল যৌবন। চোখে ছিল জ্যোৎস্না রাতের স্বপ্ন। ধু ধু প্রান্তরে নিরন্তর ছুটে চলা আর………..আর ছিল অকাট্য দুঃসাহস।
- তা সময়টা বেশ যাচ্ছিলো বটে। আর আমাদের মধ্যে সোহেল ছিল বাকপটু। যেমন বলত কথা তেমন ছিল সাহস। সেই হোস্টেলের দিনগুলি ছিল ছবির মতই ঝলমলে। তারপর……..
- তারপর?
- তারপর আর কি। তোমার যা হয়েছিল । ওরা বাঁচতে দেয়নি আমাকে আমাদের কে।
(দ্রুত হলুদ আলর বাতি জ্বেলে ছুটে আশে,)
- কে,কে ওখানে? গার্ড গার্ড, সবকটা পরে পরে ঘুমাচ্ছে।
(কিছুক্ষন পর)
- ভয় পেলে নাকি?
- ভয়? হাসালে তুমি। এখনও ভই আছে?প্রান থাকতেই ভয় করিনি আর এখন তো……………
- তা যা বলেছ।
- আর আমার ঘটনাও ভিন্ন নয়। সেই যে আমরা ভারসিটির মিসিলে, আমরা বন্ধুরা সবাই মিলে ছুটলাম। মাসের সেস।পকেট ও ফাকা। তাই সকালের নাস্তা ফাকি দেব বলে ঘুম থেকে উঠতাম ১০ টায়। হথাত সোহেল ডাকল
- দেখ দেখ নিচে কত ভির। চল ওঠ।
বললাম – খুব খিদে পেয়েছে খাওয়া।
ও রাজি হয়ে গেল। দুজনে দৌরে নিচে গেলাম। তারপর গেটের বাইরে চায়ের দোকান থেকে চা খেয়ে রুটি হাতে নিয়ে ছুটলাম ভিরের সাথে। ভেতর থেকে এক বড় ভাই হাত ধরে বলল সামনে চল তারাতারি। ভির ঠেলে ছুটলাম সামনের দিকে শ্লোগান দিতে দিতে। দেখি সোহেল গলা বারিয়ে চিৎকার সুরু করেছে। দেহের ভেতর এক অন্ন রকম উত্তেজনা সুরু হল। হাতের রুটিটা একটু করে মুখে দিচ্ছি আর শ্লোগান চালিয়ে যাচ্ছি।
- তারপর?
- তখন ও ভার্সিটি থেকে বেশি দূরে যাওয়া হইনি। হথাত সোহেল হাত ধরে টান দিল। তারপর প্রচণ্ড শব্দে ছিটকে পরি।জখন হুস হল তখন তাকিয়ে দেখি কিছু অস্ত্র ধারি মানুষ উচ্চ শব্দে হাসছে আর আমার গায়ে প্রস্রাব করছে। উঠতে গিয়ে পরে যাই। উঠবো কি করে? বা পায়ের গোঁড়ালই তো নেই।সারা শরীর এ প্রচণ্ড বেথা। হাতের মুঠোয় রুটি টুকু রক্তে ভিজে গেছে। তারপর আর ও কতক গুলির শব্দ। শালা নরপিচাশ। শেষ রুটি টুকুও মুখে দিতে দিল না। আর স্তমাক এ গুলি মেরে চা টুকুও বেরিয়ে গেল। তারপর সব অন্ধকার। তারপর দেখি আমাদের বডি গুলো গারি করে এনে এখানে পুতে দিল।সেই এখানেই আবার তয়রি করল সরকারি কোয়ার্টার।
(পাশ দিয়ে সোহেল কে জেতে দেখে)
- সোহেল, সোহেল…… কথায় যাচ্ছ?
- সময় নেই,জেতে হবে, দেখছনা মা ডাকছেন।
- মা?
- হ্যাঁ শুনতে পাছছ না? কারা যেন বঙ্গ মায়ের বুকে আঘাত হানছে। রক্তে ভিজে যাচ্ছে মায়ের আঁচল। নাকি মরে গিয়ে তোমাদের বিবেক টাও হারিয়েছ?
- গুলি লেগে মাথা ফুটো হয়ে গেছে কিন্তু মায়ের কথা কখনও ভুলব না। এখন ও তো ছুটে যাই যখন দেখি রাতের অন্ধকারে মা বালিশএ মুখ চেপে ফুঁপিয়ে ফুঁপিয়ে কাঁদছে। উঃ মনে হয় যেন সমগ্র পৃথিবীটাকে জ্বালিয়ে দি।
- হা হা। তোমরা পারউ বটে।
- হাসছ যে?
- হাসব না?সেই কখন থেকে বসে বসে গল্প করছ। শুনতে পাছছ না বাইরে কত আর্তনাদ। নাকি মরে গিয়ে শেষ সাহস টুকুও খেয়েছ।
- কথায় কথায় মরার খোটা দেবে নাতো। সেদিনের কথা মনে পরলে আজ ও গায়ে কাটা দিয়ে ওঠে।
- ছিঃ। তোমাদের মুখে একথা মানায়? তোমরা না সংগ্রামী। সেই তোমাদের কে তিলে তিলে যে সাহস টুকু দিয়েছিলাম সবই তো দেকছি খেয়েছ। কাপুরুষ কথাকার।
- আমরা কাপুরুষ নই। (সমস্বরে দুজনের কণ্ঠে ধ্বনিত হয়।) ডেকেই দেখনা। যদি বল তবে প্রান দেব আবারও। বারবার শতবার। তবু ভয় পাই না আমরা।
- তবে দাড়িয়ে আছ কেন? চলো হাত ধরে রাস্তায় নামি আবার। মনে আছেত সেই শ্লোগান? চলো…
- কিন্তু এখনও যে সকাল হইনি। ভোরের আল ফুটতে যে এখনও অনেক দেরি।
- উহুম…ভুল করছ। চেয়ে দেখ বাইরে লালচে আভা পড়েছে। আলো ফুটল বলে। চলো দেরি করো না। ঐযে দেখ নতুন দিনের শুরু হয়ে গেছে……………………।।

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



