somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

অভি নন্দলাল
আমিও সভ্য হতে চাইnতুলতুলে এক মুখোশ পড়েছি তাইnবেছে নিয়েছি বৈড়ালব্রতnমানবতার জামা গায়ে আমিও সেজেছি তোমাদের মত

কিছু অস্তিত্ব সুগন্ধী অতীতে

০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

গম ক্ষেতের উপর ঝপ করে কুয়াশার কার্পেটটা নেমে এলে বিকেলটা নিমিষেই সন্ধ্যা। ধোঁয়া ধোঁয়া কুয়াশায় শিমুল গাছের উদ্ধত অবয়বটা মিলিয়ে গেল একটু একটু করে।বাসার পেছনে আব্বার শখের সব্জী বাগানে টমেটো পাতার হালকা ঝাঁঝালো গন্ধ,পাশের ডোবাটার উপর থোকা থোকা জমাট অন্ধকার,মাটিতে পড়ে ফেটে যাওয়া মেহগনি ফল কেমন জানি মন খারাপ করিয়ে দেয়।
তারপর টিনের চালে মৃদু টুপটাপ শিশিরের শব্দ আর ভূত অন্ধকার গায়ে মেখে নামে হিম রাত।সাঁওতাল পাড়ায় হটাৎ কে যেন ঢোলে টুড্ডুঙ শব্দ তুলে মিশিয়ে দিল রাতের সাথে। কিসমিসের মত দেখতে শুকনো নিমের ফল শিশির মেখে টিনের উপর টুপটাপ শব্দে পড়ে চমকিয়ে দেয়।রাত দশটার ইংরেজী সংবাদের ভলিউম বাড়িয়ে দিল কেউ।
সেই অপার্থিব সুনসান নীরব রাতগুলোতে লেপের নিচে কল্পনায় পাওয়া আমি দেবতাদের সমস্ত কূটকৌশল বানচাল করে দিয়ে একিলিসকে বিপরীতে হেক্টরকে জিতিয়ে দেই, কয়েকটি সফল বিপ্লব পরিচালনা করে কত নতুন দেশ আবিষ্কার করে পরিশ্রান্ত আমি ধূসর চুল বাতাসে উড়িয়ে ঘরের পথ ধরে ফিরি ।পথের দুপাশে সবাই ভিড় করে আমাকে দেখতে। আমায় নিয়ে লেখা স্তুতিগাঁথা গাইছে সুন্দরী মেয়েরা। লম্বা চুলের খুব সুন্দর দেখতে মুক্তা ম্যাডামের মুখটা বারবার দেখি সেই মেয়েদের ভীড়ে।
তারপর খুব সাদা একটা সকাল।লেপের নিচের উষ্ণতাটুকুর মায়া ছাড়তে সময় লাগে কিছুক্ষন।বাহিরে চাপ চাপ সাদা কুয়াশা চোখ ধাঁধিয়ে দেয় ।তারপর লাল উলের সোয়েটারটা গায়ে চড়িয়ে বড়বোনকে সাথে নিয়ে একছুটে বড়রাস্তার পাশের শিউলি তলায়। গাছের উপরে ফুলগুলো তখনো মেঘের মত কিছু কুয়াশার আড়ালে।লিকলিকে গাছটা ধরে ঝাঁকা দিতেই নরম নরম সাদা ফুলগুলো ঢেকে দেয় ঘাসের শিশির ভেজা সবুজটুকু।দু হাত ভর্তি করে শিউলি ফুল কুড়াই।বুকের ভেতর আনন্দ খলবল করে।
প্রাইভটে যাওয়ার ছল করে একদিন রাতে কয়েকজন মিলে রাসমেলা যাওয়ার রাস্তায় উঠে আসি।কুয়াশা আর চাঁদের আলোয় ভেজা রাস্তার মিহি নরম সাদা বালুতে পা ডুবে যায় ।পাশের বিলের উপর থেকে হাহাকারের মত শব্দ করে উঠে আসা ঠান্ডা বাতাস হাড়ে কাঁপন ধরায়। বাঁশঝাড়গুলো আঁকড়ে ধরে থাকে গাঢ় অন্ধকার।নীরবতা অসহ্য লাগে বলে বোধ হয় হিমাংশু গলা কাঁপিয়ে আসিফের গান ধরে-‘তুই যদি মোর চন্দ্র হতি বাঁশবাগানের মাথায়……’।তারপর সেই আলো আলো রাসমেলা, ধূপ-চন্দনের গন্ধ,ভোঁ বাশির শব্দ ,ঢাকের শব্দ,নরম বালি ,অন্ধকার আর মানুষের হল্লা। হিমাংশু চিনিয়ে দেয় রাধা-কৃষ্ণ,দ্রৌপদী পান্ডবদের। রাতটা কেমন অলীক আর রহস্যময় লাগে, জন্মান্তরের স্মৃতি যেন ভেসে আসে গন্ধ আর শব্দ হয়ে।
শীত আসছে।পদ্মার উপর ঝুলে থাকা ছেঁড়া ছেঁড়া কুয়াশা ভেতরে কোথায় যেন এক বিন্দু আলো জ্বালিয়ে দেয়।সেই আলোতেই দেখি রাসমেলা,ভাপাপিঠার সকাল, বাঁধাকপির নতুন পাতায় মুক্তোর মত শিশির, গাঁদা ফুলের গাছে দুইটা কলি,সুপারি গাছের পড়ে যাওয়া একটা খোল দিয়ে বানানো স্লেজগাড়ি,রান্নাঘর থেকে ধোঁয়া বেরিয়ে কুয়াশায় আটকে ছড়িয়ে গেল চারপাশে,ধোঁয়া আর কুয়াশায় আটকে গেল আমার খন্ড খন্ড অস্তিত্ব।
বিন্দু আলোয় হাতড়ে হাতড়ে নিয়ে আসি মদিরতা মাখা সময়গুলো ।জীবনতৃষ্ণার সেই আলোটুকু ধ্রুবতারার মত জ্বলে জ্বলে প্রেরণা যোগায় অনেকদিন বেঁচে থাকার ।
সর্বশেষ এডিট : ০২ রা নভেম্বর, ২০১৫ রাত ১:০৩
৪টি মন্তব্য ৪টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

ধর্মের অবমাননা রুখতে গিয়ে নিজের ধর্মকেই ছোট করছেন না তো?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৩:৩৫


সুনামগঞ্জের তাহিরপুরে ধর্ম অবমাননার আবার একটা ঘটনা ঘটলো। ২৩ জুন ২০২৬। প্রিন্স রায় দীপ্ত নামের পঁচিশ বছরের একটা ছেলে নবীজিকে নিয়ে আপত্তিকর পোস্ট দিয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। পুলিশ তাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

ভারতীয় মুসলিমদের অসহনীয় জীবন

লিখেছেন সৈয়দ মশিউর রহমান, ২৫ শে জুন, ২০২৬ সকাল ৯:১৫


পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা দরিদ্র মুসলিম আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী জঙ্গি হিন্দুদের হাতে প্রাণ দিলেন, আর মুক্তি পেলেন অসহনীয় যন্ত্রণা নিয়ে বেঁচে থাকার হাত থেকে। পুরুলিয়ায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানবজমিন, পার্থিব, চক্র: শীর্ষেন্দুকে যেমন পড়লাম

লিখেছেন মাহদী হাসান শিহাব, ২৫ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ১২:০৯



শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় লেখা শুরু করেন সাধারণত খুব অদ্ভুতভাবে।

যেমন তিনি চক্র উপন্যাস শুরু করেছেন একটি সাপের দৃষ্টিকোণ থেকে। হঠাৎ পড়ে বোঝা যায় না তিনি কার কথা বলছেন, কী বলছেন। সাপ চলতে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নতুন মসজিদের কাজ শুরু করলাম

লিখেছেন প্রামানিক, ২৫ শে জুন, ২০২৬ বিকাল ৩:৪৬


শহীদুল ইসলাম প্রামানিক

আলহামদুলিল্লাহ্, নতুন মসজিদের কাজ আজ থেকে শুরু হলো। আজ সকাল দশটায় গ্রামের কয়েকজন ধর্মপ্রাণ উদ‍্যোগী মানুষ নিজ উদ‍্যোগেই মাটি কেটে দিয়েছে।

আজ থেকে প্রায় কুড়ি বছর পূর্বে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

হাসাহাসি থেকে সাফল্যের ইতিহাস: বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১

লিখেছেন মাথা পাগলা, ২৫ শে জুন, ২০২৬ রাত ৯:৫২



এক সময় অনেক সমালোচনার মুখে ছিল বাংলাদেশ স্যাটেলাইট-১ (সাবেক বঙ্গবন্ধু স্যাটেলাইট-১)। তখন অনেকেই বলেছিল, এত টাকা খরচ করে এসব করে কোনো লাভ হবে না। কিন্তু আজ ধীরে ধীরে সেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

×