somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

বন্ধুত্ব যখন চায়ের দোকানে!

১৯ শে এপ্রিল, ২০১৫ সকাল ১০:৫৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


ছোট বেলার বন্ধু নাম রুবেল। আমরা মজা করে ওকে উপনাম বাঙাল বলতাম। আর আমার তো ছোটমিয়া টাইটেল সবসময়ই আছে!

মামুন ওতো পিঠাপিঠি বন্ধু কতদিন ওর বাসায় গিয়েছি! কতবেলা যে খেয়েছি! তারতো কোন হিসেবই নেই। আমরা তিনজনই চটপটে।

রুবেল আর মামুন আমার ক্লাসমেট। দীর্ঘদিন আমাদের পথচলা এবং সময়ের স্রোতে হারিয়ে যাওয়া একেক জন একেক দিকে!

সময়ের টানে তিনজনারই দেখা হলো আবার একসাথে।

শোয়েব কে দেখলাম হঠাৎ! শোয়েবকে নিয়ে কিছু বলি, খুবই নাজুক প্রকৃতির একটি ছেলে। আমার সাথে শোয়েবের সম্পর্ক হায় হ্যালো মানে দুর থেকে ভালো একটা সম্পর্ক, কেমন আছো কি করো? কই যাও?এমন।

কথার ফাঁকে আসলো খাওয়া দাওয়ার পালা কই যাই?

আমাদের গন্তব্য আর কোথায় সেই চায়ের দোকান!

শেয়েবকে নিয়ে বসলাম দোকানে রুবেল আর মামুন দুজনে বিল দেবে আর আমরা চা খাবো সেটা ঠিক হলো।

বন্ধুত্বের একটা ব্যাপার এমনও থাকে যে চা কে কাড়াকাড়ি করে খেতে পারে!? বা এমনও হতে পারে যে দশ/পনের টাকার চা নিয়ে বিন্দু বিন্দু মেপে তিনজনে শেষ করা!

পাঠক নিশ্চই এমন অনুভূতি সবার জীবনেই থাকে কম বা বেশি! আমি একশ কাপ চায়ের পরিবর্তে হলেও সেই চা তিনজনে মিলে খেতে চাই এখনও এবং সবসময়। সত্যিই বন্ধুত্বের এই মুহুর্ত গুলো খুবই ভালোলাগা আর ভালোবাসার।

আমার পকেটতো ছিলো মরুভূমি!

কারন ঘড় থেকে টাকা ছাড়াই বের হয়েছি। আর ওদের সাথেও দেখা হলো। যাক ওদের মাথায় হাড়ি ভেঙে আজতো একটা চম্পট হবে।

ওরা আমাকে আর শোয়েবকে চা খাওয়ানোর জন্য বসিয়ে দিলো।

আমিও চটপট এ সুযোগ কি হাতছাড়া করা যায়? সাথেতো বিস্কিট চাইই চাই! বিস্কিট ছাড়া কি চা চলে?!

ওই দুটা আমাদের চা খাওয়া দেখছে আর মিটিমিটি হাসছে।

আমরাও চলেছি খেয়ে হঠাৎ ওরা দুটা হাওয়া গেলো! বিল কিভাবে দিবো এ চিন্তা করছি কারন পকেটতো গড়ের মাঠ! যাক খাওয়ার সময় এতই বা চিন্তা কিসের?

ও দুটা আবার আসলো আর দাম দেয়ার অনাগ্রহ প্রকাশ করলো আর উচ্চস্বরে হো হো হো! মনে হলো বিশ্বজয় হয়ে গেছে, স্বাধীন করছে কোন ভূমি! হো হো হো যে আজকে সেরকম জব্দ করেছে আমায়।

বদের হাড্ডিগুলা আমার দিকে তাকায় আর হাসে দোকানির দিকেও তাকায়।

চা শেষ বিল দেয়ার পালা ওরাতো আনন্দে সেই রকম ভাবে আছে।

আমি উঠলাম আর দোকানিকে বললাম ভাইয়া বিলটা পরে দিয়ো যাবোক্ষণ। দোকানিও মুচকি হাসি(আমি ওদের চায়ের দাওয়াত শুনেই পকেটের দিক লক্ষ্য রেখে এমন দোকানে এসেছি যারা আমাকে বাকি দিলেও গর্বিত হবে) তখন আমারো সেরকম হাসি ওই বদের হাড্ডিদুইটা সাথে সাথে কুপোকাত! আর আমারো হাসি মু হা হা হা হা কেমন জব্দ হলে।

তখন মামুন এসে বলে দেখ দেখ, কেমন ছেচরারে একটু চা খেয়ে বিলটাও বাকি রাখে!

আর অমনি মানিব্যাগ বের করে কচকচে বিল দিয়ে দিলো।

আর আমি তখন বিশ্বজয়ে নিঃস্ব কবি।

[স্মৃতির ডায়রী থেকে, কিছু ভুলও হতে পারে কারন এক্সাক্ট মনে নেই]।


কিছু কিছু সময় ভালোলাগা আর ভালোবাসায়। ছোটছোট খুঁনসুটিগুলো জীবনকে পূর্ণতায় ভরিয়ে দেয়। সত্যিই একটি আবেগি শব্দলাই
"ছোট্ট ছোট্ট এই সব স্মৃতি মনে পড়ে যায়!
ফিরিয়ে নিতে চায় ফেলে আসা সময়ে!"।

তখন আমাদের বন্ধুত্ব আল্লাহর জন্য ছিলোনা কেননা আমরা তখন বুঝতামনা বা আমাদের জ্ঞানেও ছিলোনা আল্লাহর জন্য বন্ধুত্ব কাকে বলে?! ইশশ ওদের যদি এখন পাই তবে মহান রবের জন্য একটুতো বন্ধুত্ব করি তোদের সাথে; আয় তোরা আয়।

হা তবে যে বন্ধুত্ব এক আল্লাহর জন্য হবে একে অপরকে আল্লাহর জন্য মুহাব্বাত করবে ইনশাআল্লাহ সেই বন্ধুত্ব নাজাতের উসিলা হয়ে যাবে।

কবুল করো ইয়া রব্ব আমিন |
২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

আজকের ডায়েরী- ২০১

লিখেছেন রাজীব নুর, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৫:৩১



এবছর দেশে আমড়ার ফলন ভালো হয়েছে।
আমড়ায় আছে প্রচুর ফাইবার যা দীর্ঘক্ষণ পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এক কেজি আমড়া মাত্র ৫০ টাকা। এক কেজি আপেল ৩৫০ টাকা। মালটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

২০২৬ সালের নোবেল শান্তি পুরস্কার : বিচারপতি নাভি পিল্লাইকে নির্বাচন করা হয়েছে

লিখেছেন স্বপ্নের শঙ্খচিল, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪৬

গাজা গণহত্যা’ প্রতিবেদনের তত্ত্বাবধানকারী জাতিসংঘের সাবেক মানবাধিকার প্রধান নাভি পিল্লাই নোবেল শান্তি পুরস্কার জিতেছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের প্রধান হিসেবে তার দায়িত্বকালে, পরিষদটি ইসরায়েলের নিন্দা জানিয়ে
বিশ্বের বাকি অংশের সম্মিলিত প্রস্তাবের চেয়েও বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

×