somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

নীল বিদ্রোহের ইতিহাস

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :


নীল বিদ্রোহ মূলত কৃষক আন্দোলন যা নীল চাষিরা শুরু করেন এবং ১৮৫৯ সালে সমগ্র বাংলায় তা ছড়িয়ে ছিটিয়ে পরে । আর এই বিদ্রোহের পিছনে কাজ করে অর্ধ শতাব্দী পূর্বে নীল চাষ আইন প্রণয়ন । ১৮৫৯ সালে নীলচাষীরা নীল গাছের একটি চারা বপন করতে অস্বীকৃতি জানান । অর্ধ শতাব্দী ধরে নৃশংসতার শিকার জনগোষ্ঠীর কাছে কৃষকদের দাবি নাটকীয়ভাবে শক্তিশালী রুপ ধারন করে । সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় ছিল এই বিদ্রোহ বাংলার প্রধান ধর্মীয় গোষ্ঠীদের সমর্থন লাভে করে । বিশেষত চাঁদপুরের হাজি মোল্লা যিনি ঘোষণা দেন নীলচাষ থেকে ভিক্ষা উত্তম । কৃষকদের এই আন্দোলন সম্পূর্ণই একটি অহিংস প্রতিরোধ ছিল।

১৭৭৭ সালে বাংলায় প্রথম নীল চাষ শুরু হয়েছিল এবং লুইস বোনার্ডকে প্রথম নীলকর মনে করা হতো । উনিশ শতকের প্রথম ভাগে ইংল্যান্ডে শিল্প বিপ্লবের ফলে সেখানকার বস্ত্র শিল্পে নীলের চাহিদা ব্যাপকভাবে বেড়ে যায় । বাংলায় ব্রিটিশ ক্ষমতা সম্প্রসারণের সাথে সাথে নীল চাষের এলাকা বর্ধমান, বাঁকুড়া, বীরভূম, মুর্শিদাবাদ এলাকায় বিস্তৃত করে । নীলকররা কৃষকদের উৎকৃষ্ট জমিতে নীল বুনতে বাধ্য করতো । নীল ছাড়া অন্য কোনো শস্য উৎপাদন করতে দিতেন না । দাদনের টাকা নেওয়ার সময় শর্তসাপেক্ষে চুক্তিপত্রে টিপ সই দিতে হতো আর চুক্তি অনুযায়ী কাজ না করলে চাষির ওপর চালানো হতো অকথ্য অত্যাচার । ১৮৩০ খ্রিস্টাব্দে সরকার এক আইন জারি করেছিল যাতে নীলকররা আরও শক্তিশালী এবং আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন । নীল চাষ করতে না চাইলে কৃষকদের ওপর বিভিন্নভাবে নির্যাতন চালানো হতো । যেসব কৃষক অত্যাচারের ভয়ে বাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যেতেন তাদের ভিটেমাটিতে নীল চাষ করা হতো । কারও কারও গৃহ বাড়ি আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া হতো । প্রতিটি নীলকুঠিতে ছিল কয়েদখানা । অত্যাচারের মাত্রা বেড়ে যাওয়ায় নীল চাষের বিরুদ্ধে চাষীরা ঐক্যবদ্ধ হতে শুরু করে এবং চারদিকে দেখা দিয়েছিল বিদ্রোহের সুত্রপাত ঘটে।[৩] মধ্যবিত্ত সমাজ কৃষকদের আকুন্ঠ সমর্থন দিয়েছিল। হরিশ্চন্দ্র মুখোপাধ্যায়, তার সংবাদপত্র দি হিন্দু প্যাট্রিয়ট-এ গরীব কৃষকদের দুর্দশার কথা তুলে ধরেন। এরপর, দীনবন্ধু মিত্র নিবন্ধ পাঠ করেন এবং নীল দর্পণ নাটকের মাধ্যমে পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে তুলে ধরেন । নাটকটি ব্যাপক বিতর্কের সৃষ্টি করে ।

তৎকালীন নদীয়া বর্তমানে বাংলাদেশের যশোর জেলায় চৌগাছায় সর্বপ্রথম বিদ্রোহ দেখা দেয় বিষ্ণুচরণ বিশ্বাস এবং দিগম্ভর বিশ্বাসের নেতৃত্বে । বিদ্রোহ দ্রুত বর্ধমান বাঁকুড়া, বীরভূম মুর্শিদাবাদ পাবনা ও খুলনায় ছড়িয়ে পড়ে । কিছু নীলকরের বিচার করা হয় এবং ফাঁসি দেওয়া হয় । কৃষকরা বহু নীলকুঠি ভেঙে মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেন । নীলকরদের মাল বহনের যোগাযোগের রাস্তা বন্ধ হয়ে যায় । সশস্ত্র কৃষকরা সরকারি অফিস স্থানীয় ম্যাজিস্ট্রেটের কোট কাচারি প্রভৃতির ওপর আক্রমণ চালায় । এই বিদ্রোহে হিন্দু মুসলমান কৃষকরা ধর্মবর্ণ নির্বিশেষে ঐক্যবদ্ধভাবে যোগ দিয়েছিলেন । নীল বিদ্রোহ কঠোরভাবে দমন করা হয় । ব্রিটিশ সরকারের ও কিছু জমিদারের সমর্থন নিয়ে পুলিশ এবং সামরিক বাহিনীর দিয়ে কিছু কৃষকের উপর অত্যাচার করা হয় । যদিও এই বিদ্রোহ ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় যাতে প্রায় পুরা বাংলা জড়িয়ে পড়ে । নদীয়ার বিশ্বাস ভাতৃদ্বয়, পাবনার কাদের মোল্লা, মালদার রফিক মণ্ডল জনপ্রিয় নেতা ছিলেন ।

ঐতিহাসিক যোগেশচন্দ্র বাগলএর বর্ণনা মতে কৃষকদের নীল বিদ্রোহের অহিংস আন্দোলন সিপাহী বিদ্রোহের চেয়ে বেশী সফল হয়েছিল । বিদ্রোহের ঘটনার খবর ইংল্যান্ডে পৌঁছে যায় । এবং এটি নিয়ে পার্লামেন্টে প্রকাশিত হওয়ার দরুন চাঞ্চল্য সৃষ্টি করে । ব্রিরিশ পার্লামেন্ট কৃষকদের দুরবস্থার বিষয় নিয়ে ইংরেজ শাসকদের কাছে কৈফিয়ত তলব করে এবং বিদ্রোহ ও অসন্তোষের কারণ অনুসন্ধানে একটি কমিটি গঠন করেন । কমিটি সবকিছু তদন্ত করে নীল গাছের দাম বাড়িয়ে দেয় আর তাতে লাভের পরিমান কমে গেলে নীলকররা কারখানাগুলো বিক্রয় করতে বাধ্য হন । ১৮৯৫ খ্রিস্টাব্দে নীলের উৎপাদন কমে যাওয়ায় নীলকররা এই বাবস্যা বন্ধ করে দেন ।

দীনবন্ধু মিত্র ১৮৫৯ সালে নীল বিদ্রোহ নিয়ে নীল দর্পণ নাটক রচনা করেন । মাইকেল মধুসূদন দত্ত এটি ইংরেজি ভাষায় অনুবাদ করেন এবং এটি প্রকাশ করেন রেভারেন্ড জেমস লং । এটা ইংল্যান্ডে অনেক মনোযোগ আকৃষ্ট করে যেখানে তাদের দেশের মানুষের বর্বরতার তারা স্তব্ধ হয়ে যায় । ব্রিটিশ সরকার পরিহাসের বিচারের মাধ্যমে রেভারেন্ড লং- কে কারাদন্ড ও জরিমানার শাস্তি দেওয়া হয় । কালীপ্রসন্ন সিংহ তার জরিমানার টাকা পরিশোধ করেন ।

তথ্য ইন্টারনেট ।
সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৫ সকাল ৯:০২
২০টি মন্তব্য ২০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

অন্ধকারের আলোকবর্তিকা

লিখেছেন স্প্যানকড, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ বিকাল ৪:৩৬




একটা দেশ যখন শিক্ষিত চাপাবাজ, ক্ষমতার দরবারে নতজানু বুদ্ধিজীবী এবং মুখোশধারী ডাকাতদের হাতে পড়ে, তখন সেই দেশ আর মানচিত্রে থাকা একটি ভূখণ্ড থাকে না, হয়ে যায় আলীবাবার চল্লিশ চোরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মৃত্যুর আগে কি মানুষ টের পায়, সে মারা যাচ্ছে!

লিখেছেন রাজীব নুর, ১১ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



মৃত্যুর কয়েক মুহুর্ত আগে, টের পাওয়া যায়- মরে যাচ্ছি।
সময় শেষ। তবে সবাই বুঝতে পারে না। কেউ কেউ বুঝতে পারে। আমার বাবা একদিন মাকে বলল, আমার দোষ ত্রুটি... ...বাকিটুকু পড়ুন

সে আমার এআইনোক্কিও

লিখেছেন শায়মা, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ রাত ১২:৪৪


এক জীবনে কত কিছু দেখা হয় কত কিছু জানা হয় মানুষের! আসলেই কত অজানারে! লেখক শংকরের এই নামে একটি বই আছে। কবিগুরুর আছে কবিতা কত অজানারে জানাইলে তুমি,... ...বাকিটুকু পড়ুন

ব্লগ সাইটের জন্য ডোমেইন নাম সাজেস্ট করুন

লিখেছেন ইফতেখার ভূইয়া, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ভোর ৪:৫৫


বাংলায় ব্লগিং করার জন্য একটি ওয়েব সাইট তৈরী করতে চাচ্ছি। আপাতত মূল উদ্দেশ্য হলো সামুতে লিখা আমার সবগুলো পোস্ট ধীরে ধীরে সাইটটিতে আর্কাইভ করে রাখা। সামুতে অনেকে নিবেদিত প্রাণ ব্লগার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় স্বার্থপর হয়ে গেছে! আগেই কি ভালো ছিলাম?

লিখেছেন শেহজাদ আমান, ১২ ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



মানুষ গত কয়েক বছর ধরে অতিমাত্রায় আত্মকেন্দ্রিক বা স্বার্থপর হয়ে যাচ্ছে! আগে এমনটা দেখা গেলেও গত কয়েক বছর এটা অতি বেশিমাত্রায় দেখা যাচ্ছে। কেন??

দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বেশি খারাপ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×