

মুসলমানদের নিয়ে তার কথা বা ভাবনা
যদি কখনো দেখি তাহাকে কাজের জন্য আর দরকার নাই তবে তাহাকে অনাবশ্যক বলিয়া পিছনে ঠেলিতে আমাদের বাধিবে না। তাহাকে যথার্থ আমাদের সংগী বলিয়া অনুভব করি নাই, আনুষংগিক বলিয়া মানিয়া লইয়াছি।একটা দিন আসিল যখন হিন্দু আপন হিন্দুত্ব লইয়া গৌরব করিতে উদ্যত হইল। তখন মুসলমান যদি হিন্দুর গৌরব মানিয়া লইয়া নিজেরা চুপচাপ পড়িয়া থাকিত তবে হিন্দু খুশী হইত সন্দেহ নাই; কিন্তু যে কারণে হিন্দুর হিন্দুত্ব উগ্র হইয়া উঠিল সেই কারণেই মুসলমানের মুসলমানী মাথা তুলিয়া উঠিল।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর সামন্তবাদী প্রজাপীড়ক জমিদার ছিলেন। তার দফায় দফায় খাজনা বৃদ্ধি এবং জোর জবরদস্তি করে তা আদায়ের বিরুদ্ধে ইসমাইল মোল্লার নেতৃত্বে শিলাইদহে প্রজা বিদ্রোহ ঘটেছিল ।জমিদার রবীন্দ্রনাথ, অমিতাভ চৌধুরী, দেশ, শারদীয় সংখ্যা, কলকাতা ১৪৮২
অন্নদা শংকর রায়ের রচনা থেকে উদ্ধৃত, রবীন্দ্রনাথের রাজনৈতিক চিন্তাধারা, আবু জাফর, বইঘর, চট্টগ্রাম ১৯৮৫
জমিদার হিসেবে ঠাকুর পরিবার ছিল অত্যাচারী। গ্রাম জ্বালিয়ে দিয়েছিল। বুট পরে প্রজাকে লাথি মেরেছেন,পায়ে দলেছেন দেবেন ঠাকুর। এটাই রেকর্ড করেছিল হরিনাশ মজুমদার। যিনি মহর্ষি বলে পরিচিত, তিনি এ রকমভাবে মানুষকে পদাঘাতে দলিত করেন। গ্রাম জ্বালাবার কথাও আছে। আবুল আহসান চৌধুরীর কাছে এর সমস্ত ডকুমেন্ট আছে। সমগ্র ঠাকুর পরিবার কখনো প্রজার কোনও উপকার করে নাই। স্কুল করা,দীঘি কাটানো এসব কখনো করে নাই। মুসলমান প্রজাদের চিট করার জন্য নমঃশূদ্র প্রজা এনে বসতি স্থাপনের সাম্প্রদায়িক বুদ্ধি রবীন্দ্রনাথের মাথা থেকেই বের হয়েছিল। কাঙাল হরিনাথ মজুমদার তার ‘গ্রাম্য বার্তা প্রকাশিকা’ পত্রিকায় ঠাকুর পরিবারের প্রজা পীড়নেরর কথা লেখে ঠাকুর পরিবারের বিরাগভাজন হয়েছিল।
ড. আহমদ শরীফ
দৈনিক বাংলাবাজার, ১৪ এপ্রিল ও ১মে ‘৯৭
১৮৯৪ সালে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে জমিদারীতে খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন। গরীব মুসলমান প্রজারা তাঁর পায়ে পড়লো, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নির্মমভাবে তা আদায় করলেন । পরে সেই বাড়তি আয়ের টাকায় মার্কিন কোম্পানীর কাছ থেকে ডেবরাকোল জমিদারী খরিদ করেছিলেন । এ প্রসঙ্গে পশ্চিমবঙ্গের প্রবন্ধকার শ্রী অরবিন্দু পোদ্দার লিখেছিলেনঃ
জমিদার জমিদারই । রাজস্ব আদায় ও বৃদ্ধি, প্রজা নির্যাতন ও যথেচ্ছ আচরণের যেসব অস্ত্র চিরস্থায়ী বন্দোবস্ত বাংলার জমিদার শ্রেণীর হাতে তুলে দিয়েছিল, ঠাকুর পরিবার তাঁর সদ্ব্যবহারে কোনও দ্বিধা করেনি। এমনকি জাতীয়তাবাদী হৃদয়াবেগ ঔপনিষদিক ঋষি মন্ত্রের পুনরাবৃত্তি এবং হিন্দু মেলার উদাত্ত আহবানও জমিদার রবীন্দ্রনাথকে তার শ্রেণীস্বার্থ থেকে বিচ্যুত করতে পারেনি।
অরবিন্দু পোদ্দার, রবীন্দ্রনাথ ও রাজনৈতিক গ্রন্থ দ্রষ্টব্য।
রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের জমিদারি ছিল পূর্ব -বাংলায়। এই পূর্ব -বাংলার মুসলমান প্রজাকুল থেকে খাজনা আদায় করে পশ্চিম – বাংলার কলিকাতায় শান্তি -নিকেতন, বিশ্বভারতী প্রতিষ্ঠা করেছিলেন। নোবেল প্রাইজ-এর পুরো অর্থও ব্যয় করেছেন বিশ্ব ভারতীতে। কিন্তু পূর্ব -বাংলার প্রজাদের কল্যাণে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের হাত ছিলো একেবারে মুষ্টিবদ্ধ।
জমিদার রবীন্দ্রনাথ সম্পর্কে তাঁরই স্বজাতি অমিতাভ চৌধুরী লিখেছেনঃ
খাজনা মওকুফের ফলে এক লক্ষ টাকা ক্ষতি হয়েছিল রবীন্দ্রনাথের ।যা রবী ঠাকুরের ভক্তরা প্রজাদের প্রতি তার মহানুভবতা প্রমাণ করে থাকেন । কিন্তু ১৮৯৪ সালে রবীন্দ্রনাথ শিলাইদহে জমিদারীতে খাজনা বাড়িয়ে দিয়েছিলেন একথা তাঁরা বলেন না। গরীব মুসলমান প্রজারা তাঁর পায়ে পড়লো, কিন্তু রবীন্দ্রনাথ নির্মমভাবে তা আদায় করলেন । পরে সেই বাড়তি আয়ের টাকায় মার্কিন কোম্পানীর কাছ থেকে ডেবরাকোল জমিদারী খরিদ করেছিলেন ।
মুসলমান প্রজাদের চিট করার জন্য নমঃশূদ্র প্রজা এনে বসতি স্থাপনের সাম্প্রদায়িক বুদ্ধি রবীন্দ্রনাথের মাথা থেকেই বের হয়েছিল।
সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অভাব ছিল সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনেরর দুর্বলতা। কেবলমাত্র চাঁদার উপর নির্ভর করে এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব ছিল না। কাজেই অর্থ সংগ্রহের জন্য এদের অবলম্বন করতে হল ডাকাতির পথ। নানারূপ বাধা-বিঘ্ন সত্বেও অনুশীলন দল প্রায় ত্রিশ বছর ধরে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।১৯৬০ সালে সন্ত্রাসবাদীদের দ্বিতীয় দল স্থাপিত হয় কলকাতায়।অধ্যাপক অরবিন্দু ঘোষ ও তাঁর ভাই রাবীন্দ্রনাথ ঘোষের নেতৃত্বে।এর নাম হল ‘যুগান্তর’ দল।কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এ দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। কামরুদ্দীন আহমেদ,পূর্ব বাংলার সমাজ ও রাজনীতি, পৃ, ৫-৬
পদ্মার চরের মুসলমান প্রজাদের কাবু করার জন্য নমশূদ্র প্রজা এনে বসতি স্থাপনের সাম্প্রদায়িক বুদ্ধি ও কবির মাথা থেকে এসেছিল। এছাড়া পুত্র রথীন্দ্রনাথের শখের কৃষি খামারের প্রয়োজনে গরীব মুসলমান চাষীর ভিটে মাটি দখল করেন ।
সুপরিকল্পিত অর্থনৈতিক ব্যবস্থার অভাব ছিল সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনেরর দুর্বলতা। কেবলমাত্র চাঁদার উপর নির্ভর করে এ জাতীয় প্রতিষ্ঠান চালানো সম্ভব ছিল না। কাজেই অর্থ সংগ্রহের জন্য এদের অবলম্বন করতে হল ডাকাতির পথ। নানারূপ বাধা-বিঘ্ন সত্বেও অনুশীলন দল প্রায় ত্রিশ বছর ধরে তাদের কাজ চালিয়ে যেতে সক্ষম হয়েছিল।……১৯৬০ সালে সন্ত্রাসবাদীদের দ্বিতীয় দল স্থাপিত হয় কলকাতায়।অধ্যাপক অরবিন্দু ঘোষ ও তাঁর ভাই রাবীন্দ্রনাথ ঘোষের নেতৃত্বে।এর নাম হল ‘যুগান্তর’ দল।কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরও এ দলের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ছিলেন। কামরুদ্দীন আহমেদ,পূর্ব বাংলার সমাজ ও রাজনীতি, পৃ, ৫-৬ ।
সর্বশেষ এডিট : ০৯ ই মে, ২০১৭ রাত ২:৪১

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



