somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

চাকরী, কাজ-কাম ও ব্যবসা: উদ্যম , চেষ্টা ও পরিশ্রম

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ রাত ১০:৪৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

চাকরী উত্তম কাজ যখন তা হয় জাতির সেবা, যখন তাতে মর্যাদা ও ব্যাক্তিত্ব নষ্ট না হয়। যখন জীবন ধারণের সম্বল হয়ে পড়ে চাকুরী, যখন সেটাকে দেশ সেবা বলে মনে হয় না তখন সেটা কর না। সত্য ও আইন অপেক্ষা যখন উপরিস্ত কর্মচারীকে বেশী মানতে হয়, তাহলে সরে পড়। প্রভুর সামনে যদি মনের বল না থাবক নিভয়ে সত্য কথা বলতে না পার, প্রয়োজন হলেই চাকুরী ছেড়ে দেবার সঙ্গতি থাকে তাহলে বুঝবে চাকরী করার জন্য তুমি পাশ করেছো।

মনের স্বাধীনতাকে রক্ষা করতে না পারলে তোমাতে ও পশুতে প্রভেদ থাকে না। জীবন তোমার মিথ্যা হবে। স্বাধীন হৃদয় সত্যোর সেবক। কামার হও সেও ভাল- নিজেকে যণ্ত্র করে ফেল না। সৎ জ্ঞানী ও মহৎ যিনি তিনি নিজেকে ব্যাক্তিত্বহীন করতে চরম লজ্জাবোধ করেন- তিনি তাতে পাপ বোধ করেন।
চাকরী করে অন্যায়ভাবে রোজগার করে ধনী হবার লোভ রাখ? তোমার চেয়ে মুদি ভাল। মুদির পয়সা পবিত্র। অনেক যুবক থাকতে পারে যারা মনে করে কেতান রকম একটা চাকুরী সংগ্রহ করে সমাজের ভেতর একটা আসন প্রতিষ্টা করতে পারলেই হল। চুরির সাহায্যই হোক বা অসৎ উপায় অবলম্বন করেই হোক, ক্ষতি নেই।

চরিত্র তোমার নিষ্কলংক, সামান্য কাজ করে পয়সা উপায় করো তাতে জাত যাবে না। চোর- অন্যায়ের স সাহা্য যে বাচার চেষ্টা করে, তারাই জাত যায়। অসৎ উপায়ে পয়সা করো না, মিথ্যার আশ্রয় নিও না। লোককে বিপদে ফেলে অথৃ সংগ্রহ করতে তুমি ঘৃনা বোধ কর।ইউরোপের জ্ঞানগুরু প্লেটো মিশর ভ্রমন কালে মাথায় করে তেল বেচে রাস্তা খরচ জোগার করতেন।

যে, কুড়ে, আলসে, ঘুষখোর ও চোর সে-ই হীন। ব্যবসা বা ছোট স্বাধীন কাজে মানুষ হীন হয় না, হীন হয় মিথ্যা, চতুরতা ও প্রবঞ্চনায়। পছে জাতি যায়, সম্মান নষ্ট হয়- এই ভয়ে পরের গল গ্রহ হয়ে মাসের পর মাস কাটিয়ে দিচ্ছ? সম্মান কোথায়?তা তুমি ঠিক পাওনি?
সৎ উপায়ে যে পয়সা উপায় করা যায় তাতে তোমার আত্বার পতন হবে না। তোমার আত্বার পতন হবে আরস্য ও অসাধুতায়। তোমারই স্পর্শে কাজ গৌরবময় হবে।

আমাদের দেশের লোক যেমন আজকাল বিলেতে যায় এককালে তেমনি বিলেতের লোক গ্রীক ভ্রমনে যেত। বিলেত ফেরৎ লোককে কেও ইট টেনে বা কুলির কাজ করে পয়সা করতে দেখেছ? বিলেতের পন্ডিত গ্রীক ভ্রমন করে অগাধ জ্ঞান অর্জন করেছিলেন। গ্রীক দেশ থেকে ফিরে এসে তিনি আরম্ভ করলেন এমন কাজ, যা তুমি আমি করতে লজ্জা বোধ করব। তাতে তার জাতি গিয়েছিল না। যার মধ্য জ্ঞান ও গুণ আছে সে কয় দিন নিচে পড়ে থাকে? লোক তাকে সম্মান করে উপরে তোলেই।

কাজে মানুষের জাত যায় না এটা বিশ্বাস করতেই হবে।কাজ হীন হয় ঐ সময় যখন কাজের ভিতর অসাধুতা পবেশ করে। আর কোন সময়েই নয়।

বিশ্ব-সভ্যতার এত দান তুমি ভোগ করছো- এসব কি করে হল? হাতের সাহায্য নয় কি? কাজ কামকে খেলা মনে করলে চলবে না। মিস্ত্রির হাতুড়িড় আঘাত, কামারের কপালের ঘাম, কুলির কোদালকে শ্রদ্ধার চোখে দেখ।

ডাক্তার জনসন মাত্র কয় আনা পয়সা নিয়ে লন্ডনের মত শহরে পৌছেছিলেন।অথচ তিনি কারো কাছে কোন কালে কোন হাত পাতে নি। এক বন্ধু এক সময় এক জোড়া জুতা দিয়েছিলেন। অপমান করে তিনি জুতা পথে ফেলে দিয়েছিলেন। জনসনকে অনেক সময় না খেয়ে রাত্রিতে শুয়ে থাকতে হত, তাতে তিনি কোনদিন কষ্ট ব্যাথিত বা হতাশ হননি। বাধাকে চুর্ন করে বীর পুরুষের মত তিনি যে নীতি রেখে গিয়েছেন তা অনেক পন্ডিতেই পারবেন না।

আরভিং সাহেব বলেছেন – চুপ করে বসে থাকলে কাজ হবে না। চেষ্টা কর নাড়াচাড়া কর।কুকুরের মত চিৎকরি কর সিংহ হয়ে ঘুমিয়ে থাকলে লাভ কি? পরীক্ষায় অকুতকার্য হয়েছো তারপর মনে হচ্ছে তোমার এক পয়সা মুল্য ও নাই। জিজ্ঞাসা করি – কেন? জান না এজগতে যারা নিতান্ত আনাড়ী তারা হাজা হাজার টাকা কামাই করছে। তোমার এ বেদনার কারন ,তুমি মুর্খ। মানুষ বালিতে সোনা ফলাতে পারে এ তুমি বিশ্বাস কর না? তুমি কুড়ে তোমার উদ্যম নাই- তুমি অাত্ব প্রত্যায়হীন অভাগা।

ফকস সাহেবকে একসময় একজন ভদ্র লোক বলেছিলেন- আপনার লেখা ভাল নয়। কাজের চারুতার প্রতি তার বতে নজর ছিল যে, তিনি সেইদিন হতে স্কুলের বালকের ন্যায় লেখা পড়া কর আরম্ভ করলেন এবং অল্পকালের মধ্য তার লেখা চমৎকার হয়ে গেল।
এক যুবক স্কট সাহেবের কাছে কিছু উপদেশ চেয়েছিলেন। যুবককে তিনি বললেন- কুড়ে[মি করো না যা করবার তা এখনই আরম্ভ কর। বিশ্রাম যদি করতে হয় কাজ সেরে আরম্ভ করবে। সময়ের যারা সৎব্যবহার করে তারা জিতবিই। সময়ই টাকা সময় টাকার চেয়েও বেশী। জীবনকে উন্নত কর কাজ কর- জ্ঞান অর্জন কর। চরিত্রকে ঠিক করে বসে থেক না। কৃপণের মত সময়ের কাছ থেকে তোমার পাওনা বুঝে নাও।এক ঘন্টা করে মাসে কত কাজ তোমার হয়েছে। তোমার কাজ দেখে তুমি নিজেই বিস্মিত হবে।

জীবনকে ব্যবহার কর দেখবে মৃত্যু তোমার কীকর্তর নিশান উড়িয়ে দিয়েছে।জীবন আলস্য,ম বিনা কাজে কাটিয়ে দাও, মৃত্যু কালে দেখবে জীবনে তোমার মিত্যা অভিনয় ছাড়া আর কিছু হয় নাই- একটা সীমাহীন দুংখ ও হা-হুতাশার সমস্টি। কাজে তোমার আত্বা তৃপ্তি লাভ করে।
সাধুতা ও সত্যর ভিতর দিয়ে যেমন উন্নতি লাভ করা যায় তেমন আর কিছুতে নয়। সত্য ও সাধুতাকে লক্ষ্য রেখে ব্যবসা কর, তোমার উন্নতি অবশ্যম্ভ্যবী।ব্যবসা ভাল কাজ এর মধ্য অমর্যাদার কিছু নাই।(বর্তমান বিশ্বের এলিট জায়োনিস্টরা সবাই ব্যবসা করে চাকুরী করে না)

যে জিনিস নিজে কিনলে ঠকেছ বলে মনে হল সি জিনিস ক্রেতাকে কখনো দিবে না। কখনো অনভিজ্ঞ ক্রেতাকে ঠকিও না। । অপেক্ষা কর তোমার সাধুতা ও সুনাম ছড়াতে দাও। লোকসানের দশগুন তাতে তামার পকেটে ভর্তি হবে।

চাকরী , চাকরী অনবরত চাকুরীর লোভে যুবকরা সোনার শক্তিভরা জীবনকে দুয়ারে দুয়ারে বিড়ম্বিত করে দিচ্ছে। মিস্ত্রি, কামার, দরজি এরা কি সত্যিই নিচু স্তরের লোক? অশিক্ষিত বলেই এদের সভ্য সমাজে মর্যাদা নাই? যা তুমি সামান্য বলে অবহেলা করছ, তা কতখানি জ্ঞান, চিন্তা ও সাধনার ফল তা কি ভেবে দেখেছ? শিক্তিত ব্যাক্তি যে-কোন কাজই করুক না কেন, তার সম্মান ও অর্থ দু-ই লাভ হবে। আত্বার অফুরন্ত শক্তিকে মানুষের কৃপাপ্রার্থি হয়ে ব্যার্থ করে দিও না।

সোর্স: ডা লুৎফর রহমান : উন্নত জীবন
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই ডিসেম্বর, ২০১৬ সকাল ৭:৫১
০টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গল্পঃ মোহাম্মদপুরে কখনও বিচ্ছেদ হয় না

লিখেছেন রাজসোহান, ২০ শে আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:১৪





আমার দোকানের নাম নিউ শাপলা কম্পিউটার ও ফটোস্ট্যাট। সাইনবোর্ডের শাপলা ফুলটা এঁকে দিয়েছিলো তাজমহল রোডের এক সাইনম্যান, দেখতে হয়েছিলো কচুরিপানার মতো। চৌদ্দ বছর ধরে ঝুলে আছে। রোদে রঙ উঠে... ...বাকিটুকু পড়ুন

২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা তার সাথে কিছু রুঢ় সত্য যা বদলে দিয়েছিলো দেশের রাজনীতি।

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১২:৩৪





২১শে আগস্ট গ্রেনেড হামলা সম্পর্কে আমরা সবাই মোটামুটি জানি। এই হামলায় কারা জড়িত ছিল সেটাও আজকের দিনে অজানা নয় একমাত্র নিতান্ত দলকানা ছাড়া। তৎকালীন বিএনপি-জামায়াত জোট সরকারের সময়... ...বাকিটুকু পড়ুন

ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

লিখেছেন এস.এম. আজাদ রহমান, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:৪৪



ধানমন্ডি ৩২ যারা ভেঙেছিল, আর যারা বিচার চাওয়ার পথ বন্ধ করে দিল- তারা কি একই?

ধানমন্ডি ৩২ ভাঙা হয়েছিল- কে দেখেনি, কে জানে না, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই।,... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন থেকে যারা আওয়ামী লীগকে ভালোবাসেন এখন তাদেরকে আওয়ামী লীগের প্রয়োজন

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ বিকাল ৩:৪০



ক্ষমতায় গেলে কোন দল যাদেরকে মনে রাখে না ক্ষমতায় গেলে তাদেরকেই তারা সবচেয়ে বেশী মিস করে। সেই নিখাঁদ দল প্রেমিকদেরকে এখন আওয়ামী লীগ খুঁজছে। তারা লগি বৈঠা নিয়ে... ...বাকিটুকু পড়ুন

৫ই আগস্ট ছিলো আরো একটি ১৫/২১শে আগষ্টের অপচেষ্টা।

লিখেছেন ক্লোন রাফা, ২১ শে আগস্ট, ২০২৬ রাত ১০:৫২



২১শে আগস্ট পালন করা অর্থে , আমার কাছে মনে হচ্ছে আবারো জঘন্য কোনো ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে। কারন আমরা ঐ নারকীয় হত্যাকাণ্ডের কোনো বিচার সম্পন্ন করতে পারিনি। আমরা যারা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×