somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মাঝবয়সের সংসার!

০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৮
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

মধ্যবিত্ত সংসারের একেবারে অন্দরমহল মানে রান্নাঘরের তেল লবন কিংবা খুন্তি বেলুনের নিত্যকার আলাপ থেকে শুরু করে দাম্পত্যজীবনের খুঁটিনাটি নিয়ে সত্তুরের দশক পর্যন্ত যতো সাহিত্য হয়েছে, এর পরে আর তেমন জমিয়ে কোন সাহিত্য দেখা যায়নি। সেটা মধ্যবিত্তের রাজনৈতিক কিংবা অর্থনৈতিক বিকাশ বা সংকটের কারণে হতে পারে। সে আলোচনায় আজ যাচ্ছিনে। তবে জোর দিয়ে বলতে চাই, এখনো দারুণ সব গল্পের প্লট মধ্যবিত্তের শোবার ঘরে কিংবা রান্নাঘরে নিত্য তৈরি হচ্ছে।

এই যেমন, এক বন্ধুর কথা বলতে পারি। খুব কাছের বন্ধু। আড্ডায় আমরা প্রায়ই এটা ওটা আলাপের ফাঁকে নিজেদের সাংসারিক টানাপোড়েনগুলো নিয়েও কথা বলি। যেদিন খুব মন খারাপের গল্প হয়, সেদিন চিনি ছাড়া চা খাই। যেদিন আনন্দের গল্প হয় সেদিন চায়ে দু চামচ চিনি বাড়িয়ে দেই।
একদিন আড্ডায় বন্ধু গোমড়ামুখো। ওকে দেখে আমার মনটাও খারাপ হয়ে গেলো। আজও চিনি ছাড়া চা খেতে হবে। যথারীতি চিনি ছাড়া চা হাতে বন্ধুটি বললেন, গত দুরাত ঘুমোতে পারেন নি। প্রিয়তমা স্ত্রী তাঁর কাঁথাটি কোথাও লুকিয়ে রেখেছেন।
আপনারা মুখ টিপে হাসছেন হয়তো। মানছি, এটা জনগুরুত্ব বিবেচনায় আসার মতো কোন লেখা নয়। কিন্তু বন্ধুটির কাঁথা অন্ত প্রাণ। ছেলেবেলা থেকে দেখে আসছি কাঁথা গুটলি পাকিয়ে বুকের কাছে জড়িয়ে ধরে ঘুমোয় ও। হা হা করে খানিক হাসলাম। জানতে চাইলাম, ‘এখনো কি কাঁথা জড়িয়ে ঘুমাস?’
‘হ্যাঁ। কাঁথাটা গুটলি পাকিয়ে বুকে জড়িয়ে দেয়ালের দিকে মুখ দিয়ে ঘুমাই।‘
‘এখনো? ছোটবেলা থেকে দেখছি তোকে। তা বউ পাশে নিয়ে দেয়ালের দিকে মুখ করে ঘুমোলে হয়?‘
‘প্রতিরাতে বউয়ের কাছে ওর বাবার বাড়ির আলাপ শুনতে ভাল্লাগে না। ভাই কি করেছে, বোন কি করেছে, বোনের জামাই কি করেছে...। একই আলাপ। জানিস... কাঁথাটা গুটলি পাকিয়ে বুকে জড়িয়ে ধরলেই মাথার ভেতর থেকে সবকিছু মিলিয়ে যায়।... কাঁথার নরম উষ্ণতা গায়ের রোমে রোমে ছড়িয়ে পড়ে। নিজের কাছে নিজে ফিরে আসি। ... কেবল তখনই মনে হয়, আমি আমার ঘরে আছি, আমার বিছানাতে আছি।‘
‘সেকিরে! বউকে বিছানার খোলা পাশটা দিয়ে দিয়েছিস?’ অবাক হয়ে জানতে চেয়েছিলাম।
বিছানার খোলা পাশে শোয়া নিয়ে আমার সাথে আমার স্ত্রীর প্রতি রাতের মান অভিমান। অথচ, ও কেমন অবলীলায় বউকে সেটা দিয়ে দিয়েছে।
‘হ্যাঁ।‘
‘কি বলছিস? তাও কাঁথা লুকিয়ে রাখলো?’
আমি এখনো বুঝতে পারছি না, বিছানার খোলা পাশে শুয়েও কেউ কি করে এতোটা নিষ্ঠুর হতে পারে।
‘এতো সুস্পষ্ট মানবাধিকার লঙ্ঘন! তুই জিজ্ঞেস করিসনি? কি বলেছে?’
‘বলেছে, হয় ও থাকবে, নয় কাঁথা!‘

হা হা হা করে হেসেছিলাম। বন্ধুর মন খারাপ। কিছুতেই ঘুমাতে পারছে না। কাঁথা বুকে জড়িয়ে নিরুপদ্রব, শান্তিময় ঘুম চায় ও।
আরেক বন্ধু আছেন। ব্যাংক কর্মকর্তা। সকালে বেরিয়ে যান, রাত নটা নাগাদ ঘরে ফেরেন। স্বভাবতই ভীষণ ক্লান্ত থাকেন। ঘরে ফিরে গোসল করে খাবার খেয়ে বিছানায় গা এলিয়ে দিতেই ঘুমে কাদা। গিন্নী তাগাদা দিতে থাকেন, ‘এখন ঘুমাবে না। কথা আছে। ঘুমাবে না। ঘুমাবে না...‘ কখনো মিনতি, কখনো অভিমান। কিছুতেই কিছু হয় না। বন্ধুটি মাঝে মধ্যে অপরাধবোধে ভোগেন। স্ত্রীকে সময় দেয়া হচ্ছে না। ব্যস, ওটুকুই। জীবন যেমন চলছিলো, চলতে থাকে। বন্ধুটি অপরাধবোধের গ্লানি থেকে মুক্ত হয়ে হাত পা ছড়িয়ে শিশুর মতো করে ঘুমোতে চান।

এরকম সংসারী ইংরেজ ভদ্রলোকদের মধ্যে একটা কৌতুক প্রচলিত আছে।
“ওয়ান নাইটার ট্রলিব্যাগ নিয়ে মি. জন পাঁচ-তারা হোটেলে ঢোকেন এবং চেক ইন কাউন্টারে পৌঁছেন।
মি. জনঃ- একটি ডাবল বেডরুম প্লিজ।
রিসেপশনিস্টঃ- কিন্তু স্যার, আপনি তো একা।
মি. জনঃ- হ্যাঁ, তা ঠিক। কিন্তু আমি বিবাহিত। আমি বিছানার ওপাশ থেকে বিশুদ্ধ এবং পূর্ণ নিরবতা উপভোগ করতে চাই। “

সংসারী মধ্যবয়সী পুরুষকুলে একটা বড় বিছানায় নিরবচ্ছিন্ন নিরবতায় হাত পা ছড়িয়ে ঘুমানোর ইচ্ছেটা সার্বজনিন বলে মনে হচ্ছে।

সর্বশেষ এডিট : ০৬ ই ডিসেম্বর, ২০১৯ সকাল ১১:২৯
৩টি মন্তব্য ৩টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

নির্বাচনী অঙ্গীকার চাই ফুটপাথ ফেরাও মানুষের কাছে

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সকাল ৯:৪৬


ভোটের মিছিলে কথা হয় অনেক
পোস্টারে ভরা উন্নয়নের ঢাক
কিন্তু বলো তো ক্ষমতাপ্রার্থী দল
ফুটপাথ কার এ প্রশ্নের কি জবাব?

ঢাকা ছোটে না, ঢাকা পায়ে হেটে ঠেলে চলে
শিশু, নারী, বৃদ্ধ সবাই পড়ে কষ্টের... ...বাকিটুকু পড়ুন

বালুর নিচে সাম্রাজ্য

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ বিকাল ৩:৫১


(ডার্ক থ্রিলার | কারুনের আধুনিক রূপক)

ঢাকার রাত কখনো পুরোপুরি ঘুমায় না।
কাঁচের অট্টালিকাগুলো আলো জ্বেলে রাখে—যেন শহর নিজেই নিজের পাপ লুকাতে চায়।

এই আলোর কেন্দ্রেই দাঁড়িয়ে ছিল করিম গ্লোবাল টাওয়ার
আর... ...বাকিটুকু পড়ুন

জ্ঞানহীন পাণ্ডিত্য

লিখেছেন রূপক বিধৌত সাধু, ০৫ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ সন্ধ্যা ৭:২০


এমন এক পর্যায়ে পৌঁছেছে স্বদেশ,
যে কিছু জানে না; সে-ই দেয় উপদেশ।
“এই করো, সেই করো;” দেখায় সে দিক-
অন্যের জানায় ভ্রান্তি, তারটাই ঠিক।
কণ্ঠে এমনই জোর, যে কিছুটা জানে-
সব ভুলে সে-ও তার কাছে... ...বাকিটুকু পড়ুন

গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কেমন হবে?

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ১২:৫৭



সামনের গণভোট ঘিরে অনেক অপপ্রচার চলছে বলে শোনা যাচ্ছে। অনেকেই জানতে চাঁচ্ছেন, গণভোটের ব্যালটটি দেখতে কি রকম হবে? নির্বাচন কমিশনের ওয়েসবাইট থেকে জানতে পারা গিয়েছে যে, গণভোটের ব্যালটটি উপরের... ...বাকিটুকু পড়ুন

মুহতারাম গোলাম আযমই প্রথম We Revolt বলেছিলেন !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ০৬ ই ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ রাত ২:৫৮


আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী তাদের দলীয় ইশতেহার প্রকাশ করেছে, যার নাম দেওয়া হয়েছে ‘জনতার ইশতেহার’। দলটির দাবি, অ্যাপভিত্তিক প্রচারণার মাধ্যমে সংগৃহীত ৩৭ লাখের বেশি... ...বাকিটুকু পড়ুন

×