প্রিয় আমার প্রাক্তন,
শুনে খুশি হলাম।ভেবেছিলাম হিংসে করব,তা আর করা হয়নি আমার।তবে সত্যিই বেশ খুশি।তুমি এখন গুছানো জীবনে আছো। তুমি তোমার নতুন ও প্রাক্তন এই আমিকে নিয়ে বেশ ভালোই সামলে নিয়েছ।
জানো ভালোবাসা, সম্পর্ক আমি আমার প্রথম প্রাক্তন থেকে আর ভালোবাসার মিলন তোমার থেকে শিখা।সত্যি বলতে কি তোমায় নিয়ে আমার কখনো খুব আকুল ইচ্ছে ছিলনা। তারমানে এই নয় ভালোবাসতাম না। ভালো হয়তো বাসতাম তবে সেভাবে নয় যেভাবে দুটি বুভুক্ষ হৃদয় খিদের জ্বালায় হাঁসফাস করে।
জানো তোমার শরীরের প্রথম ঘ্রাণটাই আমার কাছে স্বর্গীয় মনে হয়েছিল।এর পরের প্রতিটি ঘ্রাণই আমার কাছে মনে হয়েছে বিষাক্ত,যার বিষের বাহক ছিলাম আমি। আচ্ছা তোমার নতুন কি এখন তোমার শরীরে ঘ্রাণ নেয়? তোমার মতে তো ভালোবাসার মানুষের ঘ্রাণ প্রতিদিনই নতুন,সেও কি নতুনত্ব পায়? নাকি আমার সেই বিষাক্ত করা ঘ্রাণে সেও দূষিত নিঃশ্বাস নেয়! কি যে বলছি! শোন তোমায় নিয়ে আমার সামনে যাবার ইচ্ছে ছিল,ভালোবাসা না হলেও আবেগ আর দ্বায়িত্বের কারনে হলেও তোমাকে নিয়ে এগোতাম।কিন্তু কি হয়ে গেলো কিছুই জানিনা।
জানি প্রশ্ন করবে তবে কি এই বারবার ছুটে আসা শরীর ঘ্রাণে? আমি বলব কি জানো!! ওই প্রথমদিনের ঘ্রাণের পরের প্রতিটি ঘ্রাণই আত্নধ্বংসনের দিন ছিলো আমার, তবুও এসেছি।তুমি হয়তো জানোনা এ ঘ্রাণ এক মায়া,নেশা,এ এক আত্নার লোভের লালা ঝরা হাহাকার।খুব কম মহাপুরুষই একে হারাতে পারে।
জানি তুমি এটা পড়ছ আর বলছ "শরীর পোকা"। তুমি বলতে পারো তোমার দিক থেকে তুমি এও বলতে পারো আমি নষ্ট, আমি শরীর ঘ্রাণে বিষ মিশিয়ে কেটে পড়ে এখন মহাপুরুষ সেজেছি। হয়ত মহাপুরুষ, হয়ত শরীর পোকা তবে আমি সেই আত্নার লালা ঝরা লোভ সংবরণ করতে পেরেছি এই কম কি?
তবে বলতে পারো এই চিঠি কেন? ফিরে আসতে চাই? আবার শরীর ঘ্রাণের ভক্ষণে নতুন কৌশল? নাহ,আসলে আত্নধ্বংসনে কেবল বলতে চাই নতুন কে নিয়ে সুখী থেকো।আমার মত শরীর পোকাদের এভাবে ঘ্রাণে বিষ মিশিয়ে যেতে দিয়োনা।
তোমার ভালোবাসার সত্য মিথ্যা এই প্রাক্তনের প্রতি এবং আমার ভালোবাসার সত্য মিথ্যা তোমার প্রতি এই বিতর্ক পাশে রেখে কেবল সামনে চলার অনুপ্রেরণা দেই। পাপের ফল কেউ না কেউ তো পাবোই।ততদিন নাহয় অনুভূতিদের ঘুম পাড়িয়ে রাখি অবচেতন মনে।
ইতি
তোমার প্রাক্তন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



