প্রফেসর ইউনুস নোবেল পেলেন এবং মুখের লাগাম খুলে গেল তাঁর । মুখের লাগাম খোলাটা অনেকেই কাছেই (এবং অনেক সময়েই) কাপড়খোলার শামিল । এতদিন জানতাম বটে এরকম একজন 'মহাজন' আছেন বটেন । ( যদি সত্যি কথাটা বলতে পারি, তাঁর দোকানের ফতুয়া বেশ পছন্দ আমার) কিন্তু তিনি তার ফতুয়া, টেলিফোন আর মুলুকের প্রায় সর্বপল্লী বিস্মৃত তেজারতি কারবারের সাম্রাজ্য নিয়ে পর্দার আড়ালের একজন মানুষ ছিলেন । যেমন থাকেন বেশিরভাগ সেলিব্রিটিরা । বিশেষ করে ধনকুবের সেলিব্রিটিরা ।
তারপর তিনি সে পুরষ্কারটি পেলেন যেটার জন্য সবচেয়ে লালায়িত এগ্রহের সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ । মানুষ স্বাভাবিকভাবেই এক্সক্লুসিভ কোন ক্লাবের সদস্য হতে লালায়িত হয় । এবং আমারা না খেতে পাওয়া আদেখলার দল তাতে আল্প কয়েকদিনের জন্য তূরীয় আনন্দ ভোগ করলাম, যতক্ষন না ঈদ পরবর্তী-ক্ষমতাশুন্যতার অ্যাম্ফিথিয়েটারে লগিবৈঠার গ্ল্যাডিয়েটরদের আবির্ভাব ঘটল ।
আমরা মাটিতে নেমে এলাম, হার্ড ল্যান্ডিং । এবং মহাজন মুখ খূললেন ।
কিছূ কিছূ লোক আছে যারা সব সময়ে, সবখানে ষড়যন্ত্রের ছায়া খোঁজে । কারো এটা খাসলত, কেউ বা আনেকদিনের ঘরছাড়া গরু । তাদের খুব দোষ দেয়া যায় না । টেলিনরের লোগো গ্রামীনের লোগোতে পরিনত হওয়া, বন্দর ইজারা দেয়ার কথা, জাতীয় সরকার গঠনের জন্য গলা খাঁকারি প্রস্তাব এবং শেষমেষ রাজনীতিতে নামার জন্য দেশবাসীর 'মতামত' আহ্বান, সবচেয়ে বিশ্বাসপ্রবন লোকটাকে সিনিক করে তুলতে পারে ।
সুতরাং, ফখরুদ্দিন সাহেবের বাংলাদেশে অনেকে, অনেক উসিলায় তেড়ে যাচ্ছেন আজ ড, ইউনুসের দিকে । পুরনো পাগলাগারদের, খানদানী পাগলদের মজলিশে আজ দাঙ্গা বেধে যাবার কান্ড । ফটকে আজ নতুন অভিজাত জ্যোতিষ্ক মানে একেবারে সুপারনোভা সেলিব্রিটি পাগলের পদধুলি । এমনিতেই বুটের তলায় সানকি ভাঙ্গছে মুড় মুড় করে (অবশ্য যাদুর পাত্র জোড়া লাগে হাওয়ায়) । এর মধ্যে আবার বড়ে খানায় ভাগ বসাতে আসছে কে ?
আমার কিন্তু অন্য কথা মনে হয় জানেন । না, অদৃশ্য থার্ডপার্টিতো আছেই এবং থাকবেই, হতেই পারে নোবেল পেয়ে তার পায়া ভারী হয়ে মুখ লাগাম আলগা হয়ে গেছে । না, আমার কী মনে হয়ে জানেন, আমার মনে হয় ডক্টর সাহেব এটা বুঝেছেন, যেসব কথা তিনি নোবেল পাওয়ার পরে বলে ফেলছিলেন, সেটা তাঁকে চিহ্নিত ব্যাক্তিতে পরিনত করেছে । তাঁর সাম্রাজ্য টলে যাবে রাজনীতির রক্ষাকবচ না থাকলে । টেলিনর যেভাবে দখল নিয়ে নিল ওইভাবে পরের সরকার গ্রামীন ব্যাংকের নিয়ন্ত্রন নিয়ে নিতে পারে ।
মাইন্ড ইউ, হি ইজ এ মার্কড ম্যান নাউ ।
তাঁর মনে ভয় ঢুকেছে...
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


