somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রাশিয়া 1919 (পর্ব 3,পেত্রোগ্রাদ থেকে মস্কো)

২৪ শে ফেব্রুয়ারি, ২০০৭ ভোর ৪:০৯
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

3.

মস্কো যাবার প্রস্তুতি নিয়ে বিরাট হট্টগোল বেঁধে গেল । কিছু দেখা গেল একেবারে শেষ মুহুর্তেও তৈরী হতে পারেনি । আটজন মানুষের জন্য একটা মোটরগাড়ি বরাদ্দ ছিল, ভারী মালপত্রের জন্য একটা ট্রাক । আমি আমার লটবহর নিয়ে ট্রাকে উঠে স্টেশন পর্যন্ত ঝাঁকুনি খেতে খেতে গেলাম । আমার মনে পড়ে গেল বিপ্লবের প্রথম দিককার কথা, যখন এইসব ট্রাকগুলোতে মেশিনগান, সৈনিক, বিপ্লবী, রাজনৈতিক বক্তা বা পথচলতি যেকোনো উৎসাহী ,লোককে তুলে নেয়া হতো ।

নিকোলাই স্টেশনে পৌঁছে মনে হল সবকিছু ঠিকমতই আছে, যতক্ষণ না আমাদের তৃতীয় শ্রেণীর কামরায় পা রাখলাম । আমাদের রিজার্ভ কামরায় বিনা অনুমতিতে কতগুলো লোক উঠে বসে আছে । যা হোক, সে সব সমসস্যাও মেটানো গেল, যেটা একবছর, বা এমন কী ছয়মাস আগেও অসম্ভব ছিল ।

ট্রেনের ওয়াগনটার মাঝখানে একটা দরজা কামরাটাকে ভাগ করেছে । খোলা কুপ আর পাশের সিটগুলোকে বিছানা হিসেবে ব্যাবহার করা যায় । আমি দ্বিতীয় সারিতে জায়গা পেলাম, আমার মাথার উপরের বাংকটায় শুধু লাগেজ রাখা । আমার পা ঝুলছে নীচের বাচ্চা নিয়ে মা, বলশেভিক আর অন্যান্য হৈ হুল্লোড়ের মধ্যে । প্রত্যেক স্টেশনে ট্রেন থামছে, এবং পুরো ট্রেন জুড়ে মানুষ উঠছে আর নামছে । কেটলি, কফিপট বা স্রেফ মাংসের খালি টিন আছে এমন সবাই গরম পানির খোঁজে নেমে যাচ্ছে । দুটো থার্মোস ফ্লাস্ক হাতে আমি ওদের সাথে যোগ দিলাম ।

গরম পানির কলে কেউ খবরদারী করছে না, কিন্তু মানুষ সারিবদ্ধ ভাবে দাঁড়িয়ে গরম পানি নিচ্ছে । ট্রে ছাড়া হলে সবাই ট্রেনে উঠে চা খেতে লাগল । সারারাত অসংখ্য স্টেশনে এর পুনরাবৃত্তি হল । মানুষ ঝিমাতে ঝিমাতে জেগে উঠে আলাপ করতে লাগল । উপরে বসে আমি ওদের কথা শুনছিলাম । কেউ কেউ খাবারের দাম নিয়ে গজগজ করছে, কেউ বা বুঝে উঠতে পারছে না কেন অন্যান্য দেশ তাদের সাথে যুদ্ধ করতে চায় । যদিও কামরা ভর্তি কমিউনিস্ট, আরখাংগেলের একজন সমবায়ী বেশ খোলাখুলিই সেখানকার অসন্তোষের কথা বলল ।

আরখাংগেলের কিছু রাশিয়ান সৈন্য ফ্রন্টে গিয়ে অন্য রাশিয়ানদের সাথে যুদ্ধ করতে অস্বীকার করেছিল বলে ওদের কমান্ডাররা সব ইস্তফা দেয় । ওদের জায়গায় নতুন কমান্ডাররা সাহায্যের জন্য আবেদন করে । আমেরিকান সৈন্যরা ওদের ব্যারাক ঘিরে ফেলে বলে হয় ওরা ওদের মাথাদের ধরিয়ে দেবে নইলে ওখানে যত সৈন্য আছে তাদের প্রতি দশজনের একজনকে গুলি করে মারা হবে । তারপর বিদ্রোহীরা ওদের নেতাদের ধরিয়ে দেয় । তারপর ওদেরকে নিজেদের কবর খুঁড়তে বলে ওদেরকে গুলি করে মারা হয় ।

হতে পারে পুরো ঘটনাটাই আরখাংগেল এলাকার গুজব । প্ল্যাটফমের্র আরেক জায়গায় দুজন লোক পরস্পরকে স্বার্থপর বলে গালাগাল করছে । আমি ভেবেছিলাম মারামারি না লেগেই যায় না, কারন দুজনের গালির মজুদই অফুরন্ত, কিন্তু কিছুই হল না । প্ল্যাটফর্মে একদল শ্রোতা জুটে গেল যারা হাততালি দিতে লাগল দু'জনের গালাগাল শুনে ।

শেষ পর্যন্ত আমি ক্লান্ত হয়ে ঘুমানোর চেষ্টা করতে লাগলাম । কিন্তু কামরার হট্টগোল, ধোঁয়া, বাচ্চাদের কান্না, ময়লা কাপড়, আর রুশ চাষীদের গা থেকে আসা একটা বিশেষ গন্ধে আমার ঘুম অসম্ভব হয়ে দাঁড়াল । তাহলেও আমি বেশ আরামেই ছিলাম, লোকজনের গল্পগুজবে অংশ নিচ্ছিলাম, ইংল্যান্ডে মাছধরার কথা ভাবছিলাম আর শক্ত কাঠের উপর এপাশ ওপাশ করছিলাম সামান্য আরামের জন্য ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জননী জাহানারা ইমাম: আপসহীন সংগ্রামের এক জীবন্ত ইশতেহার।

লিখেছেন মহিউদ্দিন হায়দার, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:০১




​ইতিহাস কেবল বিজয়ীদের খতিয়ান নয়, ইতিহাস মূলত লড়াইয়ের ময়দানে টিকে থাকা কিছু অবিনাশী কণ্ঠস্বরের গল্প। আজ ২৬ জুন। ১৯৯৪ সালের এই দিনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের এক হাসপাতালে শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেছিলেন... ...বাকিটুকু পড়ুন

দাওয়াত দিয়েছে

লিখেছেন সাইফুলসাইফসাই, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:২৭

দাওয়াত দিয়েছে
সাইফুল ইসলাম সাঈফ

এক পছন্দের মানুষ দাওয়াত দিয়েছে
তার ‍সুন্দর জেলা দেখার জন্য
আমিও বলেছি চলে আসবো হঠাৎ-
একদিন দেখতে, দেখবো ঘুরে ঘুরে
তার পুরো শহর , তার গ্রাম, তার বাড়ি
বিশেষ করে তাকে,... ...বাকিটুকু পড়ুন

কবিতাঃ মোহমায়া

লিখেছেন ইসিয়াক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ দুপুর ২:৪৬



খরস্রোতা নদীও একসময়
ক্ষীণ নালায় পরিণত হয়
কালের পরিক্রমায়,সময়ের চাহিদায় ।
তবু আশা বেঁধে রাখি।

ফিরবে সব আগের মত
চলবে জীবন অবিরত
কোন একদিন।


হারানো মুহুর্তরা কি সত্যিই  ফিরে আসে?
শত ব্যস্ততায়- মায়ের মত... ...বাকিটুকু পড়ুন

বাঙালি মুসলমান সম্বন্ধে ChatGPT র মূল্যায়ন !

লিখেছেন ঢাকার লোক, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ৮:০৯

ChatGPT কে "বাঙালি মুসলমান বনাম প্রকৃত ইসলাম" এর উপর একটা প্রবন্ধ লিখতে বলেছিলাম, কয়েক সেকেন্ডে যা লিখেছে হুবুহু তুলে দিলাম ! আপত্তি থাকলে চ্যাটজিপ্ট দায়ী !!

বাংলার মুসলমান সমাজকে দেখলে... ...বাকিটুকু পড়ুন

মন্তব্যে অনন্য রাজীব নূর

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৬ শে জুন, ২০২৬ রাত ১০:৩২



অনন্য রাজীব নুর মন্তব্য বেলায়
পাওয়া ও দেওয়ায় লক্ষ করে পার
সম্মুখে এগিয়ে চলে গন্তব্যে অপার
প্রতিটি পোষ্টের ক্ষেত্রে তার আছে টান।
মন তার দোলে চলে আনন্দ ভেলায়
ব্লগেতে নিশ্চুপ দেখে পোষ্ট... ...বাকিটুকু পড়ুন

×