somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

ক্লোন রাফা
আমি আমাদের কথা বলতে এসেছি। আমি বাংলাদেশের কথা বলবো।আমি পৃথিবির অবহেলিত মানুষের পক্ষে ।জয় বাংলার প্রতিটি শহিদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে। ৭১-এর স্বাধীনতা রক্ষায় জিবন বাজী রেখে লড়াই করে যাবো।জিবনের শেষ রক্ত বিন্দু দিয়ে ।জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু ।

আওয়ামী লীগ ও আমরা কেনো ক্ষমা চাইবো‼️আমরা’তো বিচার করে শাস্তি নিশ্চিত করতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ॥

৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:১৫
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



লাল বদরদের আমরা কেন কোনোদিন বিশ্বাস করবো না, পছন্দ করতে পারবো না, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে প্রচন্ড ঘৃণা করবো, তার একটা ভালো উদাহরণ এই স্ক্রীনশটটা।

সব মানুষ একই রাজনৈতিক আদর্শে বিশ্বাস করবে না। এক এক জনের চিন্তা ও দর্শনের জায়গা আলাদা। কিন্তু দুইটা ব্যাপারে এসব একটু মোটাদাগে দেখতে হয়।
এক. নিজেদের ইতিহাস, জাতীয়তাবাদ ও সংস্কৃতি ইস্যুতে একতা
এবং ২. রাজনৈতিক শিষ্ঠাচার, রুচি ও সহমর্মিতা।

লক্ষ্য করবেন, ২০২৪ এর জুলাই আগষ্টে এই ধরনের নোংরা স্ট্যাটাসে ফেসবুক ভরে গিয়েছিল। শুরুটা করে দিয়েছিল এরা, এরপর গণহারে বহু জনে দিয়েছে। এই ফেসবুক নোংরামি পরে রাস্তায় দেওয়ালে “হাসিনা মা*গীকে চু*দি”তে গিয়ে ঠেকেছে, এবং গণভবনে অন্তর্বাস পেটিকোট নিয়ে অশ্লীলতায় গিয়ে পৌঁছেছে। যারা গণভবনে প্রবীণ প্রধানমন্ত্রীর ব্রা নিয়ে নোংরামি করেছে, তাদের উৎসাহিত করেছে এই স্ট্যাটাসদাতারা। তারাই এই সবের গুরু এবং সূচনাকারী।

যারা ভাবেন, লালবদরদের নিয়ে কেন এত রাগ এত ক্ষোভ রাখতে হবে। তাদের কয়েকটা জিনিস খুব ভাল মতো মনে রাখা দরকার।

১. লাল বদররা শুধুমাত্র দাবি আদায়ের বা সরকার পতনের আন্দোলন করেনি, তারা প্রকাশ্যে জঙ্গীগিরি করা একদল এনার্কিস্টকে উৎসাহিত করেছে দেশের সম্পদ ধ্বংস করতে

২. তারা সামাজিক যেগাযোগ মাধ্যমে তীব্র ঘৃণা ছড়িয়েছে। শুধু সরকারের বিরুদ্ধে না,তারা যেকোনো বিরোধী মত’কে ট্যাগিং করেছে, মিথ্যে তথ্য দিয়েছে তাদের বিরুদ্ধে, সম্মিলিত আক্রমণ করেছে এবং ভার্চুয়াল মব করে মানুষের কথা বলা থামিয়েছে

৩. লালবদররা অসম্ভব সব গুজবকে অবলীলায় ছড়িয়ে দিয়েছে। পুরানো ছবি ও ভিডিওকে নতুন বলে চালিয়েছে। তাদেরকে প্রমাণ দেওয়ার পরও তারা থামেনি। পুরো জুলাই আগষ্ট ছিল গুজবের কারখানা, যে যার মতো ইচ্ছমতো গুজব ছড়িয়েছে।

৪. ৫ আগষ্ট পরবর্তী ভয়াবহ সব ঘটনার কোনো প্রতিবাদ তারা করেনি। তাদের সব প্রতিবাদী চেতনা, দেশপ্রেম ইত্যাদি মুখে কুলুপ এঁটেছিল যখন রাস্তায়, ওভারব্রিজে পুলিশহ*ত্যা করে ঝুলিয়ে রাখা হচ্ছিল, থানা পুড়িয়ে পুলিশ মা*রা হচ্ছিল। একের পর এক সাধারণ মানুষ, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী, হিন্দু ধর্মাবলম্বী মানুষকে হ*ত্যা করা হচ্ছিল। আদালতে মব হচ্ছিল। তারা কেউ মুখ দিয়ে টু শব্দ করেনি। অথচ আবু সাঈদ নামের স্লিপার সেলের জঙ্গীটার জন্য কাঁদতে কাঁদতে তাদের চোখে ফোস্কা পড়েছিল।

৫. লালবদররা শুধু আন্দোলনের নামে ষড়যন্ত্রে অংশ নিয়েছে,তাই-ই না, তারা আমাদের মনোজগতের সব কাঠামোকে ভেঙে গুড়িয়ে তছনছ করে দিয়েছে। নষ্ট করেছে সব। মানুষ হ*ত্যার ঘটনাতে তারা উল্লাস করতে শিখিয়েছে আমাদের। মানুষের স্বজন হারানোকে ‘‘চু*দি’’ বলা শিখিয়েছে। আমাদের সমস্ত কোমল অনুভূতির মুখে চুনকালি মাখিয়ে দিয়েছে তারা।

৬. একটা দেশকে অস্থির অশান্ত করার কারিগর এই লালবদরের দল। তারা দেশ ধ্বংসের হোতা। একটা লাল প্রোফাইল পিকচার বা এক দফা লেখা প্রোফাইলই সব নয়। এর বাইরে আরো বহু কিছু তারা করেছে, যা আমাদের চিন্তারও বাইরে ছিল। চোখে ঠুলি পরে তারা জামাত এনসিপি গ্যাংকে জায়গা করে দিয়েছে। ভিন্নমতের মানুষকে হিংস্রভাবে আক্রমণ করে রক্তাত্ত করেছে।

আমাদের মুক্তিযুদ্ধ, জাতীয়তাবাদ, আমাদের জাতির পিতা- সমস্ত কিছুকে অপমান করেছে এই লাল বদরের দল। তাদেরকে নিয়ে লিখতে গেলে লিখে শেষ হবেনা। সবচেয়ে ভয়ংকর যা করেছে, তা হলো, আমাদের সামাজিক সম্পর্কের স্ট্রাকচারই তারা ভেঙে নষ্ট করে দিয়েছে। পারস্পরিক শ্রদ্ধা আর সহাবস্থানের অভ্যাস ধ্বংস করেছে। দেশপ্রেমিক, জাতীয়তাবাদী মানুষকে হিংস্রভাবে আক্রমণ করেছে। তারা একে অপরের প্রতি বিশ্বাসকে এত তীব্রভাবে আঘাত করেছে যে ৫ আগস্টের পর থেকে আমরা আর সহজে কাউকে বিশ্বাস করি না। কারণ আমাদের চোখের সামনে অবিশ্বাস্য সব কান্ড তারা করেছে ২০২৪ এর জুলাই আগষ্টে।

লাল বদরকে নিয়ে মানুষের ক্ষোভ, রাগ, তীব্র ঘৃণা বুঝতে হবে। এই ঘৃণা এমনি এমনি আসেনি। এই ক্ষোভ এত সহজ নয় যে আপনি বুদ্ধের মতো অহিংস বাণী ছড়িয়ে সব মুছে দিতে পারবেন।

দ্রুত নয় , সময় নিয়ে সকল হিসেবের প্রাপ‍্য নিশ্চিত করতে ফিরতে হবে আওয়ামীলীগ’কে॥ প্রত‍্যেকের পাওনা পরিশোধ করার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি ইংশাআল্লাহ্। আশা করি এবার তৃণমূল ঠিক করে দেবে কোন পথে চলবে দল। আর কোনো ছাড় নয়॥

জয় বাংলা জয় বঙ্গবন্ধু॥
সর্বশেষ এডিট : ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৪১
৫টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

জলে স্থলে শূন্যে আমি যত দূরে চাই

লিখেছেন রাজীব নুর, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩



আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে ভুলেই গেছো!
লম্বা সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। আমিও নানান ব্যস্ততায় যোগাযোগ করতে পারিনি। তুমিও যোগাযোগ করনি! অবশ্য তুমি যোগাযোগ অব্যহত না রাখাতে আমি বেশ... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

'মানবাধিকার' (অণু গল্প)

লিখেছেন আবু সিদ, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ১২:২৪

'মানবাধিকার' একটা এনজিও। তারা বিদেশী সহায়তা নিয়ে মানুষ, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে। আজ তারা একটা বড় সমাবেশ করছে প্রেসক্লাবে। সমাবেশে সাংবাদিকসহ নানান পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। টিভি সাংবাদিকেরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

লিখেছেন নাহল তরকারি, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৯:০৬




নদী তীরের ইমাম থেকে গ্লোবাল ফ্রিল্যান্সার: একটি অনুপ্রেরণার গল্প

একটি বিশাল নদীর কোলঘেঁষে গড়ে ওঠা শান্ত এক জনপদ, আর ঠিক নদীর ঘাট ঘেঁষেই ছিল একটি সুন্দর মসজিদ। সেই মসজিদের ইমাম সাহেব... ...বাকিটুকু পড়ুন

শুধু দ্বিতীয় রিফাইনারি (ERL-2) টা করে দেখান , সবার মুখ বন্ধ হয়ে যাবে !

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ৩০ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১২:৫০


গতকাল নাটকীয়তায় ভরা একটা দিন আমরা পার করলাম । রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের উদ্বোধনকে ঘিরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যেন ঝড় বয়ে গেল। পুরো সোশ্যাল মিডিয়া যেন দুই ভাগে ভাগ... ...বাকিটুকু পড়ুন

×