'মানবাধিকার' একটা এনজিও। তারা বিদেশী সহায়তা নিয়ে মানুষ, বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ সুরক্ষায় কাজ করে। আজ তারা একটা বড় সমাবেশ করছে প্রেসক্লাবে। সমাবেশে সাংবাদিকসহ নানান পেশার মানুষ অংশ নিয়েছে। টিভি সাংবাদিকেরা লাইভ করছে। তারা বলছে যে মানুষ, পরিবেশ, পশুপাখি বা প্রকৃতি সবার প্রতি আমাদের সদয় হতে হবে। সমাবেশে উপস্থিত সবাইকে দেখে মনে হচ্ছে যে সবাই সবকিছু দেখেছে, শুনেছে, বুঝেছে এবং মেনে নিয়েছে।
সমাবেশ শেষ করে গাড়িতে উঠতে জমিরের বিকেল হলো।
পথে জমির তার স্ত্রীর ফোন পেল। স্ত্রী বলল, দারোয়ানটা আবার ছুটির লাইগা লাফাইতাছে! খবরদার! আর কোন ছুটি না। একবার গ্যালে কমপক্ষে ১০-১২ দিনের ধাক্কা! আরেক জনরে গেটে রাখা লাগবো। তার খরচ হাজার পাঁচেক। 'আমি দেকমুনে' বলে জমির ফোন রেখে দিলো।
জ্যাম পেরিয়ে বাড়ি ফিরতে সন্ধ্যা। জমির গেট দিয়ে ঢুকল। দারোয়ান ছেলেটা তার ছুটির কথা আবার মনে করিয়ে দিলো। বলল, স্যার! আমার বৌর ডেলিভারির ডেট পইড়া গেছে! ছুটিটা যদি দিতেন!
জমির চিৎকার দিয়ে উঠলো, দুমাস পর পর তোমার ছুটি দেওন যাইব না। কইছি না এহন কোন ছুটি হইব না! খালি ফাঁকি মারার ধান্দা!
দারোয়ানের পোষা বিড়ালটা এ সময় গেটের পাশে বসে কিছু খাচ্ছে। বিরক্ত জমির কষে একটা লাথি লাগালো বিড়ালটার গায়। বিড়ালটা কয়েক হাত দূরে ছিটকে পড়ল। 'ম্যা ম্যা মিয়াঁও' শব্দে উঠে দাঁড়াল সে। জিহবা দিয়ে নিজের ঠোঁটটা পরিষ্কার করে নিলো। তারপর মন খারাপ করে বাড়ির বাইরে বেরিয়ে পড়ল।
এক মিনিটের মধ্যে ঘটনাটা ঘটে গেল। দারোয়ানটার দুচোখে পানি এসে গেল। বেশ কষ্ট করে সে অমূল্য তার অশ্রুজল আটকে রাখলো। চোখের জল ফিরে গেল চোখের গভীরে। আমারে ছুটি না দিবেন না দ্যান, আফসোস করে বলে উঠলো সে, কিন্তু বিড়ালটারে লাত্থি দিলেন ক্যান, স্যার?

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।


