somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

পোস্টটি যিনি লিখেছেন

রাজীব নুর
আমার নাম- রাজীব নূর খান। ভালো লাগে পড়তে- লিখতে আর বুদ্ধিমান লোকদের সাথে আড্ডা দিতে। কোনো কুসংস্কারে আমার বিশ্বাস নেই। নিজের দেশটাকে অত্যাধিক ভালোবাসি। সৎ ও পরিশ্রমী মানুষদের শ্রদ্ধা করি।

জলে স্থলে শূন্যে আমি যত দূরে চাই

২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আমি ভেবেছিলাম, তুমি আমাকে ভুলেই গেছো!
লম্বা সময় ধরে কোনো যোগাযোগ নেই। আমিও নানান ব্যস্ততায় যোগাযোগ করতে পারিনি। তুমিও যোগাযোগ করনি! অবশ্য তুমি যোগাযোগ অব্যহত না রাখাতে আমি বেশ আহত হয়েছি। আমি তোমার সাথে যোগাযোগ করিনি, তার মানে এই না যে আমি তোমাকে ভুলে গেছি! আমার বিশ্বাস করতে ভালো লাগে তুমি আমাকে ভালোবাসো। সহজ সরল পবিত্র স্বচ্ছ ভালোবাসা। যে ভালোবাসাতে কোনো স্বার্থ নেই। আমার স্ত্রী কন্যা আছে, যেনেও তুমি আমায় ভালোবাসো। এ ভালোবাসা বড় কঠিন ভালোবাসা! এ ভালোবাসা কে অবহেলা করা আমার অন্যায় হবে। তোমার থেকে ৩০০ মাইল দূরে থেকেও যখন আমি জানি, কেউ একজন আমায় ভালোবাসে, তখন বড় আনন্দ পাই। এই ভালোবাসার জন্যই আমার দীর্ঘদিন বেঁচে থাকতে ইচ্ছা করে।

তোমার সাথে আমার প্রথম কোথায় দেখা হয়, মনে আছে?
আমি তোমাকে প্রথম দেখি লিফটে। আন্ডার গ্র্যাজুয়েট কোর্সে আমরা মাত্র ভরতি হয়েছি। মালায়া ইউনিভার্সিটিতে। নতুন পরিবেশ। ক্যাম্পাসের বাইরে একটা মেস বাড়িতে থাকি। আমরা একই বিল্ডিংয়ে থাকতাম। তুমি সাত তলায়, আমি পাচ তলায়। বিশ্বাস করো আমি বুঝতে পারিনি, তুমি বাঙালি! আমি ভেবেছিলাম, তুমি মালোশিয়ান। মালোশিয়ান হয়েও মেসে কেন থাকো সেটা বুঝতে পারিনি। হয়তো তোমার বাড়ি অনেক দূরে। তাই পড়াশোনার খাতিরে থাকো। অসংখ্য বার তোমার সাথে চোখাচোখি হয়েছে। মালোশিয়ান কোনো মেয়ের সাথে কথা বলার কোনো আগ্রহ হয়নি। ঘটনা চক্রে তোমার সাথে আমার সবচেয়ে বেশি দেখা হয়েছে লিফটে। মুনা, তোমার মনে আছে, আমাদের সাথে ইন্দোনেশিয়ার একটা মেয়ে পড়তো- ফাতিমা নাম?

তুমি দেখতে সহজ সরল সুন্দর।
ইউনিভার্সিটিতে যাই, ক্লাশ করি। কিন্তু কিচ্ছু বুঝি না। ক্লাশ করার সময়ও চিন্তা থাকে। মেসে গিয়ে রান্না করতে হবে। রান্নার চেয়েও কঠিন কাজ বাজার করতে হবে। বাজারে গিয়েও শান্তি নাই। সব চীনা লোক। তাদের ভাষা বুঝি না। একদিন বাজার করে আমার রুমে যাচ্ছি। লিফটে তুমি! এবং তুমি মাথা ঘুরে পড়ে গেলো। আমি তোমাকে ধরলাম। তোমাকে ধরে চমকে গেলাম! প্রচন্ড জ্বর তোমার। আমি তোমাকে কোলে করে তোমার রুমে নিয়ে যাই। মেসের সব ছেলেমেয়েরা হা করে তাকিয়ে ছিলো! যাইহোক, টানা দুই দিন আমি তোমার খুব সেবা যত্ন করি। এর আগে আমি কোনো মেয়ের মাথায় পানি দিয়ে দেইনি। শরীর মুছে দেইনি। তোমার প্রচন্ড জ্বর দেখে আমার মনে হয়েছে, এই মুহুর্তে তোমার সেবা দরকার। তুমি জ্বরের ঘোরে আমাকে হয়তো আমাকে কিছু বলেছো।

আজ সকাল থেকেই বৃষ্টি!
আকাশ মেঘলা। মেঘ ডাকছে। মনে হচ্ছে আজ সারাদিন'ই বৃষ্টি হবে। হোক। আমি সকাল সকাল অফিস চলে এসেছি। আজ কোনো কাজ নয়। আজ সারাদিন তোমাকে নিয়ে ভাববো। লিখবো। আমি আয়োজন ছাড়া লিখতে পারি না। অফিসে যে ছেলেটা চা বানিয়ে দেয় তার নাম পাইলট। পাইলট খুবই ফালতু চা বানায়। ফালতু চায়ে চুমুক দিচ্ছি। সমস্যা হলো অফিসে সিগারেট খাওয়ার ব্যবস্থা নেই। সিগারেট খাওয়ার জন্য আমাকে নিচে নামতে হবে। যাইহোক, অতীতে ফিরে যাই। মালোশিয়াতে পড়তে গিয়েছি। কিন্তু লেখাপড়াতে আমার মন নেই। ইচ্ছে করে কাজ করি। টাকা ইনকাম করি। অনেক টাকা ইনকাম করে দেশে ফিরে যাই। তারপর তোমার সাথে প্রেম হয়ে গেলো! ভালোবাসা হয়ে গেলো! সারাদিন আমরা একসাথে থাকি। আমি নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি- মানুষের জীবনে শ্রেষ্ঠ সময় হলো- প্রেমের সময়টা। মুনা, তোমার সাথে আমার বিয়ে না হয়ে ভালোই হয়েছে।

তোমার সাথে প্রেম হয়ে যাবার পর আমার মনে হলো-
আমি মিশোরের সম্রাট। আমি ভালো হলে যাই। মানবিক হয়ে যাই। তোমার নিশ্চয়ই মনে আছে, এরকম এক বৃষ্টির দিনে সারাদিন তুমি আমার রুমে ছিলে। বাইরে তুমুল বৃষ্টি! সারাদিন আদর ভালোবাসায় মাখামাখি অবস্থা। আমার এক মুহুর্তের জন্যও মনে হয়নি- আমরা অন্যায় করছি। পাপ করছি। আমি অনুমতি নিয়েই তোমার ঠোঁটে ঠোঁট রেখেছি। চুমু দিয়েছি। এরপর যেন অবধারিত দ্বার খুলে গেলো। তুমিও বাঁধা দাওনি। বড় সুন্দর সময় পার করেছি। মধুর সময়। সেই সময় আমাদের একটাই সমস্যা ছিলো- টাকার। এক মগ কফি খেলেও হিসাব করে খেতে হতো। এক মগ কফি দুজনে ভাগ করে খেতাম। টাকার অভাবে কফির সাথে নুডুলস অর্ডার করতে পারতাম না। পুরো কুয়ালালামপুর শহর আমরা হেঁটে বেড়িয়েছিলাম। লেখাপড়ার বারোটা বেজেছিলো। তোমার মনে আছে, এক চীনা পরিবার আমাদের দুপুরে খাইয়েছিলো। আমরা কাঠি দিয়ে নুডুলস খেয়েছিলাম।

এখন তোমার সাথে আমার কোনো যোগাযোগ নেই।
নানান ব্যস্ততায় যোগাযোগ করা হয় না। দেখা হয় না। আমার শহর থেকে তোমার শহরে যেতে সময় লাগবে মাত্র ৪/৫ ঘণ্টা। অথচ আমরা কেউ সাথে দেখা করার কথা বলি না। হুট করে একদিন দেখা হয়ে যাবে সে-ই ভালো। দেখা হলে আমরা কি নিয়ে আলাপ করবো? তুমি তোমার ছেলেমেয়ে আর স্বামী নিয়ে আলাপ করবে? আমি আমার স্ত্রী কন্যা নিয়ে আলাপ করবো? নাকি আমরা 'প্যানতাই হিলপার্ক' আমাদের মেসের দিন গুলোর কথা নিয়ে আলাপ করবো। পুরোনো সৃতি গুলো আসলে আমাদের সম্পদ। আমার মাঝে মাঝে ইচ্ছে করে পুরোনো দিনে ফিরে যাই। ইচ্ছে করে বৃষ্টির দিনে জড়াজড়ি করে শুয়ে থাকি। আমার সাথে তোমার বিয়ে হয়নি বলেই, আমাদের ভালোবাসাটা টিকে আছে। বিয়ে হয়ে গেলে আমরা কুৎসিত ভাবে ঝগড়া করতাম। স্বামী স্ত্রীর ঝগড়া খুবই কুৎসিত হয়। তোমার সাথে আমার কোনোদিন ঝগড়া হয়নি, হবেও না। তার মানে আমাদের ভালোবাসা আছে। থাকবে।

জলে স্থলে শূন্যে আমি যত দূরে চাই
আপনারে হারাবার নাই কোনো ঠাঁই।
জলস্থল দূর করি ব্রহ্ম অন্তর্যামী,
হেরিলাম তার মাঝে স্পন্দমান আমি।
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১০:৫৩
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

গুপ্তদের সকল অপকর্মের তদন্ত হোক....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ দুপুর ২:৪৮


সময় যত যাচ্ছে, ততই বেরিয়ে আসছে অস্বস্তিকর সত্য!
সময় গড়িয়ে যাচ্ছে- আর অতীতের অনেক ঘটনা নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন উঠছে।

বিভিন্ন ভিডিও ফুটেজ, সাক্ষ্য ও তথ্য সামনে আসছে-
যেখানে দেখা যাচ্ছে, আওয়ামী... ...বাকিটুকু পড়ুন

হযরত ইব্রাহীমের (আ.) কুরাইশ আহলে বাইতের মধ্যে হযরত আলীর (রা.) মুসলিম বিশ্বের নেতৃত্বের সময় সবচেয়ে কম

লিখেছেন মহাজাগতিক চিন্তা, ২৮ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ৮:৫৯



সূরাঃ ২ বাকারা, ১২৪ নং আয়াতের অনুবাদ-
১২৪। আর যখন তোমার প্রতিপালক ইব্রাহীমকে কয়েকটি বাক্য (কালিমাত) দ্বারা পরীক্ষা করেছিলেন, পরে সে তা পূর্ণ করেছিল; তিনি বললেন নিশ্চয়ই আমি তোমাকে... ...বাকিটুকু পড়ুন

শিক্ষকের মর্যাদা

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ রাত ১:২৩


কবিতাটার কথা কি মনে আছে? বাদশাহ আলমগীর একদা প্রভাতে গিয়ে দেখলেন, শাহজাদা এক পাত্র হাতে নিয়ে শিক্ষকের চরণে পানি ঢালছে, আর শিক্ষক নিজ হাতে নিজের পায়ের ধূলি মুছে সাফ... ...বাকিটুকু পড়ুন

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।

লিখেছেন রাবব১৯৭১, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ৮:০৯

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্প শেখ হাসিনার অবদান।
শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বাংলাদেশে গত এক দশকে ব্যাপক উন্নয়নমূলক প্রকল্প বাস্তবায়িত হয়েছে, যা দেশের অর্থনীতি ও মানুষের জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে। এর মধ্যে... ...বাকিটুকু পড়ুন

অদৃশ্য ছায়া: সমুদ্রের সাক্ষী

লিখেছেন শাম্মী নূর-এ-আলম রাজু, ২৯ শে এপ্রিল, ২০২৬ সকাল ১১:৪৬



ঢাকার বনানীর সেই ক্যাফেতে বৃষ্টির শব্দ এখন আরও তীব্র। আরিয়ান তার কফির মগে আঙুল বোলাচ্ছিল, তার চোখ দুটো ক্লান্ত কিন্তু তীক্ষ্ণ। সাঈদের দিকে তাকিয়ে সে নিচু গলায় বলতে শুরু করল,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×