এখন প্রত্যেক পাইলটকেই ঠিক করতে হবে তিনি উত্তরে ইউনিয়ন পক্ষে থাকবেন নাকি দক্ষিনে কনফেডারেসি পক্ষে নাম লেখাবেন । একটা কথা ঠিক, যুদ্ধ যদি সত্যিই বেঁধে যায়, যাত্রী আর মালবাহী স্টিমার চলাচলের দিন আপাতত শেষ ।
সেইন্ট লুই পার হৌয়ার সময় শহরের দক্ষিনের বিদ্রোহী জেফার্সন ব্যারাকের গোলন্দাজেরা স্যামের জাহাজের ওপর দু বার গোলাবর্ষন করলো । শেষবারের গোলায় পাইলট-হাউজের কাঁচ গুঁড়িয়ে গিয়েছিলো ।
চাকুরী থেকে ছাঁটাই হয়ে হ্যানিবালে ফিরে এলেন স্যাম, যুদ্ধের ডামাডোল সারা শহর জুড়ে । মিসৌরির গভনর্র "ক্লেইব" জ্যাকসন মিলিশিয়া বাহিনী গড়ে তুলে প্রদেশের লোকদের আবেদন জানিয়েছেন, ওয়াশিংটন থেকে সাফ জানিয়ে দেয়া হয়েছে এরকম মিলিশিয়া বাহিনী গড়ার অর্থ রাষ্ট্রদ্রোহিতা এবং কেন্দ্র কঠোর ব্যবস্থা নেবে সেরকম কিছু করলে ।
স্যামের বড়ভাই ওরাইওন আব্রাহাম লিংকনের গোঁড়া ভক্ত হয়ে উঠছিলেন । এটা ঠিক স্যাম পরিবার বা স্কুল বা গীর্জা থেকে দাস প্রথার কখনো নিন্দাবাদ শোনেননি, যদিও ওই জাতটার প্রতি ছিলো তাঁর অন্য মমত্ব, ছোটবেলায় দুবার তাঁকে পানিতে ডুবে মরা থেকে বাঁচিয়েছে নিগ্রোরা । তাঁর বিচারক বাবা জন মার্শাল ক্লিমেন্স দু'দুবার দাসপ্রথা বিরোধীকে জেলে ঢুকিয়েছিলেন, কিন্তু জন ক্লিমেন্স তাঁর সব ছেলেময়েদের সমস্ত যুদ্ধ-বিগ্রহ ও সন্ত্রাসকে ঘৃনা করতে শিখিয়েছিলেন । স্যাম বুঝতে পারছিলেননা তিনি কোনদিকে যাবেন । এমন সময় শুনলেন শহরের কিছু তরুন মিলে একটা স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবী মিলিশিয়া বাহিনী তৈরি করছে , বন্ধুদের ডাকে সাড়া দিয়ে এ দলে ভীড়ে গেলেন স্যাম ।
স্যাম ভাবলেন ছোটবেলায় রবিনহুড বা জলদস্যু খেলার মতোই মজা হবে বেশ, তাছাড়া স্থানীয় আনুগত্যের ব্যাপারও আছে একটা । একরাতে শহরের কাছে বিয়ার ক্রিক নামের এক জায়গায় তাঁরা প্রায় পনেরো জন জড় হলেন । টম লিয়ন নামে একজনকে কমান্ডার নির্বাচিত করা হলো, স্যাম হলেন সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট, এরকম অনেক অফিসার নির্বাচিত করার পর দেখা গেলো সাধারন সৈন্য হবার মতো তেমন কেউ অবশিষ্ট নেই, যাহোক বাহিনীর একটা জমকালো নাম থাকা দরকার, নাম দেয়া হোল দ্য ম্যারিওন রেঞ্জার্স ।
পরদিন পনেরো মাইল দুরের একটা গ্রামে অপারেশনে যাবে ম্যারিওন রেঞ্জার্স, ঠিক হল । পরদিন সবাই রওনা দিলো পিকনিকে যাওয়ার মতো করে, গান গাইতে গাইতে । সোজা পাকা রাস্তা দিয়ে গেলে ঘন্টা তিনেকের বেশি সময় লাগার কথা নয়, কিন্তু তাতে যুদ্ধের যথাযোগ্য থ্রিল মেলেনা । ক্যাপ্টেন লিয়ন তাঁর বাহিনীকে পরিচালনা করলেন খানা-খন্দক আর মাঠঘাট মধ্যে দিয়ে ।
প্রথম ঘন্টা মহা ফুর্তিতে গান গাইতে গাইতে চলা গেলো, কিন্তু দ্বিতীয় ও তৃতীয় ঘন্টায় গানের পরিমান কমে গিয়ে বিরক্তির পরিমান বেড়ে গেলো । উস্কোখুস্কো চুল, ফোস্কা পড়া পায়ে, শেষমেষ তারা রাল্স কাউন্টিতে কর্নেল রাল্স নামে এক ভদ্রলোকের খামারবাড়িতে এসে থামলো ।
কর্নেল রাল্স ছিলেন মেক্সিকো যুদ্ধফেরত অবসর প্রাপ্ত অফিসার (পুরো রাল্স কাউন্টি জেলাটাই তাঁর নামে করা হয়েছিলো), এই ভলান্টিয়ারদের দেখে আকাশের চাঁদ হাতে পেলেন। লাঞ্চের দাওয়াত দিলেন তিনি, সানন্দে গ্রহন করা হল সে নিমন্ত্রন । খানাপিনার বিপুল আয়োজন দেখে স্যামির বিশ্বাস জন্মাল, যুদ্ধ-বিগ্রহ কখন কখন বেশ মজাদার ব্যাপার বটে !
শেষ ঝলসানো মোরগটা খতম করার পর কর্নেল তাঁদের নিয়ে গেলেন কাছের এক গোলা বাড়িতে । ভুরিভোজের ফলে নেতিয়ে পড়া এই শ্রোতাদের উদ্দেশ্যে এক আগুন ঝরানো বক্তৃতা দিলেন তিনি । (আঞ্চলিক) দেশপ্রেমের বন্যা ছুটলো তাতে ।
তিনি জানালেন তাঁরা মানে ম্যারিওন রেঞ্জার্স এক মহান গুরু দায়িত্ব কাঁধে তুলেছে, "প্রয়োজনে দেশের জন্য প্রাণ দিতে প্রস্তুত থাকতে হবে" ....দেশ মানে কনফেডারেসি, আরও পরিষ্কার ভাবে মিসৌরি স্টেট । শুধু কথায় চিঁড়ে ভিজবেনা ভেবে একটা বাইবেল ছুঁইয়ে শপথ করালেন কর্নেল রাল্স 'মিসৌরি স্টেটের প্রতি আজীবন অনুগত থাকবো' । তারপর রালস, স্যামের বেল্টে ঝুলিয়ে দিলেন মেক্সিকো যুদ্ধে ব্যবহৃত একটা তলোয়ার ।
সর্বশেষ এডিট : ০৪ ঠা মার্চ, ২০০৭ রাত ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



