স্যামের কপালে জুটল একটা ছোট্ট হলদেটে বদমেজাজী বুড়ো খচ্চর, পিঠে চড়লেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়তো মাটিতে আর চালাতে চাইলে আরোহীকে ছুঁড়ে ফেলতো শুন্যে ।
তবু কয়েকদিন কসরৎ করার পর চলাফেরা করার মত ঘোড়া চালানো শিখে ফেললেন স্যাম ক্লিমেন্স । তাতে আর কিছু না হোক স্থানীয় চাষী মেয়েদের সাথে ভাব করার মতো ঘোরাফেরা করা যেতো ।
তবে শিগগিরই পরিস্থিতি পাল্টে গেল । খবর পাওয়া গেলো জনৈক কর্নেল ইউলিসিস এস. গ্র্যান্টের (পরবর্তীকালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট) নেতৃত্বে ইউনিয়ন পক্ষের পুরো এক রেজিমেন্ট সৈন্য আসছে এদিককার দখল নিতে । যুদ্ধটা যে পিকনিক নয় সেটা স্যাম ক্লিমেন্স বুঝতে পারলেন । তাঁরা পিছু হটতে লাগলেন, পিছু হটতে হটতে পালাতে লাগলেন । একরাতে স্যামসহ ছয়জন রেঞ্জার এক নির্জন বনের মধ্যে পথের ধারে লুকিয়ে আছেন, এমন সময় ঘোড়ার খুরের আওয়াজ পেলেন তাঁরা ।
তারার আলোয় তাঁরা দেখলেন, একজন নিঃসংগ ঘোড়সওয়ার চলছে বনের পথ দিয়ে, নি:সন্দেহে শত্রুর গুপ্তচর! যেই ভবা সেই কাজ স্যাম শুদ্ধ ছয়জন একসাথে লোকটাকে গুলি করে বসলেন ।
এমন সময় মেঘের আড়াল থেকে চাঁদ বেড়িয়ে এলো, তাঁরা দেখলেন লোকটা চিৎ হয়ে পড়ে আছে মাটিতে, তার শার্টটা ভিজে গেছে রক্তে, বিড়বিড় কি সব বলছে সে তার পারিবার পরিজন সম্বন্ধে । স্যামের হঠাৎ মনে হোল তিনি একজন খুনি ! এই অপরিচিত লোকটাকে হত্যা করতে তিনিও সাহায্য করেছেন !
লোকটাতো তাঁর কোন ক্ষতি করেনি, সেও তো আর সবার মতো তার জীবনটাকে ভালোবাসে ! সেই মুহুর্তে স্যাম ও তাঁর বন্ধুরা ভুলে গেলেন যুদ্ধের কথা, তাঁরা ঘিরে রাখলো অচেনা লোকটিকে, লোকটিকে জীবন ফিরিয়ে দিতে সে মুহুর্তে তাঁরা পৃথিবীর যেকোন কিছু করতেই রাজি ছিলেন । এঁদের অনেকেই পরবর্তীকালে যুদ্ধে নাম করবেন, তবে স্যাম ক্লিমেন্স আর এ ভাতৃঘাতী যুদ্ধে থাকছেন না ।
অপরিচিত এই লোকটির মৃত্যু নিয়ে পরে বহু বছর মার্ক টোয়েন দুঃখ বোধ করেছেন, তা বোধ হয় না করলেও চলতো, কারন আর যাই হোক বন্দুকের গুলিতে লক্ষ্যভেদের ব্যাপারে কেউ মার্ক টোয়েনকে কৃতিত্ব দিতে পারবে না !
প্রকারন্তরে আব্রাহাম লিংকনই স্যামকে যুদ্ধ থেকে বিরত করবেন । স্যামের বড়ভাই ওরাইওন নেভাডা প্রদেশের অস্থায়ী সেক্রেটারি পদে যোগ দেবার নিয়োগ পত্র পেলেন রিপাবলিকান দলের কাছ থেকে । ওরাইওন হাত তো চিরকালই খালি, অতএব স্যামকে তিনি প্রস্তাব করলেন বিনা বেতনে 'সেক্রেটারির সেক্রেটারির' পদটা নিতে । রাহা খরচটা স্যামই দেবেন দুজনের হয়ে । স্টিমারের পাইলট থাককালে স্যাম এ টাকা জমিয়ে ছিলেন । আসলে স্যামের যুদ্ধ থেকে বেরোতে পেরে যেকোন কিছু করতে রাজি ছিলেন, নেভাডা, ক্যালিফোর্নিয়া সোজা কথায় দূর পশ্চিম, সোনা-রুপার দেশ (1849 সালের বিখ্যাত ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ডরাশ মাত্র বারো বছর আগের কথা) ।
একটা সোনার নিদেনপক্ষে একটা রুপার খনির মালিক হিসেবে কোটিপাতি হবার দিবাস্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন রোমান্টিক স্যাম ক্লিমেন্স ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:৩৭

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



