somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্ক টোয়েন (পর্ব 4)

০৪ ঠা মার্চ, ২০০৭ রাত ১০:৪০
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

শিগগিরই একটা পরিত্যক্ত আখের গুদামে তাঁদের একটা ঘাঁটি করার অনুমতি দিলেন স্থানীয় মুরুবি্বরা । চলাফেরা করার জন্য কিছু বুড়ো, বেতো ঘোড়াও মিললো দয়ালু চাষীদের কাছ থেকে ।

স্যামের কপালে জুটল একটা ছোট্ট হলদেটে বদমেজাজী বুড়ো খচ্চর, পিঠে চড়লেই হাঁটু গেড়ে বসে পড়তো মাটিতে আর চালাতে চাইলে আরোহীকে ছুঁড়ে ফেলতো শুন্যে ।

তবু কয়েকদিন কসরৎ করার পর চলাফেরা করার মত ঘোড়া চালানো শিখে ফেললেন স্যাম ক্লিমেন্স । তাতে আর কিছু না হোক স্থানীয় চাষী মেয়েদের সাথে ভাব করার মতো ঘোরাফেরা করা যেতো ।

তবে শিগগিরই পরিস্থিতি পাল্টে গেল । খবর পাওয়া গেলো জনৈক কর্নেল ইউলিসিস এস. গ্র্যান্টের (পরবর্তীকালে আমেরিকার প্রেসিডেন্ট) নেতৃত্বে ইউনিয়ন পক্ষের পুরো এক রেজিমেন্ট সৈন্য আসছে এদিককার দখল নিতে । যুদ্ধটা যে পিকনিক নয় সেটা স্যাম ক্লিমেন্স বুঝতে পারলেন । তাঁরা পিছু হটতে লাগলেন, পিছু হটতে হটতে পালাতে লাগলেন । একরাতে স্যামসহ ছয়জন রেঞ্জার এক নির্জন বনের মধ্যে পথের ধারে লুকিয়ে আছেন, এমন সময় ঘোড়ার খুরের আওয়াজ পেলেন তাঁরা ।

তারার আলোয় তাঁরা দেখলেন, একজন নিঃসংগ ঘোড়সওয়ার চলছে বনের পথ দিয়ে, নি:সন্দেহে শত্রুর গুপ্তচর! যেই ভবা সেই কাজ স্যাম শুদ্ধ ছয়জন একসাথে লোকটাকে গুলি করে বসলেন ।

এমন সময় মেঘের আড়াল থেকে চাঁদ বেড়িয়ে এলো, তাঁরা দেখলেন লোকটা চিৎ হয়ে পড়ে আছে মাটিতে, তার শার্টটা ভিজে গেছে রক্তে, বিড়বিড় কি সব বলছে সে তার পারিবার পরিজন সম্বন্ধে । স্যামের হঠাৎ মনে হোল তিনি একজন খুনি ! এই অপরিচিত লোকটাকে হত্যা করতে তিনিও সাহায্য করেছেন !

লোকটাতো তাঁর কোন ক্ষতি করেনি, সেও তো আর সবার মতো তার জীবনটাকে ভালোবাসে ! সেই মুহুর্তে স্যাম ও তাঁর বন্ধুরা ভুলে গেলেন যুদ্ধের কথা, তাঁরা ঘিরে রাখলো অচেনা লোকটিকে, লোকটিকে জীবন ফিরিয়ে দিতে সে মুহুর্তে তাঁরা পৃথিবীর যেকোন কিছু করতেই রাজি ছিলেন । এঁদের অনেকেই পরবর্তীকালে যুদ্ধে নাম করবেন, তবে স্যাম ক্লিমেন্স আর এ ভাতৃঘাতী যুদ্ধে থাকছেন না ।

অপরিচিত এই লোকটির মৃত্যু নিয়ে পরে বহু বছর মার্ক টোয়েন দুঃখ বোধ করেছেন, তা বোধ হয় না করলেও চলতো, কারন আর যাই হোক বন্দুকের গুলিতে লক্ষ্যভেদের ব্যাপারে কেউ মার্ক টোয়েনকে কৃতিত্ব দিতে পারবে না !

প্রকারন্তরে আব্রাহাম লিংকনই স্যামকে যুদ্ধ থেকে বিরত করবেন । স্যামের বড়ভাই ওরাইওন নেভাডা প্রদেশের অস্থায়ী সেক্রেটারি পদে যোগ দেবার নিয়োগ পত্র পেলেন রিপাবলিকান দলের কাছ থেকে । ওরাইওন হাত তো চিরকালই খালি, অতএব স্যামকে তিনি প্রস্তাব করলেন বিনা বেতনে 'সেক্রেটারির সেক্রেটারির' পদটা নিতে । রাহা খরচটা স্যামই দেবেন দুজনের হয়ে । স্টিমারের পাইলট থাককালে স্যাম এ টাকা জমিয়ে ছিলেন । আসলে স্যামের যুদ্ধ থেকে বেরোতে পেরে যেকোন কিছু করতে রাজি ছিলেন, নেভাডা, ক্যালিফোর্নিয়া সোজা কথায় দূর পশ্চিম, সোনা-রুপার দেশ (1849 সালের বিখ্যাত ক্যালিফোর্নিয়া গোল্ডরাশ মাত্র বারো বছর আগের কথা) ।

একটা সোনার নিদেনপক্ষে একটা রুপার খনির মালিক হিসেবে কোটিপাতি হবার দিবাস্বপ্ন দেখতে শুরু করেছেন রোমান্টিক স্যাম ক্লিমেন্স ।
সর্বশেষ এডিট : ০৫ ই মার্চ, ২০০৭ সকাল ৭:৩৭
৪টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

Humans are (not) from Earth-রূপের বৈচিত্র্য ও আঞ্চলিক প্রোগ্রামিং

লিখেছেন শেরজা তপন, ১৬ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৮:৩৩

প্রশ্ন ও প্রারম্ভিক জিজ্ঞাসাঃ
আমাদের মনে কি এমন প্রশ্নের উদয় হয় না যে,"আমরা যখন পৃথিবীর বিভিন্ন অঞ্চলের মানুষের অবয়ব, গায়ের রঙ, চুল কিংবা পুরুষদের মুখের দাড়ি-গোঁফের দিকে তাকাই, তখন এক অদ্ভুত... ...বাকিটুকু পড়ুন

শরীফ থেকে শরীফা ইস্যু কেন চাঙা হচ্ছে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ রাত ৩:১৭


দেশে ট্রান্সজেন্ডার ও সমকামী ইস্যু নিয়ে জল ঘোলা হচ্ছে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে সমকামী ইস্যুতে একের পর এক বহিষ্কারের ঘটনার মধ্যেই নতুন করে আলোচনায় এসেছে দুই... ...বাকিটুকু পড়ুন

গল্প - অভাগীর সুর ব্যঞ্জনা – পর্ব ১ -

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সকাল ৯:০৮


শহরটা রাতে কখনও পুরো ঘুমোয় না। কেউ প্রেমে জাগে, কেউ স্বপ্নে, কেউ অপরাধবোধে।আর কেউ কেউ জেগে থাকে অভাবে। তিনতলার ছোট্ট ভাড়া-বাড়িটির জানালার পাশে বসে শিরীন হারমোনিয়ামের রিডে আঙুল রাখল।

বাইরে তখন... ...বাকিটুকু পড়ুন

জন্মদিনে তাহাদের জন্য শুভকামনা। আমার জন্মদিনের স্মৃতি...

লিখেছেন করুণাধারা, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ দুপুর ১:৫৬



একেকটা জন্মদিন পার করা মানে জীবন বইয়ের একেকটা পৃষ্ঠা পড়ে ফেলা, কয়েক বছর পরপর সেই বইয়ের একেক অধ্যায় শেষ হয়! বইটা ট্রাজেডি না কমেডি, একেবারে শেষ পর্যন্ত না পৌঁছালে তা... ...বাকিটুকু পড়ুন

চুপ - একদম চুপ

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ১৭ ই আগস্ট, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৫৭



আমরা শুধু চুপ থাকবো -
আমাদের কথা বলার মুখ নেই
আমাদের দেখার মতো চোখ নেই
আমাদের শোনার মতো কান নেই
মনে হয়, মনে হয় -
আমাদের হাত-পাও নেই।

আমাদের বিবেক নেই
আমাদের চিন্তা-চেতনাও নেই
আমরা... ...বাকিটুকু পড়ুন

×