তবে খবরের অভাব থাকলে আজগুবি খবর বানানোর পুরনো দুষ্ট বুদ্ধি (হ্যানিবালের পারিবারিক কাগজটা চালানোর মতো) মাথাচাড়া দিয়ে উঠতো স্যামির মধ্যে ।
হঠাৎ একদিন টেরোটোরিয়াল এন্টারপ্রাইজের পাঠকরা পড়লো, নেভাডার মরুভুমিতে এক প্রাগৈতিহাসিক মানুষের ফসিল হয়ে যাওয়া দেহাবশেষ পাওয়া গেছে , এবং হামবোল্ট থেকে একশো মাইল হেঁটে করোনার এসেছেন এর ময়না তদন্ত করতে ।
ব্যাপারটা একশোভাগ স্যামের পেট বানানো, কিন্তু টোপসহ বঁড়শি গিলে ফেললো অনেক কাগজ, সানফ্রানসিস্কো কুরিয়ার শুধু খবরটাই ছাপেনি, বেশি চালাকি করে তারা প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ননা হিসেবে তাদের পত্রিকার প্রথম পাতায় গুহামানবের একটা স্কেচও জুড়ে দিয়েছিলো !
এখানে থাকতেই 1863 সালে স্যামের লেখক জীবনের সবচেয়ে বড় ঘটনাটা ঘটলো, তিনি মার্ক টোয়েন ছদ্মনাম নিলেন । আসলে সেযুগে সাংবাদিকদের কিংবা রম্য লেখকদের ছদ্মনাম নেয়াটা একটা রেওয়াজ ছিলো । আর স্যাম দেখলেন তাঁর লেখাগুলো যত্রতত্র নকল হচ্ছে ।
অতএব আর্টিকলগুলো "সাইন" করার সিদ্বান্ত নিলেন তিনি 'মার্কটোয়েন' নামে । আসলে এই ছদ্মনামটার দুটো ব্যাঞ্জনা আছে, একটা হচ্ছে অন্ধকার রাতে নদীর স্টিমারের সামনের গলুইতে পানি মাপতে থাকা খালাসির মার্ক টোয়েন ..মার্কটোয়েন... (দু ফ্যাদম বা বারো ফুট পানি ) এ ডাক হুইলে দাঁড়ানো পাইলটের কানে মধুবর্ষন করে, মার্ক টোয়েন মানে জাহাজ নিরাপদে চলতে এখানে, একথা যাঁরা এই লেখক সম্বন্ধে একটু পড়েছেন তাঁরাই জানেন ।
কিন্তু আরো একটা ব্যাপারটা হচ্ছে যেটা অনেকেই জানেননা সেটা হচ্ছে মার্ক টোয়েন ছদ্মনামটা কিন্তু মৌলিক নয় ! নিউ অর্লিয়ান্সের বাসিন্দা মিসিসিপি স্টিমার রুটের ক্যাপ্টেন ইসাইয়া সেলার্স শখের লেখক হিসেবে মার্ক টোয়েন ছদ্মনামটা ব্যবহার করেছেন 1840-1850 পর্যন্ত । সে যাহোক, স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স নিজেওতো পাইলট ছিলেন মিসিসিপিতেই, অতএব এ জাহাজী বুলি ছদ্মনাম হিসেবে ব্যবহার করার অধিকার স্যামের খানিকটা আছে ।
তবু কেউ কেউ মনে করেন পাইরেসি ঠেকাতে গিয়ে নিজেই পাইরেসির অবতারণা করেছেন স্যাম ক্লিমেন্স । 1863 সালের ফেব্রুয়ারির 2 তারিখে প্রথম মার্ক টোয়েন নামটা ব্যবহার করলেন স্যাম ক্লিমেন্স, এরপর আমৃত্যু এ নামটাই ব্যাবহার করেছেন তাঁর সমস্ত লেখায়, পৃথিবীর অধিকাংশ লোক এখনও তাঁকে এই রোমান্টিক মার্ক টোয়েন ছদ্মনামটা তাঁর আসল নাম স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স থেকে বেশি চেনে ।
আগেই বলেছি স্যাম ক্লিমেন্স শান্তিপ্রিয় লোক ছিলেন, নিরস্ত্র অবস্থায় খনিশহর ভার্জিনিয়া সিটির রাস্তায় ঘোরাফেরা করতেন । কিন্তু কিভাবে তিনি ডুয়েল লড়ার মতো ঝগড়ায় জড়িয়ে পড়লেন ভাবতে অবাক লাগে ।
1864 সালের এপ্রিলের শেষের দিকে সপ্তাহ খানেকের জন্য টেরিটোরিয়াল এন্টারপ্রাইজের মালিক/সম্পাদক জোসেফ গুডম্যান সান ফ্রানসিস্কোতে ছূটি কাটাতে গেলেন স্যামকে সম্পাদনার অর্থাৎ সম্পাদকীয় লেখার ভার দিয়ে । 23 শে এপ্রিল 1864 তারিখে উইলিয়াম শেক্সপিয়ারের তিনশোতম জন্মবার্ষিকী, হাতের কাছের একটা এনসাইক্লোপেডিয়া থেকে শেক্সপিয়ার সম্বন্ধে বেশ কয়েক প্যারা টুকে দিয়ে দিলেন ।
কিন্তু শেক্সপিয়ারের জন্মদিন তো রোজ আসে না, এক অলস দুপুরে লেখার কিছু না পেয়ে ভাবলেন, হ্যানিবালের থাকার সময় প্রতিদ্বন্দী পত্রিকাকে আক্রমন করার পদ্ধতিটা কজে লাগালে কেমন হয় ? তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী ভার্জিনিয়া ইউনিয়ন পত্রিকার প্রকাশক লেয়ার্ডকে (ইউনিয়ন পত্রিকার সম্পাদক টম ফিচ ও তখন ছুটিতে ছিলেন, প্রকাশককে চেয়ারে বসিয়ে) আক্রমন করে একটা প্রবন্ধ লিখে ফেললেন ।
লেয়ার্ড প্রথমে পাত্তাই দিলেন না, তারপর এমন একটা পাল্টা প্রবন্ধ লিখলেন স্যাম ক্লিমেন্সের চরিত্র সম্বন্ধে, যে মনে হোল রিভলভারের একটা গুলি বুঝি শোঁ করে কানের পাশ দিয়ে চলে গেল ।
সর্বশেষ এডিট : ০৭ ই মার্চ, ২০০৭ রাত ১০:৫৩

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



