somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

মার্ক টোয়েন (পর্ব 21)

২৬ শে মার্চ, ২০০৭ রাত ১১:২৩
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :



আঠারোশো চুয়াত্তর সালের শরতকালে হার্টফোর্ডের নতুন বাড়িটা তৈরী হল । চমৎকার একটা ছায়াঘেরা জায়গা তৈরী হয়েছিল বাড়িটা । বাড়িটার চেহারা ছিল একেবারেই নতুন ধরনের, বিংশ শতাবন্দীর কোনো সমালোচক বলতে পারেন "স্টিমবোট গথিক" । কোয়ারি ফার্মের স্টাডির মতই অনেকটা স্টিমার স্টিমার ভাব ছিল বাড়িটায় । কিচেনটা ছিল একেবারে রাস্তার উপরে, সে যুগের কেতা মাফিক পিছনে নয় । মার্ক টোয়েনের যুক্তি ছিল রাস্তাটা দেখার চাকর বাকরদের আর পুরো বাড়িটা ঘুরে আসতে হবে না !

অতিথি-অভ্যাগতদের ভীড়ে বাড়িটা সবসময়ে গমগম করত । চার্লস ডাডলি ওয়ার্নার, আংকল টমস কেবিনখ্যাত হ্যারিয়েট বিচার স্টো ও তাঁর স্বামী ডক্টর স্টো, অলিভার টুইচেল এরা সবাই খুব কাছেই থাকতেন । বৈঠকখানার ফায়ারপ্লেসের উপরে লেখা ছিল, 'অতিথি, অভ্যাগতরাই ঘরের শোভা- "The ornament of a house is the friends that frequents it" |'

জোসেফ টুইচেলের সাথে মার্ক টোয়েন অনেক দূর পথে হাঁটতে গেছেন । একবার তাঁরা এলমিরা থেকে বস্টন এই প্রায় একশো মাইল পথ হেঁটে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন । হেঁটে হেঁটে তাঁরা ওয়েস্টফোর্ড পর্যন্ত গিয়ে তারপরে বাকিটা ট্রেনে গেলেন । উপায় ছিল না, পায়ে ফোস্কা পড়ে গিয়েছিল । বস্টন থেকে ফেরার পথে মার্ক টোয়েনের মনে হলো মিসিসিপি নদী নিয়ে একট আবই করলে বেশ হয় । আসলে টুইচেলকে মিসিসিপি নদীর পাইলট থাকার সময়ের গল্প শোনাচ্ছিলেন যখন টুইচেল বললেন একটা বই করে ফেলতে ।

জানুয়ারী মাসে 'আটলান্টিক' পত্রিকায় প্রথম কিস্তি লিখলেন 'রিভার চ্যাপ্টার্স' । সবগুলো স্কেচ এক হয়ে 'লাইফ অন দ্যা মিসিসিপি' বই আকারে প্রকাশ পাবে । বইটার প্রথম 'ওল্ড টাইমস' অধ্যায়টাই সাত সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে । বই আকারে বের হবে সাত বছর পরে । রিভার্স চ্যাপ্টার লেখার ফাঁকে ফাঁকে টম সয়্যারের লেখা চলতে লাগল । 'স্কেচেস অভ নিউ অ্যান্ড ওল্ড' বের হলো 1875 সালে । এক বছর পরে টম সয়্যার । খুব ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন তখণ স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স ।

মার্ক টোয়েন তখন এতোটাই বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন যে অনেক ঠিকানা ছাড়া চিঠি আসত তাঁর নামে-'মার্ক টোয়েন, গড নোজ হোয়্যার,' এরকম ঠিকানায় । বিদেশীরা অনেক সময় চিঠি লিখত 'মার্ক টোয়েন, ইউএস ।' কিন্তু সেগুলো ঠিকই মার্ক টোয়েনের হার্টফোর্ডে বাসায় পৌঁছে দিতো ডাকপিয়ন ।

বেশির ভাগ সময় টোয়েন এলমিরার পাহাড়ের উপর কোয়্যারি ফার্মে কাজ করতেন । এখানে ছিল গরু-ঘোড়া-আপেলের বাগান সহ বিস্তৃত মাঠ । এখন সুজি আর ক্লারা এসেছে সংসারে । শীতকালে অবশ্য এত বেশী দাওয়াতে অ্যাটেন্ড করতে হতো যে মার্ক টোয়েনের আর খুব বেশী লেখা হতো না ।

মাঝেই সুজি আর ক্লারা তাদের বাবাকে একটা ছবি দেখিয়ে হুকুম করত ছবির সাথে খাপ খায় এমন একটা গল্প বানিয়ে দিতে । ওদের ঘরের দেয়ালে একটা ছবি ছিল যার নাম 'এমেলিন' এবং ছবিটা হাক ফিনের মধ্যেও চেহারা দেখাবে । ইনোসেন্ট অ্যাব্রড বইটা ছাপা হয়েছিল 1869 বছর আগে । কিন্তু আবার পাঠকরা মার্ক টোয়েনের কাছ থেকে একটা ভ্রমনের বই দাবী করতে লাগল ।

1878 সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সালে তাই মার্ক টোয়েন ইউরোপ ভ্রমনে বের হলেন । অলিভার টুইচেলকেও সাথে নিলেন তিনি । পুরো গ্রীস্মকালটা পায়ে হেঁটে ওঁরা জার্মানীর ব্ল্যাক ফরেস্ট আর সুইজারল্যান্ড চষে বেড়াবেন । অলিভিয়া দুই সুজি আর ক্লারাকে নিয়ে হাইডেলবার্গের শ্লস হোটেলে উঠেছিলেন । বাচ্চাদের জার্মান শেখাতো ওদের জার্মান টিচার । শান্তিতে লেখালেখি করার জন্য হোটেলটা থেকে সামান্য দূরে একটা কামরা ভাড়া করলেন টোয়েন ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০
১২টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

=আমার মন খারাপ, ফুল দিয়ো=

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১২ ই মে, ২০২৬ দুপুর ২:৫৮



অকারণে মন ভালো না আজ
তুমি কোথায়?
এসো এক গুচ্ছ রঙ্গন নিয়ে
বাঁধো আমায় ভালোবাসার সুতায়।

অকারণে ভালো লাগে না কিছু;
তুমি কই গেলে?
রক্ত রঙ ফুল নিয়ে এসো;
উড়ো এসে মন আকাশে - প্রেমের ডানা মেলে।

কী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সূর্যমুখী ফুলের মত দেখি তোমায় দূরে থেকে....

লিখেছেন মরুভূমির জলদস্যু, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৩:৫৫


সূর্যমুখী
অন্যান্য ও আঞ্চলিক নাম : রাধাপদ্ম, সুরজমুখী (হিন্দি)
সংস্কৃত নাম : আদিত্যভক্তা, সূর্যকান্তি, সূর্যকান্তিপুষ্প
Common Name : Sunflower, Common sunflower
Scientific Name : Helianthus annuus

সূর্যমুখী একটি বর্ষজীবী ফুলগাছ। সূর্যমুখীকে শুধু ফুলগাছ বলাটা... ...বাকিটুকু পড়ুন

রাত যত গভীর হয় প্রভাত তত নিকটে আসে

লিখেছেন আরোগ্য, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:২১

গতবছর এই মে মাসের ১৭ তারিখেই আমার চোখের প্রশান্তি, আমার কর্মের স্পৃহা, আমার জননী এই ক্ষণস্থায়ী পৃথিবী ও আমাদের কাছ থেকে মহান রব্বের ডাকে সাড়া দিয়ে পরপারে পাড়ি জমান। আব্বু... ...বাকিটুকু পড়ুন

ইচ্ছে করে

লিখেছেন বাকপ্রবাস, ১২ ই মে, ২০২৬ বিকাল ৫:৩৮

ইচ্ছে করে ডিগবাজি খাই,
তিড়িং বিড়িং লাফাই।
কুমারী দীঘির কোমল জলে
ইচ্ছে মতো ঝাপাই।

রাস্তার মোড়ে সানগ্লাস পরে
সূর্যের দিকে তাকাই,
সেকান্দর স্টোর স্প্রাইট কিনে
দুই-তিনেক ঝাঁকাই।

ঝালমুড়িতে লঙ্কা ডাবল,
চোখ কচলানো ঝাঁঝে,
ছাদের কোণে যাহাই ঘটুক,
বিকেল চারটা বাজে।

ওসবে আমার... ...বাকিটুকু পড়ুন

মায়া বড় কঠিন বিষয় !

লিখেছেন মেহবুবা, ১২ ই মে, ২০২৬ সন্ধ্যা ৬:৪০


মায়া এক কঠিন বিষয় ! অনেক চেষ্টা করে জয়তুন গাছ সংগ্রহ করে ছাদে লালন পালন করেছি ক'বছর।
বেশ ঝাকড়া,সতেজ,অসংখ্য পাতায় শাখা প্রশাখা আড়াল করা কেমন আদুরে গাছ !... ...বাকিটুকু পড়ুন

×