আঠারোশো চুয়াত্তর সালের শরতকালে হার্টফোর্ডের নতুন বাড়িটা তৈরী হল । চমৎকার একটা ছায়াঘেরা জায়গা তৈরী হয়েছিল বাড়িটা । বাড়িটার চেহারা ছিল একেবারেই নতুন ধরনের, বিংশ শতাবন্দীর কোনো সমালোচক বলতে পারেন "স্টিমবোট গথিক" । কোয়ারি ফার্মের স্টাডির মতই অনেকটা স্টিমার স্টিমার ভাব ছিল বাড়িটায় । কিচেনটা ছিল একেবারে রাস্তার উপরে, সে যুগের কেতা মাফিক পিছনে নয় । মার্ক টোয়েনের যুক্তি ছিল রাস্তাটা দেখার চাকর বাকরদের আর পুরো বাড়িটা ঘুরে আসতে হবে না !
অতিথি-অভ্যাগতদের ভীড়ে বাড়িটা সবসময়ে গমগম করত । চার্লস ডাডলি ওয়ার্নার, আংকল টমস কেবিনখ্যাত হ্যারিয়েট বিচার স্টো ও তাঁর স্বামী ডক্টর স্টো, অলিভার টুইচেল এরা সবাই খুব কাছেই থাকতেন । বৈঠকখানার ফায়ারপ্লেসের উপরে লেখা ছিল, 'অতিথি, অভ্যাগতরাই ঘরের শোভা- "The ornament of a house is the friends that frequents it" |'
জোসেফ টুইচেলের সাথে মার্ক টোয়েন অনেক দূর পথে হাঁটতে গেছেন । একবার তাঁরা এলমিরা থেকে বস্টন এই প্রায় একশো মাইল পথ হেঁটে যাবার সিদ্ধান্ত নিলেন । হেঁটে হেঁটে তাঁরা ওয়েস্টফোর্ড পর্যন্ত গিয়ে তারপরে বাকিটা ট্রেনে গেলেন । উপায় ছিল না, পায়ে ফোস্কা পড়ে গিয়েছিল । বস্টন থেকে ফেরার পথে মার্ক টোয়েনের মনে হলো মিসিসিপি নদী নিয়ে একট আবই করলে বেশ হয় । আসলে টুইচেলকে মিসিসিপি নদীর পাইলট থাকার সময়ের গল্প শোনাচ্ছিলেন যখন টুইচেল বললেন একটা বই করে ফেলতে ।
জানুয়ারী মাসে 'আটলান্টিক' পত্রিকায় প্রথম কিস্তি লিখলেন 'রিভার চ্যাপ্টার্স' । সবগুলো স্কেচ এক হয়ে 'লাইফ অন দ্যা মিসিসিপি' বই আকারে প্রকাশ পাবে । বইটার প্রথম 'ওল্ড টাইমস' অধ্যায়টাই সাত সংখ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে । বই আকারে বের হবে সাত বছর পরে । রিভার্স চ্যাপ্টার লেখার ফাঁকে ফাঁকে টম সয়্যারের লেখা চলতে লাগল । 'স্কেচেস অভ নিউ অ্যান্ড ওল্ড' বের হলো 1875 সালে । এক বছর পরে টম সয়্যার । খুব ব্যাস্ত সময় কাটাচ্ছিলেন তখণ স্যামুয়েল ল্যাংহর্ন ক্লিমেন্স ।
মার্ক টোয়েন তখন এতোটাই বিখ্যাত হয়ে উঠেছেন যে অনেক ঠিকানা ছাড়া চিঠি আসত তাঁর নামে-'মার্ক টোয়েন, গড নোজ হোয়্যার,' এরকম ঠিকানায় । বিদেশীরা অনেক সময় চিঠি লিখত 'মার্ক টোয়েন, ইউএস ।' কিন্তু সেগুলো ঠিকই মার্ক টোয়েনের হার্টফোর্ডে বাসায় পৌঁছে দিতো ডাকপিয়ন ।
বেশির ভাগ সময় টোয়েন এলমিরার পাহাড়ের উপর কোয়্যারি ফার্মে কাজ করতেন । এখানে ছিল গরু-ঘোড়া-আপেলের বাগান সহ বিস্তৃত মাঠ । এখন সুজি আর ক্লারা এসেছে সংসারে । শীতকালে অবশ্য এত বেশী দাওয়াতে অ্যাটেন্ড করতে হতো যে মার্ক টোয়েনের আর খুব বেশী লেখা হতো না ।
মাঝেই সুজি আর ক্লারা তাদের বাবাকে একটা ছবি দেখিয়ে হুকুম করত ছবির সাথে খাপ খায় এমন একটা গল্প বানিয়ে দিতে । ওদের ঘরের দেয়ালে একটা ছবি ছিল যার নাম 'এমেলিন' এবং ছবিটা হাক ফিনের মধ্যেও চেহারা দেখাবে । ইনোসেন্ট অ্যাব্রড বইটা ছাপা হয়েছিল 1869 বছর আগে । কিন্তু আবার পাঠকরা মার্ক টোয়েনের কাছ থেকে একটা ভ্রমনের বই দাবী করতে লাগল ।
1878 সালের ফেব্রুয়ারী মাসে সালে তাই মার্ক টোয়েন ইউরোপ ভ্রমনে বের হলেন । অলিভার টুইচেলকেও সাথে নিলেন তিনি । পুরো গ্রীস্মকালটা পায়ে হেঁটে ওঁরা জার্মানীর ব্ল্যাক ফরেস্ট আর সুইজারল্যান্ড চষে বেড়াবেন । অলিভিয়া দুই সুজি আর ক্লারাকে নিয়ে হাইডেলবার্গের শ্লস হোটেলে উঠেছিলেন । বাচ্চাদের জার্মান শেখাতো ওদের জার্মান টিচার । শান্তিতে লেখালেখি করার জন্য হোটেলটা থেকে সামান্য দূরে একটা কামরা ভাড়া করলেন টোয়েন ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



