নিউ ইয়র্কের ফিফ্থ অ্যাভিনিউএর ২১ নম্বরে, নাইন্থ অ্যাভিনিউএর কোনায় একটা বাসা নিলেন টোয়েন । সেখানে পুরনো আসবাব পত্র সব রাখা হলো ।
সেই শীতে তেমন বেশি লোকজনের সাথে দেখা করেননি তিনি । যা লিখেছেন সব সিরিয়াস লেখা । যুদ্ধ বিরোধী রাজনৈতিক লেখা বের হতে লাগল টোয়েনের কলম থেকে ।
তবে সেগুলোর সাহিত্য-মুল্য নিয়ে প্রশ্ন উঠতেই পারে । 'এ হর্সেস টেল', 'ইভস ডায়েরি,' 'থ্রি থাউজ্যান্ড ইয়ার্স অ্যামাং দ্যা মাইক্রোব্স' এসবই এ সময়কার লেখা ।
মার্ক টোয়েনের সমসাময়িক সব বিদায় নিচ্ছিলেন দুনিয়া থেকে । 'আমার মিছিলটা আরেকটু দূর যাবে,' লেখেন মার্ক টোয়েন । ব্রেট হার্ট, চার্লস হেনরি ওয়েব, প্রথম প্রকাশক জন হে সবাই একেক করে চলে গেছেন ।
এমন সময়ে ১৯০৫ সালে মার্ক টোয়েনের সত্তরতম জন্মদিন চলে এল । হার্পার ব্রাদার্সের প্রধান কর্নেল জর্জ হার্ভে ডেলমনিকোতে মস্ত এক পার্টির আয়োজন করলেন । আমেরিকা আর ব্রিটেন থেকে শ'দুই লেখক-সাংবাদিক এলেন অনুষ্ঠানে । কার্নেগি, টুইচেল, ডবসন, হাওয়েল সবাই ছিলেন সেখানে । রুডিয়ার্ড কিপলিং, আর্থার কোনান ডয়েল টেলিগ্রাম করলেন ।
সত্তরতম জন্মদিনের পার্টির এক মাসের মধ্যেই মার্ক টোয়েন আত্বজীবনী লেখার কাজে হাত দিলেন,যদিও শুরুতে তিনি শর্ত দিয়েছিলেন যে তাঁর মৃত্যুর একশো বছর পর বইটা ছাপা হবে (!) সেসময়ে বেশিরভাগ সময়েই একটা রাজকীয় পালংকে শুয়ে লেখা পড়ার কাজ করতেন তিনি ।
বলা চলে সুতরাং সেক্রেটারি আলবার্ট বিগেলো পেইনকে দেয়া ডিক্টেশন থেকেই বইটা লেখা হয়েছিল । একেবারে কোনোরকমের রেফারেন্স না দেখেই অনর্গল স্মৃতিচারণ করে গেছেন । এবং সেজন্য বইটা যতটা সুখপাঠ্য হয়েছে ততটা নির্ভরযোগ্য হয়নি ।
তবে একটা কাজ তিনি করেননি যেটা আধিকাংশ লোক তাঁদের আত্মজীবনী লেখার সময়ে করে থাকেন সেটা হচ্ছে নিজের সাফাই গাওয়া । সত্যি বলতে কী আপনি যদি মার্ক টোয়েন তাঁর সবচেয়ে খারাপ আলোকে দেখতে চান তবে আপনি এই 'মাই অটোবায়োগ্রাফি' পড়ে দেখেতে পারেন ।
আলবার্ট বিগেলো পেইন পরে মার্ক টোয়েনের চিঠিপত্র, দলিল-দস্তাবেজ ও অন্যান্য কাগজ পত্র নিয়ে আরেকটি জীবনী লিখেছিলেন যেটা সত্যিকার অর্থেই ঐতিহাসিক দলিল হিসেবে গ্রাহ্য করা যায় (এবং যেটা থেকে আমাদের এই মার্ক টোয়েন সিরিজ অনেকখানি নেয়া !) ।
সে যাইহোক সত্তরতম জন্মদিনের পরে মার্ক টোয়েন নিউ ইয়র্কের প্রধানতম দার্শনিক ও দ্রষ্টব্য বিষয় হয়ে উঠলেন । যেখানে যত সভা সমিতি, পার্টি হবে সেখানে মার্ক টোয়েনকে দাওয়াত করা চাই । না আসতে পারলে চিঠি লিখে দিতেন, সেটা পড়ে শোনানো হতো সভায় ।
১৯০৬ সালে রবার্ট ফুলটন সোসাইটিতে তিনি তাঁর ফেয়ারওয়েল লেকচার দিলেন । মানে এটা তাঁর শেষ লেকচার যেটা মানুষ টিকেট কেটে শুনবে । সান ফ্রান্সিস্কোতে প্রথম দর্শনীর বিনিময়ে বক্তৃতা দেবার পরে চল্লিশ বছর কেটে গেছে ।
মে মাসে আত্ব জীবনীর সমস্ত খসড়া নিউ হ্যাম্পশায়ারের ডাবলিনে নিয়ে যাওয়া হলো । সেখানে মোনাডনক পাহাড়ের ঢালে আপটন হাউজের বারান্দায় বসে পান্ডুলিপি দেখতেন তিনি । সামনে নিউ ইংল্যান্ডের নিসর্গ । সেক্রেটারি মি. পেইন এর বর্ণনা দিয়েছেন এভাবে,
'সকাল বেলায় এসেই দেখতাম (স্টেনোগ্রাফার আর আমি সেই গ্রামেই থাকতাম) আপাদমস্তক শাদা ফ্ল্যানেলের পোশাক পরে মি. ক্লিমেন্স পায়চারী করছেন বারান্দায় । পিছনে নিউ ইংল্যান্ডের পর্বত, অরন্য, নদী । সে অবস্থাতেই ডিক্টেশন দিতেন তিনি স্টেনোগ্রাফারকে ।
ঝড় বৃষ্টির সময়ে আমরা ভিতরে গিয়ে বসতাম নয়তো বাইরের দৃশ্য দেখা মিস করতাম না পারতপক্ষে । কথা বলা শেষ হলে অর্কেস্ট্রেল যন্ত্রটা বাজাতে বলতেন তিনি । যন্ত্রটা মেলা টাকা খরচ করে নিউ ইয়র্ক থেকে আনা হয়েছিল । সাধারনত শুবার্ট, শোঁপা বা বিটোফেনের ভক্ত ছিলেন তিনি ।'
সামাজিকতার বিশেষ অভাব ছিল না সেখানে । কিন্তু শান্তিতে কাজ করাই ছিল মার্ক টোয়েনের মুল ইচ্ছা । বাড়িতে আরো ছিল তিনটা বিড়ালের বাচ্চা, বাড়িটা ভাড়া নেয়ার সময়েই ও তিনটে তিনি সাথে নিয়েছেন । সেগুলোর নাম ছিল স্যাকক্লথ আর অ্যাশেজ । 'অ্যাশেজ' আসলে দুটো বিড়াল ছানার একত্র নাম!
মার্ক টোয়েন বলেছিলেন যে তাঁর মৃত্যুর একশো বছর পরে আত্ব জীবনীটা বের হবে (সেরকম হলে ২০১০ সাল পর্যন্ত আমাদের অপেক্ষা করতে হতো) । কিন্তু মত পাল্টালেন তিনি সে বছর । কয়েক চ্যাপ্টার 'দ্য নর্থ আমেরিকান রিভিউ' তে ছাপা হয়েছিল ধারাবাহিক ভাবে ।
যখন পুরো লেখাটার জন্য ত্রিশ হাজার ডলার অফার করা হলো সেটা ফেলতে পারলেন না টোয়েন । টাকাটা দিয়ে কানেক্টিকাটের শান্ত মফস্বল শহর রেডিংএ একটা বাড়ি কেনার পিছনে খরচ করলেন । বাড়ির নাম তিনি দিতে চেয়েছিলেন 'দ্যা অটোবায়োগ্রাফি হাউজ ।'
আলোচিত ব্লগ
বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে ফিরে আসো

সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?
আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন
“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।
দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।
ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন
মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"
নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী
নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল, মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।