বিলিয়ার্ড খেলার প্রতি আকর্ষণ মার্ক টোয়েন ছাড়তে পারেন নি । পনেরো বছর আগে হার্টফোর্ডের বাড়িটা ছাড়ার পরে নিজস্ব কোনো বিলিয়ার্ড টেবিল ছিল না মার্ক টোয়েনের । মিসেস হেনরি রজার্স বললেন ক্রিসমাসের সময়ে একটা বিলিয়ার্ড টেবিল উপহার দেবেন তিনি ।
কিন্তু মার্ক টোয়েন ছেলেমানুষের মতো দাবী করলেন টেবিলটা 'আগে' পেলে সুবিধা হয় তাঁর । সুতরাং টেবিলটা মার্ক টোয়েনের বাড়িতে এসে গেল । এবং আবার বিলিয়ার্ডে ডুবে গেলেন তিনি । সেক্রেটারি পেইন তখন মার্ক টোয়েনের বাড়িতেই থাকতেন ।
আলবার্ট বিগেলো পেইন লিখেছেন,
' সে সময়ের কথা মনে করতে গেলে আমি পরিষ্কার তিনটে জিনিস মনে করতে পারি । লাল রঙের বিলিয়ার্ড রুমের মাঝখানে সবুজ বিলিয়ার্ড টেবিলটা রাখা, তার উপর কুঁজো হয়ে মার্ক টোয়েন বিলিয়ার্ডের কিউ ঠুকছেন ।
তারপরের দৃশ্যে দেখি আলোকিত ড্রইং রমে এককোনে নিবিষ্ট মনে অর্গান শুনছেন । অর্গানের বাজনা কী ভাবনার উদয় ঘটাচ্ছে তা তিনিই জানেন । আলো এসে শাদা চুলে আর শাদা পোশাকে পড়ছে । শাদা ছাড়া আর কোনো রঙের পোশাক পরতেন না তিনি । কালো তো নয়ই, কালো না কি মৃত্যুর কথা স্মরণ করিয়ে দেয় ।
তৃতীয় দৃশ্যটি হচ্ছে সেই পোশাকেই ডাইনিং টেবিলে বসে আছেন তিনি ।'
টেবিলে প্রায়ই স্বপ্নের কথা বলতেন মার্ক টোয়েন । 'প্রায় রাতেই আমি দুঃস্বপ্ন দেখি আমি মিসিসপি নদীতে ফিরে গেছি জীবিকা নির্বাহের জন্য ।
সেখানে একটা বিশাল ছায়াময় কালো দেয়াল দেখিয়ে আমাকে বলা হচ্ছে এটাই কী হ্যাট আইল্যান্ড বা সেলিনা ব্লাফ বা অন্য কোনো মিসিসিপি নদীর চড়া কি না ?
আরেকটা দুঃস্বপ্ন হচ্ছে, আবার দর্শনীর বিনিময়ে লেকচার দিচ্ছি আমি কিন্তু মঞ্চে উঠে দেখি গ্যালারি পুরো ফাঁকা, নয়তো আমার কোনো কথা মনে আসছে না । হাসির কথা তো নয়ই । তারপরে দেখি সবাই আমাকে একটা প্রায়ান্ধকার মঞ্চের মধ্যে একা ফেলে চলে গেছে ।'
পরের বছর আবার নিউ হ্যাম্পশায়ার গেলেন তবে উঠলেন টাক্সেডো নামে নিউ ইয়র্কের কাছের একটা শহরে । আলবার্ট পেইন এই গ্রীস্মে মিসিসিপি গেলেন । উদ্দেশ্য আত্ব জীবনীর জন্য তথ্য সংগ্রহ করা । জনি ব্রিগস, হোরেস বিক্সবি, স্টিভ ও তাঁর ভাই জিমি গিলিস তখনো বেঁচে ছিলেন ।
ঠিক সময় মতোই পৌঁছেছিলেন তিনি । হোরেস বিক্সবির বয়স একাশি বছর তখন । একটা সরকারী স্টিমবোটের তদারকি করেন । জনি ব্রিগস শক্ত সমর্থ আছেন । কিন্তু স্টিভ গিলিস চলৎশক্তি হারিয়ে পঙ্গু । তাঁরা সবাই পেইনকে নানান তথ্য দিয়ে সহযোগিতা করেছেন ।
পশ্চিম থেকে ফিরেই পেইন দেখলেন, ইংল্যান্ডের অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় মার্ক টোয়েনকে ডক্ট অভ ল ডিগ্রি দেবার চিঠি দিয়েছে । হ্যানিবালের সেই খালি পা, ভবঘুরে, স্কুল পালানো বালকের জন্য এ এক অভাবনীয় সন্মান । টম সয়্যারের হাতে যাদুর কাঠি থাকলে সে এর চেয়ে বেশী কিছু করতে পারত না ।
১৯০৭ সালের ৮ ই জুন ইংল্যান্ডের উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেন তিনি । চল্লিশ বছর আগে ঠীক এই দিনেই 'কোয়েকার সিটি' জাহাজে চড়ে বিদেশে যাত্রা করেছিলেন তিনি । প্রায় ছয় সপ্তাহ ইংল্যান্ডে ছিলেন তিনি । এবং যে খাতির যত্ন পেয়েছিলেন তিনি তা অভাবনীয় । লন্ডনের সবকয়টা ক্লাব থেকে দাওয়াত এল । রাজা সপ্তম এডওয়ার্ড গার্ডেন পার্টিতে নিমন্ত্রণ জানালেন ।
আলোচিত ব্লগ
বাঁধনের কেন ফেমিকন লাগে !!!

বাঁধন এখন বন্ধন মুক্ত। মিডিয়া পাড়ায় সরব উপস্থিতি। উপর মহলের ডাকে সারা দিতে হয়। কাজেই ফেমিকন লাগতেই পারে। মানে ফেমিকনের এ্যাড করা লাগতেই পারে। মিডিয়া আইকন হিসেবে জনসচেতনাতা বাড়াতে... ...বাকিটুকু পড়ুন
ফিরে ফিরে আসো

সময়ের সাথে সাথে নিজেকে বদলে নিতে হয়,
তোমার শরীর জুড়ে যখন
অভিজ্ঞতার গল্প পাঠের আসর,
তখনও ছেলে ভোলানো ছড়ায়
নিজেকে ভোলালে চলে?
আঁজলা ভরে সময়ের যন্ত্রণাকে পান কর,
পান কর সত্যকে।
পান কর... ...বাকিটুকু পড়ুন
“উন্নয়নের দুর্ভিক্ষে বাংলাদেশ”

বাং/লাদেশের মূর্খ জনগণ উন্নয়নের চেয়ে কথিত ফ্যাসিবাদকে বড় করে দেখেছে কিন্তু “উন্নয়নের দুর্ভিক্ষ” কি জিনিস তা দেখেনি।
দেখতে থাকুক….। আর ভাতের দুর্ভিক্ষ শুরু হলে বলে…..।
ফ্যাসিবাদ দূর করতে গিয়ে উন্নয়নই "নাই"... ...বাকিটুকু পড়ুন
মঞ্জুর চৌধুরীর ছোট গল্প "নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি"
নভেম্বরের শেষ বৃষ্টি
মঞ্জুর চৌধুরী
নীরা কথাটা বিশ্বাস করতে পারছে না। তাঁর স্বামী আরমানের আরেক মেয়ের সাথে সম্পর্ক ছিল? এই আরমান কিনা সবসময়ে আবৃত্তি করতো "এই হাত ছুঁয়েছে নীরার মুখ, আমি কি... ...বাকিটুকু পড়ুন
গল্পঃ জননী জন্মভূমিশ্চ স্বর্গাদপি গরীয়সী

আমাদের সেই পুরনো ভিটেটার অস্তিত্ব এখন আর নেই। তবে বুকের গহীনে ভিটেমাটির মায়াটুকু ঠিক আগের মতোই রয়ে গেছে। কত স্মৃতি, কত গান, কত গল্প-কোলাহল, মান- অভিমান ! চাইলেই... ...বাকিটুকু পড়ুন

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।