somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

রুশ দেশের সত্যিকথা ১৬

১০ ই অক্টোবর, ২০০৭ রাত ১০:০২
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

আসলে সত্যি বলতে কী নিকোলাসকে উস্কানোর কোনো প্রয়োজনই ছিল না । ১৮৮০ এরদশক থেকেই রাশিয়া পূব ও দক্ষিণ পূব অঞ্চলে তাদের সাম্রাজ্যের সম্প্রসারণ অব্যাহত রেখেছিল । ক্রিমিয়ার যুদ্ধে ইঙ্গ-ফরাসী শক্তিওর কাছে একটা বড় ধাক্কা খেলেও সেটা সামলে নিয়ে চীন-তুরস্ক-রুমানিয়া-মঙ্গোলিয়া যার কাছ থেকে যা কিছু কেড়ে নেয়া যায় তা কেড়ে নিতে কোনো কসুর রাখছিল না । তবে প্রশান্ত মহাসাগর অঞ্চলে একটা বরফ মুক্ত বড় সড় বন্দরের স্বপ্ন তারা দেখে এসেছে সেই অষ্টাদশ শতাব্দী থেকে ।

চীনে তখন মাঞ্চু সম্রাটরা রাজত্ব করছেন । তাঁদের মধ্যযুগীয়, ঐতিহ্যবাহী শাসন-ব্যাবস্থা সাম্বরাজ্য লোলুপ, প্রযুক্তি সমৃদ্ধ ইউরোপিয়ানদের থাবাতে ক্রমেই ক্ষত-বিক্ষত হচ্ছিল । ফরাসী ওলন্দাজ-পর্তুগিজ-রুশ এদের সাথে এই সাম্রাজ্য বিস্তারের মৃগয়াতে ইদানীং যোগ দিয়েছিল আমেরিকা আর জাপান । বিশেষ করে উদীয়মান সুর্যের দেশের সাথে রুশ সাম্রাজ্যের বিরোধ বাধাটা ছিল একেবারে অবধারিত ।

অণ্যান্য ঔপনোবেশিক শক্তি মুলতঃ বন্দর দখল করেই সন্তুষ্ট ছিল । কারন পশ্চিম-ইউরোপীয় সাম্রাজ্য প্রায় সর্বদাই বানিজ্য নির্ভর । 'সুবাসিত বন্দর' হং কং সেই ১৮৪২ সালেই ব্রিটিশ তার যুদ্ধ-জাহাজের কামানের মুখে চুক্তি করে নিজেদের বলে লিখিয়ে নিয়েছে । ম্যাকাউ অবশ্য আনেক কাল হয় পর্তুগিজদের হাতে । আনাম (ভিয়েতনাম) কব্জা করেছে ফরাসীরা । শাংহাই, নানকিং, আময় সবখানেই বহিরাগত শক্তি নিজেদের 'প্রভাবিত অঞ্চল' গঠন করে ছেড়েছে । তবে একেবারে গোড়া থেকেই জাপানীদের আগ্রাসনটা একটু অন্যরকম ছিল । এবং তাতে রুশদের টক্কর লাগাটা যাকে বলে খুব স্বাভাবিক পরিনতি ।

১৮৬৮ সালের ফেব্রুয়ারির ৩ তারিখে পনেরো বছর বয়স্ক প্রিন্স মুৎসোহিতো তাঁর বাবা সম্রাট কোমেইর স্থলে সিংআসনে বসে নতুন 'মেইজি' বা আলোকিত নতুন যুগের কথা ঘোষনা করলেন । এই 'মেইজি ডিক্লারেশানের' উপর আধুনিক জাপানের ভিত দাঁড়িয়ে আছে বললে খুব একটা ভুল হবে না । আর এই মেইজি ঘোষনার সাথে সাথেই দুইশো পয়ঁষট্টি বছর ধরে কায়েম তোকুগাওয়া শোগুন তন্ত্রের বিলোপ ঘটলো ও সম্রাট আবার তাঁর হারানো কর্তৃত্ব ফিরে পেলেন । তাই একে 'মেইজি রেস্টোরেশন' ও বলা হয় ।

শোগুনরা ছিলেন সেনাপতি ও শক্তিশালী সামন্ত শাসক । শোগুনতন্ত্রকের ইংরেজিতে বলা হতো 'শোগুনেট' আর জাপানীতে 'বাকুফু' । বাকুফু কথাটার অর্থ দাঁড়ায় 'তাঁবুর মধ্যে দফতর' । তাঁবু স্বাভাবিক ভাবেই মহড়ায় থাকা সেনাপতির দফতর । আর তাঁবু দিয়ে এরকম একটা রুপকও বলা যেতে পারে চালু ছিল যে শোগুনদের শাসন আসলে অস্থায়ী ।

প্রাচীনকালে, বলা যেতে পারে দ্বাদশ শতাব্দী থেকেই সম্রাটরা তাঁদের বিশ্স্ত অনুসারীদের এই সন্মানসুক উপাধী দিয়ে এসেছেন । কিন্তু ষোলোশো সালের দিকে তোকুগাওয়া লেয়াসু নিজেই ক্ষমতা দখল করে শোগুন উপাধী নিয়ে দেশের কার্যকর ক্ষমতা নিজের হাতে নিয়ে নেন । তাঁর ঘাঁটি ছিল 'এদো' (আজকের টোকিও), ক্ষমতাহীণ সম্রাটরা থাকতেন প্রাচীন ও পবিত্র নগরী কিয়োতোতে । ১৬০০-১৮৬৮ এই সময়টাকে তাই 'এদো পিরিয়ড' ও বলা হয়ে থাকে ।

মুৎসোহিতো এই নতুন যুগের স্বর্নালী আবির্ভাবকে স্মরণীয় করে রাখতে নিজেই সম্রাট 'মেইজি' নাম নিয়ে নিলেন । সম্রাট মেইজি, কিয়োতো থেকে টোকিওতে রাজধানী সরিয়ে আনলেন । ঊনিশশো বারো সাল পর্যন্ত, অর্থাৎ পয়ঁতাল্লিশ বছর রাজত্ব করবেন মেইজি । এবং এ সময়ের মধ্যেই একটি পশ্চাদপদ মধ্যযুগীয় রাষ্ট্র থেকে আধুনিক বিশ্ব-শক্তিতে পরিনত হবে মেইজি-শাসিত জাপান ।



সে যাই হোক ১৮৭০ এর দশকে জাপান দ্রুত শিল্পায়ন ও আধনিকায়নের দিকে অগ্রসর হলো । ঐতিহ্যবাহী সামুরাই প্রথা (অনেকটা ভারতীয় ক্ষত্রিয়ের মতো) বিলোপ করে জাপান আধুনিক ও শক্তিশালী নৌ ও সেনা বাহিনী গঠনের দিকে নজর দিল । সে যুগের সেরা নৌ বাহিনী ছিল ব্রিটিশদের রয়্যাল নেভি আর শৃঙ্খলা ও কারিগরি দিক থেকে শ্রেষ্ঠ স্থল বাহিনী হিসেবে ধরা হতো প্রাশিয়ান তথা জার্মান সেনাবাহিনীকে । উদীয়মান জাপানী নৌ ও সেনা ক্যাডেটদের অনেককেই এই দুই দেশে উচ্চতর প্রশিক্ষণের জন্য পাঠানো হলো ।

প্রচুর বিদেশী সামরিক প্রশিক্ষককেও মোটা টাকা দিয়ে আনা হলো জাপানীদের রণকৌশল আর ফৌজি কেতা কায়দা শেখানোর জন্য । আঠারোশো একাত্তর সালে ব্রিটেনে যেসব নৌ ক্যাডেটদের পাঠানো হয়েছিল তাদের মধ্যে একজন ছিলেন হেইহাচিরো তোগো (নামটা অনেক সময়ে 'তোগো হেইহাচিরো' এভাবেও লেখা হয় । 'তোগো' পারিবারিক পদবী), পরবর্তীকালে তিনি জাপানী নৌবাহিনীর প্রধানে পদ অলংকৃত করবেন । ১৮৭১ সাল থেকে সাতাত্তর সাল পর্যন্ত বিলাতে ছিলেন তোগো ।


*ছবি-সম্রাট মেইজি

গ্রুপছবি, ১৮৬৯ সালে যুদ্ধ-জাহাজ কাসুগাতে হেইহাচিরো তোগো (পিছনে, শাদা কিমোনো পরিহিত)
সর্বশেষ এডিট : ২৯ শে অক্টোবর, ২০০৭ সকাল ৮:৪৭
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

মালয়েশিয়াতে ডাঃ জাকির নায়েকের দিন কি শেষ হয়ে আসছে?

লিখেছেন মোহাম্মদ সাজ্জাদ হোসেন, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ সকাল ৮:৩৪


প্রভাবশালী মন্ত্রী এবং চায়নিজ ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত মালয়েশিয়ানরা তাঁর বক্তব্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছে।

নিজ দেশ ভারত থেকে পালিয়ে মালয়েশিয়া এসে বেশ ভালই ছিলেন ভারতীয় ধর্ম প্রচারক... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের শিশু আগামী দিনের ধর্ষক, দূর্নীতিবাজ, চোর-ছিনতাইকারী, চাঁদাবাজ, দালাল

লিখেছেন রাজীব নুর, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ দুপুর ১:৪৮



একজন শিশু জন্ম দেয়া কি খুব বেশি প্রয়োজন এই সমাজে?
প্রতিটা সংসারেই একটি ছেলে-মেয়ের বিয়ের পর আত্মীয় স্বজন সবাই বাচ্চার জন্য তাড়া দেয় কেন? বাচ্চা না নিলে সমস্যা... ...বাকিটুকু পড়ুন

আজকের ব্লগারদের নামটি উল্টো করে পড়ুন আর হাসুন-রম্য-রঙ্গ-১৪

লিখেছেন মোঃ মাইদুল সরকার, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৩:৩৯




নজু

ময়াসি দমেহআ রজীনতা

বিছ মাতেফা জীকা

লইমাছই

লড়গ

বীথিপূনহী খঃদু

শবেগ্নিঅ

সাবালোভা-কনিল্পকা

দমুহমারকুঠা

নামাসীষ্টিদৃ

৭৪কেএ

জীগাদচাঁ

মহিফা করেতা

রকারস লদুইমা মোঃ

কন্তুগআ রতেরাধ্যম

নখা নসাহা বরাহমে

দজ্জাাসাা

ছবি-নিজের করা ডিজাইন। ...বাকিটুকু পড়ুন

ডেংগু ধরা পড়লে, রোগীকে হাসপাতালে ভর্তি করানোর দায়িত্ব কার?

লিখেছেন চাঁদগাজী, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৩০



Tragic death of a child without any treatment

তানহা নামের ৭ বছরের একটি মেয়ে ঢাকায় নানীর সাথে থেকে পড়ালেখা করতো, ডেংগুতে গত শনিবার (আগষ্ট, ১৭) তানহা মৃত্যুবরণ করেছে; সে... ...বাকিটুকু পড়ুন

নীল আকাশের প্রান্ত ছুঁয়ে-২ (আকাশ ভালোবেসে লেখা)

লিখেছেন কাজী ফাতেমা ছবি, ১৯ শে আগস্ট, ২০১৯ বিকাল ৪:৫০



=চাঁদালোর ঘোর=
তাকিয়ো না আসমানে আজ, পুড়ে যাবে চোখ
মায়াবী আলোয় ইচ্ছে কেবল পথে পথে হাঁটি
ইট সুড়কির পথ, চলতেই যেনো বুক ধুকপুক,
এখানে নেই শিশির ভেজা দূর্বাঘাসের মাটি।
যদি সঙ্গে থাকো তুমি,ভয়... ...বাকিটুকু পড়ুন

×