এম শাহজাহান আহমদ, মৌলভীবাজার প্রতিনিধি: সতর্কবাণী না মানা ও অসচেতনতার কারণে একের পর এক দুর্ঘটনা ঘটছে বড়লেখা উপজেলার মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে। এগার বছরে ৩১ জন পর্যটকের প্রাণহানি ঘটেছে। দেশের অন্যতম এ পর্যটন কেন্দ্রে বিভিন্ন স্থান থেকে প্রতিদিন শত শত পর্যটক আসেন। অপরূপ সৌন্দর্যমন্ডিত মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে শীত মৌসুমে বিদেশী পর্যটকের আগমন ঘটে। পাথরের উপর বসে জলরাশির অনবরত পতনের দৃশ্য দেখা, ছবি তোলা, পানিতে হাত-পা ভিজানো এমন কি গোসল করা এসব মাধবকুন্ডে আসা পর্যটকের কাছে পছন্দনীয়। কিন্তু নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে অতি উৎসাহে পর্যটকরা অনেক সময় মৃত্যু ডেকে আনেন।
মাধবকুন্ড জল প্রপাতের প্রায় ২০০ ফুট উচু চুড়ায় গিয়ে অনেকেই পা ফসকে নিচে পড়ে যান। আর তখনই ঘটে দুর্ঘটনা। আবার কেউ কেউ গোসল করতে নেমে সাঁতার কাটায় মগ্ন হন। অনেকেই বিপজ্জনক এলাকায় সাঁতার কাটতে গিয়ে ডুবে মারা যান। সর্বশেষ গত বছরের ৮ই জুন ঢাকা থেকে মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে এসে মিরপুর কমার্স কলেজের ২য় বর্ষের ছাত্র আসিকুর রহমান (১৯)।
মিরপুর ২-বাংলা স্কুল এন্ড কলেজের দশম শ্রেণীর ছাত্র শাহরিয়ার আহমদ (১৬) এবং মিরপুর বায়তুল আমান মাদ্রাসার ৯ম শ্রেণীর ছাত্র মুন্না (১৫) সাঁতার কাটতে গেয়ে পানিতে ডুবে মারা যান। অনেকটা মৃত্যুকুপে পরিণত হওয়া মাধবকুন্ড জলপ্রপাতে বেড়াতে এসে প্রায় এগার বছরে দুর্ঘটনায় মারা গেছেন প্রায় ৩১ জন পর্যটক।
এসব মৃত্যুর জন্য পর্যটকদের সতর্কবাণী না মানা ও বেপরোয়া আচরণকে দায়ী করেছে পর্যটন সহায়ক পুলিশ। অন্যদিকে বিপদজ্জনক স্থানের চারপাশে বেষ্টনি নির্মাণ সহ আরোও পদক্ষেপ নিলে দূর্ঘটনা এড়ানো সম্ভব বলে মনে করছেন সচেতন মহল।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক দায়িত্বপ্রাপ্ত পর্যটন সহায়ক জনৈক পুলিশ কর্মকর্তা বিডি টোয়েন্টিফোর লাইভ ডট কমকে জানান, গত ১১ বছরে প্রায় ৩১ জন পর্যটকের মৃত্যু হয়েছে। অনেক শিক্ষিত পর্যটকও সতর্কবাণী মানেন না। বিপদজ্জনক স্থানে ২০০ ফুট উপর থেকে পানি পড়ে গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সেখানে পাথর ফেলে গভীরতা কমিয়ে আনার ব্যবস্থা নেওয়া দরকার।
স্থানীয় গন্যমান্য লোকজন অভিযোগ করে বলেন অনেক শিক্ষিত পর্যটক সতর্কবাণী মানছেন না। ফলে এ ধরনের মৃত্যু বারবার ঘটছে। সরকারের উচিত এই জলপ্রপাতকে পর্যটকদের জন্য সুন্দর করে সাজিয়ে তোল। নতুবা এই পর্যটন একদিন মৃত্যুকূপে পরিণত হবে। এখানে কেউ বেড়াতে আসবে না।
Click This Link

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



