somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

'ট্রেন ডায়েরিজ' শুরু!

২৩ শে মে, ২০১৩ সন্ধ্যা ৭:০১
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

ট্রেন নিয়া অবসেশন ছোটবেলা থেকেই। প্রথম স্টেশন দর্শনটাও মনে দাগ কেঁটে রাখসে। ৯০-৯১ সালের কথা। আব্বা নরসিংদীর পলাশে এক জুট মিলে চাকরী পেলেন, সাথে স্থানীয় কোয়ার্টারে একটা বাসাও পেলেন। আমাদের পরিবার (আম্মা, আব্বা, ভাইয়া আর পুচকা আমি) ও বাসাবদলের যাবতীয় সামগ্রী সহ জয়দেবপুর ছেড়ে প্রমত্তা বেলাই বিল পার হয়ে, শীতলক্ষ্যার বুক চিড়ে পৌছে গেলাম সেই মিলে। বিশাল এক বাসা, ভাইয়া আর আমি রেগুলার ক্রিকেট খেলতাম আরাম করেই। তো সেই পলাশ থেকে আমার স্থায়ী ঠিকানা জয়দেবপুরে যাওয়া যেত দুইভাবে- বাসে আর ট্রেনে। আমার অভ্যাস ছিল বাসে উঠা মাত্রই বমি করা, কখনও এমনও হইসে আমাকে কেউ বাসে উঠানোর ভয় দেখাচ্ছে আর আমি বমি করে ভাসায়ে দিচ্ছি। আব্বা-আম্মা আমার এই প্যাড়া থেকে বাঁচার জন্য ট্রেনে করে টঙ্গি পর্যন্ত আসত। কিন্তু শেষ রক্ষা হইতনা, কারন টঙ্গি থেকে আবার বাসে উঠতে হইত। পলাশের থেকে কাছেই ঘোড়াশালের ফ্ল্যাগ স্টেশন থেকে আমাদের ট্রেনে উঠতে হত। খুব গোছানো ছোট একটা স্টেশন, কিন্তু অনেক ইন্টারেস্টিং। ইন্টারেস্টিং হওয়ার প্রধানতম কারন স্টেশনটা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক উঁচুতে। মোটামোটি সাইজের একটা পাহাড়ে উঠতেসি এমন প্রস্তুতি নিয়ে সিঁড়ি চড়তে হত। উপরে উঠলেই পুরো ঘোড়াশাল দেখা যেত, পাশেই শীতলক্ষ্যা বয়ে গেসে। বেশ উঁচু একটা রেলব্রিজের একদম পাশে বলেই স্টেশনটাও এত উঁচুতে। একটা পরিত্যাক্ত বা আধা-পরিত্যাক্ত লাইন ছিল যেটা সার কারখানার দিকে চলে গেছে। যেবার প্রথম গেলাম, বুঝলাম যে আমি ট্রেনের পাশাপাশি ঐ অদ্ভুত স্টেশনেরও প্রেমে পড়ে গেসি। যে ছয় বছর ওখানে ছিলাম, স্টেশনে যাবার কথা প্রতিবারই শিহরিত করত। আমার ট্রেনপ্রীতির শুরু বলতে গেলে সেখানেই। ছোটবেলায় এক বন্ধুর বাবা তাকে খেলনা ট্রেন কিনে দেওয়ায় নিজেকে ভীষন গরীব মনে হইসিল। সেই ক্ষেদ এখনও যায় নাই বোধ করি। ট্রেন ব্যাপারটা এতটাই এক্সাইটিং ছিল যে ক্লাস সেভেন-এইট পর্যন্ত যদি কেউ জিজ্ঞেস করত- বাবু তোমার প্রিয় ফিল্ম কোনটা? উত্তর আসত- দ্যা বার্নিঙ ট্রেন। তো এই ট্রেন ব্যাপারটা এখনও জীবন থেকে শিফ্ট ডিলিট হয়নাই শুধুমাত্র আমার জিওগ্রাফিক অবস্থানের কারনে। দৌড় যেহেতু গাজীপুর থেকে ঢাকা সেহেতু অর্থ ও সময় উভয় বাঁচাইতেই ট্রেনের দ্বারস্থ হতে হয়। জামালপুর-শেরপুর-ময়মনসিংহের খেটে খাওয়া মানুষের শরীরের উগ্র ঘামের ঘ্রাণ, লাইনের পাশের বস্তি থেকে ভেসে আসা প্লাস্টিক পোড়া বাতাস, টঙ্গির ইন্ডাস্ট্রিয়াল ময়লা আবর্জনা আর প্রায় সবখানের মানব উচ্ছিষ্টের গন্ধ মাঝে মাঝে ভেসে আসলেও তাতে বিচলিত হওয়ারত কিছু দেখিনা, নাকি?

ভাবতেসি ট্রেন নিয়ে লেখব। কি লেখব এখনও নিশ্চিত না। দেশের ভবিষ্যত কোনদিকে যাচ্ছে ব্যাপারটা নিয়ে লেখার অনেক লোক আসে, ট্রেন নিয়ে লেখার লোক নাই।
৭টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ড.....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:৪৮

চট্টগ্রাম বন্দরঃ জাতীয় স্বার্থ, দক্ষতা ও ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে চুক্তি....

বন্দর শুধু রাজস্ব আয়ের প্রতিষ্ঠান নয়; এটি একটি দেশের অর্থনৈতিক সক্ষমতা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ প্রতিযোগিতার অন্যতম প্রধান চালিকাশক্তি।
বাংলাদেশের আমদানি-রপ্তানি বাণিজ্যের... ...বাকিটুকু পড়ুন

সামহোয়্যারইন ব্লগের সেরা ব্লগার

লিখেছেন ঠাকুরমাহমুদ, ০৯ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১১:০৮



আমাদের দেশে যে কোনো ক্রিটিক্যাল সময়ে লক্ষ্য করা যায় কোনো না কোনো পণ্যের অভাব লেগে গিয়েছে। কাঁচা মরিচ, পেঁয়াজ, ভোজ্য তৈল এমনকি রিলিফ গায়েব হয়ে যায়। বন্যায় আক্রান্ত বন্যায়... ...বাকিটুকু পড়ুন

তৌহিদি জনতা কবে দেশ রক্ষায় আন্দোলনে নামবে ?

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:০১


আলহামদুলিল্লাহ। তৌহিদি জনতার সম্মিলিত প্রচেষ্টায় সুনামগঞ্জে মেয়েদের একটি প্রীতি ফুটবল ম্যাচ বন্ধ করা গেছে। ইসলামের দৃষ্টিতে মেয়েদের খেলাধুলা নিষিদ্ধ এবং অশ্লীল কাজ হিসেবে গণ্য করা হয়। সুনামগঞ্জের মাটিতে এমন... ...বাকিটুকু পড়ুন

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর কি আসলেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন?

লিখেছেন অন্তর্জাল পরিব্রাজক, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ৮:৪৪



“রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার বিরোধিতা করেছিলেন “, “মূর্খের দেশে আবার কীসের বিশ্ববিদ্যালয়” – এসব প্রচারণা আমাদের দেশে অনেকদিন ধরেই হয়ে আসছে। বিশেষ করে ফেসবুকে আকছারই... ...বাকিটুকু পড়ুন

১৯৭১ঃ নদী-নালায় ভেসে থাকা স্বদেশের কান্নাঃ শহীদদের প্রতি নিবেদিত একটি কাব্যগাথা জাতির রক্ত, অশ্রু ও স্বাধীনতার অমর ইতিহাস

লিখেছেন ডঃ এম এ আলী, ১০ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:০৫


পঁচিশে মার্চ ১৯৭১
রাত্রি তখন গভীর, নগরীর বাতিগুলো
যেন অনাগত বিপদের সামনে অসহায়
ঢাকার আকাশে হঠাৎ গর্জে উঠল কামান
ট্যাংকের চাকার নিচে কেঁপে উঠল রাজপথ
গুলি ছুটে গেল মানুষের ঘুমন্ত জানালায়
আগুন ছড়িয়ে পড়ল... ...বাকিটুকু পড়ুন

×