
ফিফার চারবারের বিশ্ব বর্ষসেরা খেলোয়াড় লিওনেল মেসি। এই ২৭ বছর বয়সে ক্লাব ফুটবলের রেকর্ডের সবই প্রায় স্পর্শ করা হয়ে গেছে। স্প্যানিশ জায়ান্ট বার্সেলোনার সঙ্গে কি জাদুই না দেখিয়ে আসছেন! বার্সার সঙ্গে সব মিলিয়ে ৪২৫ ম্যাচে ৩৫৪ গোলে ঈর্ষণীয় রেকর্ড। তিনবার জিতেছেন ইউরোপের ক্লাব শ্রেষ্ঠত্ব চ্যাস্পিয়ন্স লীগের শিরোপা। ৬টি লা- লীগা শিরোপা। আরও ঢের কিছু। কিন্তু মেসির সব অর্জনই আজ ইতিহাসের সেরার সাফল্যের নিক্তিতে মাপা হবে।
এই একটি ম্যাচের সাফল্য মেসিকে দিতে পারে অমরত্ব, ব্যর্থতা হয়তো কেড়ে নেবে না কিছুই। কিন্তু খুব ম্লান মনে হবে সব। শুধুই বৃথা লাগবে। এমনকি মেসির কাছেও হয়তো! একবার ফিফার বর্ষসেরা খেলোয়াড়ের পুরস্কার নিতে গিয়ে মেসি বলেছিলেন, ‘আমি চাই লোকে আমাকে খেলার জন্য মনে রাখুক।’ তা বিশ্বে তাকে খেলার জন্য, তার জাদুকরি ফুটবলের জন্যই মনে করা হচ্ছে। শিল্প, সুশমা, কৌশল, নিপুণতা সব বিশেষণে বিশেষিত মেসি। তার খেলা প্রাতঃস্মরণীয়। ভিনগ্রহের ফুটবলার তাকেই তো বলা হয়। আর মারাকানায় তার
জন্য এমন এক ফাইনালের মঞ্চ, যেখানে সত্যি নিজেকে প্রমাণের দায়! ১৯৫৮ সালের পেলে ১৭ বছরেই অমরত্ব পেয়েছেন। ২০১০- এ ইনিয়েস্তা। মাঝে আরও কতজন। তবে সর্বকালের সেরায় প্রথম দিকে উচ্চারিত নাম দিয়েগো ম্যারাডোনার। চলে আসেন জিনেদিন জিদান, রোনালদোরা। বিশ্বকাপের মতো সর্বোচ্চ আসর তাদের ফুটবল সৌন্দর্যে হয়েছে মোহিত। প্রত্যেকেই ক্লাব ফুটবলে অনেক কিছু অর্জন করেছেন। কিন্তু ইতিহাসের গ্রেট, সর্বকালের সেরা তারা বিশ্বকাপ ফুটবলে দলকে শিরোপা জিতিয়ে, ফুটবল বিশ্বের মানুষের মন জয়
করে। ১৯৭০ বিশ্বকাপজয়ী ব্রাজিল দলের এক হিরো রবার্তো রিভেলিনো। তার কথায়, ‘আর্জেন্টিনা জিতলে মেসি পেলে ও ম্যারাডোনার
পাশে গিয়ে দাঁড়াবে।’ এই যে পেলে ও ম্যারাডোনার পাশে গিয়ে দাঁড়ানো, তা কি এখন নেই? আছে তো। যে মাপের ফুটবল খেলেন তাতে এই
কিংবদন্তিদের সঙ্গেই উচ্চারিত হন। কিন্তু আন্তর্জাতিক ফুটবল বা বিশ্ব ফুটবল বা ইতিহাস, একসঙ্গে সব কিছুতে, সব শ্রেষ্ঠত্বের খাতায় উচ্চারিত হলে একদিক দিয়ে পিছিয়ে যান মেসি সেটা বিশ্বকাপ। ৩টি বিশ্বকাপ খেললেও তার অর্জনের ঝুলিতে বিশ্বকাপ শিরোপা নেই। এই তো সুযোগ! ম্যারাডোনার নাম উচ্চারিত হলে বিশ্বের সবার চোখের সামনে চলে আসে বিশ্বকাপ। ১৯৮৬ বিশ্বকাপ আর্জেন্টিনাকে প্রায় একাই জিতিয়েছেন। পরের বিশ্বকাপের ফাইনালেও নিয়েছিলেন। হেরে কাঁদতে হয়েছিল। সেই কান্নার স্মৃতিও ফুটবল
রোমান্টিকদের মনে এখনও তাজা। কিন্তু মেসির নাম উচ্চারিত হলে এখনও কিন্তু ইউরোপিয়ান ফুটবল, ক্লাব খেলার মোহনীয় জাদু চোখে ভাসে। তবে ব্রাজিলের এই ২০১৪ বিশ্বকাপ তার নিয়ন্ত্রণেই আছে। শাসন করেছেন। ৪টি গোলও করেছেন। ফাইনালের সবচেয়ে আলোচিত এবং আর্জেন্টিনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় অধিনায়ক। আগের ম্যাচটি ছিল তার ৯২তম। ম্যারাডোনাকে ছাড়িয়ে গেছেন। কিন্তু ৯১ ম্যাচ খেলা ম্যারাডোনা বিশ্বকাপের নকআউট পর্ব স্মরণীয় করে রেখেছেন তার নৈপুণ্যে। অসাধারণ গোলে, একক কৃতিত্বের গোলে ভাস্বর ম্যারাডোনা। কিন্তু ৪ গোল করলেও তা প্রথম রাউন্ডে করেছেন মেসি। আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সব সময় যেন
নিজেকে মেলে ধরতে পারেন না। তবে এসব কিছুই আজ হবে ইতিহাস। যদি মেসি পারেন। তেমন কিছুই না। মেসিকে শুধু জিততে হবে। নিজের প্রতিভার কিছু ঝলক ছড়িয়ে জিততে পারলে তো ভালো। তা না হলেও শুধু জয় হলেও চলবে। শুনতে ভালো না লাগলেও এটা বাস্তবতা। আগের দুই বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে স্বপ্ন ভেঙেছে। দু’বারই হারিয়েছিল জার্মানি। সেই জার্মানদের হারিয়ে আজ বিশ্বকাপটা মাথার ওপর তুলতে পারলেই সর্বকালের সেরা হবেন মেসি। আরেকটি নির্মম বাস্তবতা, জিততে না পারলেই নয়। এখন শুধু কয়েক ঘন্টা অপেক্ষার পালা, মেসি কি পারবে……… পেলে, ম্যারাডোনার পাশে দাঁড়াতে????
**** মেসির এখন শুধু মাথার ওপর বিশ্বকাপ শিরোপা তুলে ধরা ছবিটা খুব দরকার!

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



