somewhere in... blog
x
ফোনেটিক ইউনিজয় বিজয়

ভূত নিয়ে একটি সত্য ঘটনা

২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:০৭
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :

যারা ভূতে বিশ্বাস করেন না,
বা করতে চান
না তাদেরকে আজকে একটা সত্য
ঘটনা শুনাব-
আমি সবসময়
ঢাকা থেকে রাত্রে বাড়িতে যায়। কারন ছুটি পাই কম আবার
চিন্তা করি রাত্রে চলে গেলে পরদিন
সকালটা বাসা থেকেই শুরু করা যাবে।
ছাত্র অবস্থায় ক্লাস শেষ করেই
রওনা হয়ে যেতাম। এখনও অফিস শেষ
করেই সোজা মহাখালী – তারপর ময়মনসিংহ – হালুয়াঘাট।
মোটামুটি ছয়ঘন্টা।
একদিন ক্লাস শেষ
করে বাড়ী রওনা হলাম। আমাদের
বাজারে যেতে যেতে রাত ১২
টা বেজে গেল। বাজারে গিয়ে দেখি সুবাস। আমার
বাল্য বন্ধু। আমাকে দেখেই বলল
আমরা তো প্রতিদিন
রাত্রে কদমতলী আড্ডা মারি, তুই
খেয়ে চলে আসিস।
বাজারেই আমার বাসা। বাসায় গিয়ে আম্মার
সাথে কথা বলতে বলতে খাওয়া শেষ
করলাম। ১টার
দিকে বাজারে গিয়ে কাউকে না পেয়ে ভাবলাম
সবাই হয়তো চলে গেছে।
আমি দুইটা সিগারেট কিনে কদমতলী রওনা হলাম। বাজার
থেকে কদমতলী সিকি কি.মি.।
তখন আষাঢ় মাস। আকাশে চাদও আছে।
কিন্তু আষাঢ়ের মেঘ এবং চাদের
আলো দু্ইটা মিলে একটা অদ্ভুদ আলো-
আধারের খেলা চলছে- এই কালো অন্ধকার, আবার যেন
ভরা পূর্ণিমা। একটা সিগারেট
ধরিয়ে রাস্তা হাটছি। কিছুটা ভয়ও
লাগছে। এমন
রাতে একা একা হাটলে ভূত-প্রেতের
কথা একটু বেশীই মনে পড়ে। বামের ঘন জঙ্গল
থেকে ঝি ঝি পোকার
শব্দে একটা অদ্ভুদ সুর যেন সৃষ্টি হচ্ছে।
যে সুরের
তালে তালে নিজেকে নিয়ে খুব
হারিয়ে যেতে ইচ্ছে করে। মাঝে মাঝে গভীর জঙ্গল থেকে দু-
একটি কাক বড্ড
বেসুরো কন্ঠে কা কা করছে।
মনে হচ্ছে কোন মাংস খেকো রাক্ষস
যেন কলিজাটা ছিড়ে নিয়ে যাচ্ছে।
আমি কদমতলীর কাছাকাছি যে জায়গায় শশান
ঘাটটা ঠিক সে জায়গায় চলে আসলাম।
এইখান থেকে আমাদের যে জায়গায়
বসে আড্ডা দেওয়ার কথা সেই
জায়গা টা স্পষ্ট দেখা যায়।
আমি কাউকেই দেখতে পেলাম না। মনের ভিতর একটা ভয়ও জেগে উঠল। এই
কারনে গভীর জঙ্গলের পাশ
দেয়ে পিছনেও যেতে ইচ্ছে করছেনা।
কারন এই জায়গার বামদিকে কংশ নদী,
আর ডানদিকে খোলা মাঠ – যার দরুন
গা শিরশির করা অন্ধকার ভাবটা এইখানে নেই।
আমি সোজা কদমতলী গিয়ে একটা সিগারেট
ধরিয়ে নদীর ঢেউ দেখছি।
ভয়টা কাটানোর জন্য একটু জোড় করেই
যেন অন্যমনস্ক হয়ে যেতে চাইলাম।
মাঝে মাঝে কয়েকটা কলাগাছ নদী দিয়ে ভেসে যাচ্ছে। দূর
থেকে মনে হচ্ছে কোন লাশ
ভেসে যাচ্ছে। মৃত প্রাণীর
গন্ধে বমি হওয়ার অবস্থা।
হঠাৎ……হঠাৎ………..একটি কান্নার শব্দ
শুনতে পেলাম। ইঁ..ইঁ..ইঁ..ইঁ..ইঁ..ইঁ..। কিছুটা ভয় পেয়ে গেলাম। আমার কাছ
থেকে হাত বিশেক দূরে ঠিক আমার
বাম
দিকে তাকিয়ে দেখি একটি ঘোমটা দেওয়া মহিলা বসে আছে।
আর ঐ খান থেকেই কান্নার আওয়াজ
আসছে। ভয়ে আমার আত্না চলে যাওয়ার যোগাড়। শরীর
দিয়ে ঘাম পানির মত বের হচ্ছে। যেন
আমি কোন ঝড়নার
নিচে দাড়িয়ে আছি। ডাকব ডাকব
ভেবেও না ডেকে সোজা বাসার
দিকে রওনা হলাম। বাসায় গিয়ে হাত-মুখ
ধুয়ে শুয়ে পড়লাম। পরদিন
সকালে আম্মাকে সব
ঘটনা খুলে বললে আম্মা বলল সুবাস
তো ময়মনসিংহ গিয়েছিল তিনদিন
আগে, সেতো আসবে আরও পরে। আমিতো অবাক তাহলে সুবাসের
চেহারা নিয়ে আমাকে কে বলেছিল
কদমতলী যাওয়ার জন্য।
শেষে আম্মা যা বলেছিল তা ছিল
এইরকম-”৮৮ সালের বন্যার সময় নৌকায়
করে বরযাত্রী বউ নিয়ে যাওয়ার সময় কদমতলী নৌকা ডুবে যায়। সবাই
তীরে উঠলেও কনে আর
উঠতে পারিনি। সেই থেকে এখনও
মাঝে মাঝে কনেকে কদমতলী তে কাদতে দেখা যায়।
আরও অনেকেই দেখেছে।”
সর্বশেষ এডিট : ২০ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৬ সকাল ৯:০৮
১টি মন্তব্য ০টি উত্তর

আপনার মন্তব্য লিখুন

ছবি সংযুক্ত করতে এখানে ড্রাগ করে আনুন অথবা কম্পিউটারের নির্ধারিত স্থান থেকে সংযুক্ত করুন (সর্বোচ্চ ইমেজ সাইজঃ ১০ মেগাবাইট)
Shore O Shore A Hrosho I Dirgho I Hrosho U Dirgho U Ri E OI O OU Ka Kha Ga Gha Uma Cha Chha Ja Jha Yon To TTho Do Dho MurdhonNo TTo Tho DDo DDho No Po Fo Bo Vo Mo Ontoshto Zo Ro Lo Talobyo Sho Murdhonyo So Dontyo So Ho Zukto Kho Doye Bindu Ro Dhoye Bindu Ro Ontosthyo Yo Khondo Tto Uniswor Bisworgo Chondro Bindu A Kar E Kar O Kar Hrosho I Kar Dirgho I Kar Hrosho U Kar Dirgho U Kar Ou Kar Oi Kar Joiner Ro Fola Zo Fola Ref Ri Kar Hoshonto Doi Bo Dari SpaceBar
এই পোস্টটি শেয়ার করতে চাইলে :
আলোচিত ব্লগ

শহীদ জিয়া ২৭ মার্চের ভাষণে 'জয় বাংলা' বলেছিলেন

লিখেছেন সত্যপথিক শাইয়্যান, ১৭ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ১০:১১





সূত্রঃ আমার রাজনীতির রূপরেখা
লেখকঃ জিয়াউর রহমান
পৃষ্ঠাঃ ১৭৭

...বাকিটুকু পড়ুন

ওরা জিডিপি আর সেমিকন্ডাক্টরে ব্যস্ত , আমরা ব্যস্ত গোরুর জিয়াফত নিয়ে ....।

লিখেছেন সৈয়দ কুতুব, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৩৫


গতকাল মামার ফোন এল দুবাই থেকে, রাতের বেলা। বললেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে গরু জবাই করে জিয়াফত খাওয়ার খবর এখান পর্যন্ত পৌঁছে গেছে, ব্যাপার কী? আমি বললাম, মামা, ওরা গরুর মাংস... ...বাকিটুকু পড়ুন

মীর জাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির ঐতিহাসিক চুক্তি! যে চুক্তির জন্য বাংলার স্বাধীনতার সূর্য ২০০ বছরের জন্য অস্তমিত হয়েছিল!

লিখেছেন নূর আলম হিরণ, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ রাত ২:৪২


আমরা পলাশী যুদ্ধের কথা জানি। কিন্তু এই যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে যে একটি ঐতিহাসিক চুক্তি হয়েছিল মীরজাফর ও ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির কর্ণধার লর্ড ক্লাইভের এর সাথে সেটা সম্পর্কে খুব কমই... ...বাকিটুকু পড়ুন

যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

লিখেছেন জুল ভার্ন, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ সকাল ৯:১০


যার যার ধর্ম, তার তার উৎসব....

“ধর্ম যার যার, উৎসব সবার”- শুনতে চমৎকার, জনপ্রিয়ও বটে। কিন্তু কথাটি কি ধর্মীয় বিশ্বাসের বাস্তবতার সঙ্গে পুরোপুরি সংগতিপূর্ণ?
আমার কাছে তা নয়। এধরণের বাণী... ...বাকিটুকু পড়ুন

সৌদি আরবে নারীসহ দুই বাংলাদেশির শিরশ্ছেদ: প্রতিমন্ত্রী, নাকি পাপেট?

লিখেছেন শ্রাবণধারা, ১৮ ই অক্টোবর, ২০২৬ বিকাল ৩:৫০


গত বুধবার সৌদি আরবের শরিয়া আদালত দুই বাংলাদেশি অভিবাসী শ্রমিকের শিরশ্ছেদ কার্যকর করেছে। এ বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ যে বিবৃতিটি দিয়েছেন, সেটা পড়ে আমি কয়েকটা জিনিস বুঝতে পারলাম।

প্রথমত,... ...বাকিটুকু পড়ুন

×