অছোঁয়া নারী ও মানুষেরা
শুনরে ! মানুষ ভাই ,
অছোঁয়া নারীর কথা কারে শুধাই ?
তারাও যে মানুষ! কেমনে তারে ভুলে যাই ?
ঘরে বাইরে, সমাজ অন্তরে
কোথাও তাঁর ঠাঁই যে নাই ;
কখনও বা নিষিদ্ধ পল্লী গাঁয় ।
কে তারে অসতি করল হায় !
কেন সে বেচারী আজ সমাজচ্যুতি ভাই ?
সেও তো তোমার আমার হৃদয় ছোঁয়া
আপন জন, কারো মা বোন বধুয়া ।
নষ্টা-ভ্রষ্টা ,মাগী, ছাগী, গাই-গাভী ,নটী,
খারাপ মেয়ে, চরিত্রহীনা, শকুনী, নাগিনী
ছলনাময়ী,অভিশাপী, কুলহারা ,কলংকিনী
মোর গায়ে পড়িয়েছ তুমি আরও কত অলংকার বিশেষণী ।
অবলা, অপয়া, মাল , খানকি, শালী, বেশ্যা ,পতিতা বালা
কুলক্ষণী,বাঘিনী,সাপিনী অসতি পঙতি মালা
টিজ, ধর্ষণ, নির্যাতন, হত্যা ,তালাক এসিড জ্বালা
আর কত যে জ্বালা যন্ত্রনা দাও ম্যালা,
ধূর্ত শিয়াল - তোমরা পুরুষ শালা ।
আপন স্বজন, বাবা মা ভাই বোন- রক্ত বন্ধন
বিবাহহেতু স্বগৃহ করে ত্যাগ , পরের ঘরে গমন,
কত প্র্রথা রীতি, নব বিরুপ পরিবেশ, বাঁকা প্রশ্নমালা,
কেউ তো ভালবাসার হাত বাড়িয়ে আপন ভাবেনা ,
কত যে বিরহ বেদনা ? তোমরা তা কভু বুঝনা ।
ছলে বলে কৌশলে আমার স্বত্তায় দখলে তুমি
যেথায় যেমন ইচ্ছা কর ভোগ, তুমি মহারাজ স্বামী
ঘরে বাইরে সংসারে সর্বদা রক্ত ঘামে কাটে দিবাযামী
নেই কোন মূল্য- অর্থ, গালী আর ব্যর্থতার ভাগী আমি ।
প্রিয়া বধূ মা বোন রুপে-ভূমিকা অভিনয় তব সনে
দেখনা তোমরা, কি বেদনা লাইলী রাধা রজকিনীর মনে;
পুরুষের শুস্ক মরূতে ফোটায় সুখের ফুল,দানী সৌরভ মধু নির্যাস
তুমি বসন্তের কোকিল, স্বার্থ শেষে আমায় কর সর্বনাশ ।
আমার গর্ভ জীবন তরীতে, তোমার পরিচয়হীন সন্তান
আমি কলংকিনী কুলহারা নিরুপায় সাগরে ভাসী
তুমি সাধু শুভ্র সুপুরুষ, দু:খের ভাগী হও না আসি
আমি চরিত্রহীনা সমাজচ্যুত বনবাসী কমলাদাসী ।
আমার গলায় দিয়েছ তোমরা কত নিয়ম রীতির ফাঁসী
দেশে দেশে তাই আমি সেবাদাসী,গৃহদাসী ,দেবদাসী ।
আমি মানুষ- আমারও আছে স্বপ্ন সুখ -দু:খ, স্বাদ আহলাদ
তোমাতে আমার সব স্বপ্ন সাধ স্বত্বার বরবাদ ।
একাবিংশে দাঁড়িয়ে নারী পুরুষে কেনো এতো লিঙ্গ অসমতা ব্যবধান?
সম্পত্তি ভাগে-ভোগে মালিকানায় কত যে বৈষম্য অসমান !
কেনো তবে হেন কাজে ধর্ম , সমাজ রাষ্ট্র রয় চুপ,
নাই কোন সমাধান জবাব, হেথায় সবাই অখুশী বিরুপ ।
ভার বোঝা- বাল্যবিবাহ, গ্রুপম্যারেজ, বহুস্বামী, বহুপত্নী, লৌহকমর বনধ
নারীর তরে চিরতরে স্বাধীনচেতা স্বাধীনভাবে নৈস্বর্গিক সৌন্দর্যে পথ চলা বন্ধ ।
কে বড় ? নারী না পুরুষ; কেন এমন ব্যবধান ?
রক্তে মাংসে স্বাদে গন্ধে সুখে দু:খে অন্তর আত্নায় একই প্রাণ ।
যুগে যুগে দেশে দেশে ধর্ম সমাজের শত কুসংস্কার কুপ্রথা রীতি
যৌতুক, আত্নহনন, সতিদাহ, বিধবাবেশ, কন্যা হত্যা, খৎনা তালাক জঘন্য অতি,
লম্বা কেশ, লজ্জা পোশাক, রান্না বান্না, সন্তান পালন, গৃহদাসী, কত বিড়ম্বনা
নারীর গলায় ঝুলিয়ে মোরা জীবন করছি ভোগ, সদা আনন্দ বাহানা ।
নারীর জীবনের পরিমিতি নরে করে নির্ধারন
তার পরিধি শুধু- স্বামী সন্তান লালন পালন ,
মিলেনা তার জীবনের অংক, সবই শুভংকরের ফাঁকি
কোথা তার জীবনের সাধ লক্ষ্য- সবই শুন্য বাঁকি ।
শুনো সবে নির্মম সত্য পরিসংখ্যান
বিশ্বব্যাপী দিন রাতি নারী করে ৩ গুণ শ্রম দান
তার এক ভাগও শ্রম মূল্য হয় না প্রতি দান
যুদ্ধে দাঙ্গা হাঙ্গায় কত নারী করে সম্ভ্রম জীবন বলিদান
স্বামী সন্তান স্বজন হারিয়ে নি:স্ব, সবই করে কোরবান ।
এখনও নারী যেন নিজ গৃহে পরবাস
জীবন ধরিয়া আশ্রিতা, হয় স্বামী না হয় বাবা
সারা জীবন অবহেলায় পরের ঘরে বসবাস
কভূ আশ্রয় হারা, পায়না ভালবাসার নি:শ্বাস ।
রমনী কখনও বা কৃতদাসী, বিলাসী দ্রব্য, ভোগের পণ্য সমাহার
রাজা বাদশা পুঁজিপতির হাত বদলায় সভ্যতার কোনায় কোনায়
দেবতাস্বামী, ধর্মনেতা,সমাজপতি নিত্য করে বেচাকিনা ভবের হাটবাজার
ভোগ ব্যবহারান্তে জীবন প্রান্তে ছুঁড়ে ফেলে মিথ্যা অপবাদে-এ জীবন সংসার
হায়রে বর ! সব চাপাও আমার উপর ।
কোথায় বিজ্ঞানের যুগ? কোথায় জীবনের শেয়ার মেলে ?
সুকৌশলে সব পরিকল্পনা চাপিয়ে আমার কোলে.
শুধু দূর হতে বলে -মেয়েটা ফুলছে বিয়ের জলে ।
ঘরে বাইরে, কর্ম কাজে পথ চলাই
দিনে রাতে নারীর নিরাপত্তা কোথাও পায় ? ;
বাঘ সিংহ হায়েনা নর পশুর দল, হিংস্র থাবাই
শিশু কিশোরী বুবা অন্ধ কারো রেহায় নাই ।
সদা কুকথা, ধর্ষণ , নির্যাতন, হত্যা ঘৃন্য অতি
পশু কভূ এমন নির্মম অত্যাচার করে কি স্বজাতি ?
তুমি বসন্তের কোকিল,ওগো বন্ধু স্বামী,
সুখের পায়রা, শুধু সুখের ভাগী তুমি !
সন্তান গর্ভে ধরে, কত দু:খ কষ্ট্য সই আমি
কত ব্যথা বেদনা,কাটাই নির্ঘুম দিবাযামী ।
যুগে যুগে এ কেমন অন্যায় অবিচার !
রক্ত ঘামে ত্আগ তিতিক্ষায় স্নেহ ভালবাসায় আদর
গুরু কাজ সন্তান পালন, সবই করে জননী মা
ভাগ্যের নির্মম পরিহাস, পরিচিতি পায় জনক বাবা ।
ওগো পুরুষ জাতি ! মনটা তোমার ছোট্ট অতি
তুমি আমার কেমন বন্ধু বর ?
আলো আঁধারে সূচী সতীর চিহ্ন খুঁজো- বাসর ঘর
কত অজানা প্রশ্ন-কৌতুহল জিগাসা বারবার !
নিজের সূচী চরিত্রের কথা ভাবনা তো একটি বার ?
জীবনের পরতে পরতে নারী কেন পর নির্ভর ?
আহারে বিহারে জীবনে মরনে, নরে দেয় কবর ;
সভ্যতার সূচনা লগ্ন হতে আর কত করবে সবর?
নারী স্বাধীনতা, মানব অধিকার চাইলেই সব শেষ
পুরুষ রাজ্যে অরন্যে রোদন ,ব্যর্থ পরিহাস
ধর্ম সমাজ সর্ব বাধা, হয় নির্বিশেষ ।
নরের বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে, নারীর কণ্ঠে গাই
মানবতার দৃষ্টিতে, নারীর ভালবাসার সুনয়নে তাই
ব্যবধান ভুলে, মিলেমিশে সবে এক হয়ে যাই ।
সর্বশেষ এডিট : ১৯ শে সেপ্টেম্বর, ২০১৪ সকাল ৯:৫৬

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।




