আজ থেকে তের বছর আগের কথা । আমি তখন মামার বাড়ি থেকে লেখা পড়া করছি । এক দিন মাদ্রাসার ছুটির পর বাড়ি ফিরে যাচ্ছি । গ্রামের হাইস্কুলের ছুটির পর স্কুলের ছাত্র ছাত্রিরা ও হৈ চৈ করে বাড়িতে ফিরে যাচ্ছে । একদল মেয়েরা আমার মুখোমুখি । আমি খুবই বিব্রতকর অবস্থায় পড়ে গেলাম । হঠাৎ দৃষ্টি গেল এক সুন্দরী ললনার দিকে । অসংখ্য মুখের মাঝে তার মুখ আমার চোখের তারায় ফুল হয়ে যেন ধরা দিল ।
সঙ্গিনীদের সাথে আমার দেহের খুব কাছ দিয়ে মাটির রাস্তা ধরে হেঁটে যাচ্ছিল সে । কিন্তু কেন যেন হঠাৎ স্থির হয়ে দাঁড়িয়ে সে তাকিয়ে রইল আমার দিকে । তার এই আচরণে আমি হতবাক হয়ে গেলাম । লজ্জায় মাথা নিছু করে অন্য রাস্তা দিয়েই হাঁটা ধরি । কিন্ত এক অতলস্পশর্ী দৃষ্টির ছোঁয়া লেগে রইল আমার দেহ-মনে ।
ষোল বছরের সদ্য যুবক আমি । সদ্য দেখা এক মুখ আমার মনে এক বিচিত্র অনুভূতির সৃষ্টি করল ।
এর কিছু দিন পর ঈদের দুদিন মাত্র বাকি । ঈদের ছুটিতে বাড়িতে এসেছি । আমার নামে একটা চিঠি এলো । ভীষণ অবাক হলাম মনে মনে । আমায় আবার কে চিঠি পাঠাবে । ভীষণ কৌতূহল নিয়ে খুললাম ওটা । দেখি ঈদের কার্ড । সবচাইতে আশ্চর্যের ব্যাপার হলো খামের কোথাও প্রেরকের নাম নেই ।
একবার ভাবলাম ভুল করে আমার ঠিকানায় চলে আসেনি তো?
নাম ঠিকানা তো ঠিকই আছে।
কার্ডটি খুললাম । কার্ডের ভিতরের পাতলা কাগজে লাল সবুজ সহ বিভিন্ন কলম দিয়ে লেখা ঈদের শুভেচ্ছা ..... .... ইতি অচেনা s !
আমি জীবনে কোনদিন প্রেম করিনি । শখও জাগেনি । আমি একেবারেই গোবেচারা লাজুক টাইপ সহজ সাধারণ মানুষ । কখনও ভাবিনি আমাকে কেউ এভাবে লিখতে পারে ।
আজও জানি না আমার সেই অজানা প্রেমিকাটি কে ।
সেটা একটা রহস্যই রয়ে গেল । তবে যখন মাঝে মাঝে শৈশব স্মৃতির পথ ধরে এগিয়ে যাই, তখন নিজের অজান্তেই হেসে উঠি । মন ভরে ওঠে অবুঝ পাওয়া না পাওয়ার অনুভূতিতে ।
সর্বশেষ এডিট : ৩১ শে ডিসেম্বর, ১৯৬৯ সন্ধ্যা ৭:০০

অনুগ্রহ করে অপেক্ষা করুন। ছবি আটো ইন্সার্ট হবে।



